কথাসাহিত্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

কথাসাহিত্য বলতে সেসব গল্প-কাহিনীকে বোঝানো হয় যেগুলোর আছে সাহিত্যিক মূল্য, যেমন সামাজিক ভাষ্য, রাজনৈতিক সমালোচনা বা মানুষের অবস্থা ইত্যাদি। কথাসাহিত্য লেখায় সংলাপ ব্যবহার করা হয় এবং উপরোক্ত লক্ষ্যানুসারে তা প্লটের চেয়ে থিমের ওপর বেশি জোর দেয়। স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে কথাসাহিত্যের পাঠদান করা সাধারণ ব্যাপার।

কথাসাহিত্যের বিপরীত ভাবা হয় জনপ্রিয়, বাণিজ্যিক বা বর্গনির্দিষ্ট কাহিনীকে। কেউ কেউ এদের পার্থক্য করেছেন এভাবে- একটি বাস্তবতাকে বিশ্লেষণ করে (কথাসাহিত্য), অন্যটি বাস্তবতা থেকে পলায়ন করে (জনপ্রিয়)। কাহিনীর এই দুটি উপাংশের পার্থক্য নিয়ে সমালোচক ও পণ্ডিতগণ অনেক বিতর্ক করেছেন।

সাংস্কৃতিক পার্থক্য[সম্পাদনা]

নীল স্টিফেনসন বলেছেন যে, যখন দেখা যাচ্ছে সব সংজ্ঞাই সরল হয়ে যাচ্ছে, তখন কথাসাহিত্য ও বর্গসাহিত্যের সাধারণ সংস্কৃতিতেই ব্যবধান লক্ষণীয়। একদিকে, আজকাল কথাসাহিত্যিকরা পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাচ্ছেন, এবং এরকম অবস্থানে থাকায় তাদের বইগুলোর কাটতির কথা না ভেবে বরং সমালোচকদের কাছে সেটা সমাদর পাচ্ছে কিনা তা দেখছেন। অন্যদিকে বর্গসাহিত্য লেখকগণের প্রবণতা হলো বই বিক্রির সংখ্যা দিয়ে নিজেদের বিচার করা।[১]

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

কথাসাহিত্য সম্মিলিত নিয়মবদ্ধ কোনো বর্গ নয়, তবে কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য দেখে একে সংজ্ঞায়িত করা যায়।[২]

চরিত্রায়ণ[সম্পাদনা]

কথাসাহিত্যে সাধারণত "ইন্টারেস্টিং, জটিল এবং উন্নত" চরিত্রগুলোর "অন্তর্মুখী, বিস্তারিত বিশ্লেষণের" দিকে নজর দেয়।[২][৩] কাহিনীকে প্রাধান্য দেয়া বর্গসাহিত্য এর বিপরীত।[৪] স্বভাবতই কথাসাহিত্য লোকদের "ভেতরের গল্পের" উপর জোর দেয় যারা কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে চলে এবং আবেগিকভাবে পাঠককেও এতে জড়িয়ে নেয়।[৫][৬]

শৈলী[সম্পাদনা]

কথাসাহিত্যের শৈলীকে সাধারণত বলা হয় "মার্জিতভাবে লেখা, গীতধর্মী, এবং ... স্তরে স্তরে সাজানো"।[৭] কথাসাহিত্যের স্বর বর্গসাহিত্যের থেকেও বেশি গাঢ় হতে হতে পারে।[৮]

জনপ্রিয় সাহিত্যের থেকে কথাসাহিত্যে গতি কম।[৮] টেরেন্স রাফার্টি লিখেছেন, "কথাসাহিত্য, অঃর প্রকৃতি অনুসারেই, নিজে বেপথু হবার ঝুঁকি নিয়েও পদভ্রষ্ট সৌন্দর্যের জন্য নিজেকে দেরি করতে দেয়, যেন গড়িমসি করে।"[৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Slashdot Interview from October 20, 2004 with Neal Stephenson
  2. Saricks 2009, পৃ. 180।
  3. Coles 2009, পৃ. 7।
  4. Saricks 2009, পৃ. 181-182।
  5. Coles 2007, পৃ. 26।
  6. Coles 2009, পৃ. 8।
  7. Saricks 2009, পৃ. 179।
  8. Saricks 2009, পৃ. 182।
  9. Rafferty 2011

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

  • Castle, Mort (২০০৬)। On Writing Horror: A Handbook by the Horror Writers of America (2nd সংস্করণ)। Writer's Digest Books। পৃষ্ঠা 260। 
  • Coles, William (২০০৭)। Story in Literary Fiction: A Manual for Writers। AuthorHouse। পৃষ্ঠা 112। 
  • Coles, William (২০০৯)। Literary Story As an Art Form: A Text for Writers। AuthorHouse। পৃষ্ঠা 136। 
  • Delany, Samuel (২০০৯)। Freedman, Carl, সম্পাদক। Conversations With Samuel R. Delany। Literary Conversations Series। University Press of Mississippi। পৃষ্ঠা 214। 
  • Grossman, Lev (মে ২৮, ২০০৬)। "Old Master in a Brave New World"Time। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ২৬, ২০১২  Subscription required. So in effect a dead link
  • Rafferty, Terrence (ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১১)। "Reluctant Seer"New York Times Sunday Book Review। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ২৩, ২০১২ 
  • Saricks, Joyce (২০০৯)। The Readers' Advisory Guide to Genre Fiction (2nd সংস্করণ)। ALA Editions। পৃষ্ঠা 402। 
  • Saricks, Joyce (২০০৫)। Readers' Advisory Service In The Public Library (3rd সংস্করণ)। ALA Editions। পৃষ্ঠা 211।