মমতাজউদ্দীন আহমেদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মমতাজউদদীন অাহমদ
মমতাজউদ্দীন আহমেদ
মমতাজউদ্দীন আহমেদ, অক্টোবর ২১, ২০০৬ এ আর্বানার টেগোর ফেস্টিভালে তোলা ছবি]]
জন্ম১৮ জানুয়ারি, ১৯৩৫
অাইহো, হবিবপুর থানা, মালদহ জেলা, বৃটিশ ভারত
জাতীয়তাবাংলাদেশী
পেশানাট্যকারঅভিনেতা
পিতা-মাতা
  • কলিমুদ্দিন অাহম্মদ (পিতা)
  • সখিনা বেগম (মাতা)

মমতাজউদ্দীন আহমেদ (জন্ম ১৯৩৪) একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার, অভিনেতা ও ভাষাসৈনিক। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের পথিকৃত। এক অঙ্কের নাটক লেখায় বিশেষ পারদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ১৯৯৭ সালে নাট্যকার হিসেবে একুশে পদকে ভুষিত হন।[১]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

মমতাজউদ্দীনের জন্ম মালদহে, যা বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অন্তর্গত। দেশ বিভাগের পর তাঁর পরিবার তদানিন্তন পূর্ববঙ্গে চলে আসে। তিনি ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি জম্মগ্রহণ করেন। মাতার নাম সখিনা বেগম এবং পিতার নাম মরহুম কলিমুদ্দিন অাহম্মদ।

শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

মমতাজউদদীন অাহমদ অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তিনি মালদহ অাইহো জুনিয়র স্কুলে চতুর্থ শ্রেণী পর্যস্ত লেখাপড়া করেন। ১৯৫১ সালে ভোলাহাট রামেশ্বর পাইলট মডেল ইনস্টিটিউশন থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তিতে রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় বি.এ (অনার্স) ও এম.এ ডিগ্রী লাভ করেন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

তিনি একধারে কলামিষ্ট, উপন্যাসহ নাটক রচয়তা ও অভিনেতা। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের খন্ডকালীন অধ্যাপক ছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের নাট্যকলা ও সংগীতে বিভাগের খন্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সরকারী কলেজে ৩২ বছর বাংলা ভাষা সাহিত্য এবং বাংলা ও ইউরোপীয় নাট্য বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি ১৯৭৬-৭৮ সাল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে একজন উচ্চতম বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৭-৮০ তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন। ভারত এর দিল্লী, জয়পুর এবং কোলকাতায় তিনি নাট্যদলের নেতা হিসাবে ভ্রমণ ও নাট্য মঞ্চায়ন করেন। তাঁর লিখা নাটক কি চাহ শঙ্খ চিল এবং রাজা অনুস্বরেরর পালা রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এ পাঠ্য তালিকাভুক্ত। তিনি অালো", "যুগান্তর", "কালের কন্ঠ" ইত্যাদি বিভিন্ন দৈনিকের কলামিস্ট হিসাবে নিয়মিত লিখে চলেছেন।

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

অবিভক্ত বাংলার মালদহ জেলায় জন্মগ্রহণ করলেও ভোলাহাট উপজেলা র অালো বাতাসে বেড়ে উটেন প্রফেসর মমতাজউদদীন অাহমদ। ছাত্র অবস্থায় তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। তিনি ছাত্র ইউনিয়ন রাজনীতি করতেন। রাজশাহীর তুখড় ছাত্রনেতা গোলাম অারিফ টিপুর সান্নিধ্যে ছাত্র রাজনীতিতে ৫২`র ভাষা অান্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। ১৯৫৪ সালে মমতাজউদদীন অাহমদ ৪০ জন ছাত্রননেতার কারা বরণ করেন। রাজনীতি করার কারনে তিনি ১৯৫৪, ১৯৫৫ ও ১৯৫৭ সালে গ্রেফতার হন। ১৯৫৮ সালে পূনরায় তাকে পুলিশ তাঁর ভোলাহট উপজেলাস্থ গ্রামের বাড়ি কানারহাট থেকে ধরে নিয়ে যায়। পাক অামলে তিনি ভোলাহাট উপজেলার’র প্রথম রাজবন্দী।

বাংলাদেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাতই রাজশাহী কলেজ এর নিউ মুসলিম হোস্টলের মেইন গেটে। শহীদ মিনারটিশহীদ মিনার নির্মাণ করেন মমতাজউদদীন অাহমদ(তৎকালীন ছাত্র) ঐ সময় এক ঠিকাদারেরর কাজ চলছিল। তিনি ঐ ঠিকাদারেরর শ্রমিকদের নিয়ে রাতারাতি ঐ শহীদ মিনার শহীদ মিনার নির্মাণ করেন।[২] যা ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালের সকাল ৭টায় উদ্বোধন করা হয়।

অবদান[সম্পাদনা]

গবেষণা ও প্রবন্ধ[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত
  2. বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত
  3. প্রসঙ্গ বাংলাদেশ
  4. প্রসঙ্গ বঙ্গবন্ধু

নাটক[সম্পাদনা]

  1. নাট্যত্রয়ী
  2. হৃদয় ঘটিত ব্যাপার স্যাপার
  3. স্বাধীনতা অামার স্বাধীনতা

(১৯৭১)

  1. কি চাহ শঙ্খ চিল

(১৯৮৫)

  1. প্রেম বিবাহ সুটকেশ
  2. জমিদার দর্পণ
  3. রাজা অনুস্বরের পালা
  4. ক্ষত বিক্ষত
  5. রঙ্গপঞ্চাদশ
  6. বকুল পুরের স্বাধীনতা
  7. সাত ঘাটের কানাকড়ি
  8. রাক্ষসী[৩]

গদ্য রচনাসমগ্র[সম্পাদনা]

  1. চার্লি চ্যাপেলিন-ভাঁড় নয় ভব ঘুরে নয়
  2. অামার ভিতরে অামি
  3. জগতের যত মহাকাব্য
  4. হৃদয় ছু অাছে
  5. লাল সালু ও সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ
  6. মহানামা কাব্যের গদ্যরূপ
  7. সাহসী অথচ সাহস্য
  8. নেকাবী এবং অন্যগণ
  9. জন্তুর ভিতর মানুষ
  10. ভালবাসিলেই
  11. সজল তোমর ঠিকানা( উপন্যাস)
  12. এক যে জোড়া,এক যে মধুমতি (উপনাস্য)
  13. অন্ধকার নয় অালোর দিকে

সম্মাননা ও পুরস্কার[সম্পাদনা]

শিল্প ও সাহিত্যে অনন্য অবদান রাখার জন্য তিনি পেয়েছেন জাতীয় ও অাঞ্চলিক পর্যায়ে বহু পুরষ্কার।

  1. বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার
  2. শিশু একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার
  3. বাচসাস চলচিত্র,টেলিভিশনটেলিভিশন ও চিত্র নাট্য পুরস্কার
  4. মাহবুবউল্লাহ জিবুন্নেসা ট্রাস্ট স্বর্ণ পদক
  5. অালাউল সাহিত্য পুরস্কার
  6. সিকোয়েন্স অভিনয় ও নাট্য রচনা পুরস্কার
  7. বঙ্গবন্ধুবঙ্গবন্ধু সাহিত্য পুরস্কার
  8. একুশে পদক

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, মাধ্যমিক বংলা সাহিত্য পৃষ্ঠা-১২০
  2. বরেন্দ্র অঞ্চলেরর ইতিহাস "বরেন্দ্র অঞ্চলের ভাষা অান্দোলন ভাষা অান্দোলন",এ্যাডভোকেট সৈয়দ অামির হোসেন-এর স্মৃতি চারণ-পৃষ্ঠা-৬০০
  3. ভোলাহটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য,মোহাম্মদ সালাউদ্দিন,পৃষ্ঠা -২৩২