শিন্ডলার্স লিস্ট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
শিন্ডলার্স লিস্ট
চিত্র:শিন্ডলার্স লিস্ট.jpg
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পোস্টার
পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ
প্রযোজক
  • স্টিভেন স্পিলবার্গ
  • জেরাল্ড আর মোলেন
  • ব্রাঙ্কো লুস্টিগ
চিত্রনাট্যকার স্টিভেন জাল্লিয়ান
উৎস থমাস কেনিয়েলি কর্তৃক 
শিন্ডলার্স আর্ক
অভিনেতা
সুরকার জন উইলিয়ামস
চিত্রগ্রাহক জানুৎস কামিন্‌স্কি
সম্পাদক মাইকেল কান
স্টুডিও অ্যাম্বলিন এন্টারটেইনমেন্ট
পরিবেশক ইউনিভার্সাল পিকচার্স
মুক্তি
  • ৩০ নভেম্বর ১৯৯৩ (১৯৯৩-১১-৩০) (ওয়াশিংটন ডিসি)
  • ১৫ ডিসেম্বর ১৯৯৩ (১৯৯৩-১২-১৫) (যুক্তরাষ্ট্র)
দৈর্ঘ্য ১৯৫ মিনিট[১]
দেশ যুক্তরাষ্ট্র
ভাষা ইংরেজি
নির্মাণব্যয় $২২ মিলিয়ন [২]
আয় $৩২১.২ মিলিয়ন [৩]

শিন্ডলার্স লিস্ট (ইংরেজি: Schindler's List) ১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি ঐতিহাসিক মার্কিন চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি সহ-প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছেন স্টিভেন স্পিলবার্গ এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন স্টিভেন জাল্লিয়ান। নোবেল বিজয়ী অস্ট্রেলিয়ান থমাস কেনিয়েলি'র লেখা 'শিন্ডলার্স আর্ক' বই অবলম্বনে চলচ্চিত্রটি তৈরি করা হয়েছে। জার্মান ব্যবসায়ী অস্কার শিন্ডলারের জীবনী অবলম্বনে চলচ্চিত্রটি তৈরি করা হয়েছে, তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময় প্রচুর পোলিশ ইহুদিদের হলোকস্ট থেকে রক্ষা করেন।

কাহিনী সংক্ষেপ[সম্পাদনা]

১৯৩৯ সালের সেপ্টেম্বর। জার্মান বাহিনীর কাছে মাত্র দুই সপ্তাহের যুদ্ধে পোলিশ বাহিনী পরাজিত। জার্মান বাহিনীর দখলে চলে যায় পোল্যান্ডনাৎসি পার্টির নির্দেশে সারা দেশ থেকে দলে দলে ইহুদিরা জড়ো হতে থাকে 'ক্রাকোউ' শরণার্থী শিবিরে। এরই মাঝে আগমন ঘটে অস্কার শিন্ডলার্সের। সুদর্শন এই মানুষটি জাতে জার্মান ব্যবসায়ী, নাৎসি পার্টির সমর্থক। পোল্যান্ডে তার আগমন নিজের ভাগ্যের চাকা সচল করতে। গোপনে সে যোগাযোগ করতে থাকে ইহুদী ব্যাবসায়ীদের সাথে। মূল লক্ষ্য তাদের কাছে থেকে মূলধন সংগ্রহ করে ব্যবসার সূচনা। তাকে সাহায্য করার জন্য নিযুক্ত করেন ইহুদি ব্যাংকার ইটঝ্যাক স্টার্নের। শুরু হয় তাদের ব্যবসা। শিন্ডলার সেনাবাহিনীর জন্য কুকারিজ তৈরী করে। শ্রমিক হিসাবে যোগ দিতে থাকে শরনার্থীর বাসিন্দারা। স্টার্ন শরণার্থীদের মাঝে থেকে সংগ্রহ করতে থাকে। আবির্ভাব ঘটে নাৎসি বাহিনীর সেনা অফিসার অ্যামন গোথের। ইহুদিদের উপর অত্যাচারে সে কুখ্যাত। ইহুদি হত্যা করে সে এক ধরণের দানবীয় আনন্দ অনুভব করত। নির্বিচারে হত্যায় সে মেতে ওঠে। এদিকে শিন্ডলারের শ্রমিকদের অনেকেই মারা মরতে থাকে গোথের হাতে। 

একজন জার্মান হয়েও এই হত্যাযজ্ঞ তার কাছে চরম অবিচার মনে হয়। সে গোথের সাথে বন্ধুত্বের শুরু করে তার শ্রমিকদের রক্ষা করতে। গোথ কিছু ঘুষের বিনিময়ে রাজি হয়ে যায়। কিছুদিন পর পর নাৎসি বাহিনীর ট্রেন আসে ক্রাকোউ-তে। তারা নিয়ে যায় সুস্থ-স্বাভাবিক ইহুদিদের গোপন কোনো জায়গা বা গ্যাস চেম্বারে হত্যা করার জন্য। হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে পুড়িয়ে ফেলা হয়। শিন্ডলারের মনে গভীর ছাপ ফেলে যায় এইসব ঘটনায়। এই মানষগুলোকে রক্ষায় সে এক কৌশল বের করে। সে তার শ্রমিকদের নিয়ে নিজ শহরে চলে যেতে চায়। কিন্তু গোথ তাতে রাজি নয়। অবশেষে প্রচুর টাকার বিনিময়ে গোথ রাজি হয়। শুরু হয় শিন্ডলারের লিস্ট তৈরী। কয়েকশ মানুষকে নিয়ে দু’টি ট্রেনে সে রওনা হয়। কিন্তু একটি ট্রেন ভুলে চলে যায় আস্টুইটজ কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প-এ, যেখানে গ্যাস চেম্বারে মানুষ হত্যা করা হত। শিন্ডালার ছুটে যায় সেখানে, অফিসারদের প্রচুর টাকার বিনিময়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসে তাদের। মানুষ বাঁচানোর অদ্ভুত এক নেশা তাকে পেয়ে বসে। নিজের প্রায় সব অর্থ শুধু সে মানুষকে রক্ষার জন্য খরচ করতে থাকে। এক সময় যুদ্ধ শেষ হয় কিন্তু তার উপলব্ধি হয় আরো অনেক মানুষকে হয়তো সে রক্ষা করতে পারতো। ছবির শেষে দেখা যায় বহু মানুষের জীবন দান করা অস্কার শিন্ডলার্সের কবর। সেখানে সেই সমস্ত মানুষেরা দল বেঁধে আসেন শ্রদ্ধা জানাতে যাদের তিনি বাঁচিয়েছিলেন।

অভিনয়শিল্পী[সম্পাদনা]

শিন্ডলার্স লিস্ট সিনেমার মুখ্য অভিনেতা লিয়াম নিসন

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. British Film Board
  2. McBride 1997, পৃ. 416।
  3. McBride 1997, পৃ. 435।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]