বিষয়বস্তুতে চলুন

উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফ্ট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফ্ট
প্রতিকৃতি, আনু.1908
২৭তম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি
কাজের মেয়াদ
৪ মার্চ, ১৯০৯  ৪ মার্চ, ১৯১৩
উপরাষ্ট্রপতি
জেমস এস. শেরম্যান

(১৯০৯–১৯১২) কোনো নয় (১৯১২–১৯১৩)[]

পূর্বসূরীথিওডোর রুজভেল্ট
উত্তরসূরীউড্রো উইলসন
১০ম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি
কাজের মেয়াদ
১১ জুলাই, ১৯২১  ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০
মনোনয়নকারীওয়ারেন জি. হার্ডিং
পূর্বসূরীএডওয়ার্ড ডগলাস হোয়াইট
উত্তরসূরীচার্লস ইভান্স হিউজ
৪২তম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ সচিব
কাজের মেয়াদ
১ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৪  ৩০ জুন, ১৯০৮
রাষ্ট্রপতিথিওডোর রুজভেল্ট
পূর্বসূরীএলিহু রুট
উত্তরসূরীলুক এডওয়ার্ড রাইট
১ম কিউবার অস্থায়ী গভর্নর
কাজের মেয়াদ
২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯০৬  ১৩ অক্টোবর, ১৯০৬
নিয়োগদাতাথিওডোর রুজভেল্ট
পূর্বসূরীটমাস এস্ত্রাদা পালমা (রাষ্ট্রপতি হিসেবে)
উত্তরসূরীচার্লস এডওয়ার্ড ম্যাগুন
ফিলিপাইনের গভর্নর-জেনারেল
কাজের মেয়াদ
১৬ মার্চ, ১৯০০  ২৩ ডিসেম্বর, ১৯০৩
নিয়োগদাতাউইলিয়াম ম্যাককিনলে
পূর্বসূরীজ্যাকব গোল্ড শুরম্যান (প্রথম ফিলিপাইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে)
উত্তরসূরীলুক এডওয়ার্ড রাইট
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ সার্কিটের আপিল আদালতের বিচারক
কাজের মেয়াদ
১৭ মার্চ, ১৮৯২  ১৫ মার্চ, ১৯০০
নিয়োগদাতাবেনজামিন হ্যারিসন
পূর্বসূরীআসন প্রতিষ্ঠিত
উত্তরসূরীহেনরি ফ্রাঙ্কলিন সেভেরেন্স
৬ষ্ঠ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সলিসিটর জেনারেল
কাজের মেয়াদ
৪ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯০  ২০ মার্চ, ১৮৯২[]
রাষ্ট্রপতিবেনজামিন হ্যারিসন
পূর্বসূরীঅর্লো ডব্লিউ. চ্যাপম্যান
উত্তরসূরীচার্লস এইচ. অ্যালড্রিচ
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম(১৮৫৭-০৯-১৫)১৫ সেপ্টেম্বর ১৮৫৭
সিনসিনাটি, ওহাইও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
মৃত্যু৮ মার্চ ১৯৩০(1930-03-08) (বয়স ৭২)
ওয়াশিংটন, ডি.সি., মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
সমাধিস্থলআর্লিংটন জাতীয় কবরস্থান
রাজনৈতিক দলরিপাবলিকান
দাম্পত্য সঙ্গীহেলেন হেরন (বি. ১৮৮৬)
সন্তান
পিতামাতা
আত্মীয়স্বজনটাফ্ট পরিবার
শিক্ষা
পেশা
  • রাজনীতিবিদ
  • আইনজীবী
স্বাক্ষরCursive signature in ink

উইলিয়াম হাওয়ার্ড টাফট (১৫ সেপ্টেম্বর, ১৮৫৭ – ৮ মার্চ, ১৯৩০) আমেরিকার ২৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১৯০৯ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯২১ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত দেশটির ১০ম প্রধান বিচারপতি হন। আমেরিকার ইতিহাসে তিনিই একমাত্র মানুষ যিনি এই দুটো শীর্ষ পদেই কাজ করেছেন।

টাফটের জন্ম ওহাইওর সিনসিনাটিতে। তাঁর বাবা আলফোনসো টাফট একসময় আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল আর যুদ্ধ সচিব (সেক্রেটারি অব ওয়ার) ছিলেন। টাফট ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে পড়েন আর গোপন সংগঠন 'স্কাল অ্যান্ড বোনস'-এ ভর্তি হন – এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন তাঁর বাবা। আইনজীবী হওয়ার পর বিশ বছর বয়সেই তিনি জজ নিযুক্ত হন। এরপর তাঁর উত্থান দ্রুতই ঘটতে থাকে – সলিসিটর জেনারেল আর ষষ্ঠ সার্কিট কোর্টের বিচারক হন। ১৯০১ সালে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ম্যাককিনলি তাঁকে ফিলিপাইনের গভর্নর বানান। ১৯০৪ সালে প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট তাঁকে যুদ্ধ সচিবের পদ দেন আর নিজের উত্তরসূরি হিসেবেই গড়ে তুলতে থাকেন। নিজে প্রধান বিচারপতি হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও টাফট বারবার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তাঁর মনে হতো রাজনৈতিক কাজেই তাঁর বেশি দরকার।

রুজভেল্টের সহায়তায় ১৯০৮ সালে রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে টাফটের খুব একটা বাধার মুখে পড়তে হয়নি। সেই বছরের নভেম্বরের নির্বাচনে উইলিয়াম জেনিংস ব্রায়ানকে তিনি সহজেই হারিয়ে প্রেসিডেন্ট হন। প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তিনি ইউরোপের চেয়ে পূর্ব এশিয়ার দিকে বেশি নজর দিতেন। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে সরকার ঠিক রাখা বা উৎখাতের জন্য তিনি ঘনঘন হস্তক্ষেপ করতেন। টাফট বাণিজ্য শুল্ক কমাতে চাইতেন, যা তখন সরকারের আয়ের বড় উৎস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুল্ক-বিলটা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীদের চাপে খুব বেশি প্রভাবিত হয়ে যায়। তাঁর শাসনামলে রিপাবলিকান পার্টির রক্ষণশীল শাখা (যাদের টাফটের দিকেই সাধারণত ঝোঁক ছিল) আর প্রগতিশীল শাখার (যার দিকে রুজভেল্ট দিন দিন ঝুঁকছিলেন) মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে বিতর্ক আর টাফট সরকারের করা একচেটিয়া ব্যবসা-বিরোধী মামলাগুলো দুই নেতার মধ্যকার দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। ১৯১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন তিনজনের রেসে পরিণত হয়, কারণ রুজভেল্ট টাফটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। দলের ভেতরে নিজের নিয়ন্ত্রণ কাজে লাগিয়ে টাফট প্রতিনিধিদের ভোটে খুব অল্পতেই জিতে যান। এরপর রুজভেল্ট দল ছেড়ে বেরিয়ে যান। দল ভেঙে যাওয়ায় টাফটের পুনরায় জেতার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যায়। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী উড্রো উইলসনের কাছে তিনি শুধু ইউটাহ আর ভারমন্ট – এই দুটি রাজ্য জিততে পেরেছিলেন।

প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব শেষে টাফট ইয়েলে অধ্যাপক হিসেবে ফিরে যান। সেখানে তিনি রাজনীতি নিয়েও সক্রিয় থাকেন আর 'শান্তি প্রতিষ্ঠার লীগে' কাজ করে যুদ্ধের বিরোধিতা করতে থাকেন। ১৯২১ সালে প্রেসিডেন্ট ওয়ারেন জি. হার্ডিং তাঁকে প্রধান বিচারপতি বানান – এই পদটির জন্য তিনি বহুদিন ধরেই মন ছটফট করছিলেন। প্রধান বিচারপতি হিসেবে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপারে টাফট রক্ষণশীল মনোভাব রাখলেও, তাঁর সময়ে ব্যক্তিস্বাধীনতার ক্ষেত্রে বেশ উন্নতি হয়। স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায় ১৯৩০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পদ ছাড়েন আর পরের মাসেই মারা যান। তাঁকে আরলিংটন ন্যাশনাল সেমেটারিতে সমাধিস্থ করা হয়। এই সমাধিক্ষেত্রে সমাহিত হওয়া তিনিই প্রথম প্রেসিডেন্ট এবং প্রথম সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। ইতিহাসবিদদের আমেরিকার প্রেসিডেন্টদের তালিকায় টাফট সাধারণত মাঝামাঝি স্থানেই থাকেন।

  1. উপরাষ্ট্রপতি শেরম্যান কার্যকালে মারা যান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পঁচিশতম সংশোধনী ১৯৬৭ সালে গৃহীত হওয়ার আগে, উপরাষ্ট্রপতির পদ শূন্য থাকলে তা পরবর্তী নির্বাচন ও অভিষেক পর্যন্ত পূরণ করা হতো না।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. জোস্ট, কেনেথ (১৯৯৩)। The Supreme Court A to Z। CQ Press। পৃ. ৪২৮। আইএসবিএন ৯৭৮১৬০৮৭১৭৪৪৬। ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি, ২০১৯ {{বই উদ্ধৃতি}}: |সংগ্রহের-তারিখ= এবং |আর্কাইভের-তারিখ= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)