বিষয়বস্তুতে চলুন

দ্য পিয়ানিস্ট (২০০২-এর চলচ্চিত্র)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পোস্টার
পরিচালকরোমান পোলানস্কি
প্রযোজক
  • রোমান পোলানস্কি
  • রবার্ট বেনমুসা
  • এলিয়ান সার্দে
চিত্রনাট্যকাররোনাল্ড হারউড
উৎসWładysław Szpilman কর্তৃক 
দ্য পিয়ানিস্ট
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকারওয়াজেচি কিলার
চিত্রগ্রাহকপাভেল এডেলম্যান
সম্পাদকহার্ভে ডি ল্যুজ
প্রযোজনা
কোম্পানি
পরিবেশকফোকাস ফিচার্স
মুক্তি
  • ২৪ মে ২০০২ (2002-05-24) (কান)
  •  সেপ্টেম্বর ২০০২ (2002-09-06) (পোল্যান্ড)
  •  মার্চ ২০০৩ (2003-03-06) (ইউকে)
স্থিতিকাল১৫০ মিনিট[]
দেশ
  • ফ্রান্স
  • জার্মানি
  • পোল্যান্ড
  • যুক্তরাজ্য
ভাষা
  • ইংরেজি
  • পোলিশ
  • জার্মান
  • রুশ
  • ফরাসি
  • তুর্কি
নির্মাণব্যয়$৩৫ মিলিয়ন[]
আয়$১২০.১ মিলিয়ন[]

দ্য পিয়ানিস্ট রোমান পোলানস্কি পরিচালিত একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র। পোল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানিব্রিটেনের যৌথ প্রযোজনায় নির্মীত এই ছবিটি ২০০২ সালে মুক্তি পেয়েছিল। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অ্যাড্রিয়েন ব্রডি[] পোল্যান্ডের ইহুদি পিয়ানো বাদক Władysław Szpilman এর একই নামের আত্মজীবনী গ্রন্থ থেকে ছবিটি করা হয়েছে।[]

দ্য পিয়ানিস্ট কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ছবির পুরস্কার তথা পাম দোর অর্জন করে। এছাড়া তিনটি ক্ষেত্রে একাডেমি পুরস্কার অর্জন করে: সেরা অভিনেতা, সেরা পরিচালক এবং সেরা অভিযোজিত চিত্রনাট্য। ফ্রান্সের সেজার পুরস্কার লাভ করে তিনটি ক্ষেত্রে: সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা ও সেরা চলচ্চিত্র। অ্যাড্রিয়েন ব্রডি একমাত্র মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেতা যিনি সেজার পুরস্কার জিতেছেন।

কাহিনীসংক্ষেপ

[সম্পাদনা]

সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ সালে, পোল্যান্ডের এক ইহুদি পিয়ানো বাদক ভ্লাদিস্লাভ স্পিলমান ওয়ারশ শহরের একটি রেডিও স্টেশনে সরাসরি বাজাচ্ছিল, তখন সেখানে জার্মানির বোমা হামলা হয়। স্পিলমান ও তার পরিবার শহর ছাড়ার প্রস্তুতি নেয়, কিন্তু জানতে পারে ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। খবরটি শুনে তারা কিছুটা স্বস্তি পায় এবং ওয়ারশতেই থেকে যায়। কিন্তু অল্পদিন পর পোল্যান্ড আত্মসমর্পণ করে এবং ওয়ারশ নাৎসি দখলে যায়। জার্মানদের অধীনে ইহুদিদের ওপর শুরু হয় নির্যাতন — তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয় এবং বাধ্য করা হয় নীল রঙের ডেভিডের (ইহুদিদের ধর্মীয় প্রতীক) তারা চিহ্ন-ওয়ালা বাহুবন্ধ পরতে। বেঁচে থাকার জন্য স্পিলমান ও তার পরিবার তাদের সমস্ত জিনিসপত্র, এমনকি সে তার প্রিয় পিয়ানোও বিক্রি করতে বাধ্য হয়।

১৯৪০ সালের শেষের দিকে স্পিলমান পরিবারকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে নিয়ে যাওয়া হয় ভিড়ভাট্টে ওয়ারশ গেটোতে যেখানে অনাহার ও মহামারি ছড়িয়ে পড়ে। স্পিলমান সেখানে এক ক্যাফেতে বাজাতে শুরু করে যেখানে ধনী ইহুদিরা নিষিদ্ধ জিনিসপত্র পাচার করে বিলাসে দিন কাটাত। একদিন স্পিলমান দেখে এক ছোট ছেলেকে প্রহরীরা নির্মমভাবে পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে যায় যখন সে পালানোর চেষ্টা করছিল। স্পিলমান বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ছেলেটি মারা যায়। সে আরও দেখে এসএস বাহিনী পাশের একটি অ্যাপার্টমেন্টে পুরো একটি পরিবারকে হত্যা করে ফেলে।

১৯৪২ সালের আগস্টে, অপারেশন রেইনহার্ড-এর অংশ হিসেবে স্পিলমান ও তার পরিবারকে ট্রেবলিঙ্কা নির্মূল শিবিরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। রেলস্টেশনে এক ইহুদি গেটো পুলিশ স্পিলমানকে তার পরিবারের কাছ থেকে আলাদা করে দেয়, ফলে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন—কিন্তু তার পরিবারকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে। এরপর স্পিলমান বাধ্য শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে থাকে এবং গোপনে জানতে পারে আসন্ন এক ইহুদি বিদ্রোহের কথা। তিনি অস্ত্র পাচার করে গেটোর ভেতরে পাঠায় এবং বন্ধু আন্দ্রেজই বোগুকি ও তার স্ত্রী ইয়ানিনা গোদলেভস্কা-এর সাহায্যে লুকিয়ে পড়ে।

১৯৪৩ সালের এপ্রিলে গেটো বিদ্রোহ শুরু হয় এবং ব্যর্থতায় শেষ হয়। এরপর, এক মহিলা প্রতিবেশী তাকে ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে, তার বন্ধু ডরোথার স্বামীর মাধ্যমে তিনি জার্মান এলাকায় আরেকটি আশ্রয় পান। সেখানে একটি পিয়ানো ছিল, কিন্তু নিজের পরিচয় ফাঁসের ভয়ে সে তা বাজাতে চায়নি। অনাহার ও জন্ডিসে আক্রান্ত স্পিলমানকে শেষবারের মতো ডরোথা ও তার স্বামী দেখতে আসেন এবং একজন ডাক্তার পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

১৯৪৪ সালের আগস্টে, ওয়ারশ বিদ্রোহ শুরু হলে স্পিলমান কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠে। হোম আর্মি বাহিনী যখন তার অ্যাপার্টমেন্টের বিপরীতে অবস্থিত জার্মান পুলিশ হাসপাতাল আক্রমণ করে, তার বাসা ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত সেই হাসপাতালে আশ্রয় নেন, যখন পুরো ওয়ারশ শহর যুদ্ধের আগুনে ভস্মীভূত হচ্ছে।এক পর্যায়ে জার্মান সৈন্যরা ফ্লেমথ্রোয়ার দিয়ে হাসপাতাল আক্রমণ করলে স্পিলমান ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দিয়ে পালিয়ে যান। তখন এক জার্মান সেনা অফিসার, ক্যাপ্টেন হোসেনফেল্ড স্পিলমানকে দেখতে পায়। এক পর্যায়ে সে জানতে পারে স্পিলমান একজন পিয়ানোবাদক। স্পিলমান যখন হোসেনফেল্ডের পিয়ানোতে শপেনের “Ballade No. 1 in G minor” বাজায়, অফিসারটি মুগ্ধ হয়ে তাকে নিজের বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন।

১৯৪৫ সালের জানুয়ারিতে, যখন সোভিয়েত সেনাবাহিনীর অগ্রযাত্রায় জার্মানরা পিছু হটে, হোসেনফেল্ড বিদায়ের আগে স্পিলমানকে বলেন, যুদ্ধ শেষে তিনি যেন পোলিশ রেডিওতে তার বাজনা শোনায়। সে স্পিলমানকে খাবার ও নিজের কোট দিয়ে যায়। কিন্তু ওয়ারশ মুক্ত হওয়ার পর পিপলস আর্মির সৈন্যরা তার পরা জার্মান কোট দেখে ভুল করে তাকে প্রায় গুলি করে ফেলে।

যুদ্ধ শেষে হোসেনফেল্ডকে সোভিয়েতদের দ্বারা বন্দি করে রাখা হয়। একসময় এক প্রাক্তন বন্দি, যে নিজেও সংগীতশিল্পী ছিল, হোসেনফেল্ড তার কাছে জানতে চান সে কি স্পিলমানকে চেনে। ওই ব্যক্তি প্রতিশ্রুতি দেয় যে স্পিলমানকে খুঁজে এনে তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে, কিন্তু পরে তারা ফিরে গেলে দেখে হোসেনফেল্ড ও তার ক্যাম্প আর সেখানে নেই।পরে স্পিলমান তার সংগীতজীবনে ফিরে যান এবং এক বিশাল দর্শকসম্মুখে অর্কেস্ট্রার সঙ্গে শপেনের “Grande Polonaise” পরিবেশন করেন।

শেষে দেখা যায়, ভ্লাদিস্লাভ স্পিলমান ২০০০ সালে ৮৮ বছর বয়সে মারা যায়, আর ক্যাপ্টেন ভিল্ম হোসেনফেল্ড ১৯৫২ সালে সোভিয়েত কারাগারে মস্তিস্কের এক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

কুশীলব

[সম্পাদনা]
  • অ্যাড্রিয়েন ব্রডি - ভ্লাদিস্লাভ স্পিলমান
  • থমাস ক্রেৎসমান - ক্যাপ্টেন ভিল্ম হোসেনফেল্ড
  • ফ্রাঙ্ক ফিনলে - স্যামুয়েল স্পিলমান
  • মরিন লিপমান - এডওয়ার্ডা স্পিলমান
  • এমিলিয়া ফক্স - ডরোথা
  • এড স্টপার্ড - হেনরিক স্পিলমান
  • জুলিয়া রেনার - রেজিনা স্পিলমান
  • জেসিকা কেট মেয়ার - হালিনা স্পিলমান
  • রোনান ভিবের্ট - আন্দ্রজেই বোগুকি
  • রুথ প্লাট - জানিনা বোগুকি
  • অ্যান্ড্রু টিয়েরনান - ৎজালাস
  • মিশেল জেব্রোওস্কি - জুরেক
  • রয় স্মাইলস - ইৎজহাক হেলার
  • রিচার্ড রাইডিংস - মিস্টার লিপা
  • ড্যানিয়েল ক্যাল্টাজিরোন - মাজোরেক
  • ভ্যালেন্টিন পেলকা - ডরোথার স্বামী
  • বিজিনিউ জামাচোওস্কি - কয়েনওয়ালা ক্রেতা

প্রাপ্ত পুরস্কারসমূহ

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "THE PIANIST (15)"British Board of Film Classification। ৩ জুলাই ২০০২। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মার্চ ২০১৫
  2. 1 2 "The Pianist"Box Office Mojo। ২০০২। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০১৬
  3. Hare, William (২০০৪)। LA Noir: Nine Dark Visions of the City of Angels। Jefferson, North Carolina: Macfarland and Company। পৃ. ২০৭আইএসবিএন ০-৭৮৬৪-১৮০১-X
  4. Szpilman, Wladyslaw। "The Pianist"Szpilman.net। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০১৬

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]