বিষয়বস্তুতে চলুন

উড্রো উইলসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
উড্রো উইলসন
Woodrow Wilson
Wilson in 1919
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৮তম রাষ্ট্রপতি
কাজের মেয়াদ
৪ মার্চ ১৯১৩  ৪ মার্চ ১৯২১
উপরাষ্ট্রপতিথমাস আর. মার্শাল
পূর্বসূরীউইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফ্ট
উত্তরসূরীওয়ারেন জি. হার্ডিং
নিউ জার্সির ৩৪তম গভর্নর
কাজের মেয়াদ
১৭ জানুয়ারি ১৯১১  ১ মার্চ ১৯১৩
পূর্বসূরীজন ফ্র্যাংকলিন ফোর্ট
উত্তরসূরীজেমস ফেয়ারম্যান ফিল্ডার (ভারপ্রাপ্ত)
প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম প্রেসিডেন্ট
কাজের মেয়াদ
২৫ অক্টোবর ১৯০২  ২১ অক্টোবর ১৯১০
পূর্বসূরীফ্রান্সিস প্যাটন
উত্তরসূরীজন অ্যাইকম্যান স্টুয়ার্ট (ভারপ্রাপ্ত)
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্মThomas Woodrow Wilson
(১৮৫৬-১২-২৮)২৮ ডিসেম্বর ১৮৫৬[]
স্টাউনটন ভার্জিনিয়া,  যুক্তরাষ্ট্র
মৃত্যু৩ ফেব্রুয়ারি ১৯২৪(1924-02-03) (বয়স ৬৭).[]
ওয়াশিংটন, ডি.সি.,  যুক্তরাষ্ট্র
সমাধিস্থলওয়াশিংটন ন্যাশনাল ক্যাথিড্রাল
রাজনৈতিক দলডেমোক্র্যাটিক
দাম্পত্য সঙ্গীএলেন এক্সন উইলসন (বি. ১৮৮৫; মৃ. ১৯১৪)
এডিথ উইলসন (বি. ১৯১৫)
সন্তানমার্গারেট উড্রো উইলসন
জেসি উড্রো উইলসন সায়র
এলানর উইলসন ম্যাকঅ্যাডু
আত্মীয়স্বজনজোসেফ রুজগ্লিশ উইলসন (পিতা) জেনেট উড্রো (মাতা)
শিক্ষাDavidson College
প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় (AB)
University of Virginia
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় (MA, PhD)
পুরস্কারনোবেল শান্তি পুরস্কার
স্বাক্ষর
প্রসপেক্ট হাউস, প্রিন্সটনের ক্যাম্পাসে উইলসনের বাড়ি

থমাস উড্রো উইলসন (২৮ ডিসেম্বর, ১৮৫৬ – ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৪) আমেরিকার ২৮তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯১৩ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময়টাকে বলা হয় 'প্রগ্রেসিভ এরা' – যখন প্রেসিডেন্ট পদ থেকে শুরু করে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদেরই দাপট ছিল। সেই যুগে তিনিই একমাত্র ডেমোক্র্যাট যিনি প্রেসিডেন্ট হতে পেরেছিলেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশের অর্থনৈতিক নীতিতে বড় রকমের বদল আনেন আর আমেরিকাকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে টেনে নিয়ে যান। আন্তর্জাতিক সংস্থা 'লিগ অফ নেশনস'-এর মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তিনিই। তাঁর বৈদেশিক নীতির ধারাটাই পরে 'উইলসোনিয়ানিজম' নামে পরিচিতি পায়।

উইলসনের জন্ম ভার্জিনিয়ার স্টন্টনে। আমেরিকার গৃহযুদ্ধ আর রিকনস্ট্রাকশনের সময়কালে দক্ষিণের রাজ্যেই তাঁর বেড়ে ওঠা। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস আর রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি করার পর, তিনি বেশ কয়েকটা কলেজে পড়ান। এরপর প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট হন। সেখানে উচ্চশিক্ষায় আধুনিক ধারার প্রবক্তা হিসেবে নাম কামান। ১৯১১ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত নিউ জার্সির গভর্নর ছিলেন। এই সময় দলের ভেতরের কর্তাদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করেই বেশ কয়েকটা আধুনিক সংস্কার চালু করেন।

১৯১২ সালের নির্বাচনে উইলসন তখনকার প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফ্ট আর তৃতীয় প্রার্থী থিওডোর রুজভেল্টকে কুপোকাত করে প্রেসিডেন্ট হন। ১৮৪৮ সালের পর তিনিই প্রথম দক্ষিণাঞ্চলের লোক যিনি প্রেসিডেন্ট হলেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রথম বছরেই ফেডারেল দপ্তরগুলোতে সাদা-কালো আলাদা করার (বর্ণবৈষম্য) হুকুম জারি করেন। আর নারীদের ভোটাধিকারের বিরোধিতা করায় ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়েন। তাঁর প্রথম মেয়াদ কাটে নিজের 'নিউ ফ্রিডম' নামের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টায়। তখনকার সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল ১৯১৩ সালের ট্যাক্স আইন (যা দিয়ে আয়কর ব্যবস্থা চালু হয়) আর ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম তৈরি করা। ১৯১৪ সালে বিশ্বযুদ্ধ বাঁধলে আমেরিকা নিরপেক্ষ থাকে। উইলসন মিত্রশক্তি আর জার্মানির মাঝে শান্তি আলোচনা চালানোর চেষ্টা করছিলেন।

১৯১৬ সালে আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন উইলসন। এবার রিপাবলিকান চার্লস ইভান্স হিউজেসকে খুব কম ভোটে হারান। কিন্তু ১৯১৭ সালের এপ্রিলে জার্মান সাবমেরিনগুলো যখন আমেরিকান বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবোতে শুরু করল (সীমাহীন ডুবোজাহাজ হামলা), উইলসন কংগ্রেসকে জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার আবেদন জানান। এরপর তিনি কূটনীতিতে জোর দিয়ে 'চৌদ্দ দফা' ঘোষণা করেন – যুদ্ধের পর শান্তি স্থাপনের ভিত্তি হিসেবে সব পক্ষই এটা মেনে নেয়। ১৯১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে তিনি নিজের নীতির পক্ষে গণভোট বানাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু উল্টো রিপাবলিকানরা কংগ্রেস দখল করে নেয়। নভেম্বর ১৯১৮-এ মিত্রশক্তির জয় হলে উইলসন প্যারিস শান্তি সম্মেলনে যান। তাঁর সবচেয়ে কাছের উপদেষ্টা কর্নেল এডওয়ার্ড হাউসকে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে উইলসন জোরেশোরে 'লিগ অফ নেশনস' গঠনের পক্ষে কথা বলেন। এই সংস্থাটা ভার্সাই চুক্তির অংশ হয়ে যায় আর উইলসন সেটাতে সই করেন। কিন্তু দেশে ফিরে রিপাবলিকানরা যে আপস প্রস্তাব দেয় (যাতে সিনেট চুক্তি মেনে নিয়ে লিগে যোগ দিতে পারে), তিনি সেটা ফিরিয়ে দেন।

উইলসন তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু ১৯১৯ সালের অক্টোবরে একটা ভয়ানক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি সবকিছু থেকে ছিটকে পড়েন। তাঁর স্ত্রী আর ডাক্তার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন, কোন বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এদিকে জার্মান আর আইরিশ বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাটরা তাঁর উপর চটে যায়। ফলে ১৯২০ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জয়লাভ করে। ১৯২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান উইলসন, বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। একবিংশ শতাব্দীতেও ঐতিহাসিকেরা তাঁকে বর্ণবৈষম্য সমর্থনের জন্য কাঁচকলা দেখান। তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর সাফল্যের কারণে তাঁকে এখনও 'গড়পড়তা'র চেয়ে ভালো প্রেসিডেন্টই মনে করা হয়। রক্ষণশীলরা তাঁর উপর চটেছেন মূলত সরকারের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য। অন্যদিকে, অনেকেই তাঁকে বড় কোম্পানির ক্ষমতা কমানোর আর আধুনিক উদারনীতিবাদের পথিকৃৎ হিসেবে সম্মান দেন।

একজন রাজনীতিকের বাইরেও তিনি একজন গবেষক হিসেবেও কর্মময় জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং তাকে লোক প্রশাসন বিষয়ের অন্যতম প্রবক্তা বলে গণ্য করা হয়।


তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Heckscher (1991), p. 4
  2. Berg (2013), pp. 735–738