মায়া অ্যাঞ্জেলো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মায়া অ্যাঞ্জেলো
১৯৯৩ সালের ২০ শে জানুয়ারী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের অভিষেক অনুষ্ঠানে অ্যাঞ্জেলো তাঁর “অন দ্যা পালস অফ মর্নিং” কবিতাটি আবৃতি করছেন
১৯৯৩ সালের ২০ শে জানুয়ারী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের অভিষেক অনুষ্ঠানে অ্যাঞ্জেলো তাঁর “অন দ্যা পালস অফ মর্নিং” কবিতাটি আবৃতি করছেন
জন্মমার্গারেট অ্যানি জনসন
(১৯২৮-০৪-০৪)৪ এপ্রিল ১৯২৮
সেইন্ট লুইস, মিসৌরি, যুক্তরাষ্ট্র
মৃত্যু২৮ মে ২০১৪(2014-05-28) (বয়স ৮৬)
উইনস্টন-সালেম, নর্থ ক্যারোলিনা, যুক্তরাষ্ট্র
পেশা
  • লেখক
  • কবি
  • নাগরিক অধিকার কর্মী
সময়কাল১৯৫১-২০১৪
বিষয়
  • স্মৃতিকথা
  • কবিতা
উল্লেখযোগ্য রচনাবলি
দাম্পত্যসঙ্গী
  • টোস অ্যাঞ্জেলোস (বি. ১৯৫১; বিচ্ছেদ. ১৯৫৪)
  • পল ডু ফিউ (বি. ১৯৭৪; বিচ্ছেদ. ১৯৮৩)
সন্তান
ওয়েবসাইট
www.mayaangelou.com

মায়া অ্যাঞ্জেলো (/ˈænəl/ (এই শব্দ সম্পর্কেশুনুন);[১][২]মার্গারেট অ্যানি জনসন;  ৪ এপ্রিল ১৯২৮ - ২৮ মে ২০১৪) ছিলেন একজন আমেরিকান কবি, সঙ্গীত শিল্পী, আত্মজীবনী লেখিকা এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলনের একজন কর্মী। তিনি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে সাতটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ, তিনটি প্রবন্ধ গ্রন্থ, কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ লিখেছেন এবং বেশ কিছু মঞ্চ নাটক, সিনেমা এবং টেলিভিশন শো-এর সাথে যুক্ত ছিলেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি অসংখ্য পুরস্কার এবং ৫০টির অধিক সন্মান সূচক সন্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তিনি সাত পর্বে লেখা তাঁর আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থের জন্য অধিক পরিচিত যেখানে তিনি তাঁর শৈশব ও প্রারম্ভিক যৌবনের অভিজ্ঞতার কথা লিপিবদ্ধ করেছেন। সতেরো বছর বয়সের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত প্রথম আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ আই নো হোয়াই দ্যা কেইজড বার্ড সিংস লিখে তিনি আন্তর্জাতিক ভাবে পরিচিত এবং প্রশংসিত হন।

কবি ও লেখিকা হওয়ার পূর্বে যৌবনের শুরুর দিকে তিনি নানা ধরণের কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন। সেই সময় তিনি ফ্রাই ফুড রাঁধুনি, যৌনকর্মী, নৈশ্য ক্লাবের নর্তকী, পোর্গি এন্ড ব্যাস নাট্য দলের অভিনেত্রী, সাউদার্ন খ্রিশ্চিয়ান লিডারশীপ কনফারেন্স -এর সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেন এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশের স্বাধীনতার সময় মিশর এবং ঘানায় সাংবাদিকতা করেন।         

তিনি ছিলেন একাধারে অভিনেত্রী, লেখিকা, পরিচালক এবং মঞ্চ নাটক, সিনেমা ও টেলিভিশন শো’র প্রযোজক।  ১৯৮২ সালে উইন্সটন-সালেম, নর্থ ক্যারোলিনার ওয়েইক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আমেরিকান স্টাডিস বিষয়ে তাঁর নাম প্রথম "রেয়নোল্ড প্রফেসর" হিসেবে যুক্ত হয়। তিনি মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন, ৯০-এর দশকে ম্যালকম এক্স যখন সেই আন্দোলন শুরু করেন তখন তিনি বছরে ৮০ টির মত বক্তৃতা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ১৯৯৩ সালে বিল ক্লিনটনের প্রথম অভিষেক অনুষ্ঠানে অ্যাঞ্জেলো তাঁর কবিতা অন দ্যা পালস অফ মর্নিং আবৃতি করেন যা তাঁর পূর্বে রবার্ট ফ্রস্ট ১৯৬১ সালে জন এফ কেনেডি’র অভিষেক অনুষ্ঠানে করেছিলেন।

আই নো হোয়াই দ্যা কেইজড বার্ডি সিংস প্রকাশের পর থেকে অ্যাঞ্জেলোর ব্যক্তিগত জীবন জনসাধারণের মধ্যে আলোচিত হতে থাকে। তিনি কৃষ্ণাঙ্গ মানুষ এবং নারীদের মুখপাত্র হিসেবে সন্মান লাভ করেন এবং তাঁর লেখা কৃষ্ণাঙ্গ সংস্কৃতির রক্ষক হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে। তাঁর লেখা বিশ্বব্যাপি নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যসূচির আওতাভুক্ত হতে থাকে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু লাইব্রেরীতে তাঁর বই নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। অ্যাঞ্জেলোর বহুল প্রশংসিত লেখাগুলোকে কল্পিত আত্মজীবনী মূলক রচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কিন্তু অনেক সমালোচক সেগুলো সরাসরি তাঁর আত্মজীবনী হিসেবে গণ্য করে থাকেন।  

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

মার্গারেট অ্যানি জনসন ৪ এপ্রিল ১৯২৮ সালে মিসৌরির সেইন্ট লুইসে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর বাবা বেইলী জনসন ছিলেন দারোয়ান ও নৌবাহিনীতে খাবার সরবরাহকারী এবং মা ভিভিয়ান জনসন ছিলেন সেবিকা ও কার্ড ডিলার.। অ্যাঞ্জেলোর মায়া নামটি রেখেছিলেন তাঁর বড় ভাই বেইলী জুনিয়র, যার অর্থ 'আমার বোন'। যখন অ্যাঞ্জেলোর বয়স তিন এবং তাঁর ভাইয়ের চার তখন তাঁদের বাবা মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ হয় এবং বাবা তাঁদের দুজনকে একা ট্রেনে করে আর্কানসাসের স্টাম্পসে দাদি অ্যানি হেন্ডারসনের কাছে থাকার জন্য পাঠিয়ে দেন। ‘মহা বিষণ্ণতা’ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন আফ্রিকান - আমেরিকানদের নাজুক অর্থনৈতিক মন্দার সময়গুলোতেও নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সৎ এবং বিচক্ষণ বিনিয়োগের মাধ্যমে অ্যাঞ্জেলোর দাদি অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হন, যা সেই সময়ের প্রেক্ষিতে বিষ্ময়কর এবং ব্যতিক্রমী।

চার বছর পর একদিন হঠাৎ - কোন পূর্ব ঘোষনা ছাড়াই বাবা অ্যাঞ্জেলো ও তাঁর ভাইকে নিতে স্টাম্পসে চলে আসেন এবং সেইন্ট লুইসে তাদের মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেন। সেখানে আট বছর বয়সে অ্যাঞ্জেলো তাঁর মায়ের ছেলেবন্ধু ফ্রিম্যান কতৃক ধর্ষণের শিকার হন। অ্যাঞ্জেলো ঘটনাটি তাঁর ভাইকে খুলে বলেন, তাঁর ভাই পরিবারের বাকি সদস্যদের জানিয়ে দেন। ফ্রিম্যান দোষী স্বাব্যস্ত হলেও তার মাত্র এক দিনের জেল হয়। মুক্তি পাওয়ার চার দিনের মাথায় অজানা এক ব্যক্তি ফ্রিম্যানকে খুন করে, মনে করা হয় অ্যাঞ্জেলোর চাচা তাকে খুন করেছেন।

এই ঘটনার পর প্রায় চার বছর অ্যাঞ্জেলো মৌনব্রত ধারণ করেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, “আমার বিশ্বাস, আমার কথার জন্য ফ্রিম্যান খুন হয়েছেন; আমি তাকে খুন করেছি, কারণ আমি তার নাম বলেছি। এরপর ভাবলাম আমার আর কথা বলাই উচিৎ নয় কারণ আমার কথার জন্য কেউ মারা যেতে পারে।” অ্যাঞ্জেলোর জীবনীকার মার্সিয়া অ্যান গিলেস্পি ও তার সহযোগীদের মতে, সেই মৌনব্রত ধারণের দিনগুলোতেই অ্যাঞ্জেলোর অসাধারণ স্মৃতিশক্তির বিকাশ ঘটে। সেই সময় বই তথা সাহিত্যের প্রতি অ্যাঞ্জেলোর ভালবাসা জন্ম নেয়; মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং চারপাশের জগৎ পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতা বিকশিত হয়।

ফ্রিম্যান খুন হওয়ার কিছুদিন পরে অ্যাঞ্জেলো ও তাঁর ভাইকে পুনরায় তাদের দাদির কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়। অ্যাঞ্জেলোর এক শিক্ষক এবং পারিবারিক বন্ধু মিসেস বার্থা ফ্লাওয়ার অ্যাঞ্জেলোকে পুনরায় কথা বলতে সহযোগিতা করেন। বার্থা ফ্লাওয়ার তাঁকে চার্লস ডিকেন্স, উইলিয়াম শেকসপিয়র, এডগার এলেন পো, ডগলাস জনসন এবং জেমস ওয়েলডন জনসনের মত লেখকদের সাথে পরিচিত করান। এই লেখকেরা এবং ফ্রান্সিস হারপার, অ্যানি স্পেন্সার ও জেসি ফাউসেটের মত কৃষ্ণাঙ্গ নারী শিল্পীরা অ্যাঞ্জেলোর জীবন ও পেশায় গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করেন।

চোদ্দ বছর বয়সে অ্যাঞ্জেলো তাঁর ভাইয়ের সাথে পুনরায় তাঁর মায়ের কাছে চলে যান, তাদের মা তখন ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডে বসবাস শুরু করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অ্যাঞ্জেলো ক্যালিফোর্নিয়া লেবার স্কুলে ভর্তি হন। ষোল বছর বয়সে তিনি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে সান ফ্রান্সিস্কোতে ক্যাবল কার কন্ডাক্টর হিসেবে নিযুক্ত হন। অ্যাঞ্জেলো এই চাকুরীটি খুব করে পেতে চেয়েছিলেন, সুন্দর পোশাকের এই চাকুরীটি তাঁর মায়ের কাছে ছিল “স্বপ্নের চাকুরী”। চাকুরীটিতে নিজের অবস্থান সুসংঘত রাখতে মা অ্যাঞ্জেলোকে সব সময় উৎসাহ প্রদান করতেন। বলতেন সঠিক সময়ে কর্মস্থলে যেতে এবং অন্যদের চেয়ে একটু বেশী পরিশ্রম করতে। ২০১৪ সালে অ্যাঞ্জেলো মাইনরিটি ট্রান্সপোর্ট্যাশন অফিসিয়ালদের এক কনফারেন্সে তাঁর সারাজীবনের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ “ওমেন হু মুভ দ্যা নেশন” খেতাবে ভূষিত হন।

সতেরো বছর বয়সে, বিদ্যালয়ের পাঠ চুকোনোর তিন সপ্তাহ পরে অ্যাঞ্জেলো তাঁর ছেলে ক্লাইডকে জন্ম দেন (যিনি পরে তার নাম পরিবর্তন করে রেখেছিলেন গাই জনসন)।

পেশা জীবন[সম্পাদনা]

যৌবন ও প্রারম্ভিক পেশা জীবন : ১৯৫১-৬১[সম্পাদনা]

অ্যাঞ্জেলো ১৯৫১ সালে টোস অ্যাঞ্জেলোস নামে একজনকে বিয়ে করেন, যিনি ছিলেন একজন গ্রীক ইলেকট্রেশিয়ান, সাবেক নাবিক এবং অ্যাসপিরিং মিউজিসিয়ান। যদিও অ্যাঞ্জেলোর মায়ের সেই বিয়েতে মত ছিল না এবং সেই সময় তাদের সম্পর্কে অনেক জাতিগত বিতর্কও ছিল। সেই সময় তিনি আধুনিক নৃত্যের তালিম নেয়া শুরু করেন এবং নৃত্যশিল্পি ও কোরিওগ্রাফার এলভিন এইলে ও রূথ ব্যাকফোর্ডের সাথে তার পরিচয় হয়। এইলে - অ্যাঞ্জেলো মিলে “অল এন্ড রিটা” নামে একটি নৃত্যদল গঠন করেন এবং গোটা সানফ্রান্সিস্কোতে ভাতৃসুলভ কৃষ্ণাঙ্গ সংগঠনগুলোতে আধুনিক নৃত্য পরিবেশন করতে থাকেন, কিন্তু এতে তারা খুব একটা সফল হতে পারেন নি।

অ্যাঞ্জেলো তাঁর সদ্য বিয়ে করা স্বামী ও ছেলেকে নিয়ে নিউইয়র্ক শহরে চলে আসেন; ত্রিনিদাদিয়ান নৃত্যশিল্পি পার্ল প্রাইমাসের কাছে আফ্রিকান নৃত্যের তালিম নিতে, যদিও এক বছর পর তারা পুনরায় সানফ্রান্সিস্কোতে ফিরে যান।

১৯৫৪ সালে বিবাহ বিচ্ছেদের পর অ্যাঞ্জেলো একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে পেশা শুরু করেন এবং দ্যা পার্পল অনিয়নসহ সান ফ্রান্সিস্কোর বিভিন্ন ক্লাবে ক্যালিপ্সো মিউজিক পরিবেশন শুরু করেন। সেই সময় তিনি “মার্গারেট জনসন” ও “রিটা” নামে পরিচিত হওয়া শুরু করেন। কিন্তু তাঁর পার্পল অনিয়নের ব্যবস্থাপক ও সমর্থকদের বলিষ্ঠ পরামর্শে সেই নাম দুটো পাল্টে তিনি (তাঁর ডাকনাম ও আগের স্বামীর পদবি যুক্ত করে) “মায়া অ্যাঞ্জেলো” নামটি পেশাগত নাম হিসেবে গ্রহন করেন। এই নামটি তাঁর জন্য ছিল ‘স্বাতন্ত্র্যসূচক’, এরপর তিনি ক্যালিপ্সো নৃত্যে অনেক সফল হতে শুরু করেন। ১৯৫৪ -১৯৫৫ সাল পর্যন্ত অ্যাঞ্জেলো পোর্গি এন্ড বেস নাট্যদলের হয়ে ইউরোপ ভ্রমন করেন। তিনি ভ্রমনে যাওয়া প্রতিটি দেশের ভাষা আয়ত্ত্ব করার চেষ্টা করে করেন এবং কয়েক বছরের মধ্যেই বেশ কিছু ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। ১৯৫৭ সালে তিনি মিস ক্যালিপ্সো নামে তাঁর প্রথম অ্যালবামটি রেকর্ড করেন, ক্যালিপ্সো সঙ্গীতে তখন তিনি বেশ জনপ্রিয়। এই অ্যালবামটি ১৯৯৬ সালে সিডি আকারে প্রকাশ করা হয়। অফ-ব্রডওয়ে থিয়েটারগুলোতে অ্যাঞ্জেলোর প্রদর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৫৭ সালে নির্মিত হয় ক্যালিপ্সো হীট অয়েভ নামে একটি সিনেমা। সিনেমাটিতে অ্যাঞ্জেলো তাঁর স্বরচিত গান পরিবেশন করেন।        

১৯৫৯ সালে জন অলিভার কিলেন্স নামে এক ঔপন্যাসিকের সাথে অ্যাঞ্জেলোর পরিচয় হয়। কিলেন্স তাঁকে লেখালেখির পেশায় মনোনিবেশ করার জন্য নিউইয়র্কে আসতে অনুরোধ করেন। অ্যাঞ্জেলো হার্লেম রাইটার্স গিল্ড নামের একটি সংগঠনের সাথে যুক্ত হন, সেখানে তিনি জন হেনরিক ক্লার্ক, রোসা গাই, পল মার্শাল এবং জুলিয়ান মেফিল্ড নামে কয়েকজন প্রথম সারির আফ্রিকান - আমেরিকান লেখকের সাথে পরিচিত হন। সে সময়েই তাঁর প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়।

১৯৬০ সালে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের সাথে পরিচয় হওয়ার পর এবং তাঁর ভাষণ শোনার পর নাগরিক অধিকার আন্দোলনে অবদান রাখতে কিলেন্সের সাথে মিলে তিনি সাউদার্ন খ্রিশ্চিয়ান লিডারশীপ কনফারেন্সের সাথে যুক্ত হন। তিনি সেই সংগঠনটির সমন্বয়কারী হিসেবে নিযুক্ত হন। বিশিষ্ট গবেষক লাইম্যান বি হ্যাগেনের মতে নাগরিক অধিকার আন্দোলনে এসসিএলসি’র একজন সংগঠক এবং তহবিল সংগ্রহকারী হিসেবে অ্যাঞ্জেলো অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করেন। অ্যাঞ্জেলো সেই সময় তাঁর প্রো-কাস্ত্রো এবং অ্যান্টি-অ্যাপার্থেইড আন্দোলনও শুরু করেন।

আফ্রিকায় গমন ও প্রথম আত্মজীবনী রচনা ১৯৬১-৬৯[সম্পাদনা]

View of Accra, Ghana from above.
আফ্রিকায় অ্যাঞ্জেলোর বেশিরভাগ সময় কেটেছিল ঘানার রাজধানী আক্রায়, ২০০৮ সালে তোলা ছবি

১৯৬১ সালে অ্যাঞ্জেলো এবি লিংকন, রসকো লি ব্রাউন, জেমস আর্ল জোন্স, লুইস গোসেট, গডফ্রি ক্যামব্রিজ এবং সিসেলি টাইসন সাথে জেন জেনেটের দ্যা ব্লাকস নাটকে অভিনয় করেন। অ্যাঞ্জেলো সে বছরেই দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাধীনতা সংগ্রামী ভুসুমজি ম্যাকের সাথে প্রণয়ের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, তাঁরা অবশ্য আনুষ্ঠানিক ভাবে কখনো বিয়ে করেন নি। ছেলে গাইকে নিয়ে ম্যাকের সাথে তিনি মিসরের কায়রোতে চলে আসেন এবং সেখানে তিনি ইংরেজী ভাষার সাপ্তাহিক পত্রিকা দ্যা আরব অবজারভারে সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৬২ সালে ম্যাকের সাথে তাঁর সম্পর্কের অবসান হয়। কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য এরপর তিনি ছেলেকে নিয়ে ঘানার আক্রায় চলে আসেন, কিন্তু সেখানে এসে তিনি গাড়ী দূর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন। তিনি সুস্থ্য হওয়ার জন্য আক্রায় থেকে যান; ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন।

অ্যাঞ্জেলো ঘানা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসক হিসেবে যোগ দেন এবং প্রবাসী আফ্রিকান-আমেরিকানদের সংগঠনের সাথে যুক্ত হন। এরপর তিনি দ্যা আফ্রিকান রিভিউ পত্রিকার ফিচার সম্পাদক ও গার্ডিয়ান টাইমসে ফ্রিল্যান্স লেখক হিসেবে কাজ করেন। লেখক ও প্রচার কাজের জন্য যুক্ত হন রেডিও ঘানাতে এবং অভিনয় করেন ঘানার জাতীয় থিয়েটারে। এছাড়া তিনি জেনেভাবার্লিনে কৃষ্ণাঙ্গ কমিউনিটির অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন। ১৯৬০-এর দশকের গোড়ার দিকে আক্রায় ম্যালকম এক্সের সাথে তার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব হয়। তাকে অর্গানাইজেশন অফ আফ্রো -আমেরিকান ইউনিটি নামে একটি নতুন নাগরিক অধিকার সংগঠন প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করার জন্য অ্যাঞ্জেলো ১৯৬৫ সালে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন। কিন্তু কিছুদিন পর ম্যালকম এক্সকে হত্যা করা হয়। অ্যাঞ্জেলো বিধ্বস্ত ও অবিচ্ছিন্ন হয়ে হাওয়াইতে তার ভাইয়ের কাছে ফিরে আসেন এবং সেখানে তার গানের জীবন শুরু করেন। পরবর্তিতে তিনি তার লেখালেখির জীবনে মনোনিবেশ করার জন্য লস অ্যাঞ্জেলেসে ফিরে আসেন। ওয়াটসের বাজার গবেষক হিসেবে কাজ করার সময় অ্যাঞ্জেলো ১৯৬৫ সালের গ্রীষ্মে সংঘটিত দাঙ্গা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তিনি নাটক লেখেন, তাতে অভিনয় করেন এবং ১৯৬৭ সালে নিউইয়র্কে ফিরে আসেন। সারাজীবনের বন্ধু রোজা গায়ের সাথে তার দেখা হয় এবং জেমস বাল্ডউইনের সাথে তার নতুন করে বন্ধুত্ব তৈরি হয়, যার সাথে তিনি ১৯৫০ এর দশকে প্যারিসে দেখা করেছিলেন এবং এই সময় তিনি তাকে ভাই বলে সম্বোধন করেন। তার বন্ধু জেরি পুরসেল অ্যাঞ্জেলোকে তার লেখার ব্যাপারে সাহায্য করার জন্য একটি উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেন।          

১৯৬৮ সালে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র অ্যাঞ্জেলোকে একটি পদযাত্রার আয়োজন করতে বলেছিলেন। তিনি রাজি হয়েছিলেন, তবে আবার স্থগিত করেছিলেন, এবং ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস; অ্যাঞ্জেলোর ৪০তম জন্মদিনে তাকে হত্যা করা হলো। তিনি আবার ভেঙ্গে পড়লেন, বন্ধু জেমস বাল্ডউইন তার সেই হতাশার দিনে তার পাশে দাঁড়ান। গিলেস্পি বলেছেন, “হয়তো ১৯৬৮ সালটি ছিল অত্যন্ত ব্যথা, ক্ষতি এবং দুঃখের বছর কিন্তু এটিই ছিল সে বছর যখন আমেরিকা প্রথম মায়া অ্যাঞ্জেলোর সৃজনশীল প্রতিভার সাক্ষাৎ পেল।” প্রায় কোন অভিজ্ঞতা না থাকা স্বত্ত্বেও অ্যাঞ্জেলো দশ পর্বের প্রামাণ্যচিত্র ব্লাকস, ব্লুস, ব্লাক - রচনা,বর্ণনা ও প্রযোজনা করেন। তিনি ন্যাশনাল ইডুকেশনাল টেলিভিশনে বলেন “আফ্রিকানিজমস স্টিল কারেন্ট ইন দ্যা ইউএস”। ১৯৬৮ সালে একটি ডিনার পার্টিতে তিনি বাল্ডউইন, কার্টুনিস্ট জুলস ফেইফার, তার স্ত্রী জুডির দ্বারা অনুপ্রাণিত হন। পরের বছর, ১৯৬৯ সালে তিনি তার প্রথম আত্মজীবনী আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংস প্রকাশ করেন। বইটি তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও পরিচিতি এনে দেয়।  

পরবর্তি পেশা জীবন[সম্পাদনা]

অ্যাঞ্জেলোর লেখা চিত্রনাট্য অবলম্বনে, একটি সুইডিস সিনেমা কোম্পানি দ্বারা প্রযোজিত এবং সুইডেনে ধারণকৃত সিনেমা জর্জিয়া, জর্জিয়া মুক্তি পায় ১৯৭২ সালে। এটি ছিল কোন কৃষ্ণাঙ্গ নারী দ্বারা লিখিত প্রথম চিত্রনাট্য। সিনেমাটির চিত্রায়নে খুব কম অতিরিক্ত যোগান থাকা সত্ত্বেও তিনি সিনেমাটির সঙ্গীত লিখেছিলেন। অ্যাঞ্জেলো ১৯৭৩ সালে সান ফ্রান্সিস্কোতে ওয়েলসের কাঠমিস্ত্রি এবং লেখিকা জার্মেই গ্রেয়ারের প্রাক্তন স্বামী পল ডু ফিউকে বিয়ে করেছিলেন। গিলেস্পির মতে, দশ বছরে একজন শিল্পী তার জীবদ্দশায় যতখানি অর্জন করতে পারেন তিনি তার চেয়ে অনেক বেশি অর্জন করেছিলেন। অ্যাঞ্জেলো সঙ্গীত শিল্পী রবার্তা ফ্লাক এবং সিনেমার জন্য গান রচনা করেন। তিনি নিবন্ধ, ছোট গল্প, টিভি চিত্রনাট্য, প্রামাণ্যচিত্র, আত্মজীবনী এবং কবিতা লিখেছেন, নাটক তৈরি করেছেন এবং বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একজন অনভিলাষী অভিনেত্রী, ১৯৭৩ সালে নির্মিত সিনেমা লুক এওয়েতে তার ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য তিনি টনি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন। ১৯৮৮ সালে লন্ডনের আলমেইডা থিয়েটারে ইরোল জনের মুন অন দ্যা রেইনবো নাটকে একজন থিয়েটার পরিচালক হিসেবে তার পুনরূজ্জীবন হয়।

১৯৭৭ সালে অ্যাঞ্জেলো রুটস নামে একটি মিনি টিভি সিরিজে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন। এই সময়ে তিনি অনেক পুরস্কারে ভূষিত হন, যার মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ত্রিশটিরও বেশি সন্মানসূচক ডিগ্রী ছিল। ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে অপ্রাহ উইনফ্রের সাথে তার দেখা হয়, উইনফ্রে তখন মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে টিভি উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করছিলেন; অ্যাঞ্জেলো পরে উইনফ্রের ঘনিষ্ট বন্ধু এবং পরামর্শদাতা হন।  ১৯৮১ সালে পল ডু ফিউয়ের সাথে অ্যাঞ্জেলোর ডিভোর্স হয়ে যায়।

১৯৮১ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণে চলে আসেন কারণ তিনি অনুভব করেছিলেন যে তাকে তার অতীতের সাথে সমজোতা করতে হবে। কোন স্নাতক ডিগ্রী না থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন নর্থ ক্যারোলাইনার উইন্সটন - সেলামের ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আমেরিকান স্টাডিজ বিভাগের আজীবন রেইইনল্ডস অধ্যাপক। তিনি ছিলেন অল্প কয়েকজন আফ্রিকান – আমেরিকান পূর্ণকালীন অধ্যাপকদের একজন। তিনি নিজেকে “একজন শিক্ষক যিনি লেখেন” বলে বিবেচনা করেছিলেন। অ্যাঞ্জেলো বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করেন যা দর্শন, নীতিশাস্ত্র, ধর্মতত্ত্ব, বিজ্ঞান, থিয়েটার এবং লেখাসহ তার আগ্রহের প্রতিফলন করে। উইন্সটন-সালেম জার্নাল জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে অনেকের সাথে তার বন্ধুত্ব হওয়া সত্ত্বেও অনেকের দ্বারা তিনি এই বলে সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন যে, তিনি বুদ্ধিমতির চেয়ে সেলিব্রেটি বেশি এবং তার যোগ্যতার চেয়ে বেশিই পেয়েছেন। ওয়েক ফরেস্টে তার পড়ানো শেষ কোর্সটি ছিল ২০১১ সালে, তবে ২০১৪ সালের শেষের দিকে তিনি অন্য কোর্সটি পড়ানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি তার শেষ বক্তব্যটি রেখেছিলেন ২০১৩ সালের শেষের দিকে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে অ্যাঞ্জেলো "কাস্টমাইজড ট্যুর" বাসের বক্তৃতা সার্কিটে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন, যা তিনি তার আশি বছর বয়সেও অব্যাহত রেখেছিলেন।    

২০০৮ সালে বারাক ওবামার পক্ষে একটি সমাবেশে মায়া অ্যাঞ্জেলো বক্তব্য রাখছেন

১৯৯৩ সালে বিল ক্লিনটনের প্রথম অভিষেক অনুষ্ঠানে অ্যাঞ্জেলো তাঁর কবিতা "অন দ্যা পালস অফ মর্নিং" আবৃতি করেন, যা তাঁর পূর্বে শুধু রবার্ট ফ্রস্ট ১৯৬১ সালে জন এফ কেনেডি’র অভিষেক অনুষ্ঠানে করেছিলেন। সেই আবৃতির পর তিনি তার আগের রচনাগুলির জন্য খ্যাতি এবং স্বীকৃতি পেতে শুরু করেন এবং তার গ্রহন যোগ্যতা বর্ণ, অর্থনৈতিক এবং শিক্ষাগত সীমা অতিক্রম করতে শুরু করে। তার সেই কবিতাটির রেকর্ডিং গ্র্যামি পুরস্কার জিতে নেয়। ১৯৯৫ সালের জুনে রিচার্ড লং তার “এ ব্রেইভ এন্ড স্টার্টলিং ট্রুথ’ শিরোনামের কবিতাটিকে দ্বিতীয় সেরা “গণ মানুষের কবিতা” হিসেব আখ্যা দেন যা জাতিসংঘের পঞ্চাশতম বার্ষিকীতে স্মরণ করা হয়।    

১৯৯৬ সালে মুক্তি পাওয়া ডাউন ইন দ্যা ডেল্টা সিনেমাটির মধ্য দিয়ে অ্যাঞ্জেলো তার সিনেমা পরিচালনার লক্ষ্য পূরণ করেন যাতে আলফ্রে উডার্ড এবং ওয়েসলি স্ননিপসের মত অভিনেতারা অভিনয় করেন। এছাড়াও ১৯৯৬ সালে তিনি আর এন্ড বি’র শিল্পী অ্যাশফোর্ড ও সিম্পসনের সাথে তাদের অ্যালবাম বীন ফাউন্ডের ১১ টি গানের মধ্যে ৭ টি তে কাজ করেন। অ্যাঞ্জেলোর সব গানের মধ্যে শুধু এই অ্যালবামটির তিনটি গান বিলবোর্ডের চার্টে ছিল। ২০০০ সালে তিনি হলমার্কের জন্য গ্রিটিং কার্ড ও গৃহস্থালীর আলংকারিক পণ্য তৈরি করেছিলেন। তাকে বলা "বাণিজ্যিক কবি" অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছিলেন ‘গণ মানুষের কবি’ হওয়ার উদ্যোগটি তার মধ্যে পুরোদমে ছিল। অ্যাঞ্জেলো তার জীবনের গল্প লেখা শুরু করার ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় পরে; ২০০২ সালে তার ষষ্ঠ আত্মজীবনী “এ সং ফ্লাং আপ টু হেভেন” শেষ করেন।

২০০৮ সালে নর্থ ক্যারোলাইনায় একটি অনুষ্ঠানে হিলারি ক্লিনটনের সাথে মায়া অ্যাঞ্জেলো

অ্যাঞ্জেলো ২০০৮ সালের "প্রেসিডেন্টশিয়াল প্রাইমেরীসে" ডেমোক্রেট দলের হয়ে প্রচারাভিযানে নেমেছিলেন এবং হিলারি ক্লিনটনকে সমর্থন দিয়েছিলেন। জানুয়ারীতে সাউথ ক্যারোলাইনায় প্রচারাভিযানের প্রথম দিকে ক্লিনটনের ক্যাম্পেইন অ্যাঞ্জেলোর দ্বারা অনুমোদিত তার বৈশিষ্টসূচক বিজ্ঞাপনগুলো প্রচার করেছিল। সেই বিজ্ঞাপনগুলো প্রচার করা হয়েছিল কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টা হিসেবে কিন্তু বারাক ওবামা ক্লিনটনের চেয়ে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে থেকে শেষ করেন এবং কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ৮০ শতাংশ ভোট লাভ করেন। ক্লিনটনের প্রচারাভিযান শেষ হলে অ্যাঞ্জেলো ওবামাকে সমর্থন করেন, যিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন। ওবামার অভিষেকের পর তিনি বলেছিলেন, “আমরা বর্ণবাদ এবং যৌনতাবাদের উর্ধে থেকে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।”      

২০১০ সালের শেষের দিকে, অ্যাঞ্জেলো তার ব্যক্তিগত কাগজপত্র এবং ক্যারিয়ারের স্মারক হারলেমস্থ সোমবার্গ সেন্টার ফর রিসার্চ ইন ব্লাক কালচারেকে দান করে দেন। এগুলোতে হলুদ প্যাডের নোটে তার হাতে লেখা আত্মজীবনী “আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংস”-এর পান্ডুলিপি, কোরেট্টা স্কট কিংয়ের পাঠানো টেলিগ্রাম, ভক্তদের পাঠানো মেইল, তার সহকর্মীদের ও সম্পাদক রবার্ট লুমিসের মত ব্যক্তিবর্গের ব্যক্তিগত ও পেশাদার চিঠিপত্রসহ ৩৪০ টিরও বেশি নথি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০১১ সালে অ্যাঞ্জেলো ওয়াশিংটন ডিসিস্থ মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র মেমোরিয়ালের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। তিনি স্মৃতিসৌধে লেখা কিংয়ের একটি উদ্ধৃতির বিরোধিতা করে বলেছিলেন, “এই উদ্ধৃতিটি মার্টিন লুথার কিংকে একজন অহংকারী ব্যক্তি হিসেবে প্রতিপন্ন করে” এবং তিনি এটি পরিবর্তন করার দাবী জানান। পরে উদ্ধৃতিটি সেখান থেকে সড়ানো হয়। ২০১৩ সালে, ৮৫ বছর বয়সে অ্যাঞ্জেলো তার সাত খন্ডের আত্মজীবনী "মম এন্ড মি এন্ড মম" প্রকাশ করেন, যাতে মায়ের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

"খাবার খাওয়া এবং গান শোনার মত লেখালেখিকে আমি আমার জীবনের অংশ হিসেবে নিয়েছি।"

মায়া অ্যাঞ্জেলো, ১৯৯৯

তথ্য উপাত্ত থেকে জানা যায় অ্যাঞ্জেলো আংশিকভাবে পশ্চিম আফ্রিকার মেন্ডি সম্প্রদায়ের মানুষদের থেকে এসেছেন। ২০০৮ সালে একটি ডিএনএ পরীক্ষায় জানা যায় যে তার আফ্রিকার পূর্বসূরীদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কঙ্গো-অ্যাঙ্গোলা অঞ্চলের এবং ৫৫ শতাংশ পশ্চিম আফ্রিকার বাসিন্দা ছিলেন। ২০০৮ সালে পিবিএসের একটি তথ্যচিত্রে দেখা যায় অ্যাঞ্জেলোর প্রমাতামহ মেরি লি যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের পরে মুক্তি পেয়েছিলেন এবং তার সাবেক মালিক জন স্যাভিন দ্বারা গর্ভবতী হয়েছিলেন। স্যাভিন অন্য কেউ তার সন্তানের জনক -এই মর্মে লি কে একটি মিথ্যে অঙ্গিকারনামায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। স্যাভিন লি কে মিথ্যাচারে বাধ্য করেছেন এই অভিযোগের পরে এবং তিনি যে লি’র সন্তানের পিতা সেটি আবিষ্কার হওয়া সত্ত্বেও একজন জুরি তাকে দোষী বলে মনে করেন নি। লি কে তার মেয়ে মার্গারেট বাক্সটারের সাথে মিসৌরির ক্লিনটন কাউন্টির দরিদ্র বাড়িতে প্রেরণ করা হয়। এই মার্গারেট বাক্সটার ছিলেন অ্যাঞ্জেলোর দাদী। অ্যাঞ্জেলো লি কে “শারীরিক ও মানসিকভাবে আহত একটি দরিদ্র ছোট্ট কৃষ্ণাঙ্গ মেয়ে” বলে বর্ণনা করেছেন। অ্যাঞ্জেলো তার জীবনের বিবরণ সাতটি আত্মজীবনী, অসংখ্য সাক্ষাৎকার, বক্তৃতা এবং নিবন্ধগুলোতে বর্ণনা করেছেন। সমালোচক মেরি জেন লুপটন ব্যাখ্যা করেছেন, অ্যাঞ্জেলো যখন তার জীবন সম্পর্কে কথা বলেছেন তখন তিনি খুব স্পষ্ট কিন্তু অনানুষ্ঠানিকভাবে এবং “কোন সময় উল্লেখ না করেই” করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ তিনি কমপক্ষে দু’বার বিয়ে করেছেন, তবে “খুব খারাপ শোনাবে এই ভয়ে” তিনি কতবার বিয়ে করেছিলেন সে সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু বলেন নি। গিলেস্পি এবং তার আত্মজীবনী অনুসারে, তিনি ১৯৫১ সালে টোস অ্যাঞ্জেলোসকে এবং ১৯৭৪ সালে পল ডু ফিউকে বিয়ে করেন। ১৯৬১ সালে তিনি ভুসুমজি ম্যাকের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে কখনো বিয়ে করেন নি। যৌনশিল্পে যৌনকর্মী এবং মহিলা সমকামীদের “মাদাম”সহ অনেক কাজের সাথে অ্যাঞ্জেলো যুক্ত ছিলেন যা তিনি “গ্যাদার টুগেদার ইন মাই নেইম” নামে লেখা তার দ্বিতীয় আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন। ১৯৯৫ সালে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাঞ্জেলো বলেছিলেন, “আমি লিখেছিলাম আমার অভিজ্ঞতার আলোকে, আমার ধারণা ছিল বেশিরভাগ মানুষ ছেলেমানুষের মত করে বলেন, ‘আমি কখনোই ভুল কিছু করি নি, আমি পরিচ্ছন্ন, আমার গায়ে কোন কাঁদা নেই’। অ্যাঞ্জেলোর গাই নামে একটি ছেলে ছিল, তার জন্মের কথা তিনি তার প্রথম আত্মজীবনীতে বর্ণনা করেছেন। অ্যাঞ্জেলোর মা ভিভিয়ান ব্যাক্সটার ১৯৯১ সালে এবং ভাই বেইলী জনসন ২০০০ সালে মারা যান। তারা দু’জনেই মারা যান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। অ্যাঞ্জেলোর জীবনে এবং লেখালেখিতে তারা দু’জনেই খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। ২০০৯ সালে মায়া অ্যাঞ্জেলো সেইন্ট লুইসে বসবাস করছিলেন, সেই সময় গসিপ ওয়েবসাইট টিএমজেড ভ্রান্তভাবে জানিয়েছিল যে, লস অ্যাঞ্জেলেসের হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছে। ফলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন। অ্যাঞ্জেলো বলেছিলেন, সেই সময় তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্তরা খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। ২০১৩ সালে অ্যাঞ্জেলো তার বন্ধু অপরাহ উইনফ্রেকে বলেছিলেন যে, তিনি ইউনিটি চার্চ কতৃক প্রদত্ত কোর্সগুলো অধ্যয়ন করেছেন, যা তার কাছে আধ্যাত্মিকভাবে খুব তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তিনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী অর্জন করেন নি, তবে গিলেস্পির মতে তার পরিবার এবং বন্ধু বান্ধবের বাইরের লোকজনের ডাকা “ডঃ অ্যাঞ্জেলো” সম্বোধনটি তিনি পছন্দ করতেন। নর্থ ক্যারোলাইনার উইন্সটন - সেলামে তার দুটি বাড়ি এবং হারলেমে একটি “লর্ডলি ব্রাউনস্টোন” ছিল, যা ২০০৪ সালে কেনা হয়েছিল এবং এখানে তার গ্রন্থাগারটি তার জীবন জুড়ে সংগ্রহ করা বইয়ে এবং বহু দশক জুড়ে সংগ্রহ করা শিল্পকর্মে পূর্ণ ছিল। গার্ডিয়ানের লেখক গ্যারি ইয়ঞ্জ জানিয়েছেন, অ্যাঞ্জেলোর হারলেমের বাড়িতে বেশ কয়েকটি জাজ ট্রাম্পটার, রোজা পার্কের জলছবি, ফেইথ রিংগোল্ডের “মায়া’স কুইল্ট অফ লাইফ”সহ আফ্রিকা থেকে সংগ্রহ করা বেশ কয়েকটি চিত্রকর্ম ছিল।  

নিউইয়র্ক শহরে অ্যাঞ্জেলোর বাসভবনের ইতিহাস বর্ণনা করে নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, তিনি নিয়মিত ভাবে নববর্ষের অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলেন। তিনি তার লেখা এবং রান্না করার দক্ষতার কথা সমবেত ভাবে লিখেছেন ২০০৪ সালে প্রকাশিত তার বই "হাল্লেলুজাহতে"। সেখানে তিনি ২৮টি ছবিসহ ৭৩টি রেসিপি দিয়েছেন যা তিনি তার দাদী এবং মায়ের কাছ থেকে শিখেছিলেন। ২০১০ সালে তিনি চমৎকার ভাবে রান্না করা, স্মার্ট খাওয়া ও ওজন নিয়ন্ত্রণের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তার দ্বিতীয় রান্নার বই “গ্রেট ফুড অল ডে লং” প্রকাশ করেন।    

আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংস থেকে শুরু করে অ্যাঞ্জেলো অনেক বছর লেখায় একই ধরণের পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তিনি খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে একটি হোটেলে প্রবেশ করতেন এবং হোটেলের কর্মীদের সেই ঘরের দেয়ালে টাঙানো ছবিগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিতেন। শুধু এক বোতল শেরি, "সোলিটায়ার - রোজেট’স থেসাউরাস" খেলার জন্য এক বান্ডিল তাস এবং বাইবেল সাথে নিয়ে তিনি বিছানায় শুয়ে প্যাডে লিখতেন এবং বিকেলের আগে চলে যেতেন। তিনি প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ পৃষ্ঠা করে লিখতেন এবং সন্ধ্যায় ৩ থেকে ৪ পৃষ্ঠা সম্পাদনা করতেন। ১৯৮৯ সালে বিবিসিকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, নিজেকে মোহিত করার জন্য, ‘স্টার্ম উন্ড ড্রাংক”, অতীতের নিদারুণ অন্তর্বেদনা ও যন্ত্রণার দিনগুলোতে ফিরে যাওয়ার জন্য তিনি এই পদ্ধতিতে নিজেকে পরিচালিত করতেন। লেখার সময় তিনি নিজেকে অতীতে নিয়ে গিয়েছেন, আত্মজীবনীতে সত্য ঘটনা বলার উদ্দেশ্যে ধর্ষিত হওয়ার মত অত্যন্ত ভয়ানক অভিজ্ঞতার কথাও লিখেছেন। অ্যাঞ্জেলো জানিয়েছেন, অতীতের স্মৃতিগুলোর মর্মে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করার জন্য তিনি তাস খেলতেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

অ্যাঞ্জেলো ২০১৪ সালের ২৮ মে মৃত্যু বরণ করেন। তার দায়িত্ব্বে থাকা সেবিকা প্রথম সেটি প্রত্যক্ষ করেন। সেই সময় অ্যাঞ্জেলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের সাথে তার অভিজ্ঞতার ঘটনা নিয়ে একটি আত্মজীবনী লেখার কাজে হাত দিয়েছিলেন। যদিও সেই সময় তার স্বাস্থ্যের অবনতি হতে শুরু করে এবং তিনি তার সাম্প্রতিক কর্ম পরিকল্পনা বাতিল করেন। ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে তার ছেলে গাই জনসন স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, শ্বাস প্রশ্বাস জনিত কষ্ট এবং দীর্ঘদিন নাচের পেশার সাথে যুক্ত থাকার দরুণ তীর্ব শারীরিক ব্যথা থাকার পরেও জীবনের শেষ দশ বছরে তিনি চারটি বই লিখেছেন। গাই বলেছেন, “তিনি কোন পাওয়া না পাওয়ার বেদনা ও কোন ধরণের ক্ষতির উপলব্দিবোধ ছাড়াই এই নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।” বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামাসহ (যার বোনের নামও অ্যাঞ্জেলো) শিল্পী ও বিশ্বনেতাদের অনেকে অ্যাঞ্জেলোর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ন্যাশনাল বুক ফাউন্ডেশনের হ্যারল্ড অজেনব্র্যাম বলেছেন, “অ্যাঞ্জেলো হচ্ছেন সেই লেখিকা যিনি বিশ্বব্যাপি অনেক লেখক ও পাঠক দ্বারা প্রশংসিত ও সমাদৃত।”

অ্যাঞ্জেলোর মৃত্যুর সপ্তাহখানেক পরে তার আত্মজীবনী “আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংস” অ্যামাজন ডট কমের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত হওয়া বই হিসেবে অনেকদিন তালিকার শীর্ষে অবস্থান করেছিল। ২০১৪ সালের ২৯শে মে উইন্সটন-সালেমের মাউন্ট জিয়ন ব্যাবটিস্ট চার্চ তাকে সন্মান জানাতে একটি স্বরণসভার আয়োজন করে। অ্যাঞ্জেলো নিজেও ৩০ বছর সেই চার্চের সদস্য ছিলেন। ৭ জুন উইন্সটন - সেলামের ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ওয়েট চ্যাপেল ক্যাম্পাসে ব্যক্তিগতভাবে একটি স্বরণ সভার আয়োজন করা হয়। স্বরণসভাটি তার ছেলে, অপরাহ উইনফ্রে, মিশেল ওবামা এবং বিল ক্লিনটনের বক্তৃতার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল এবং তা উইন্সটন - সালেমের স্থানীয় স্টেশনগুলো থেকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল। ১৫ জুন সান ফ্রান্সিস্কোর গ্লাইড মেমোরিয়াল চার্চে একটি স্বরণসভার আয়োজন করা হয়, সেখানে সিসিল উইলিয়ামস, মেয়র এড লি এবং প্রাক্তন মেয়র উইলি ব্রাউন বক্তব্য রেখেছিলেন। অ্যাঞ্জেলো নিজেও বহু বছর ধরে সেখানকার সদস্য ছিলেন।

কর্ম[সম্পাদনা]

অ্যাঞ্জেলো মোট সাতটি আত্মজীবনী লিখেছেন। মেরি জেন লুপটনের মতে অ্যাঞ্জেলোর তৃতীয় আত্মজীবনী "সিঙ্গিন’ এন্ড সুইংগিন’ এন্ড গেটিন’ মেরি লাইক ক্রিসমাস" ছিল প্রথমবারের মতো একজন বিখ্যাত আফ্রিকান - আমেরিকান আত্মজীবনী লেখকের নিজের জীবন সম্পর্কে তৃতীয় খন্ডে লেখা বই। তার বইগুলো ‘সময় ও স্থানের সাথে বিস্তৃত', আরাকানসাস থেকে আফ্রিকা এরপর আবার যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরু থেকে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের হত্যাকান্ড সবই স্থান পেয়েছিল। তিনি ২০১৩ সালে ৮৫ বছর বয়সে তার সপ্তম আত্মজীবনী "মম এন্ড মি এন্ড মম" প্রকাশ করেছিলেন। সমালোচকরা তার আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংস আত্মজীবনীটির খুব প্রসংসা করেছিলেন। অ্যাঞ্জেলো পাঁচটি প্রবন্ধগ্রন্থ লিখেছেন, লেখক হিল্টন আলস তার লেখা আত্মজীবনীগুলোর সাথে একত্রে সেগুলোকে “জ্ঞানের বই” বলে অভিহিত করেছেন। অ্যাঞ্জেলো তার পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে একই সম্পাদক ব্যবহার করেছিলেন। যিনি ছিলেন র‍্যান্ডম হাউসের নির্বাহী সম্পাদক রবার্ট লুমিস; ২০১১ সালে তিনি অবসর গ্রহন করেন। তাকে বলা হতো “ওয়ান অফ পাবলিশিং হল অফ ফেম এডিটরস”।

লুমিস সম্পর্কে অ্যাঞ্জেলো বলেছেন, “আমাদের দু’জনের মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে যা প্রকাশকদের মধ্যে এক প্রকার বিখ্যাত।” অ্যাঞ্জেলোর দীর্ঘ ও বিস্তৃত ক্যারিয়ারে কবিতা, নাটক, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য, পরিচালনা, অভিনয় এবং জনসাধারণের বক্তৃতা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি খুব ভালো একজন কবিও ছিলেন, তার রচিত কাব্য জাস্ট গিভ মি কুল ড্রিংক অফ ওয়াটার ফর আই ডাই (১৯৭১) পুলিৎজার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল। ১৯৯৩ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের অভিষেক অনুষ্ঠানে তার রচিত “অন দ্যা পালস ওফ মর্নিং” কবিতাটি আবৃতি করার জন্য তাকে মনোনীত করা হয়। অ্যাঞ্জেলো তার সফল অভিনয় জীবনে অনেক নাটক, চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশনে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে ১৯৭৭ সালে টেলিভিশন মিনি সিরিজ রুটসেও তার উপস্থিতি ছিল। তার রচিত জর্জিয়া, জর্জিয়া (১৯৭২) ছিল একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী কতৃক লেখা প্রথম কোন মৌলিক চিত্রনাট্য এবং ১৯৯৮ সালে তার নির্মিত “ডাউন ইন দ্যা ডেল্টা” ছিল কোন আফ্রিকান - আমেরিকান নারী কতৃক পরিচালিত প্রথম পূর্ণ দৈর্ঘ চলচ্চিত্র।

আত্মজীবনীসমূহের কালপঞ্জি[সম্পাদনা]

আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংস (১৯৬৯):১৯৪৪ সাল পর্যন্ত (১৭ বছর বয়স)

গেদার টুগেদার ইন মাই নেম (১৯৭৪):১৯৪৪ -৪৮

সিংগিন এন্ড সুইঙ্গিন এন্ড গেটিং মেরি লাইক খ্রিস্টমাস (১৯৭৬):১৯৪৯ -৫৫

দ্যা হার্ট অফ ওমেন (১৯৮১):১৯৫৭ -৬২

অল গড’স চিলড্রেন নিড ট্রাভেলিং সুস (১৯৮৬):১৯৬২ -৬৫

এ সং ফ্লাং আপ টু হেভেন (২০০২):১৯৬৫ -৬৮

মম এন্ড মি এন্ড মম (২০১৩)

তার গ্রহণযোগ্যতা ও পরবর্তি ঘটনাক্রম[সম্পাদনা]

প্রভাব[সম্পাদনা]

২০১১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মায়া অ্যাঞ্জেলোকে প্রেসিডেন্টশিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম প্রদান করছেন

১৯৬৯ সালে প্রথম আত্মজীবনী “আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংস” প্রকাশিত হওয়ার পর অ্যাঞ্জেলো এক নতুন ধরণের স্মৃতিকথা লেখক হিসেবে সকলের প্রশংসা কুড়ান। আফ্রিকান - আমেরিকান নারীদের মধ্যে তিনিই প্রথম প্রকাশ্যে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা করতে পেরেছিলেন। হিল্টন আলসের মতে, সেই সময় পর্যন্ত কৃষ্ণাজ্ঞ নারী লেখিকারা একঘরে হয়ে ছিলেন, তারা নিজেদের রচিত লেখায় নিজেদেরকে কেদ্রীয় চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করতে অক্ষম ছিলেন। ভাষাতত্ত্ববিদ জন ম্যাকওয়াহার্টর অ্যাঞ্জেলোর লেখাগুলোকে “গবেষণাধর্মী ও ক্ষমা প্রার্থনা মূলক” লেখা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি অ্যাঞ্জেলোকে আফ্রিকান - আমেরিকান সাহিত্যের ঐতিহ্যে একজন প্রতিবাদী লেখিকা হিসেবে অভিহিত করেন।

লেখক জুলিয়ান মেফিল্ড তার আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংস রচনাটিকে “একটি শৈল্পিক কাজ হিসেবে বর্ণনা করে” যুক্তি দিয়েছেন, অ্যাঞ্জেলোর আত্মজীবনীগুলো কেবল অন্য কৃষ্ণাঙ্গ নারী লেখিকাদের কাছেই নয় সমগ্র আফ্রিকান - আমেরিকান আত্মজীবনীতেই নজির স্থাপন করেছে। আত্মজীবনী লেখার মাধ্যমে অ্যাঞ্জেলো কৃষ্ণাঙ্গ ও নারীদের মুখপাত্র হিসেবে স্বীকৃত এবং অত্যন্ত সন্মানিত হয়ে ওঠেন।

এটি “কোন সন্দেহ ছাড়াই তাকে আমেরিকার সবচেয়ে প্রতীয়মান কৃষ্ণাঙ্গ নারী আত্মজীবনী লেখিকা” এবং “সময়ের অন্যতম প্রধান আত্মজীবনীমূলক বক্তা” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। লেখক গ্যারি ইউঞ্জ যেমন বলেছিলেন, “সম্ভবত অন্য যে কোন লেখকের চেয়ে অ্যাঞ্জেলোর জীবন আক্ষরিক অর্থেই তার রচনা।” হিল্টন আলস বলেছিলেন, আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংস ১৯৭০ এর দশকে কৃষ্ণাঙ্গ নারীবাদী লেখার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

আলস আরও দাবী করেছিলেন যে অ্যাঞ্জেলোর লেখাগুলো রাজনীতি বা নারীবাদের চেয়ে আত্মপ্রকাশে আগ্রহী অন্যান্য মহিলা লেখকদের পৃথিবীর চোখের সামনে লজ্জা না পেয়ে মুক্তি দিয়েছিল। অ্যাঞ্জেলোর সমালোচক জোয়ান এম ব্র্যাকসটন বলেছিলেন আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংস তার যুগে একজন আফ্রিকান - আমেরিকান নারী কতৃক রচিত “সম্ভবত সবচেয়ে নান্দনিকভাবে” লিখিত আত্মজীবনী। অ্যাঞ্জেলোর কবিতা ক্যানিয়ে ওয়েস্ট, কমন, টিউপাক শাকুর এবং নিকি মিনাজের মত শিল্পীদেরসহ আধুনিক হিপ - হপ সঙ্গীত সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করেছিল।

সমালোচনা[সম্পাদনা]

পর্যালোচক এলসি বি ওয়াশিংটন সম্ভবত ১৯৯৩ সালে প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন তার অভিষেক অনুষ্ঠানে অ্যাঞ্জেলোকে তার “অন দ্যা পালস অফ মর্নিং” কবিতাটি আবৃতি করতে নির্বাচিত করার কারণে তাকে “দ্যা ব্লাক ওমেন’স পোয়েট লউরিয়েট” বলে অভিহিত করেছিলেন। অ্যাঞ্জেলোর কবিতা আবৃতি শেষে তার বইয়ের পেপারব্যাক সংস্করণের বিক্রি সপ্তাহে ৩০০% - ৬০০% বেড়ে গিয়েছিল। র‍্যান্ডম হাউস নামে যে প্রকাশনা সংস্থা তার কবিতা প্রকাশ করেছিল; পরের বছর তাদের চাহিদানুযায়ী তার সমস্ত বইয়ের আরও ৪০০,০০০ কপি পুনরায় মুদ্রণ করতে হয়েছিল। ১৯৯২ সালের পুরো বছর জুড়ে তারা যতগুলো বই বিক্রি করেছিল তার চেয়ে বেশি পরিমান বই তারা ১৯৯৩ সালের জানুয়ারীতেই বিক্রি করে ফেলেছিল, যা বৃদ্ধি পেয়েছিল ১২০০%। অ্যাঞ্জেলো তার কাজকর্মে তার জীবনের বিবরণ ব্যবহারের বিষয়ে সমালোচনার জবাবে বলেছিলেন, “আমি বালজাক এবং ১৯ শতকের লেখকদের সাথে একমত, কৃষ্ণাঙ্গ এবং শ্বেতাঙ্গ - যারা বলে ‘আমি টাকার জন্য লিখি’।” ইয়ঞ্জ, অ্যাঞ্জেলোর তৃতীয় প্রবন্ধগ্রন্থ লেটার টু মাই ডটার (২০০৮) প্রকাশের পর বলেছিলেন, “গত কয়েক দশক ধরে তিনি তার বিবিধ প্রতিভা এক ধরণের ‘পারফম্যান্স আর্টে’ কবিতা, গান এবং কথোপকথন মিশ্রিত করে ব্যক্তিগত ও সামাজিক উথানের বার্তা প্রচার করেছেন।”

অনেক বাবা-মা অ্যাঞ্জেলোর বইগুলোর, বিশেষ ভাবে “আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংস”-এর সমালোচনা করেছিলেন, ফলে স্কুলের পাঠ্যক্রম এবং গ্রন্থাগারের তাক থেকে সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। ন্যাশনাল কলিশন এগেইন্সড সেন্সরশীপের মতে, অভিভাবকরা এবং স্কুলগুলো আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংসের সমকামিতা, বিবাহ বহির্ভূত যৌনতা, অশ্লীল এবং সহিংস বর্ণনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিছু বইয়ে ব্যবহৃত স্পষ্ট যৌনতা, ভাষার ব্যবহার এবং ধর্মের অপ্রয়োজনীয় বর্ণনার সমালোচনা করা হয়েছিল। আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংস বইটি আমেরিকান লাইব্রেরি এ্যাসোসিয়েশন-এর (এএলএ) ১৯৯০-২০০০ মৌসুমের ১০০টি প্রায়শই চ্যালেঞ্জযুক্ত বইয়ের তালিকায় তৃতীয় এবং ২০০০-২০০৯ মৌসুমে ষষ্ট স্থানে ছিল।

পুরষ্কার ও সন্মাননা[সম্পাদনা]

অ্যাঞ্জেলো বিশ্ববিদ্যালয়, সাহিত্য সংগঠন, সরকারী সংস্থা এবং বিশেষ আগ্রহী গোষ্ঠী দ্বারা সন্মানিত হয়েছিলেন। তার “জাস্ট গিভ মি এ কুল ড্রিংক অফ ওয়াটার ফর আই ডাই” কাব্যটি পুলিৎজার পুরষ্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল। লুক এওয়ে নাটকে অভিনয়ের জন্য ১৯৭৩ সালে তিনি টনি অ্যাওয়ার্ড পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। তিনটি গ্র্যামী অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন "স্পোকেন ওয়ার্ড" অ্যালবামের জন্য। তিনি দুটি প্রেসিডেন্টশিয়াল কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং ১৯৯৪ সালে স্পিনগার্ন পদক, ২০০০ সালে জাতীয় শিল্পী পদক ও ২০১১ সালে রাষ্ট্রপতি পদক লাভ করেন। অ্যাঞ্জেলো পঞ্চাশটিরও অধিক সন্মানসূচক ডিগ্রীতে ভূষিত হন।

শিক্ষায় ব্যবহার[সম্পাদনা]

শিক্ষায় অ্যাঞ্জেলোর আত্মজীবনীগুলো বর্ণনামূলকভাবে বহুসাংস্কৃতিক স্তরে পড়ানো হয়। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোসলিন এ গ্লাজিয়ার অ্যাঞ্জেলোর রচিত আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংস এবং গেদার টুগেদার ইন মাই নেম পড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন কিভাবে জাতিগত বিষয়ে কথা বলতে হবে। গ্লাজিয়ারের মতে, অ্যাঞ্জেলোর অবজ্ঞাপূর্ণতা, আত্ম-বিদ্রুপ, কৌতুক এবং ব্যঙ্গাত্মক ব্যবহারের ফলে অ্যাঞ্জেলোর আত্মজীবনীর পাঠকরা তার রচনা শৈলী নিয়ে এবং বর্নিত ঘটনাগুলোতে কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো উচিৎ সে বিষয়ে এক ধরণের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যান। বর্ণবাদ নিয়ে অ্যাঞ্জেলোর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনায় শ্বেতাঙ্গ পাঠকরা হয় তাদের নিজস্ব “সুবিধাবাদী অবস্থা” এবং বর্ণবাদ নিয়ে নিজেদের অনুভূতি বিশ্লেষণ করতে বাধ্য হয়েছেন অথবা নিজেদের সুবিধা জনক অবস্থা বজায় রাখার জন্য তারা সেই আলোচনা এড়িয়ে চলেছেন। গ্লাজিয়ার আবিষ্কার করেছেন, সমালোচকরা আফ্রিকান - আমেরিকান আত্মজীবনীর রীতিতে এবং সাহিত্যের কৌশলগুলির মধ্যে অ্যাঞ্জেলো যেভাবে মানানসই হয়েছেন সেদিকে মনোনিবেশ করেছেন। তবে পাঠকরা তার গল্প বলা নিয়ে চমকপ্রদ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, বিশেষত এর ধরণ সম্পর্কে নির্দিষ্ট প্রত্যাশা নিয়ে যখন তারা আত্মজীবনীটি পড়তে শুরু করেন। শিক্ষাবিদ ড্যানিয়েল চ্যালেনার তার ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত বই স্টোরিস অফ রিসিলিয়েন্স ইন চাইল্ডহুডে বিশ্লেষণ করেছেন; আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংস বইটির ঘটনাগুলো শিশুদের স্থিতিস্থাপকতা চিত্রিত করেছে। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, কীভাবে অ্যাঞ্জেলোর বইটি প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াই করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। অ্যাঞ্জেলোর মত অনেক শিশু অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছে এবং তাদের সম্প্রদায়গুলো যে সেই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে তাদের সহায়তা করেছে সেক্ষেত্রে এই বইটির ভূমিকা অন্বসীকার্য। মনোবিজ্ঞানী ক্রিস বয়াটজিস শিশুদের বিকাশ জনিত গবেষণা যেমনঃ আত্ম-ধারণা, আত্ম-সন্মানের বিকাশ, বাবা - মা’র সাথে সম্পর্ক, ভাইবোন ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক, জ্ঞানীয় বিকাশ, বয়ঃসন্ধিকাল, কৈশোরে পরিচয় গঠন প্রভৃতি ক্ষেত্রে আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংস বইটির গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, বাস্তব জীবনে আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংস বইটি কতটা কার্যকর।

কবিতা[সম্পাদনা]

অ্যাঞ্জেলো তার লেখা সাতটি আত্মজীবনীর জন্য বেশি পরিচিত হলেও তিনি খুব ভালো এবং সফল একজন কবিও ছিলেন। তাকে বলা হতো “দ্যা ব্ল্যাক ওমেন’স পোয়েট লওরিয়েট”, তার কবিতাগুলো আফ্রিকান - আমেরিকানরা বন্দনাগীতি হিসেবে ব্যবহার করতো।  

অ্যাঞ্জেলো খুব অল্প বয়সেই কবিতা লেখা এবং পড়া শুরু করেন। তার কবিতা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যে তরুণ অবস্থায় তার ধর্ষণের কথা কিভাবে ফুটে উঠেছে তা তিনি তার আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংস আত্মজীবনীতে বর্ণনা করেছেন। ইয়েশিম ডিগাউটের মতে, একজন কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে সাহিত্য অ্যাঞ্জেলোর সংবেদনশীলতাকে প্রভাবিত করেছিল, বিশেষত তার মুক্ত আলোচনা, যা তার নিজস্ব কাব্যিক আদর্শে বিকশিত হয়েছিল।

অনেক সমালোচক তার কবিতার চেয়ে তার আত্মজীবনীগুলোকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। তার সব বই-ই খুব ভালো বিক্রি হয়েছিল, তবে তার কবিতা তার গদ্যের মত সবার কাছে সমান গুরুত্ব পায় নি এবং সেভাবে পড়াও হয় নি। যখন তিনি তার কবিতাগুলো আবৃতি ও উপস্থাপন করতেন সেগুলো আরও আকর্ষনীয় হয়ে উঠতো এবং অনেক সমালোচক তার কবিতার ক্ষেত্রে জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব দিতেন। জোফিয়া বার তার লেখায় অ্যাঞ্জেলোর বৃহত্তর উদ্দেশ্য বিবেচনায় না নেয়ার জন্য অ্যাঞ্জেলোর সমালোচকদের নিন্দা জানিয়ে তাদের সমালোচনা করেছেন।

আত্মজীবনীগুলোর রচনাশৈলী ও ধরণ[সম্পাদনা]

অ্যাঞ্জেলোর কথাসাহিত্য রচনার পদ্ধতি যেমন বিষয় নির্বাচন, সংলাপ, চরিত্রাঙ্কন, প্লট এবং ভাষার ব্যবহার তার বইগুলোকে আত্মজীবনীমূলক কথা সাহিত্যের ধারায় স্থান দিয়েছে। অ্যাঞ্জেলো ইচ্ছাকৃত ভাবে সমালোচনার মাধ্যমে, পরিবর্তন করে, এর ধারার বিস্তৃতি ঘটিয়ে আত্মজীবনীর সাধারণ কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। স্কলার মেরি জেন লুপটন যুক্তি দেখিয়েছেন যে অ্যাঞ্জেলোর সব আত্মজীবনীগুলোই এর ধারার সাথে খুব যায় : এগুলো একক লেখক দ্বারা রচিত, এগুলো কালানুক্রমিক এবং এগুলোতে বিষয়, চরিত্র ও রচনাশৈলীর উপাদান রয়েছে। অ্যাঞ্জেলো উপলব্দি করেছিলেন যে তার বইয়ের কল্পিত দিক রয়েছে; লুপটন সম্মতি প্রকাশ করে উল্লেখ করেন যে, অ্যাঞ্জেলো “আত্মজীবনীর প্রচলিত ধারণা থেকে বিচ্যুত ছিলেন” যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের "অ্যাবোলিশনিস্ট" সময়কালে লেখা প্রচলিত অনেক আফ্রিকান - আমেরিকান আত্মজীবনীর সমান্তরাল। লুপটন এবং আফ্রিকান - আমেরিকান স্কলার ক্রিস্পিন সার্টওয়েল দু'জনেই যেমন বলেছেন, সত্যকে আত্ম-সুরক্ষার প্রয়োজন থেকে সেন্সর করা হয়েছিল। স্কলার লাইম্যান বি হ্যাগেন অ্যাঞ্জেলোকে আফ্রিকান - আমেরিকান আত্মজীবনীর দীর্ঘ ঐতিহ্যের মধ্যে স্থান দিয়েছেন এবং দাবী করেছেন যে, অ্যাঞ্জেলো আত্মজীবনীমূলক রূপটির একটি অনন্য ব্যাখ্যা তৈরি করেছেন।

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারীতে ইয়র্ক কলেজে অ্যাঞ্জেলো

আফ্রিকান - আমেরিকান সাহিত্যের বিদ্ব্যান ব্যক্তি পিয়েরে এ.ওয়াকারের মতে, আফ্রিকান - আমেরিকান সাহিত্যের ইতিহাসে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যে চ্যালেঞ্জটি ছিল তা হলো সেই লেখকদের রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের আগে সাহিত্যের অবস্থানটি নিশ্চিত করতে হয়েছিল, সেজন্যই অ্যাঞ্জেলোর সম্পাদক রবার্ট লুমিস “উঁচুদরের শিল্প” হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে এমন একটি আত্মজীবনী লেখার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তাকে আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড সিংস লেখার সাহস জুগিয়েছিলেন। অ্যাঞ্জেলো স্বীকার করেছিলেন যে তিনি “স্ল্যাভ ন্যারেটিভ ট্রাডিশন” অনুসরণ করেছিলেন। পন্ডিত জন ম্যাকওয়াহার্টার অ্যাঞ্জেলোর বইগুলোকে “ট্র্যাকটস” অভিহিত করে বলেছেন অ্যাঞ্জেলোর বইগুলো নেতিবাচক বাঁধাধরা দিকগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে আফ্রিকান - আমেরিকান সংস্কৃতি রক্ষা করেছে। ম্যাকওয়াহার্টারের মতে, অ্যাঞ্জেলো তার বইগুলো একধরণের কাঠামোতে আবদ্ধ করেছেন, তার কাছে মনে হয়েছে বইগুলো যতটা না বড়দের তার চেয়ে বেশি ছোটদের জন্য লেখা হয়েছে, কৃষ্ণাঙ্গ সংস্কৃতির প্রতিরক্ষা সমর্থন করার জন্য। ম্যাকওয়াহার্টার প্রত্যক্ষ করেন, অ্যাঞ্জেলো তার আত্মজীবনীগুলোতে নিজেকে চিত্রিত করেছেন বিক্ষুব্ধ সময়ের কালো আমেরিকার জন্য একধরণের ‘স্ট্যান্ড-ইন’ চরিত্র হিসেবে। স্কলার লিন জেড ব্লুম অ্যাঞ্জেলোর রচনাগুলোর সাথে ফ্রেডরিক ডগলাসের রচনাগুলোর তুলনা করে বলেছেন যে লেখার ক্ষেত্রে দু’জনেরই একই উদ্দেশ্য সাধিত হয়েছে : শেতাঙ্গ পাঠকদের কাছে কৃষ্ণাঙ্গ সংস্কৃতির ব্যাখ্যা।  

স্কলার সন্ড্রা ও’নেলের মতে, অ্যাঞ্জেলোর কবিতা কথিত আফ্রিকান - আমেরিকান ঐতিহ্যের মধ্যে রাখা যেতে পারে এবং তার গদ্য "ননপোয়েটিক ওয়েস্টার্ন ফর্মের" সর্বোত্তম কৌশলের সাথে খুব যায়। ও’নেল বলেছেন, অ্যাঞ্জেলো “মনোলিথিক ব্ল্যাক ল্যাঙ্গুয়েজের” ব্যবহার এড়িয়ে গিয়ে দক্ষতার সাথে সরাসরি সংলাপ ব্যবহার করেছেন, ও’নেল যেটাকে “মোর এক্সপেক্টেড ঘেটো এক্সপ্রেসিভনেস” বলে উল্লেখ করেছেন। ম্যাকওয়াহার্টার তার আত্মজীবনীতে অ্যাঞ্জেলো যে ভাষা ব্যবহার করেছেন এবং মানুষের যে অবাস্তব চিত্রটি দেখিয়েছেন তার উভয়েরই সন্ধান পেয়েছেন। ১৯৬০ এর দশকের শেষের দিকে অ্যাঞ্জেলো যখন আই নো হোয়াই দ্যা কেইসড বার্ড লিখেছিলেন, তখনকার সাহিত্যের একটি প্রয়োজনীয় ও স্বীকৃত বৈশিষ্ট ছিল “সাংগঠনিক একতা” এবং অ্যাঞ্জেলোর অন্যতম প্রধান একটি লক্ষ্য ছিল এমন একটি বই রচনা যা সেই মানদন্ডকে সন্তুষ্ট করতে পারবে। তার বইগুলোর ঘটনাগুলো ছিল আকস্মিক এবং সেগুলো ছোট ছোট গল্পের মতো করে তৈরি করা হয়েছিল কিন্তু ঘটনাগুলোর পরিকল্পনা যথাযথ কালানুক্রম অনুসরণ করে হয় নি। তার পরিবর্তে সেগুলো তার বইগুলোর বিষয়বস্তুতে জোর দেয়ার জন্য স্থাপন করা হয়েছিল, যার মধ্যে বর্ণবাদ, পরিচয়, পরিবার এবং ভ্রমণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইংরেজি সাহিত্যের স্কলার ভ্যালেরি সাইয়ারস দাবী করেছেন, “অ্যাঞ্জেলোর কবিতা এবং গদ্য একই রকম।” দুটোই তার সরাসরি কন্ঠস্বরের উপর নির্ভর করে যা ‘সিনকোপেটেড’ ছাঁচের সাথে স্থির ছন্দকে পরিবর্তন করে।

হ্যাগেনের মতে, অ্যাঞ্জেলোর রচনাগুলো প্রচলিত সাহিত্য এবং কথিত আফ্রিকান - আমেরিকান সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য উভয় দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, তিনি তার বই এবং কাব্য জুড়ে ১০০টিরও বেশি সাহিত্যিক চরিত্রের উল্লেখ করেছেন। অ্যাঞ্জেলো প্লটের উপর নির্ভর না করে তার বইগুলিতে ব্যক্তিগত এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলী ব্যবহার করেছেন।  


  1. "Maya Angelou"। SwissEduc.com। ডিসেম্বর ১৭, ২০১৩। ডিসেম্বর ১৭, ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  2. Glover, Terry (ডিসেম্বর ২০০৯)। "Dr. Maya Angelou"। Ebony। খণ্ড 65 নং 2। পৃষ্ঠা 67।