প্রথম শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
প্রথম শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ
প্রথম শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ
First Shaheed Minar 1952.jpg
প্রথম শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ যেটি ১৯৫২ সালের তৈরি করা হয়েছিল কিন্তু পাকিস্তান পুলিশ ও আর্মি সেটা ভেঙে ফেলে।
সাধারণ তথ্য
অবস্থা সম্পূর্ণ
ধরন স্তম্ভ
স্থাপত্য রীতি আধুনিক
অবস্থান রাজশাহী, বাংলাদেশ
ঠিকানা রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাস
স্থানাঙ্ক ২৪°২১′৫৭″ উত্তর ৮৮°৩৫′৩৯″ পূর্ব / ২৪.৩৬৫৯০৭° উত্তর ৮৮.৫৯৪০৬৪° পূর্ব / 24.365907; 88.594064
নির্মাণ শুরু হয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
সম্পূর্ণ ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
সংস্কারণ করা হয় ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০০৯
স্বত্বাধিকারী রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন
কারিগরী বিবরণ
পদার্থ ইট, কাঁদামাটি, বাঁশ
যে কারণে পরিচিত বাংলাদেশের প্রথম শহীদ মিনার

প্রথম শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ বা প্রথম শহীদ মিনার ঢাকায় মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদদের স্মৃতি রক্ষার জন্য নির্মিত প্রথম স্মৃতি স্তম্ভ।[১] ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজশাহী কলেজ মুসলিম হোস্টেলের এফ ব্লকের সামনে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভটি ২২ ফেব্রুয়ারি পুলিশ প্রশাসন দ্বারা ভেঙে ফেলা হয়।[২]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজশাহী কলেজের মুসলিম হোস্টেলের একটি কক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভা থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে শহীদদের স্মরণে হোস্টেল প্রাঙ্গণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হবে। বৈঠকে রাজশাহী মেডিক্যাল স্কুলের এস.এম.এ গাফ্ফারকে সভাপতি এবং রাজশাহী কলেজের হাবিবুর রহমান ও গোলাম আরিফ টিপুকে যুগ্ম-সম্পাদক করে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।[৩] পরিষদের সিদ্ধান্তে ওই রাতেই ছাত্ররা রাজশাহী কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গনে ইট, কাঁদামাটি ও বাঁশ দিয়ে ‘শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ তৈরী করে। রাজশাহী কলেজ হোস্টেলের জনাদশেকের সঙ্গে আরও জনাদশেক মিলে রাত সাড়ে ৯টায় শুরু হলো শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজ। অদক্ষ হাতে রাত ১২টায় নির্মাণ হলো দেশের প্রথম শহীদ মিনার। এর গায়ে লেখা হলো 'শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ'। পরদিন ২২ ফেব্রয়ারি সকালে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে ওই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অবশ্য কয়েক ঘণ্টা পরই তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের পুলিশ সেটি ভেঙ্গে দেয়।[৪]

পুনঃনির্মান[সম্পাদনা]

রাজশাহী কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে মুসলিম হোস্টেলের গেটের কাছে ২০০৯ সালে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির সেই স্থানটিতে একটি ফলক নির্মাণ করা হয়। ফলকটি উন্মোচন করেন তৎকালীন মেয়র এবং জাতীয় নেতা এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান হেনার ছেলে এ. এইচ. এম. খায়রুজ্জামান লিটন। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এর উদ্যগে এই স্থানটিতে ৫০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ২০১৫ সালে।[৫]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. হাবিব, সৌরভ (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬)। "রাজশাহীতেই হয়েছিল প্রথম শহীদ মিনার"দৈনিক সমকাল (১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা ঢাকা - ১২০৮)। সংগৃহীত ২০১৬-০৪-২৪ 
  2. "রাজশাহীতে নির্মিত দেশের প্রথম শহীদ মিনারের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি"মানবজমিন (জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫: মিডিয়া প্রিন্টার্স)। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪। সংগৃহীত ২০১৬-০৪-২৪ 
  3. "রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি রাজশাহীতে নির্মিত দেশের প্রথম শহীদ মিনারের"ভোরের কাগজ (মালিবাগ, ঢাকা: মিডিয়াসিন লি:)। রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬। সংগৃহীত ২০১৬-০৪-২৪ 
  4. ইসলাম, উদিসা (ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৬)। "প্রথম শহীদ মিনার ঢাকায় নাকি রাজশাহীতে!"বাংলা ট্রিবিউন (এফ আর টাওয়ার, ৮/সি পান্থপথ, শুক্রাবাদ, ঢাকা-১২০৭)। সংগৃহীত ২০১৬-০৪-২৪ 
  5. "অবশেষে রাজশাহীতে নির্মিত হচ্ছে স্থায়ী শহীদ মিনার"মানবকণ্ঠ (রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২: মানবকণ্ঠ)। Sunday, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫। সংগৃহীত ২০১৬-০৪-২৪