ইয়ান কলেন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ইয়ান কলেন
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামইয়ান ওয়েন কলেন
জন্ম (1955-05-02) ২ মে ১৯৫৫ (বয়স ৬৪)
আলেকজান্দ্রা, ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া
উচ্চতা১.৮৭ মিটার (৬ ফুট   ইঞ্চি)
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৯১)
২৮ জানুয়ারি ১৯৭৮ বনাম ভারত
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৩৯)
২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৮ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ ওডিআই২২ অক্টোবর ১৯৮২ বনাম পাকিস্তান
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৭৭–১৯৮৪ভিক্টোরিয়া
১৯৭৭নর্দাম্বারল্যান্ড
১৯৮৫–১৯৮৬বোল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৫৩ ২০
রানের সংখ্যা ২৬ ৫৭৮ ৬৯
ব্যাটিং গড় - ৬.০০ ১২.২৯ ১১.৫০
১০০/৫০ -/- -/- -/- ০/০
সর্বোচ্চ রান ২২* ৩* ৩৪ ১৫
বল করেছে ৪৪০ ১৮০ ১০,৭২৭ ১০৫৬
উইকেট ১৯৭ ৩১
বোলিং গড় ৩১.৮৩ ২৯.৬০ ২৭.৪৭ ২২.৮৭
ইনিংসে ৫ উইকেট - - -
ম্যাচে ১০ উইকেট - - -
সেরা বোলিং ৩/৮৩ ৩/২৪ ৮/৪২ ৪/৪৭
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ২/- ১৯/- ৬/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯

ইয়ান ওয়েন কলেন (ইংরেজি: Ian Callen; জন্ম: ২ মে, ১৯৫৫) ভিক্টোরিয়ার আলেকজান্দ্রা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ও সাবেক অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে বামহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন ইয়ান কলেন

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৭৬-৭৭ মৌসুম থেকে ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম পর্যন্ত ইয়ান কলেনের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। দীর্ঘদেহী ও লিকলিকে গড়নের অধিকারী ইয়ান কলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যানের উভয় দিকেই সুইং করানোয় দক্ষ ছিলেন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর প্রথম তিন খেলায় ২৫ উইকেট নিয়ে সকলের মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষমতা দেখান।

১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে ভিক্টোরিয়ার পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে ইয়ান কলেনের। নিজস্ব চতুর্থ শেফিল্ড শিল্ডের খেলায় ৪/৫৫ ও ৫/১৫ লাভ করেন। এরফলে তার দল সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে জয়লাভ করে। পরের খেলায় ১/৮২ ও ৮/৪২ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ১০ উইকেটে জয়লাভ করে ভিক্টোরিয়া দল।[১]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্ট ও পাঁচটি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। ২৮ জানুয়ারি, ১৯৭৮ তারিখে অ্যাডিলেডে সফরকারী ভারত দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

১৯৭৮ সালে ভারতে দল অস্ট্রেলিয়া গমন করে। অ্যাডিলেড টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ হয়েছিল তার। তবে, অংশগ্রহণকৃত একমাত্র টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের প্রস্তুতি নেয়ার অংশ হিসেবে ইনজেকশন গ্রহণে মারাত্মকভাবে স্বাভাবিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে প্রভাব ফেলে। উভয় ইনিংসে ৩/৮৩ ও ৩/১০৮ নিয়ে মোট ছয় উইকেট পেয়েছিলেন। এরফলে তার দল জয়লাভসহ সিরিজ জয় করে। শেষদিনের পূর্বরাত্রে হোটেলে পড়ে যান। তবে, চূড়ান্ত দিনে অস্ট্রেলিয়ার জয়ে প্রভূতঃ ভূমিকায় রাখেন।[২]

১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমন করেন। প্রথম ওডিআইয়ে অংশ নিয়ে ১/৪২ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান।[৩] এরপর দ্বিতীয় ওডিআইয়ে ৩/২৪ পান।[৪] এ সফরে পিঠের নিম্নাংশের মেরুদণ্ডে আঘাত পান।

১৯৮২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে ফিরে আসেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ২৫.৪৫ গড়ে ৩১ উইকেট লাভ করলেও পাকিস্তানে সফরে টেস্টে দল থেকে উপেক্ষিত হন। তিনটি ওডিআইয়ে অংশে নিয় প্রথমটিতে ১/৩২,[৫] দ্বিতীয়টিতে ০/৫০[৬] ও তৃতীয়টিতে বোলিং করেননি।[৭] এরপর অবশ্য পিঠের আঘাত থেকে আর আরোগ্য লাভ করেননি। ৫০-এর অধিক গড়ে ১১ উইকেট পান। এছাড়াও, ঐ সফরে কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ হয়নি তার। এরপর আর তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যায়নি।

অবসর[সম্পাদনা]

সমারসেটের সাথে চুক্তির প্রস্তাবনা পেলেও পিঠের আঘাতের কারণে নিজেকে দূরে থাকেন। তাসত্ত্বেও ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে রেমসবটমে একটি গ্রীষ্মকালে অতিবাহিত করেন। বর্তমানে তিনি ক্রিকেট ব্যাট নির্মাণ ব্যবসায় পরিচালনা করছেন। ১৯৮১ সালে ইয়ান কলেন স্পোর্টস নামীয় প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি বিক্রয় করে দেন। এরপর এমএক্স, কে-৯ ও অসি বুমা নামীয় তিন ধরনের ব্যাট নির্মাণে মনোনিবেশ ঘটান।[৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]