বিষয়বস্তুতে চলুন

সোভিয়েত সশস্ত্র বাহিনী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সোভিয়েত সশস্ত্র বাহিনী
Вооружённые Силы Союза Советских Социалистических Республик
Vooruzhonnyye Sily Soyuza Sovetskikh Sotsialisticheskikh Respublik'

প্রতিষ্ঠাকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯১৮; ১০৭ বছর আগে (1918-02-23)
(রেড আর্মি হিসেবে)
২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৬; ৭৯ বছর আগে (1946-02-25)
(সোভিয়েত সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে)
বিযুক্ত ২৬ ডিসেম্বর ১৯৯১; ৩৪ বছর আগে (1991-12-26)


(সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন)
২৪ ডিসেম্বর ১৯৯৩; ৩২ বছর আগে (1993-12-24) [] (সংযুক্ত সশস্ত্র বাহিনী বিলুপ্ত)

সার্ভিস শাখা সোভিয়েত সেনাবাহিনী
সোভিয়েত নৌবাহিনী
সোভিয়েত বিমানবাহিনী
সোভিয়েত বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী
কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী
সোভিয়েত এয়ারবর্ন বাহিনী
প্রধান কার্যালয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, খামোভনিকি জেলা, মস্কো, রুশ সোভিয়েত যুক্তরাষ্ট্রীয় সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
নেতৃত্ব
সাধারণ সম্পাদক জোসেফ স্তালিন (১৯২২-১৯৫৩)
মিখাইল গর্বাচেভ (১৯৮৫-১৯৯১)
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী
  • নিকোলাই পোডভোইস্কি (১৯১৭–১৯১৮)
  • মার্শাল অফ দা এভিয়েশন ইয়েভজেনি শাপোশনিকভ (১৯৯১–১৯৯৩)
সেনাবাহিনী প্রধান
  • জেনারেল পাভেল লেবেদেভ (১৯২১–১৯২৪)
  • জেনারেল অফ দা আর্মি ভিক্টর স্যামসোনভ (১৯৯১–১৯৯২)
লোকবল
সেনাবাহিনীর বয়স ১৮-৩৫
বাধ্যতামূলকভাবে সৈন্যদলে নিয়োগ ২ বছর (সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনী)
৩ বছর (নৌবাহিনী)
সামরিক বাহিনীতে
সেবাদানে সক্ষম
৯,২৩,৪৫,৭৬৪ (১৯৯১), বয়স ১৮-৩৫
সক্রিয় কর্মিবৃন্দ ৫৩,০০,০০০ (১৯৮৫)
সংরক্ষিত কর্মিবৃন্দ ৩,৫৭,৪৫,০০০
ব্যয়
বাজেট ১২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১৯৮৮)[]
US$200-300 billion (CIA, Pentagon estimate, 1988)[]
শতকরা জিডিপি ৪.৯% (১৯৮৮)
৭.৭–১১.৫% (১৯৮৮)


সোভিয়েত ইউনিয়নের পতাকা ও
সোভিয়েত সামরিক বাহিনীর ব্যানার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল

সোভিয়েত সশস্ত্র বাহিনী, যা সোভিয়েত ইউনিয়নের সশস্ত্র বাহিনী নামেও পরিচিত, রেড আর্মি (১৯১৮-১৯৪৬) ও সোভিয়েত সেনাবাহিনী (১৯৪৬-১৯৯১) ছিল একটি সোভিয়েত সশস্ত্র বাহিনী। এই বাহিনী ১৯১৭-১৯২৩ সালের রাশিয়ার গৃহযুদ্ধের শুরু থেকে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এর আগ পর্যন্ত ছিল। ১৯৯২ সালের মে মাসে, রুশ রাষ্ট্রপতি বরিস য়েলৎসিন সোভিয়েত সামরিক বাহিনীর বেশিরভাগ অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে রুশ সশস্ত্র বাহিনী গঠনের আদেশ জারি করেন।

১৯২৫ সালের সেপ্টেম্বরের সর্ব-ইউনিয়ন সামরিক পরিষেবা আইন অনুসারে, সোভিয়েত সশস্ত্র বাহিনী সেনা ,বিমান এবং নৌবাহিনী, রাজ্য রাজনৈতিক অধিদপ্তর এবং কনভয় গার্ডদের নিয়ে গঠিত ছিল। [] রাজনৈতিক অধিদপ্তর পরে স্বাধীন করা হয় এবং ১৯৩৪ সালে এন.কে.ভি.ডি'র সাথে একত্রিত করা হয় ও এইভাবে এর অভ্যন্তরীণ সৈন্যরা প্রতিরক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ কমিসারিয়েটের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ছিল। ১৯৮৯ সালে, সোভিয়েত সামরিক বাহিনী কৌশলগত রকেট বাহিনী, সেনাবাহিনী, বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত হয়। []

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সশস্ত্র সংগঠনগুলিকে সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হিসাবে বিবেচনা করেছেন।[] সরকারের সামরিক বাহিনীর আপেক্ষিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাসের একটি প্রধান অংশ।

স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে, ১৯৮৪ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থা মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি একাডেমিক গবেষণায় দেখা গেছে যে সোভিয়েত সামরিক বাহিনী সমগ্র বিশ্বজুড়ে এবং বিশেষ করে ইউরোপের অভ্যন্তরে একটি উল্লেখযোগ্য আধিপত্য বজায় রেখেছে।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

উৎপত্তি

[সম্পাদনা]
মস্কোতে একটি রেড আর্মি প্যারেড, ১৯২২

পিপলস কমিসার কাউন্সিল ১৫ জানুয়ারী, ১৯১৮ সালে এর আগ পর্যন্ত বিদ্যমান রেড গার্ডের উপর ভিত্তি করে রেড আর্মি গঠন করে। ২৩ ফেব্রুয়ারীকে রাশিয়া ও তার মিত্ররা এই দিন সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালন করে থাকে, কারণ এই দিনটি ১৯১৮ সালে পেট্রোগ্রাদ এবং মস্কোতে রেড আর্মির প্রথম গণ খসড়া ও দ্রুত অগ্রসরমান ইম্পেরিয়াল জার্মান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম যুদ্ধ ব্যবস্থার দিন হিসাবে পরিচিত। ২৩ ফেব্রুয়ারী সোভিয়েত ইউনিয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ছুটির দিন হয়ে ওঠে, পরে এটি সোভিয়েত সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসাবে পালিত হয় এবং এটি ২০০৯-এর হিসাব অনুযায়ী উদযাপনের দিন হিসাবে অব্যাহত ছিল। বর্তমানে এটি রাশিয়ায় মাতৃভূমি রক্ষক দিবস হিসাবে পালিত হয়। রেড আর্মির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কৃতিত্ব সাধারণত ১৯১৮ থেকে ১৯২৪ সালের যুদ্ধের পিপলস কমিসার লিওন ত্রোত্‌স্কিকে দেওয়া হয়।

শুরুর দিকে, রেড আর্মি একটি স্বেচ্ছাসেবী গঠনের ওপর কাজ করেছিল, তখন কোনো সেনার জন্য কোন পদ বা চিহ্ন ছিল না। গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের নির্বাচন করা হতো। ১৯১৮ সালের ২৯ মে'র একটি ডিক্রিতে, ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী সকল পুরুষদের জন্য সামরিক বাহিনীতে কাজ করা বাধ্যতামূলক করা হয়। বিশাল খসড়াটি পরিবেশন করার জন্য, বলশেভিকরা আঞ্চলিক সামরিক কমিশন গঠন করেছিল, যা এখনও রাশিয়ায় এই কার্য সম্পাদন করে। অফিসারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ধারাও এই ডিক্রিতে বিলুপ্ত করা হয়েছিল। এটিতে অফিসারদের জন্য আলাদা কোয়ার্টার, বিশেষ ধরনের সম্বোধন, অভিবাদন এবং উচ্চ বেতন সবই পুনঃস্থাপিত হয়েছিল।

১৯২০ সালে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল আলেক্সেই ব্রুসিলভ বলশেভিকদের তার পেশাদার পরিষেবা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার পরে, তারা রুশ সেনাবাহিনীর প্রাক্তন অফিসারদের নিয়োগের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বলশেভিক কর্তৃপক্ষ লেভ গ্লেজারভের সভাপতিত্বে একটি বিশেষ কমিশন গঠন করে এবং ১৯২০ সালের আগস্টের মধ্যে প্রায় ৩,১৫,০০০ প্রাক্তন কর্মকর্তার খসড়া তৈরি করে। বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট রেড আর্মি কমান্ডার এর আগে ইম্পেরিয়াল রুশ জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অনেক প্রাক্তন ইম্পেরিয়াল সামরিক ব্যক্তি, বিশেষ করে সুপ্রিম মিলিটারি কাউন্সিলের সদস্য, মিখাইল বনচ-ব্রুভিচ, এর আগে বলশেভিকদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন।

বলশেভিক কর্তৃপক্ষ সেনাবাহিনীর প্রতিটি ইউনিটে একজন রাজনৈতিক কমিসার বা পলিট্রুক নিয়োগ করেছিল, যাদের সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির নীতির বিপরীতে চলে গেলে ইউনিট কমান্ডারদের সিদ্ধান্তগুলিকে বাতিল করার ক্ষমতা ছিল। কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব সামরিক বাহিনীর উপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেছিল, কারণ সেনাবাহিনী প্রাক-বিপ্লবী জারবাদী সময়কাল থেকে অভিজ্ঞ অফিসারদের উপর নির্ভর করত।

গৃহযুদ্ধ

[সম্পাদনা]

রাশিয়ার প্রথম গৃহযুদ্ধ (১৯১৭-১৯২৩) ছিল বলশেভিকদের নেতৃত্বাধীন রেড আর্মি এবং তাদের বিরোধী শ্বেতশ্রেণীর মধ্যে সংঘটিত একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। এই যুদ্ধটি রাশিয়ান সাম্রাজ্যের পতনের পর শুরু হয় এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শেষ হয়। বলশেভিকরা সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে লড়াই করেছিল, যেখানে শ্বেতশ্রেণী চেয়েছিল পুরনো সাম্রাজ্যবাদী শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে। যুদ্ধটি রাশিয়ার অর্থনীতি, সমাজ এবং রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। এটি সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্মের পথ প্রশস্ত করে।

পোলিশ-সোভিয়েত যুদ্ধ

[সম্পাদনা]

পোলিশ-সোভিয়েত যুদ্ধ রেড আর্মির প্রথম আন্তর্জাতিক অভিযান ছিল। ১৯২০ সালে ইউক্রেনে পোলিশ আক্রমণের পর সোভিয়েত সেনাবাহিনী সফলতার সাথে পাল্টা আক্রমণ করে দেখা দেয়, কিন্তু পরে এ যুদ্ধটি বিপর্যয়কর (সোভিয়েতদের জন্য) ওয়ারশ যুদ্ধে (১৯২০) রূপ নেয়।

দূরপ্রাচ্য

[সম্পাদনা]
রেড আর্মির একজন সৈনিক, ১৯২৬, বুদেনভকা (কমিউনিস্ট সামরিক পোশাক) পরা

১৯৩৪ সালে, মঙ্গোলিয়া এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন, মাঞ্চুরিয়া এবং অন্তর্দেশীয় মঙ্গোলিয়ায় জাপানি সামরিক উপস্থিতিকে একটি হুমকি হিসেবে স্বীকার করে এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়।১৯৩৯ সালের মে মাসে, একটি মঙ্গোলিয়ান অশ্বারোহী ইউনিট হালহা নদীর পূর্বের অঞ্চলে মাঞ্চুকুয়ান অশ্বারোহী বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। একটি জাপানি বিচ্ছিন্ন সৈন্যদলের সাথে সংঘর্ষের পরে, মঙ্গোলিয়ানরা নদীর ওপর দিয়ে পালিয়ে যায়। সোভিয়েত সৈন্যরা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রোটোকল অনুসারে সেখানে অবস্থান করছিল এবং বিচ্ছিন্ন এ সংঘর্ষে হস্তক্ষেপ করেছিল। পুরো জুন মাসজুড়েই উভয় পক্ষ সৈন্য সংগ্রহ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ১লা জুলাই জাপানি বাহিনীর সেনা সংখ্যা ৩৮,০০০ জন। অন্যদিকে সম্মিলিত সোভিয়েত-মঙ্গোল বাহিনীতে ১২,৫০০ জন সৈন্য ছিল। জাপানিরা যুদ্ধের জন হালহা নদী পার হয়, কিন্তু তিন দিনের যুদ্ধের পর তারা পরাজিত হয়।

২০ আগস্ট সোভিয়েত সেনাবাহিনী ভারী বিমান হামলা এবং তিন ঘন্টা কামান বোমাবর্ষণের মাধ্যমে একটি বড় আক্রমণ শুরু করে, তারপরে তিনটি পদাতিক ডিভিশন এবং পাঁচটি সাঁজোয়া ব্রিগেড, একটি ফাইটার রেজিমেন্ট এবং আর্টিলারির সেনারা (মোট ৫৭,০০০ সৈন্য) ৭৫,০০০ জাপানিদের আক্রমণ করে। ২৩ আগস্ট সমগ্র ইম্পেরিয়াল জাপানি সেনাবাহিনী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং ৩১ আগস্ট ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। জাপান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছিল এবং ১৫ সেপ্টেম্বর মস্কোতে স্বাক্ষরিত ইউএসএসআর, মঙ্গোলিয়া এবং জাপানের মধ্যে একটি চুক্তির মাধ্যমে সংঘর্ষের সমাপ্তি ঘটে। সংঘাতে, রেড আর্মির ৯,৭০৩ জন যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত ও নিখোঁজ এবং ১৫,৯৫২ জন আহত হয়। জাপানের ২৫,০০০ জন সৈন্য নিহত হয়।হাজার হাজার মৃত্যুর কারণে জাপানী সেনাদের ইতোমধ্যে ভেঙ্গে পড়া মনোবল আরও গুড়িয়ে যায়। পরাজয়ের কারণে সম্ভবত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত এলাকায় জাপান আক্রমণ করে নি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

[সম্পাদনা]
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত সৈন্যদের একটি রঙিন ছবি

১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯ তারিখে, রেড আর্মি তার সৈন্যদের পোল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলির দিকে (বর্তমানে বেলারুশ এবং ইউক্রেনের অংশ) সরিয়ে নেয়। জার্মানির দ্বারা হুমকিপ্রাপ্ত ইউক্রেনিয়ান এবং বেলারুশিয়ানদের সাহায্য করার অজুহাতে [] ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর পোল্যান্ড আক্রমণ করে। এতে পোল্যান্ড পরাজিত হয়। অন্যদিকে পোল্যান্ডের দিকে এগিয়ে আসা জার্মান সেনাদল কার্জন লাইনে কিছুটা থামে।

সে পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সংঘাত এড়িয়ে চলার জন্য সোভিয়েত ও জার্মানদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। এ চুক্তিতে উভয়পক্ষের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। উভয় সেনাবাহিনী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুখোমুখি সাক্ষাতেও অংশ নেয়। []

১৯৯১-পরবর্তী রুশ সূত্র অনুসারে, পোল্যান্ড আক্রমণের সময় সোভিয়েত সেনাবাহিনীতে সেনা সংখ্যা ছিল ৪৬৬,৫১৬ জন। [] সৈন্যরা অগ্রসর হওয়ার সময় পশ্চিম সীমান্তে যৌথভাবে জার্মান ও পোলিশ সেনাবাহিনীর দ্বারা সামান্য প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছিল, তবে পোলিশ সেনাবাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডের আনুষ্ঠানিক আদেশ ছিল যেন তারা সোভিয়েত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে না জড়ায়। [১০] তবুও এ সংঘাতে রেড আর্মি ১,৪৭৫ জন নিহত ও নিখোঁজ এবং ২,৩৮৩ জন আহত হয়। [১১] অন্যদিকে পোলিশ সৈন্যদের আনুমানিক হতাহতের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬,০০০-৭,০০০এ। [১২]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণের দুই মাস পর ১৯৩৯ সালের ৩০ নভেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন ফিনল্যান্ড আক্রমণ করলে শীতকালীন যুদ্ধ শুরু হয়। আক্রমণটিকে আন্তর্জাতিকভাবে অবৈধ বলে অভিহিত করা হয় এবং ১৪ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়নকে লীগ অফ নেশনস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। [১৩] এ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে ১৯৪০ সালের ১৩ মার্চে।

তবে ১৯৪১ সালের ২৫ জুন সোভিয়েত ইউনিয়ন ফিনিশ শহরগুলিতে আবারও একটি বিমান হামলা চালায়। ফলে ফিনল্যান্ডক যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং ফিনল্যান্ডে অবস্থানরত জার্মান সৈন্যরা এতে যোগ দেয়।

সোভিয়েত এ আক্রমণের ফলে যুদ্ধের সময় অর্জন করা বেশিরভাগ ফিন এলাকা তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। ফিনিশ সেনাবাহিনী ১৯৪৪ সালের আগস্টে যুদ্ধ করা বন্ধ করে দেয়। এই বৈরিতাটি ১৯ সেপ্টেম্বর,১৯৪৪-এ স্বাক্ষরিত একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়।

সোভিয়েত যুদ্ধের পোস্টার, ১৯৪১

১৯৪০ সালের শরৎকালে, নাৎসি জার্মানি এবং তার মিত্ররা বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়। শুধুমাত্র যুক্তরাজ্য সক্রিয়ভাবে নাৎসিবাদী এবং ফ্যাসিবাদী আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করছিল। নাৎসি জার্মানি এবং ব্রিটেনের কোনো সাধারণ স্থল সীমান্ত ছিল না, কিন্তু তাদের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে জার্মানির একটি বিস্তৃত স্থল সীমান্ত ছিল, কিন্তু তারা এ বিষয়ে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করছিল।

একজন সোভিয়েত জুনিয়র রাজনৈতিক অফিসার (পলিট্রুক) সোভিয়েত সৈন্যদের জার্মান অবস্থানের বিরুদ্ধে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন (১২ জুলাই ১৯৪২)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত স্কি সৈন্যদল

অ্যাডলফ হিটলারের জন্য, এই পরিস্থিতিতে কোনও দ্বিধা ছিল না। তবে ১৮ ডিসেম্বর তিনি অপারেশন বারবারোসা ঘোষণা করেন। এটি এই বলে শুরু করা হয়েছিল যে "ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে জার্মান সেনাবাহিনীকে সোভিয়েত রাশিয়াতে দ্রুত অভিযানে পরাস্ত করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে"। ৩ ফেব্রুয়ারী, ১৯৪১-এ, অপারেশন বারবারোসার চূড়ান্ত পরিকল্পনা অনুমোদন লাভ করে এবং আক্রমণটি মে, ১৯৪১ সালের মাঝামাঝি সময়ে নির্ধারিত হয়েছিল। তবে, গ্রীস এবং যুগোস্লাভিয়ায় উত্তেজনার কারণে এটি জুনের দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত বিলম্বিত হয়।

১৯৪১ সালের জুনে সোভিয়েত ইউনিয়নে নাৎসি আক্রমণের সময় সোভিয়েত সেনাবাহিনীর ৩০৩টি ডিভিশন এবং ২২টি ব্রিগেড ছিল, যার মধ্যে ১৬৬ ডিভিশন এবং ৯টি ব্রিগেড। অন্যদিকে পশ্চিমের সামরিক জেলাগুলিতে নিযুক্ত ছিল। দুর্বল প্রস্তুতির কারণে যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহগুলিতে সোভিয়েত সেনাবাহিনী উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।অন্যদিকে লক্ষ্যণীয় ছিল জার্মান সেনাবাহিনীর একটি সাধারণ কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব।

উজ্জ্বল সোভিয়েত কমান্ডারদের একটি প্রজন্ম বিশেষ করে তৎকালীন সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল জর্জি ঝুকভ পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে মস্কোর যুদ্ধে, স্টালিনগ্রাদে, কুরস্কে এবং পরে অপারেশন ব্যাগ্রেশনে সোভিয়েত বাহিনীর বিজয় নিশ্চিত করেন যা সোভিয়েতদের কাছে মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধ হিসাবে পরিচিত হয়েছিল।

সোভিয়েত সরকার ১৯৪১ সালে পশ্চাদপসরণকারী রেড আর্মির রাষ্ট্র এবং মনোবল উন্নত করার জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। সে সময় রুশ জনগণকে সৌন্যদের সমর্থনে উদ্বুদ্ধ করতে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে ১৮১২ সালের দেশপ্রেমিক যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করে জার্মান আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধ হিসাবে প্রচার করা হয়। রেড আর্মি তখন সামরিক পদ পুনঃপ্রবর্তন করে এবং পদক এবং সিনিয়র অর্ডারের মতো অনেক অতিরিক্ত স্বতন্ত্র পার্থক্য গ্রহণ করে। যে ইউনিটগুলি যুদ্ধে ব্যতিক্রমী বীরত্ব প্রদর্শন করেছিল তারা গার্ডস রেজিমেন্ট নাম অর্জন করেছিল।

জার্মান-সোভিয়েত যুদ্ধের শুরুতে, সোভিয়েত সেনাবাহিনীতে ৪৮,২৬,৯৬০ জন সেনা ছিল। আশ্চর্যজনকভাবে পরবর্তীতে সেখানে আরও ২,৯৫,৭৪,৯০০ জন নতুন করে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬৩,২৯,৬০০ জন সম্মুখ যুদ্ধে নিহত হয়, এছাড়া ৫,৫৫,৪০০ জন রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে এবং ৪৫,৬৯,০০০ জন বন্দী কিংবা নিখোঁজ হয়। নিখোঁজদের মধ্যে ৯,৩৯,৭০০ জন পরবর্তীতে সোভিয়েত অঞ্চল পুনরুদ্ধার করার জন্য পূনরায় সেনাবাহিনীতে যোগদান করে এবং আরও ১৮,৩৬,০০০ জন জার্মান সেনা বন্দিদশা থেকে ফিরে আসে। এ যুদ্ধে সেনাবাহিনীর প্রায় ৮৬,৬৮,৪০০ জন সেনা নিহত হয়। পূর্ব ফ্রন্টে ৩৬,০৪,৮০০ জার্মান সৈনিক নিহত/নিখোঁজ এবং ৩৫,৭৬,৩০০ জন বন্দী (মোট ৭১,৮১,১০০)।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রদের দ্বারা চিত্রিত সোভিয়েত সৈনিককে চিত্রিত করে মার্কিন সরকারের একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পোস্টার
রেড আর্মির সৈন্যদের দ্বারা অশউইৎজ বন্দী শিবিরের মুক্তি, জানুয়ারি ১৯৪৫
বার্লিনে স্তালিনের একটি বিশাল পোস্টার, জুন ১৯৪৫

যুদ্ধের প্রথম অংশে, রেড আর্মি মিশ্র মানের অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেছিল। এ বাহিনীর অত্যন্ত চমৎকার আর্টিলারি ছিল, কিন্তু এটি চালাতে এবং সরবরাহ করার জন্য যথেষ্ট ট্রাক ছিল না। রেড আর্মির টি-৩৪ ট্যাঙ্কগুলি ১৯৪১ সালে জার্মানদের উপস্থিতির সময় অন্য যে কোনও ট্যাঙ্ককে ছাড়িয়ে গিয়েছিল, তবুও সোভিয়েত সাঁজোয়া ইউনিটগুলির বেশিরভাগই কম উন্নত মানের ছিল। সোভিয়েত বিমান বাহিনী শুরুর দিকে জার্মানদের বিরুদ্ধে খারাপ পারফরম্যান্স করেছিল।

ইউরোপে যুদ্ধের সমাপ্তির পর, রেড আর্মি ৯ আগস্ট ১৯৪৫ সালে জাপান এবং মাঞ্চুরিয়ায় আক্রমণ করে এবং মঙ্গোলিয়ান এবং চীনা কমিউনিস্ট বাহিনীর সাথে মিলিত হয়ে কোয়ান্টুং আর্মিকে পরাস্ত করে। সোভিয়েত সেনাবাহিনী সাখালিন, কুরিল দ্বীপপুঞ্জ এবং উত্তর কোরিয়াতেও আক্রমণ করেছিল। ১৯৪৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর জাপান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।

শীতল যুদ্ধ

[সম্পাদনা]
১৯৫৮ সালের স্ট্যাম্পে সামরিক বাহিনীর তিনটি প্রধান শাখা

১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের শুধুমাত্র সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনী ছিল। [] সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং অপর একটি নৌবাহিনীকে পরিচালনাকারী দুটি আলাদা মন্ত্রণালয় ১৯৪৬ সালের মার্চ মাসে সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয়ে একত্রিত হয়। ১৯৪৮ সালে সেনাবাহিনীর চতুর্থ পরসেবা, ট্রুপস অফ ন্যাশনাল এয়ার ডিফেন্স গঠিত হয়েছিল। ছয় বছর পর আরও একটি কৌশলগত রকেট বাহিনী গঠিত হয়। সোভিয়েত এয়ারবর্ন বাহিনী, সুপ্রিম হাই কমান্ডের রিজার্ভ হিসাবে এই সময়ের মধ্যে সক্রিয় ছিল। টাইল বা রিয়ার সার্ভিস সোভিয়েত সশস্ত্র বাহিনী অংশ ছিল।

১৯৪৮ সালে সোভিয়েত সামরিক বাহিনীর মধ্যে সৈন্য সংখ্যা প্রায় ১১.৩ মিলিয়ন থেকে প্রায় ২.৮ মিলিয়নে নেমে আসে। [১৪] পশ্চিমা অনুমান অনুসারে শীতল যুদ্ধের বেশিরভাগ সময় স্থল বাহিনীর আকার ৪ মিলিয়ন থেকে ৫ মিলিয়ন সৈন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সোভিয়েত সরকারি আইন অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিককে সেনাবাহিনীতে ন্যূনতম ২ বছর কাজ করতে হয়। ফলস্বরূপ, সোভিয়েত সেনাবাহিনী ১৯৪৫ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বিশ্বের বৃহত্তম সেনাবাহিনী ছিল। জার্মান দখল থেকে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলিকে পুনরুদ্ধারকারী বেশিরভাগ সোভিয়েত সামরিক নেতৃবৃন্দ সোভিয়েত ইউনিয়নের তাঁবেদার রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করা, স্বাধীনতার স্বপক্ষের প্রতিরোধ ও পরবর্তীতে ন্যাটো বাহিনীকে প্রতিরোধ ও প্রতিরোধ করার কাজে নিয়োজিত হয়েছিল। পূর্ব ইউরোপে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার জন্য, সোভিয়েত সেনাবাহিনী পূর্ব জার্মানি (১৯৫৩), হাঙ্গেরি (১৯৫৬) এবং চেকোস্লোভাকিয়ায় (১৯৬৮) সোভিয়েত-বিরোধী বিদ্রোহ দমন করে।

চীন-সোভিয়েত সীমান্ত সংঘর্ষের ফলে, ১৯৬৯ সালে একটি ষোড়শ সামরিক জেলা তৈরি করা হয়েছিল। এটির অবস্থান মধ্য এশিয়ায় ছিল এবং এটির সদর দফতর আলমা-আতায় অবস্থিত ছিল। [] থিয়েটার স্তরে যুদ্ধের ক্ষমতা উন্নত করার জন্য, সামরিক জেলাগুলি, সামরিক বাহিনীগুলো এবং নৌবহরগুলিকে একত্র করে ৮০ এর দশকের গোড়ার দিকে চারটি হাইকমান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল৷ [১৫]

স্নায়ুযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটোর সাথে দ্বন্দ্ব প্রধানত পারমাণবিক অস্ত্রের পাশাপাশি হুমকিস্বরূপ পারস্পরিক প্রতিরোধের রূপ নেয়। সম্মুখযুদ্ধ না বাধলেও এ সময় বেশ কয়েকটি প্রক্সি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে অনুগত ক্লায়েন্ট শাসন বা বিদ্রোহী আন্দোলনকে সমর্থন করেছিল। কোরিয়ান যুদ্ধের সময়, সোভিয়েত বিমানবাহিনী সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। দুটি সোভিয়েত এয়ার ডিভিশন মিগ-৯ এবং মিগ-১৫ ফাইটার জেটকে মার্কিন বোয়িং বি-২৯ সুপারফোর্ট্রেস বিমান এবং তাদের মার্কিন ও সহযোগী ফাইটার এসকর্টের বিরুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল।[১৬] এছাড়া তাদের অস্ত্র সরবরাহ করার জন্য পারমাণবিক সাবমেরিনও পাঠানো হয়েছিল।

আফগানিস্তান যুদ্ধ

[সম্পাদনা]
আফগানিস্তানে একজন সোভিয়েত সৈনিক, ১৯৮৮

১৯৭৯ সালে সোভিয়েত সেনাবাহিনী আফগানিস্তানে সেনা অভিযান শুরু করে। সোভিয়েত সেনাবাহিনী একটি সোভিয়েত-বান্ধব কমিউনিস্ট সরকারকে সমর্থন করেছিল। এটি বহুজাতিক, প্রধানত আফগান মুজাহিদিন দ্বারা হুমকির সম্মুখীন হয়েছিল। বিদ্রোহীরা প্রতিবেশী পাকিস্তান, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব এবং অন্যান্য দেশ থেকে বিলিয়ন ডলার সহায়তা এবং সামরিক প্রশিক্ষণ লাভ করে। এ সময় সোভিয়েতদের গ্রামাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য পর্যাপ্ত সৈন্য ছিল না। পলিটব্যুরো শুধুমাত্র ৮০ হাজার থেকে ১লক্ষ জনের একটি "সীমিত দল"কে যুদ্ধে প্রেরণের অনুমতি দেয়।

ফলস্বরূপ, স্থানীয় বিদ্রোহীরা কার্যকরভাবে হামলা করে পালিয়ে যাওয়ার জন নিরাপদ রুট তৈরি করতে এবং ভাল সরবরাহ-চ্যানেল ব্যবহার করতে সক্ষম হয়। ফলে সোভিয়েত বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে পড়ে এবং মিডিয়ায় ব্যপকভাবে সোভিয়েত ক্ষয়ক্ষতির ব্যপারে খবর প্রচারিত হয়। এসব ঘটনা সাধারণভাবে সোভিয়েত এলাকাগুলোতে এ যুদ্ধকে খুব অ-জনপ্রিয় করে তুলেছিল, যদিও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক সামান্যই ছিল (আনুমানিক ১৫ হাজার সোভিয়েত যোদ্ধাদের মৃত্যু)। যুদ্ধটি আন্তর্জাতিকভাবেও একটি সংবেদনশীল ইস্যুতে পরিণত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভকে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করেন। এক দশকের দীর্ঘ যুদ্ধের ফলে লক্ষাধিক আফগান নাগরিক তাদের দেশ থেকে পালিয়ে যায়। তাদের বেশিরভাগই পাকিস্তান ও ইরানে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়। যুদ্ধে বিদ্রোহী ছাড়াও অন্তত অর্ধ মিলিয়ন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন

[সম্পাদনা]
বার্লিনে রেড আর্মির স্মৃতিস্তম্ভ
রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ক্যাথেড্রালের একটি মোজাইক সোভিয়েত সশস্ত্র বাহিনী এবং এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধের স্মরণে - ব্রেস্ট দুর্গের প্রতিরক্ষা, স্মোলেনস্কের যুদ্ধ এবং মস্কোর যুদ্ধ

১৯৮৫ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত, সোভিয়েত ইউনিয়নের নতুন প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ সেনাবাহিনীতে অর্থায়ন কমানোর চেষ্টা করছিলেন। তার সরকার ধীরে ধীরে সেনাবাহিনীর আকার ছোট করে দেয়। ১৯৮৯ সাল নাগাদ সোভিয়েতদের সাথে এর প্রতিবেশীরা ওয়ারশ চুক্তি ত্যাগ করতে থাকে। ঐ বছর সোভিয়েত সেনাবাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ৯০ এর দশকে গণতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রেক্ষিতে সমগ্র পূর্ব ব্লক ভেঙে পড়ে। ফলস্বরূপ, সোভিয়েত নাগরিকরা দ্রুত সোভিয়েত সরকারের বিরুদ্ধেও দাঁড়াতে শুরু করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন বিচ্ছিন্নতার দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে, সামরিক বাহিনী দুর্বল এবং অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং তারা দুর্বল সোভিয়েত সরকারকে আর সমর্থন করতে পারেনি। সামরিক বাহিনী মধ্য এশিয়া এবং ককেশাসে সংঘাত ও অস্থিরতা দমন করার চেষ্টায় জড়িত ছিল কিন্তু এটি প্রায়ই শান্তি ও শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে অক্ষম প্রমাণিত হয়। ৯ এপ্রিল, ১৯৮৯-এ, সেনাবাহিনী, এমভিডি ইউনিটের সাথে যুক্ত হয়ে, জর্জিয়ার তিবিলিসিতে প্রায় ১৯০ জন বিক্ষোভকারীকে হত্যা করে। পরবর্তী বড় সঙ্কট আজারবাইজানে দেখা দেয়, সোভিয়েত সেনাবাহিনী ১৯-২০ জানুয়ারী, ১৯৯০-এ জোরপূর্বক বাকুতে প্রবেশ করে, বিদ্রোহী প্রজাতন্ত্র সরকারকে অপসারণ করে এবং শত শত বেসামরিক লোককে হত্যা করে। এটি আজারবাইজানে কাল-জানুয়ারি হিসেবে পরিচিত। [১৭] ১৩ জানুয়ারী, ১৯৯১ সালে, সোভিয়েত বাহিনী রাষ্ট্রীয় রেডিও এবং টেলিভিশন বিল্ডিং এবং ভিলনিয়াস, লিথুয়ানিয়ার টেলিভিশন রিট্রান্সলেশন টাওয়ারে হামলা চালায়, উভয়ই সোভিয়েত-বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এতে ১৪ জন নিহত এবং ৭০০ জন আহত হয়।[১৮]

১৯৯১ সালের মাঝামাঝি, সোভিয়েত ইউনিয়ন জরুরি অবস্থার মধ্যে পৌঁছেছিল।[১৯] ১৯৯১ সালের আগস্টের একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা হয়, এর পরেই সুপ্রিম সোভিয়েত (রাশিয়ান পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ) দ্বারা নিযুক্ত অফিসিয়াল কমিশন (সোভিয়েত একাডেমি অফ সায়েন্সেস) অনুসারে, সামরিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেনি। যদিও কমান্ডাররা মস্কোর রাস্তায় ট্যাঙ্ক পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু (সকল কমান্ডার এবং সৈন্যদের মতে) তাদের শুধুমাত্র মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।[২০] অভ্যুত্থানটি প্রাথমিকভাবে ব্যর্থ হয়েছিল কারণ অংশগ্রহণকারীরা কোন সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেয়নি এবং তাদের নিষ্ক্রিয়তার বেশ কয়েক দিন পরে অভ্যুত্থানটি বন্ধ হয়ে যায়। অভ্যুত্থানের সময় বেসামরিক এবং ট্যাঙ্ক ক্রুদের মধ্যে শুধুমাত্র একটি সংঘর্ষ হয়েছিল, যার ফলে তিনজন বেসামরিক লোক মারা গিয়েছিল।

আগস্ট ১৯৯১ এর অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টার পরে, সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্ব প্রজাতন্ত্রের উপর কার্যত কোন কর্তৃত্ব বজায় রাখতে পারে নি। প্রায় প্রতিটি সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিপ্রায় ঘোষণা করেছিল এবং সুপ্রিম সোভিয়েতকে অস্বীকার করে আইন পাস করতে শুরু করেছিল। ৮ ডিসেম্বর, ১৯৯১-এ, রাশিয়া, বেলারুশ এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতিবৃন্দ সোভিয়েত ইউনিয়নকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে এবং কমনওয়েলথ অফ ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস স্থাপনের নথিতে স্বাক্ষর করেন। গর্বাচেভ অবশেষে ২৫ ডিসেম্বর, ১৯৯১-এ পদত্যাগ করেন। পরের দিন সর্বোচ্চ সরকারি সংস্থা সুপ্রিম সোভিয়েত নিজেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে দেয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের অস্তিত্বের অবসান ঘটে। পরের দেড় বছর ধরে সোভিয়েত সামরিক বাহিনীকে স্বাধীন রাষ্ট্রের কমনওয়েলথের ইউনাইটেড সশস্ত্র বাহিনী হিসাবে অস্তিত্বে রাখার জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ইউক্রেনে ও কিছু বিচ্ছিন্ন প্রজাতন্ত্রে অবস্থানরত সামরিক ইউনিট তাদের নতুন জাতীয় সরকারের প্রতি আনুগত্যের শপথ করেছিল। সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রগুলি চুক্তির মাধ্যমে সামরিক সম্পদ পরস্পর ভাগ করে নিয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর, সোভিয়েত সামরিক বাহিনী বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তরসূরি রাষ্ট্রগুলি নিজেদের মধ্যে তাদের সম্পদ ভাগ করে নেয়। ভাগাভাগি বেশিরভাগই আঞ্চলিক ভিত্তিতে সংঘটিত হয়। রাশিয়ার সোভিয়েত সৈন্যরা নতুন রুশ সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে উঠে, আর কাজাখস্তান থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত সোভিয়েত সৈন্যরা নতুন কাজাখ সেনাবাহিনীর অংশ হয়ে যায়।

গঠন ও নেতৃত্ব

[সম্পাদনা]
১৯৮৯ এর শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়নের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা

সোভিয়েত সশস্ত্র বাহিনী সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। এর প্রধান ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, যিনি সাধারণত পলিটব্যুরোর একজন পূর্ণ সদস্য হয়ে থাকেন। এছাড়া ১৯৩৪ সাল থেকে, সোভিয়েত ইউনিয়নের একজন মার্শালও এর অন্যতম নেতৃত্ব প্রদানকারী ছিলেন। ১৯৩৪ এবং ১৯৪৬, ১৯৫০ এবং ১৯৫৩ সালের মধ্যে, নৌবাহিনী একটি পৃথক মন্ত্রণালযয়ের অধীনস্হ ছিল এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুধুমাত্র সেনা ও বিমানবাহিনী পরিচালনা করত। তবে নৌমন্ত্ররপদ খুব একটা উচ্চ মানের ছিল না, ফলেবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে নৌবাহিনীর নীতিনির্ধারণে আধিপত্য বজায় রেখেছিল।১৯৮৯ সালে, সোভিয়েত সশস্ত্র বাহিনী কৌশলগত রকেট বাহিনী, সেনাবাহিনী, বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিমানবাহিনী এবং নৌবাহিনী নিয়ে গঠিত ছিল। []প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাইরেও বেশ কিছু সশস্ত্র সংগঠন ছিল; ১৯৮৯ সালে এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ সৈন্য এবং কেজিবি বর্ডার ট্রুপস অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Loading"। ১১ মে ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০১৭
  2. "Soviet Military Budget: $128 Billion Bombshell"The New York Times। ৩১ মে ১৯৮৯। ১২ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
  3. "Soviets to trim military production by 1990"Defense Daily। ২৪ জুলাই ১৯৮৯। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০১৫; "Soviet military spending put at 20–25% of GNP"Defense Daily। ২৪ এপ্রিল ১৯৯০। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০১৫; "Soviets have not hardened position on SLCM – Akhromeyev"Defense Daily। ৯ মে ১৯৯০। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০১৫
  4. 1 2 3 Scott ও Scott 1979
  5. 1 2 Zickel ও Keefe 1991
  6. "The Soviet Army: Operations and Tactics".
  7. Telegram from the German Ambassador in the Soviet Union, (Schulenburg) to the German Foreign Office ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০০৯-১১-০৭ তারিখে, 10 September 1939, at Yale Law School's Avalon Project: Nazi-Soviet Relations 1939–1941.
  8. Fischer ১৯৯৯
  9. Krivosheev 1997
  10. Piotrowski, Tadeusz (১৯৮৮)। "Ukrainian Collaborators"Poland's Holocaust: Ethnic Strife, Collaboration with Occupying Forces and Genocide in the Second Republic, 1918–1947। McFarland। পৃ. ১৭৭–২৫৯আইএসবিএন ০৭৮৬৪০৩৭১৩
  11. Ibid.
  12. (পোলীয় ভাষায়) Edukacja Humanistyczna w wojsku ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০০৭-০৯-২৯ তারিখে.
  13. "LEAGUE OF NATIONS' EXPULSION OF THE U.S.S.R., DECEMBER 14, 1939"www.ibiblio.org। ১৯ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ মার্চ ২০০৯
  14. Tsouras 1994
  15. Odom 1998
  16. O'Neill, Mark (২০০০)। "Soviet Involvement in the Korean War: A New View from the Soviet-Era Archives": ২০–২৪। ডিওআই:10.1093/maghis/14.3.20আইএসএসএন 0882-228Xজেস্টোর 25163360 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  17. Əfəndiyev, Cahanşir (১৮ ডিসেম্বর ২০১৯)। "Black January in the World Press"Milliyyət Araşdırmalar Mərkəzi (আজারবাইজানী ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০২৩
  18. Dobbs, Michael (১৩ জানুয়ারি ১৯৯১)। "SOVIET TROOPS SEIZE LITHUANIA'S TV STATION"Washington Post (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0190-8286। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০২৩
  19. "Collapse of the Soviet Union | Causes, Facts, Events, & Effects | Britannica"www.britannica.com (ইংরেজি ভাষায়)। ১৯ অক্টোবর ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০২৩
  20. "Communist hardliners stage coup against Gorbachev – archive, 1991 | Russia | The Guardian"amp-theguardian-com.cdn.ampproject.org। ২৫ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০২৩