আব কামারি জেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

স্থানাঙ্ক: ৩৫°০৫′০০″ উত্তর ৬৩°০৩′০০″ পূর্ব / ৩৫.০৮৩৩° উত্তর ৬৩.০৫০° পূর্ব / 35.0833; 63.050

আব কামারি
জেলা
বদগিস প্রদেশে এর আব কামারি জেলা
বদগিস প্রদেশে এর আব কামারি জেলা
দেশআফগানিস্তান
প্রদেশবদগিস
আয়তন
 • স্থলভাগ১৮১৭ কিমি (৭০২ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা
 • আনুমানিক (২০০২)৩৬,৩০০

আব কামারি আফগানিস্তান এর বদগিস প্রদেশ এর পশ্চিমে অবস্থিত জেলা। উচ্চারনের ভিন্নতায় এর নাম আব-ই-কামারি অথবা আব-এ-কামারি বলা হয়ে থাকে। আনুমানিক ৪০,০০০ হাজার অধিবাসির এই শহরের জীবিকা ও জীবনযাত্রা খুবই কঠিন, বিদ্রোহীসেনাদের ও রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্যে আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশ স্থানটি ভ্রমনবান্ধব নয় হিসাবে চিহিৃত এবং নিজ নাগরিকদের আব ই কামারি এড়িয়ে চলার নির্দেশ জারী রেখেছে।

অবস্থান ও আয়তন[সম্পাদনা]

আব ই কামারি আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে ৫৬২ কিলোমিটার (৩৪৯ মাইল) এ অবস্থিত। জেলাটির আয়তন ১,৮১৭ বর্গকিলোমিটার (৭০২ বর্গমাইল)

জনসংখ্যা ও জাতিগত তথ্য[সম্পাদনা]

আব কামারি এর আনুমানিক জনসংখ্যা ৩৬,৩০০ (২০০২ সুমারি অনুসারে), জাতিগতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ তাজিক ৮০% এবং অবশিষ্ট সংখ্যালঘু পশতুন। [১]

যোগাযোগ ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) অধিবাসির এই আব ই কামারি এর যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও সেভাবে গড়ে উঠতে পারেনি, কালা ই নাউ সবচাইতে নিকটবর্তী উন্নত শহর যার সাথে সংযোগ সড়ক কাঁচা এবং নুড়ি পাথরের। আন্তর্জাতিক সহযোগীতার অংশ হিসাবে স্পেনিস অর্থায়নে আব ই কাামরি এর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কাজ চলছে যাদের মূলমন্ত্র বদগিস প্রদেশ এর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।[২] আব কামারি এর নিকটবর্তী এয়ারপোর্ট কালা ই নাউ এয়ারপোর্ট যা শহরতলী থেকে ১২.৩ কিলোমিটার (৮ মাইল) দক্ষিনে অবস্থিত।

গুরত্বপূর্ন স্থান[সম্পাদনা]

সাং আতিশ, আব কামারি এর জেলা সদর হিসাবে পরিচিত। আব খুদাই, আলখান, আনজির, দুজদানাক, গনাগুল, খালিফা এবং পাপল আব কামারি এর উল্লেখযোগ্য স্থান। বিশাল পেস্তা বাদামের জঙ্গল/বন আব কামারি এর অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্থান।[৩][৪]

পেস্তা বন বিবাদ[সম্পাদনা]

পেস্তা বাদাম (শাখায় পরিপক্কতার পথে)

পেস্তা বন এর অবস্থান দুই প্রতিবেশী জেলা আব কামারি (বদগিস প্রদেশ) ও কুশকি কুহনা (হেরাত প্রদেশ) এর ঠিক মাঝখানে বিভাজক হিসাবে এবং হেরাত জেলা থেকে ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে। পেস্তা বনের জায়গাটা অত্যন্ত মূল্যবান জমি হিসাবে দেখা হতো বিধায় দুই জেলাই এর উপর তাদের আধিপত্যের চেষ্টা করত।

প্রাক-পরিস্থিতি[সম্পাদনা]

মূল্যবান জমি দখলের (পেস্তা বন) প্রচেষ্টায় প্রায়শ দুই জেলার মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করত। পরিস্থিতি উত্তপ্ত ওঠে তখনই যখন এহসানবোকা (আব কামারি) এর আক্রমনে দুই জন নিহত ও ৪ জন আহত হয় এবং প্রতি আক্রমন হিসাবে জেন্দা হাসথম (কুশকি খোনা এর স্থান) এ রাস্তা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এহসানবোকা এর একজন পথচারীকে হত্যা করে এবং অপর দুই জন আহত হয়। কুশকি খোনা এর পক্ষ থেকে রাস্তা স্থায়ী ভাবে কন্দ করে দেয় যার ফলে আব কামারি এর অধিবাসীদের সামান্য কাজে হেরাত শহরে যাবার ২০ মিনিটের যাত্রাপথ হয়ে গেল সম্পুর্ন পাহাড় ‍ঘুরে আসবার জন্যে ৭ ঘন্টার কাছাকাছি। এবং এর মাঝে দুই প্রতিবেশীর যেকোন প্রকার সাক্ষাতে রক্তারক্তিতে রূপ নিত এমনকি নারী ও শিশু বাইরে বের হতে পারত না। সাধারন বাসিন্দারা চরম পরিস্থিতি মুকাবেলার স্বার্থে শান্তি পরিষধের উচ্চ পর্যায়ের সহায়তা কামনা করে।[৫]

সমঝোতার পদক্ষেপ[সম্পাদনা]

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্যে হাই পিস কাউন্সিলের সদস্য এবং হেরাত এর প্রধান জনাব মওলা গোলাম সরোয়ার সকল গোত্র প্রধান ও প্রবীন ব্যক্তিদের একত্রে বসার নির্দেশ দেন এবং দুই দিনের মধ্যে শান্তি আলোচনার খসড়া প্রস্তুতের আদেশ দেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও জীবনের নিরাপত্তাহীনতার মাঝেও শান্তি পরিষদের সদস্যরা বেশ কয়েকবার কুশকি খোনায় আলোচনায় বসেন। প্রচুর পৃথক আলোচনার পর দুই গোত্রের নেতা ও বয়োজোষ্ঠরা একত্রে বসেন জেন্দা হাসথম এর মসজিদে, এক ঘন্টা আলোচনার পর দুই পক্ষ শান্তি চুক্তির পক্ষে সম্মত হন। হাজী ইব্রাহিম কুশকি খোনা এর পক্ষে রাস্তার সকল প্রতিবন্ধকতা তুলে নেবার নিষ্চয়তা দেন এবং একই সাথে নিশ্চিত করেন আব কামারি এর হেরাত এর পথে যেতে কেউ বাধা দিবে না এবং তাদের ব্যবসায়িক কাজে কোন প্রকার হন্তক্ষেপ করবে না। প্রক্ষান্তরে আব কামারিবাসী শপথ করে জানায় তাদের দ্বারা কুশকি খোনা এর ক্ষতি হবেনা এবং দুই প্রতিবেশী গোত্র নিজেরা নিজেদের ভাই ও বন্ধু হিসাবে রাখবে। [৫]

উত্তরন[সম্পাদনা]

দুই পক্ষ তাদের ওয়াদা রক্ষা করল। অহিংস পদ্ধতিতে সহিংসতা রোধের ফলে মূল্যবান পেস্তা বন রক্ষা পেল এবং তারা দুই গোত্রই বন থেকে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে থাকে। এই আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সহিংসতা রোধ আলাদা এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে এবং স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদে শুক্রবার এই সমঝোতার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে প্রশংসা করা হয় এবং সমগ্র আফগানিস্তানে এভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতাশা করা হয়।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "আব কামারি জেলা পরিচিতি" (ইংরেজি ভাষায়)। আর্থ-এক্সপ্লোরার। 
  2. "কালা-ই-নও হতে আব কামারি এর আন্তঃপ্রদেশীয় সংযোগ পুনঃসংযোগ ব্যবস্থা Profile" (ইংরেজি ভাষায়)। ডিভিআইডিএস। ২০০৮-০৬-০৩। 
  3. "UNHCR District Profile" (PDF) (ইংরেজি ভাষায়)। আফগানিস্তান তথ্যনিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর। ২০০২-০৮-২৬। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৫-০৩ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. "আব কামারি জেলা পরিচিতি" (ইংরেজি ভাষায়)। দ্যা-ইফোলিষ্ট। 
  5. "অহিংসা সহিংসতা রোধের চাবি" (ইংরেজি ভাষায়)। দ্যা-কিললিদ। ১৭ জুলাই ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০১৬ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]