ইসরায়েল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ইসরায়েল
מְדִינַת יִשְׂרָאֵל (হিব্রু)
মেদীনাত্‌ য়িস্‌রা'এল
دَوْلَةُ إِسْرَائِيلَ (আরবি)
দাউলাত্‌ ইস্‌রা'ঈল্‌
পতাকা Emblem
জাতীয় সঙ্গীত
Hatikvah
The Hope
রাজধানী
(ও বৃহত্তম নগরী)
জেরুসালেম[১]
৩১°৪৭′ উত্তর ৩৫°১৩′ পূর্ব / ৩১.৭৮৩° উত্তর ৩৫.২১৭° পূর্ব / 31.783; 35.217
রাষ্ট্রীয় ভাষাসমূহ হিব্রু, আরবি
জাতীয়তাসূচক বিশেষণ ইসরায়েলী
সরকার Parliamentary democracy[২]
 -  রাষ্ট্রপতি সিমন পেরিস
 -  প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু
Independence from UK-administered League of Nations mandate 
 -  ঘোষণা ১৪ই মে ১৯৪৮ (০৫ Iyar ৫৭০৮) 
আয়তন
 -  মোট 1 ২০ বর্গ কিমি. (151st)
৮ বর্গ মাইল 
 -  জলভাগ (%) ~2%
জনসংখ্যা
 -  2009 আনুমানিক 8,051,2002[৩] (96th)
 -  1995 আদমশুমারি 5,548,523 
 -  ঘনত্ব 356.8/বর্গ কিলোমিটার 
৮৩৯/বর্গ মাইল
জিডিপি (পিপিপি) 2008 আনুমানিক
 -  মোট $202.562 billion[৪] 
 -  মাথাপিছু $28,473[৪] 
জিনি (2005) 38.6[২] 
এইচডিআই (2007) বৃদ্ধি 0.935[৫] (high) (27th)
মুদ্রা New Israeli Sheqel (₪) (NIS)
সময় স্থান IST (ইউটিসি+2)
 -  গ্রীষ্মকালীন (ডিএসটি)  (ইউটিসি+3)
ইন্টারনেট টিএলডি .il
কলিং কোড 972
১. Excluding / Including the Golan Heights and East Jerusalem; see below.
২. Includes Israeli population in the West Bank.

ইসরায়েল (হিব্রু ভাষায়: מְדִינַת יִשְׂרָאֵל ; মেদিনাত্‌ য়িস্‌রা'এল্‌; আরবি ভাষায় دَوْلَةْ إِسْرَائِيل দাউলাত্‌ ইস্‌রা'ঈল্‌) মধ্যপ্রাচ্যের একটি সংসদীয় গণতন্ত্র। ভূমধ্য সাগরের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত এই রাষ্ট্রের রাজধানী জেরুসালেম । বিশ্বের ৫০টা মুসলিম রাষ্ট্রের [২] ৩০টি দেশ ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। বর্তমানে এই অঞ্চলের গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীর ও গোলান মালভূমি ইসরায়েল-এর দখলে থাকা বিতর্কিত স্থান হিসেবে পরিগণিত হয়।[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুর্কি উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর প্যালেস্টাইন বা ফিলিস্তিন সহ বেশিরভাগ আরব এলাকা চলে যায় ইংল্যান্ড- ফ্রান্সের ম্যান্ডেটে। ১৯১৭ সালের ২রা নভেম্বর বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বালফোর ইহুদীবাদীদেরকে লেখা এক পত্রে ফিলিস্তিনী ভূখন্ডে একটি ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেন। বেলফোর ঘোষণার মাধমে ফিলিস্তিন এলাকায় ইহুদিদের আলাদা রাষ্ট্রের সম্ভাবনা উজ্জল হয় এবং বিপুলসংখ্যক ইহুদি ইউরোপ থেকে ফিলিস্তিনে এসে বসতি স্থাপন করতে থাকে।

১৯০৫ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েক হাজার। কিন্তু ১৯১৪ সাল থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত বৃটিশদের সহযোগিতায় ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা ২০ হাজারে উন্নীত হয়। এরপর প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনে ইহুদী অভিবাসীদের ধরে এনে জড়ো করা শুরু হলে ১৯১৯ থেকে ১৯২৩ সাল নাগাদ ফিলিস্তিনে ইহুদীদের সংখ্যা ৩৫ হাজারে পৌঁছে যায়। ১৯৩১ সালে ইহুদীদের এই সংখ্যা প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছায়। এভাবে ফিলিস্তিনে ইহুদী অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে থাকে এবং ১৯৪৮ সালে সেখানে ইহুদীদের সংখ্যা ৬ লাখে উন্নীত হয়।

১৯১৮ সালে বৃটেনের সহযোগিতায় গুপ্ত ইহুদী বাহিনী "হাগানাহ" গঠিত হয়। এ বাহিনী ইহুদীবাদীদের অবৈধ রাষ্ট্র তৈরির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রথমে ফিলিস্তিনী জনগণের বিরুদ্ধে ইহুদীবাদীদের সহায়তা করা হাগানাহ বাহিনীর দায়িত্ব হলেও পরবর্তীকালে তারা সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিণত হয়। ফিলিস্তিনী জনগণের বাড়িঘর ও ক্ষেতখামার দখল করে তাদেরকে ফিলিস্তিন থেকে বিতাড়িত করা এবং বাজার ও রাস্তাঘাটসহ জনসমাবেশ স্থলে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফিলিস্তিনীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাদের বিতাড়নের কাজ ত্বরান্বিত করা ছিল হাগানাহ বাহিনীর কাজ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনী ভূখন্ডকে দ্বিখন্ডিত করা সংক্রান্ত ১৮১ নম্বর প্রস্তাব গৃহীত হয়। জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে দ্বিখন্ডিত করার প্রস্তাব পাশ করে নিজেদের মাতৃভূমির মাত্র ৪৫ শতাংশ ফিলিস্তিনীদের এবং বাকি ৫৫ শতাংশ ভূমি ইহুদীবাদীদের হাতে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এভাবে ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরায়েল স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

রাজনীতি[সম্পাদনা]

ইসরায়েলের রাজনীতি একটি সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক বহুদলীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। সরকারপ্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা তার উপর ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা ক্নেসেট নামের আইনসভার উপর ন্যস্ত। বিচার বিভাগ নির্বাহী ও আইন প্রণয়ন বিভাগ থেকে স্বাধীন।

প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ[সম্পাদনা]

ভূগোল[সম্পাদনা]

ইসরায়েল পশ্চিম এশিয়াতে ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। এই ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল ধরে সমভূমি অবস্থিত। ইসরায়েলের দক্ষিণে রয়েছে বিশাল নেগেভ মরুভূমি আর উত্তরে আছে বরফাবৃত পর্বতমালা। দক্ষিণে লোহিত সাগরে এক চিলতে প্রবেশপথ আছে।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

ইসরায়েলের অর্থনীতি আধুনিক পশ্চিমা অর্থনীতির সমপর্যায়ের। ইসারায়েলের নিজস্ব সম্পদের পরিমাণ খুব কম। দেশটি ১৯৭০-এর দশক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক অনুদান পেয়ে আসছে, তবে ১৯৯৮-এর পর এই অনুদানের পরিমাণ কমিয়ে দেয়া হয়।

ইসরায়েলের হীরা কাটার শিল্প, পর্যটন শিল্প ও সফটওয়্যার শিল্প বিখ্যাত।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

ভাষা[সম্পাদনা]

ইসরায়েল ভাষাগত ও সংস্কৃতিগতভাবে বিচিত্র। এথনোলগের ১৫শ সংস্করণ অনুসারে ইসরায়েলে ৩৩টির মত ছোট-বড় ভাষা ও উপভাষা প্রচলিত[৬]। ইসরায়েলি নাগরিকেরা নিজেদের মধ্যে ভাব আদান প্রদানের জন্য মূলত আধুনিক হিব্রু ভাষা ব্যবহার করেন। আধুনিক হিব্রু ভাষাটি ১৯শ শতকের শেষ দিকে প্রাচীন হিব্রু ভাষার বিভিন্ন উপভাষার উপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়েছিল এবং এতে স্লাভীয়জার্মানীয় ভাষাসমূহের কিছু প্রভাব আছে। ভাষার সরকারী মর্যাদা ও ভাষা সংক্রান্ত নীতিমালার উপর ইসরায়েলে বেশ কিছু আইন আছে।

বর্তমানে হিব্রুআরবি ইসরায়েলের সরকারী ভাষা।

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

পর্যটন[সম্পাদনা]

ইসরায়েলের পর্যটন মূলত ইহুদী ধর্মের পবিত্র ও ঐতিহাসিক স্থানগুলিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। দেশটির সর্বত্র ইহুদী ধর্মের ও সভ্যতার স্মৃতিবিজড়িত নানা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ইহুদীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহর এবং মুসলিম ও খ্রিস্টানদেরও গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হল জেরুজালেম শহর। জেরুজালেমের ইহুদী মন্দির ও পশ্চিম দেওয়াল বিখ্যাত। এছাড়া আছে যিশুখ্রিস্টের জন্মস্থান বেথেলহেম, বাসস্থান নাজারেথ। ভূমধ্যসাগরের তীর জুড়ে রয়েছে অনেক অবকাশ যাপন কেন্দ্র। আরও আছে লবণাক্ত মৃত সাগর, যার পানিতে ভেসে থাকা যায়। লোহিত সাগরের উপকূল এবং গ্যালিলির সাগরের উপকূলেও অনেক অবকাশ কেন্দ্র আছে। তবে ইদানীংকার বছরগুলিতে আত্মহত্যামূলক বোমাবিস্ফোরণের ঘটনা ইসরায়েলের পর্যটন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

গ্যালারি[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. The Jerusalem Law states that "Jerusalem, complete and united, is the capital of Israel" and the city serves as the seat of the government, home to the President's residence, government offices, supreme court, and parliament. The United Nations and most countries do not accept the Jerusalem Law (see Kellerman 1993, p. 140) and maintain their embassies in other cities such as Tel Aviv, Ramat-Gan, and Herzliya(see the CIA Factbook and Map of Israel) The Palestinian Authority sees East Jerusalem as the capital of a future Palestinian State and the city's final status awaits future negotiations between Israel and the Palestinian Authority (see "Negotiating Jerusalem", University of Maryland). See Positions on Jerusalem for more information.
  2. ২.০ ২.১ "Israel"The World Factbook। Central Intelligence Agency। 2007-06-19। সংগৃহীত 2007-07-20 
  3. "Selected Data from the New Israel Statistical Abstract No. 60 - 2009"Israel Central Bureau of Statistics। 2009-09-16। সংগৃহীত 2009-10-26 
  4. ৪.০ ৪.১ "Israel"। International Monetary Fund। সংগৃহীত 2009-10-01 
  5. "Human Development Report 2009. Human development index trends: Table G"। The United Nations। সংগৃহীত 2009-10-10 
  6. [১]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]