বিষয়বস্তুতে চলুন

পূর্ব জার্মানি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জার্মান গণপ্রজাতন্ত্র

Deutsche Demokratische Republik
১৯৪৯–১৯৯০
পূর্ব জার্মানির জাতীয় পতাকা
পতাকা
পূর্ব জার্মানির জাতীয় মর্যাদাবাহী নকশা
জাতীয় মর্যাদাবাহী নকশা
নীতিবাক্য: জার্মান: "Proletarier aller Länder, vereinigt Euch!"
ইংরেজি ভাষা: Workers of the world, unite!
বাংলা ভাষা: দুনিয়ার মজদুর এক হও!
জাতীয় সঙ্গীত: "Auferstanden aus Ruinen" and "Das Lied der Deutschen"
পূর্ব জার্মানির অবস্থান
রাজধানীপূর্ব বার্লিন
প্রচলিত ভাষাজার্মান
সরকারসমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র
Head of State 
 ১৯৪৯–১৯৬০
Wilhelm Pieck
 ১৯৬০–১৯৭৩
Walter Ulbricht
 ১৯৭৩–১৯৭৬
Willi Stoph
 ১৯৭৬–১৯৮৯
এরিক হোনেকার
 ১৯৮৯
Egon Krenz
 ১৯৮৯–১৯৯০
Manfred Gerlach
 ১৯৯০
Sabine Bergmann-Pohl
Head of Government 
 ১৯৪৯–১৯৬৪
Otto Grotewohl
 ১৯৬৪–১৯৭৩
Willi Stoph
 ১৯৭৩–১৯৭৬
Horst Sindermann
 ১৯৭৬–১৯৮৯
Willi Stoph
 ১৯৮৯–১৯৯০
Hans Modrow
 ১৯৯০
Lothar de Maizière
আইন-সভাফোকসকামার
ঐতিহাসিক যুগশীতল যুদ্ধ
অক্টোবর ৭ ১৯৪৯
সেপ্টেম্বর ২৫, ১৯৯০
অক্টোবর ৩ ১৯৯০
আয়তন
১৯৯০১,০৮,৩৩৩ বর্গকিলোমিটার (৪১,৮২৮ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা
 ১৯৯০
১,৬১,১১,০০০
মুদ্রাপূর্ব জার্মান মার্ক
পূর্বসূরী
উত্তরসূরী
Allied Occupation Zones in Germany
Germany

জার্মান ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক (GDR; জার্মান ভাষা: Deutsche Demokratische Republik' বা DDR; জনপ্রিয় নাম পূর্ব জার্মানি) ছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইউরোপে জার্মানির সোভিয়েত ইউনিয়ন-অধিকৃত এলাকা নিয়ে গঠিত একটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র হিসাবে এর অস্তিত্ব ছিলো। ১৯৯০ সালে এটি পশ্চিম জার্মানির সাথে একীভূত হয়ে বর্তমানের জার্মানি রাষ্ট্র গঠন করে। দুই জার্মানির জনগণ নিজেরাই বিভক্ত করে রাখা বার্লিন দেয়াল বা প্রাচীর ভেঙে ফেলে। সমাজতান্ত্রিক পূর্ব জার্মানি ও পুঁজিবাদি পশ্চিম জার্মানি আবার একীভূত হয়। অর্থাৎ জার্মানি ফের ঐক্যবদ্ধ হয়, পূর্ব-পশ্চিম বলতে আর কিছু থাকল না। বার্লিন প্রাচীর ভেঙে ফেলার মধ্য দিয়ে ইউরোপের বুকে জার্মানগণ একত্রিত হন। পূর্ব জার্মানির রাজধানী ছিলো বার্লিন শহরের পূর্বাংশ।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]
পশ্চিম জার্মানি (নীল) সারল্যান্ড (বেগুনি) বাদ দিয়ে পশ্চিমা মিত্রদের অঞ্চল নিয়ে গঠিত; সোভিয়েত অঞ্চল, পূর্ব জার্মানি (লাল) পশ্চিম বার্লিন (হলুদ) ঘেরা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পূর্ব এডলফ হিটলারের স্বপ্ন ছিল তৃতীয় রাইখ গড়ার, জার্মানদের পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কিন্তু যুদ্ধে হেরে যায় জার্মানি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি মিত্রশক্তির নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্সসোভিয়েত ইউনিয়নের আওতায় চার ভাগে বিভক্ত হয় জার্মানি। পরে ১৯৪৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রণে থাকা পূর্ব জার্মানিকে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যাতে চালু হয় সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা। আর বাকি তিন দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাকি অংশকে ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি গঠন করা হয়, চালু হয় পুঁজিবাদী ব্যবস্থা। স্নায়ুযুদ্ধকালে পশ্চিম জার্মানির পুঁজিবাদী অর্থনীতির মন্দ প্রভাব ও ঘরহীন মানুষের স্রোত ঠেকাতে ১৯৬১ সালে পূর্ব জার্মানির শাসকরা বার্লিন প্রাচীর নির্মাণ করে। তবে আশির দশকের শেষে সোভিয়েত ইউনিয়নে গর্বাচেভের উদার নীতিমালা সমগ্র বিশ্বে প্রভাব ফেলে। জার্মানি একীভূত হওয়ার যে দাবি উঠেছিল তার উপর গর্বাচেভের উদার নীতিমালা ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর জার্মান একীভূত হওয়ার ঘোষণার সাথে সাথে বার্লিন প্রাচীর ভেঙে দেয়া হয়। স্নায়ুযুদ্ধের অবসান হয়। দুই জার্মানি আবারো একীভূত হয়।
সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভের উদারীক নীতিমালা গ্রহণ করলে দেশটি বহুভাগে বিভক্ত হয়। একে একে সকল রাজ্য স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বিশ্ব হয়ে পড়ে এককেন্দ্রিক। মনে করা হত, সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েতের পতন হলেও একীভূত জার্মানি আবার পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। কিন্তু সেটা হলো না বরং জার্মানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রতে পরিণত হয়। বার্লিন প্রাচীর পতনের পর জার্মানি পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেনি। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার ঢেউ জার্মানিতে লাগলেও তারা দাবি করে মন্দা কাটিয়ে উঠেছে। জার্মানি এগোচ্ছে, সময় লাগলেও পূর্ব-পশ্চিমের অর্থনৈতিক, সামাজিক বৈষম্যের দেয়াল ভাঙছে, বেকারত্বের হারও কমছে। বিশ্বযুদ্ধোত্তর জার্মানির নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকেরা জার্মান জাতি সম্পর্কে বিশ্ববাসীর অবিশ্বাস, ভয়-ভীতি-সংশয়কে পেছনে ফেলে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ঐক্যবদ্ধ জার্মানিকে।