জর্জ ওয়াশিংটন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
এই নিবন্ধটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত। অন্য ব্যবহার জন্য, দেখুন জর্জ ওয়াশিংটন (দ্ব্যর্থতা নিরসন)
জর্জ ওয়াশিংটন
Gilbert Stuart Williamstown Portrait of George Washington.jpg
১ম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি
অফিসে
৩০ এপ্রিল, ১৭৮৯ [nb] – ৪ মার, ১৭৯৭
উপরাষ্ট্রপতি জন অ্যাডামস
পূর্বসূরী পদ প্রতিষ্ঠা
উত্তরসূরী জন অ্যাডামস
সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা
অফিসে
১৩ জুলাই, ১৭৯৮ – ১৪ ডিসেম্বর, ১৭৯৯
নিযুক্ত হয়েছে জন অ্যাডামস
পূর্বসূরী জেমস উইলকিনসন
উত্তরসূরী আলেকজান্ডার হ্যামিলটন
কন্টিনেন্টাল আর্মির সর্বাধিনায়ক
অফিসে
১৫ জুন, ১৭৭৫ – ২৩ ডিসেম্বর, ১৭৮৩
নিযুক্ত হয়েছে কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস
পূর্বসূরী পদ প্রতিষ্ঠা
উত্তরসূরী হেনরি নক্স (সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা)
ভার্জিনিয়া থেকে ২য় কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস-এর দূত
অফিসে
১০ মে, ১৭৭৫ – ১৫ জুন, ১৭৭৫
পূর্বসূরী পদ প্রতিষ্ঠা
উত্তরসূরী থমাস জেফারসন
ভার্জিনিয়া থেকে ১ম কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস-এর দূত
অফিসে
৫ সেপ্টেম্বর, ১৭৭৪ – ২৬ অক্টোবর, ১৭৭৪
পূর্বসূরী প্রতিষ্ঠাকালীন দূত
উত্তরসূরী পদ বাতিল
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (১৭৩২-০২-২২)ফেব্রুয়ারি ২২, ১৭৩২
ওয়েস্টমোরল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ব্রিটিশ আমেরিকা
মৃত্যু ডিসেম্বর ১৪, ১৭৯৯(১৭৯৯-১২-১৪) (৬৭ বছর)
মাউন্ট ভারনন, ভার্জিনিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
সমাধিস্থল ওয়াশিংটন পারিবারিক কবরস্থান
মাউন্ট ভারনন, ভার্জিনিয়া
দাম্পত্য সঙ্গী মার্থা ড্যান্ড্রিজ কাস্টিস
ধর্ম শ্বরবাদ
এপিসকোপাল
পুরস্কার কংগ্রেসনাল স্বর্ণ পদক
কংগ্রেসের ধন্যবাদ
স্বাক্ষর Cursive signature in ink
সামরিক পরিষেবা
আনুগত্য গ্রেট ব্রিটেনের রাজত্ব যুক্তরাজ্য
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
সার্ভিস/শাখা ভার্জিনিয়ার প্রাদেশিক মিলিশিয়া
কন্টিনেন্টাল আর্মি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী
কার্যকাল মিলিশিয়া: ১৭৫২–১৭৫৮
কন্টিনেন্টাল আর্মি: ১৭৭৫-১৭৮৩
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী: ১৭৯৮-১৭৯৯
পদ সেনাপ্রধান (মরণোত্তর পদোন্নতি: ১৯৭৬)
কমান্ড ভার্জিনিয়া উপনিবেশের সেনাবাহিনী
কন্টিনেন্টাল আর্মি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী
যুদ্ধ ফরাসি ও ভারতীয় যুদ্ধ
 • জুমনভিয়া গ্লেনের যুদ্ধ
 • ফোর্ট নেসেসিটির যুদ্ধ
 • ব্রাডক অভিযান
 • মনঙ্গাহেলার যুদ্ধ
 • ফোর্বস অভিযান
আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ
 • বোস্টন অভিযান
 • নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সি অভিযান
 • ফিলাডেলফিয়া অভিযান
 • ইয়র্কটাউন অভিযান
^ March 4 is the official start of the first presidential term. April 6 is when Congress counted the votes of the Electoral College and certified a president. April 30 is when Washington was sworn in.

জর্জ ওয়াশিংটন (ফেব্রুয়ারি ২২, ১৭৩২[ক]ডিসেম্বর ১৪, ১৭৯৯) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি।[১] তিনি আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধ-এ কন্টিনেন্টাল আর্মির সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গঠনের প্রধান বলে উল্লেখ করা হয় এবং তিনি তার জীবদ্দশায় এবং এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতির জনক হিসেবে পরিচিত।[২]

ওয়াশিংটন উপনিবেশিক ভার্জিনিয়ার এক ধনাট্য পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবার তামাক চাষ এবং দাস ব্যবসায়ের সাথে জড়িত ছিল। তিনি পরবর্তীতে উত্তরাধিকার সূত্রে তা লাভ করেন। তার যৌবনে তিনি উপনিবেশিক মিলিশিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন এবং ফরাসি ও ভারতীয় যুদ্ধের প্রথম ভাগ পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। ১৭৭৫ সালে দ্বিতীয় কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস মার্কিন বিপ্লবের সময় তাকে কন্টিনেন্টাল আর্মির সর্বাধিনায়ক পদে পদোন্নতি প্রদান করেন। ওয়াশিংটন ১৭৭৬ সালে ব্রিটিশদের বোস্টন থেকে বিতাড়িত হতে বাধ্য করে, কিন্তু পরের বছর তিনি ব্রিটিশদের কাছে পরাজিত হন এবং নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রায় ধরা পড়ে যান। শীতকালের মাঝামাঝিতে ডিলাওয়্যার নদী পাড় হয়ে তিনি ট্রেন্টন এবং প্রিন্সটনের যুদ্ধে ব্রিটিশদের পরাজিত করেন এবং নিউ জার্সি পুনঃদখল করেন। তার কৌশলে কন্টিনেন্টাল সৈন্যদল ১৭৭৭ সালে সারাটোগায় এবং ১৭৮১ সালে ইয়র্কটাউনে দুটি প্রধান ব্রিটিশ সৈন্যদলকে বন্দী করতে সমর্থ হয়। ইতিহাসবেত্তাগণ ওয়াশিংটনকে তার জেনারেল নির্বাচন এবং তত্ত্বাবধান; সেনাদের নির্দেশ প্রদান; কংগ্রেস, রাজ্য সরকার ও তাদের মিলিশিয়ার সাথে সমন্বয়; এবং যুদ্ধের রসদ, সরঞ্জামাদি ও প্রশিক্ষণের জন্য তার উচ্চ-প্রশংসা করেন। যুদ্ধে ওয়াশিংটন

১৭৮৩ সালে বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর, ওয়াশিংটন ক্ষমতা দখল না করে সর্বাধিনায়ক পদ থেকে অব্যহতি নেন, যা মার্কিন গনপ্রজাতন্ত্র প্রণয়নে তার অঙ্গীকারের প্রমাণ।[৩] ১৭৮৭ সালে তিনি ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত সাংবিধানিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। এই সম্মেলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন সরকার ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়। ওয়াশিংটন তার নেতৃত্বের গুণাবলির জন্য প্রশংসিত ছিলেন এবং ইলেকটোরাল কলেজের প্রথম দুটি নির্বাচনে সর্বসম্মতভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।[৪] ১৭৮৯ সালে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তিনি বিদ্রোহী অংশসমূহ একত্রিত করার কাজ করেন। তিনি সকল ফেডারেল এবং রাজ্যের সকল ঋণ পরিশোধের জন্য আলেকজান্ডার হ্যামিলটনের অনুষ্ঠানের সমর্থন দেন, সরকারের একটি স্থায়ী আসন প্রতিষ্ঠা করেন, একটি কার্যকর করব্যবস্থা চালু করেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন।[৫] দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি থাকার পর তিনি অবসরে যান। দুই মেয়াদে এই অবসরের রীতি ১৯৪০ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত চলে।

তার মৃত্যুর পর ভার্জিনিয়ার তৃতীয় হেনরি লি ওয়াশিংটনের প্রশংসা করে বলেন, "যুদ্ধে প্রথম, শান্তিতে প্রথম এবং তার জনগণের হৃদয়ে প্রথম।"[৬] তিনি জীবিত অবস্থায় এবং মৃত্যুর পরও পরম পূজনীয়। সমালোচকদের এবং জনগণের উপর করা জরিপে ফলাফলে তিনি সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সেরা তিন রাষ্ট্রপতির একজন হিসেবে স্থান অধিকার করেছেন।

প্রাথমিক জীবন (১৭৩২–১৭৫৩)[সম্পাদনা]

জর্জ ওয়াশিংটনের জন্মস্থান

জর্জ ওয়াশিংটন পোপ্‌স ক্রিক এস্টেট ওয়েস্টমোরল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ব্রিটিশ আমেরিকায় (বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অগাস্টিন ওয়াশিংটন (১৬৯৪-১৭৪৩) ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী ম্যারি বল ওয়াশিংটন-এর প্রথম সন্তান। জুলিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুসারে তার জন্ম তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৭৩১ খ্রিস্টাব্দ এবং গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৭৩২ খ্রিস্টাব্দ।[৭]

ওয়াশিংটন মূলত ইংরেজ ভদ্র সম্প্রদায় বংশোদ্ভূত। তার পূর্বপুরুষগণ ইংল্যান্ডের সালগ্রেভ থেকে আমেরিকায় যান। তার প্র-পিতামহ জন ওয়াশিংটন ১৬৫৬ সালে ভার্জিনিয়া গমন করেন এবং জমি ও ক্রীতদাসদের একত্রিত করেন। একই কাজ করেন তার পুত্র লরেন্স ওয়াশিংটন এবং তার নাতী, জর্জের পিতা অগাস্টিন ওয়াশিংটন। অগাস্টিন ছিলেন একজন তামাক চাষী এবং তিনি তার জমিতে লোহা উৎপাদনে বিনিয়োগ করেন।[৮] জর্জের বাল্যকালে অগাস্টিন ভার্জিনিয়ার ভদ্র সম্প্রদায়ের মধ্যবিত্ত সদস্য ছিলেন।[৯]

জর্জ ওয়াশিংটনের ছয়জন ভাইবোন প্রাপ্ত বয়স্ক হয়েছিল, যাদের মধ্যে লরেন্স ও অগাস্টিন জুনিয়র - এই দুইজন ছিল তার পিতার প্রথম পক্ষের স্ত্রী জেন বাটলার ওয়াশিংটনের গর্ভের। তার বাকি চার ভাইবোনরা হল স্যামুয়েল, বেটি এলিজাবেথ, জন অগাস্টিন, ও চার্লস। তার তিনজন ভাইবোন প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পূর্বে মারা গিয়েছিল। তাদের মধ্যে তার বোন মিলড্রেড এক বছর বয়সে মারা যায়, তার সৎভাই বাটলার শিশুকালে মারা যায় এবং সৎবোন জেন বার বছর বয়সে মারা যায়, তখন জর্জের বয়স ছিল দুই। তার পিতা ১৭৪৩ সালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। তখন তার বয়স এগার।[১০][১১]

ফরাসি ও ভারতীয় যুদ্ধ[সম্পাদনা]

ওয়াশিংটন ফরাসি ও ভারতীয় যুদ্ধে[খ] ভার্জিনিয়ার ব্রিটিশ উপনিবেশের মিলিশিয়ার মেজর হিসেবে সেনাবাহিনীতে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৭৫৩ সালে তাকে ব্রিটিশ রাজের দূত হিসেবে দুর-উত্তরে বর্তমান পেনসিলভানিয়ার এরিতে ফরাসি ও ভারতীয় অফিসালদের নিকট পাঠানো হয়। ওহাইও কোম্পানি ছিল ওহাইও উপত্যকায় ব্যবসায় সম্প্রসারণের জন্য ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের অন্যতম মাধ্যম, যার মাধ্যমে ভারতীয় বানিজ্যে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়।[১২] ১৭৫৩ সালে ফরাসিরা ওহাইও কাউন্টিতে তাদের সেনা মোতায়ন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়। ভার্জিনিয়া ও পেনসিলভানিয়ার ব্রিটিশ উপনিবেশ ওহাইওকে তাদের নিজেদের অঞ্চল হিসেবে দাবী করে। এ থেকে দুই অঞ্চলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়, যা পরে ফরাসি ও ভারতীয় যুদ্ধ (১৭৫৪-১৭৬২) নামে পরিচিতি লাভ করে এবং এ থেকেই বিশ্বব্যাপী সাত বছরের যুদ্ধ (১৭৫৬-৬৩) শুরু হয়। ওয়াশিংটন শুরু থেকেই এই যুদ্ধে জড়িত হয়ে পড়েন।

যুদ্ধের শুরু[সম্পাদনা]

উপনিবেশিক ভার্জিনিয়ার ডেপুটি গভর্নর রবার্ট ডিনউইডিকে ব্রিটিশ সরকার নির্দেশ দেয় ওহাইও নদী অববাহিকাসহ ব্রিটিশ অঞ্চলসমূহ দাবী করছে এমন প্রতিপক্ষকে পাহারা দিতে। ১৭৫৩ সালের শেষের দিকে ডিনউইডি ওয়াশিংটনকে ফরাসিদের ওহাইও উপত্যকা ছাড়ার চিঠি পাঠাতে নির্দেশ দেন।[১২] এর এক বছর পূর্বে মিলিশিয়ার নতুন জেনারেল হিসেবে দ্বায়িত্ব পাওয়ার পর ওয়াশিংটন নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। এই সফরে ওয়াশিংটন মিলিশিয়ার সাথে ফরাসিদের আসন্ন সংঘর্ষে তাদেরকে সমর্থন দেওয়ার জন্য লগ্‌সটাউনে তানাচারিসন ("হাফ-কিং" নামেও পরিচিত ছিল) এবং ইংল্যান্ডের সাথে সন্ধিকৃত অন্যান্য ইরোকোইস প্রধানদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি চিঠিটি স্থানীয় ফরাসি কমান্ডার জাক লেগার্দিয়ো দে সেন্ট-পিঁয়েরের কাছে পাঠান। জাক ভদ্রভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেন।[১৩] ওয়াশিংটন এই সময়ে একটি দিনলিপি রাখতেন যা ডিনিউডির আদেশে উইলিয়াম হান্টার প্রকাশ করেন এবং এই দিনলিপি তাকে ভার্জিনিয়ার বিখ্যাত করে তুলে।[১৪] তার এই জনপ্রিয়তা তাকে কমিশন পেতে এবং তার সামরিক জীবন শুরু করতে সাহায্য করে।[১৫]

ডিনউইডি ওয়াশিংটনকে ওহাইও কাউন্টিতে প্রেরণ করে বর্তমান পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গে অবস্থিত ওহাইও কোম্পানির নির্মাণাধীন দুর্গ পাহারা দেওয়ার জন্য। তার সেখানে পৌঁছানোর পূর্বে একটি ফরাসি সেনাদল সেখানকার উপনিবেশিক বাণিজ্যকর্মীদের বিতাড়িত করে ডিউকোয়েন্স দুর্গ নির্মাণ শুরু করে। ফরাসি সৈন্যদের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ পরিচালনা করেন জোসেপ কোলোঁ দে জুমনভিয়া। তাদের খোঁজ করেন তানাচারিসন এবং বর্তমান পেনসিলভানিয়ার ইউনিয়নটাউনের কয়েকজন সৈন্য। ১৭৫৪ সালের ২৮ মে ওয়াশিংটন এবং তার কয়েকটি মিলিশিয়া ইউনিট এবং তাদের মিঙ্গো সহযোগীদের সহায়তায় ফরাসিদের অতর্কিত আক্রমণ করে, যা জুমনভিয়া গ্লেনের যুদ্ধ নামে পরিচিতি লাভ করে। যুদ্ধে বা যুদ্ধের পরে আসলে কি হয়েছিল এই বিষয় নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। কিন্তু কিছু প্রাথমিক সূত্র এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে এই যুদ্ধ ১৫ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। জুমনভিয়াকে হত্যা করা হয়েছিল এবং তার দলের লোকজনকে হয় মেরে ফেলা হয়েছিল বা বন্দী হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে জুমনভিয়া তানাচারিসনের হাতে খুন হয়েছিল, বা ওয়াশিংটনের সাথে যখন বসেছিল তখন কেউ বন্দুক দিয়ে গুলি করে হত্যা করে, নাকি অন্য কোন উপায়ে হত্যা করা হয়েছিল এই বিষয় স্পষ্ট নয়।[১৬][১৭] এই যুদ্ধের পর তানাচারিসন ওয়াশিংটনকে 'শহর ধ্বংসকারী' আখ্যা প্রদান করেন।[১৮]

ফরাসিরা এই আক্রমণের প্রতিবাদে ১৭৫৪ সালের জুলাইয়ে ফোর্ট নেসেসিটিতে আক্রমণ করে এবং ওয়াশিংটনকে বন্দী করে নিয়ে যায়।[১৯] তারা পরে তাকে ভার্জিনিয়ায় তার দলের কাছে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়। ইতিহাসবিদ জোসেফ এলিসের ভাষ্য হল এই সময় ওয়াশিংটনের সাহসিকতা, নতুন পরিকল্পনা, অনভিজ্ঞতা, এবং প্রচন্ডতা লক্ষ্য করা যায়।[২০] ভার্জিনিয়ায় ফিরে ওয়াশিংটন ক্যাপ্টেন হিসেবে তার পদ অবনতি প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার কমিশন থেকে অব্যহতি নেন।[২১] ওয়াশিংটনের ওহাইও কাউন্টিতে আক্রমণের আন্তর্জাতিক প্রভাব দেখা যায়। ফরাসিরা ওয়াশিংটনকে জুমনভিয়াকে গুপ্তহত্যার জন্য অভিযুক্ত করে। তারা জুমনভিয়াকে কূটনৈতিক মিশনের অংশ ছিল বলে দাবী করে।[২০] ফ্রান্স এবং ব্রিটেন উভয়ই এই অঞ্চলের সমন্বয় ফিরিয়ে আনতে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল এবং উভয় দেশ ১৭৫৫ সালে উত্তর আমেরিকায় সৈন্য পাঠায়। আনুষ্ঠানিকভাবে ১৭৫৬ সালে যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।[২২]

ব্রাডক অভিযান ১৭৫৫[সম্পাদনা]

মূল নিবন্ধ: ব্রাডক অভিযান

১৭৫৫ সালে ওয়াশিংটন দুর্ভাগ্যজনক ব্রাডক অভিযানে ব্রিটিশ জেনারেল এডওয়ার্ড ব্রাডকের উর্ধ্বতন মার্কিন সাহায্য প্রদানকারী হন। ইহা ছিল উপনিবেশসমূহে ব্রিতিশদের সবচেয়ে বড় অভিযান এবং এর উদ্দেশ্য ছিল ফরাসিদের ওহাইও কাউন্টি থেকে বিতাড়িত করা ও প্রথম উদ্দেশ্য ছিল ডিউকোয়েন্স দুর্গ দখল করা।[২৩] ওয়াশিংটন প্রথমে ব্রাডকের কাছ থেকে মেজর হিসেবে নিয়োগ চান, কিন্তু যখন বলা হয় যে লন্ডন থেকে না দেওয়া হলে ক্যাপ্টেনের উপর কোন পদ দেওয়া হবে না তখন তিনি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দেন। অভিযানে যাত্রাপথে ওয়াশিংটন মাথা ব্যথা এবং জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়েন। তা সত্ত্বেও তিনি যুদ্ধযাত্রা অব্যাহত রাখেন এবং যখন সৈন্যদল ধীরগতিতে চলতে থাকে তিনি ব্রাডককে সৈন্যদলকে দুইটি ভাগে বিভক্ত করতে পরামর্শ দেন। প্রাথমিক ও তুলনামূলক হালকা অস্ত্রসজ্জিত সৈন্যরা দ্রুত গতিতে চলতে পারে তাই তাদের সামনে রাখতে এবং তাদের পিছনে ভারী অস্ত্রসজ্জিত সৈন্যদের রাখতে বলেন। ব্রাডক তার পরামর্শ গ্রহণ করেন এবং সামনের ভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।[২৪][২৫]

মনঙ্গাহেলার যুদ্ধে ফরাসি এবং তাদের মিত্র ভারতীয়রা ব্রাডকের স্বল্প সৈন্যদলে গুপ্ত আক্রমণ চালায় এবং জেনারেল ব্রাডক মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। বিপর্যস্ত ও হতাহতের ঘটনার পর ব্রিটিশরা ভয়ার্ত ও ছত্রভঙ্গ হয়ে যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে আসে। ওয়াশিংটন যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যায় এবং ব্রিটিশ ও ভার্জিনীয় বিশৃঙ্খল সৈন্যদলকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। এই কাজে তিনি তার অসুস্থতা সত্ত্বেও সাহসিকতা ও শক্তির পরিচয় দেন। তার দুটি ঘোড়া গুলিবিদ্ধ হয় এবং তার মাথার টুপি ও কোটে বেশ কয়েকটি গুলি এসে লাগে। যুদ্ধে ৯৭৬ জনের ব্রিটিশ সৈন্যদলের দুই তৃতীয়াংশ মারা যায় এবং আহত হয়। ফোর্ট নেসেসিটির যুদ্ধে ওয়াশিংটনের নির্দেশনার যারা সমালোচনা করেছিলেন তারা এই যুদ্ধে তার কাজের জন্য তাকে পুনরায় বাহবা দেন।[২৬]

ভার্জিনিয়া রেজিমেন্টের কমান্ডার[সম্পাদনা]

লে. গভর্নর ডিনউইডি ১৭৫৫ সালে ওয়াশিংটনকে "ভার্জিনিয়া রেজিমেন্টের কর্নেল এবং সমস্ত বাহিনীর সর্বাধিনায়ক" হিসেবে কমিশন প্রদান করেন এবং তাকে ভার্জিনিয়ের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব প্রদান করেন। ভার্জিনিয়া রেজিমেন্ট উপনিবেশসমূহের মধ্যে প্রথম পূর্ণকালীন মার্কিন সামরিক ইউনিট ছিল, যা পার্ট টাইম মিলিশিয়া এবং ব্রিটিশ নিয়মিত ইউনিটের বিপরীত ছিল। ওয়াশিংটনকে "রক্ষনাত্মক বা আক্রমনাত্মক", যেটা তিনি ভাল মনে করেন সেভাবে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।[২৭] তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন গ্রহণ করেন, কিন্তু অফিসার পদে পদোন্নতির লাল কোট (এবং বেতন) তাকে এড়িয়ে যেতে থাকে। ব্রিটিশ সেনাদের ভার্জিনিয়া রেজিমেন্টের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ডিনউইডিও ব্যর্থ হয়েছিলেন।[২৮]

হাজার সৈন্যের নির্দেশ প্রদানে ওয়াশিংটন একজন কড়াশাসক ছিলেন এবং তিনি প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি পশ্চিমে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন; তার রেজিমেন্ট ১০ মাসে ২০টি যুদ্ধে জয়লাভ করে এবং তার এক তৃতীয়াংশ মানুষ হারায়। ওয়াশিংটনের জোরালো প্রচেষ্টায় ভার্জিনিয়ার সীমান্ত জনগণ অন্যান্য উপনিবেশ থেকে কম পীড়িত হয়। ইতিহাসবেত্তা এলিস এই প্রসঙ্গে বলেন যে এই যুদ্ধে "এটি ছিল তার একমাত্র অযোগ্য সাফল্য"।[২৯][৩০]

১৭৫৮ সালে ওয়াশিংটনে ডিউকোয়েন্স দুর্গ দখল করার জন্য ফোর্বস অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। তিনি একটি বন্ধুত্বপূর্ণ গোলা-বারুদ প্রদর্শনীতে বিব্রত হন। তার দল এবং অন্য ব্রিটিশ সৈন্যদল মনে করে তাদের ফরাসি শত্রুরা এই প্রদর্শনী সংগঠিত করেছে। এতে তারাও পাল্টা গোলা-বারুদ নিক্ষেপ করে এবং এই দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়। ওয়াশিংটন এই অভিযানের অন্য কোনও আক্রমণের সাথে জড়িত ছিলেন না। ব্রিটিশরা এতে কৌশলগত জয়লাভ করে এবং ফরাসিরা দুর্গের ত্যাগ করলে তারা ওহাইও উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ লাভ করে। অভিযানের পর তিনি ১৭৫৮ সালের ডিসেম্বরে ভার্জিনিয়া রেজিমেন্ট কমিশন থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ১৭৭৫ সালে বিপ্লব শুরু না হওয়া পর্যন্ত তিনি সামরিক জীবনে ফিরে আসেননি।[৩১]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Contemporaneous records used the Julian calendar and the Annunciation Style of enumerating years, recording his birth as February 11, 1731. The provisions of the British Calendar (New Style) Act 1750, implemented in 1752, altered the official British dating method to the Gregorian calendar with the start of the year on January 1 (it had been March 25). These changes resulted in dates being moved forward 11 days, and an advance of one year for those between January 1 and March 25. For a further explanation, see Old Style and New Style dates.
  2. সাত বছরের যুদ্ধ নামেও পরিচিত

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন"দৈনিক সমকাল। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। আসল থেকে ২১ জানুয়ারি, ২০১৭-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ২১ জানুয়ারি, ২০১৭ 
  2. Grizzard 2002, পৃ. 105–07
  3. Unger 2013, পৃ. 18
  4. Chernow 2010
  5. Unger 2013, পৃ. 236
  6. O'Brien 2009, পৃ. 19
  7. University of Virginia 2008
  8. Alden 1993, পৃ. 3–4
  9. Dorothy Twohig in Hofstra 1998
  10. Alden 1993, পৃ. 4–5, 73
  11. Chernow 2010, পৃ. 10–14
  12. Freeman 1948, পৃ. 1:274–327.
  13. Lengel 2005, পৃ. 23–24
  14. Washington ও Dinwiddie 1865
  15. Grizzard 2002
  16. Lengel 2005, পৃ. 31–38
  17. Anderson 2000, পৃ. 53–58
  18. Misencik 2014, পৃ. 131
  19. Grizzard 2002, পৃ. 115–19
  20. Ellis 2004, পৃ. 17–18
  21. Ferling 2009, পৃ. 25–27
  22. Anderson 2005, পৃ. 100–01
  23. Alden 1993, পৃ. 35–36
  24. Alden 1993, পৃ. 37
  25. Ferling 2010, পৃ. 35–36
  26. Ferling 2009, পৃ. 28–30
  27. Flexner 1965, পৃ. 138
  28. Alden 1993, পৃ. 47, 54
  29. Fischer 2004, পৃ. 15–16
  30. Ellis 2004, পৃ. 38
  31. Lengel 2005, পৃ. 75–76, 81

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]