অমর সিং (ক্রিকেটার)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
অমর সিং লধা
অমর সিং.jpg
আনুমানিক ১৯৪০ সালের গৃহীত স্থিরচিত্রে অমর সিং
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামলধাভাই নকুম অমর সিং
জন্ম(১৯১০-১২-০৪)৪ ডিসেম্বর ১৯১০
রাজকোট, গুজরাত, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু২১ মে ১৯৪০(1940-05-21) (বয়স ২৯)
জামনগর, গুজরাট, ভারত
ডাকনামলধা
উচ্চতা৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৮৮ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
সম্পর্কলধা রামজী (ভ্রাতা)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ )
২৫ জুন ১৯৩২ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১৫ আগস্ট ১৯৩৬ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৯২
রানের সংখ্যা ২৯২ ৩,৩৪৪
ব্যাটিং গড় ২২.৪৬ ২৪.২৩
১০০/৫০ ০/১ ৫/১৮
সর্বোচ্চ রান ৫১ ১৪০*
বল করেছে ২,১৮২ ২৩,৬৮৯
উইকেট ২৮ ৫০৬
বোলিং গড় ৩০.৬৪ ১৮.৩৫
ইনিংসে ৫ উইকেট ৪২
ম্যাচে ১০ উইকেট ১৪
সেরা বোলিং ৭/৮৬ ৮/২৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/– ৭৭/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২০ জুলাই ২০১৮

লাধাভাই নকুম অমর সিং লধা (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; হিন্দি: अमर सिंह; জন্ম: ৪ ডিসেম্বর, ১৯১০ - মৃত্যু: ২১ মে, ১৯৪০) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের রাজকোট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ১৯৩২ থেকে ১৯৩৬ সময়কালে ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে সৌরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডারের দায়িত্বে ছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকরী ব্যাটিং করতেন ‘লধা’ ডাকনামে পরিচিত অমর সিং

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নয় বছরের অধিক সময় অতিবাহিত করেছেন অমর সিং। ৯২টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ১৮.৩৫ গড়ে ৫০৮ উইকেট লাভ করেন। ব্যাটসম্যান হিসেবেও সফল ছিলেন। পাঁচটি শতরানের ইনিংস রয়েছে তার। ঘরোয়া রঞ্জি ট্রফিতে প্রথম ভারতীয় হিসেবে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেট লাভের ন্যায় ‘ডাবল’ লাভে সক্ষমতা দেখান।

১৯৩১-৩২ মৌসুমে ফ্রিলুটার্স দলের পক্ষে খেলেন। নিজামস স্টেট রেলওয়ে এ দলের বিপক্ষে খেলায় লধা রামজী’র ৮/১৪ ও ৪/৩২ বোলিং পরিসংখ্যানের সাথে তিনিও অন্য আট উইকেট পেয়েছিলেন।[১]

ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে কোলন দলের পক্ষে ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নেন। ক্লাবের প্রথম বিদেশী পেশাদার খেলোয়াড় ছিলেন অমর সিং। নেলসনের লিয়ারি কনস্ট্যান্টাইনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতেন। দলে তার অন্তর্ভূক্তির ফলে ক্লাবের প্রবেশপথের মূল্য ও সদস্যপদ দ্বিগুণ হয়ে যায়।[২]

অভিষেক টেস্টের পূর্বে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ১০ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে অপরাজিত ১৩১* রান তুলেছিলেন। ১৯৩৭-৩৮ মৌসুমে লর্ড টেনিসনের নেতৃত্বাধীন মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) বিপক্ষে অনানুষ্ঠানিক টেস্টে অংশ নেন। ঐ সিরিজে ১৬.৬৬ গড়ে ৩৬ উইকেট দখল করেন অমর সিং।

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ৭টি টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ ঘটে অমর সিংয়ের। খেলাগুলোয় অংশ নিয়ে ২৮ উইকেট লাভ করেছেন। প্রথম ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্যাপ লাভ করেন।

১৯৩২ সালে ভারত দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ঐ সফরে অমর সিং ও মোহাম্মদ নিসার উদ্বোধনী বোলার হিসেবে যথেষ্ট সফলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। অমর সিং ২০.৩৭ গড়ে ১১১ উইকেট ও মোহাম্মদ নিসার ১৮.০৯ গড়ে ৭১ উইকেট পান। তন্মধ্যে, অমর সিং তিনবার খেলায় দশ উইকেট পেয়েছিলেন। ইনিংসে সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন ৮/৯০।[৩]

২৫ জুন, ১৯৩২ তারিখে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক ঘটে তার। অভিষেক খেলাতেই ৫১ রানের মনোরম ইনিংস খেলেন। এরফলে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ভারতীয় খেলোয়াড় হিসেবে অর্ধ-শতক করেছিলেন। মোহাম্মদ নিসারের সাথে ফাস্ট বোলিং জুটি গড়ে সফলতা পেয়েছেন। লর্ডস টেস্টে এ দুজন সকলের কেন্দ্রবিন্দুতে উপনীত হন।

নিসার পার্সি হোমসহার্বার্ট সাটক্লিফকে আউট করলে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৮/১ ও ১১/২ হয়। কোন রান না করেই ফ্রাঙ্ক ওলি আউট হলে দলের সংগ্রহ ১৯/৩ হয় ও ইংল্যান্ড গুরুতর সমস্যায় নিপতিত হয়। তবে কিংবদন্তীতুল্য ওয়ালি হ্যামন্ড অধিনায়ক ডগলাস জারদিনের সাথে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা চালান। তৃতীয় উইকেটে এ জুটি ৮২ রান যুক্ত করলে অমর সিং তার প্রথম উইকেট লাভ করেন। মাঝারিসারিতে নিসার আরও তিন উইকেট পান। এরপর ভারতীয় অধিনায়ক সি. কে. নায়ড়ুকে নিচেরসারিতে ভাঙ্গন ধরান। এরফলে, ইংল্যান্ড ২৫৯ রান তুলতে সক্ষম হয়। নায়ড়ু ২/৪০ লাভ করেন। অন্যদিকে, অমর সিং ৩১.১ ওভার বোলিং করে ২/৭৫ পান।

১৫৩/৪ তোলা সত্ত্বেও ভারত ১৮৯ রান অল-আউট হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে অমর সিংয়ের বলে সাটক্লিফ আউট হলে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ১/৩০ হয়। অপর ভারতীয় ফাস্ট বোলার জাহাঙ্গীর খান মাঝারিসারিতে আঘাত হানেন ও ইংল্যান্ডকে ৪/৬০-এ নিয়ে যান। এ ইনিংসে অমর সিং ৪১ ওভার বোলিং করে ২/৮৪ পান। তবে, প্রথম ইনিংসে জারদিনের ৭৯ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ৮৫* রান তুললে ইংল্যান্ড ২৭৫/৮ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। দ্য ক্রিকেটার এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করে যে, সৌভাগ্যবশতঃ অধিনায়ক জারদিনের ন্যায় ইস্পাততুল্য যোদ্ধা এ বাঁধার প্রাচীর ডিঙ্গিয়েছেন।[৪]

দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪৬ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে ভারতের সংগ্রহ ১০৮/৭-এ দাঁড়ায়। তবে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বেশ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এক ছক্কা সহযোগে ৫১ রান তুলেন। অষ্টম উইকেট জুটিতে লাল সিংয়ের সাথে ৭৪ রান তুলেন। সর্বশেষ খেলোয়াড় হিসেবে আউট হলে ভারত দল ১৫৮ রানে পরাজিত হয়।[৫]

বাদ-বাকী ছয় টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। তন্মধ্যে, ১৯৩৪ সালে কলকাতায় ৪/১০৬ লাভ করেছিলেন।[৬] ১৯৩৬ সালে লর্ডসে ৬/৩৫[৭] ও ১৯৩৪ সালে চেন্নাইয়ে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৭/৮৬ পান।[৮] ছয়বার ইনিংসে পঁয়ত্রিশ ওভারের বেশী বোলিং করেছেন তিনি।[৯]

১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাদ্রাজ টেস্টে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী উপহার দেন। সফরকারী দলের প্রথম ইনিংসে সংগৃহীত ৩৩৫ রানের বিপরীতে ৪৪.৪ ওভারে ৭/৮৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৮ রান তুলেন।

১৯৩৬ সালে লর্ডসে এক পর্যায়ে প্রথম নয় ওভারে ৪/১০ লাভ করেন। ঐ ইনিংসে তিনি ২৫.১ ওভার বোলিং করে ৬/৩৫ পান। পরের টেস্ট ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় তিনি অপরাজিত ৪৮ তুলে দলকে ইনিংস পরাজয় থেকে রক্ষা করেন।

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

ছয় ফুট দুই ইঞ্চি দীর্ঘাকায় অমর সিং তার উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে বেশ সফলতা পেয়েছেন। প্রশস্ত কাঁধের অধিকারী ছিলেন তিনি।[১০] প্রকৃত ফাস্ট বোলার না হলেও অমর সিং পর্যাপ্ত বাউন্স ও পিচে বলকে ঘোরাতে সক্ষম ছিলেন। বারো গজেরও অধিক দূরত্ব থেকে দৌঁড়ে বলে গতি আনয়ণ করতেন তিনি। ইংরেজ পরিবেশে বেশ উপযোগী ছিল তার জন্য। নতুন বলকে নিয়ে বেশ সাড়া জাগাতেন। উভয় দিকেই সুইং করানোয় সক্ষম ছিলেন। বোলিংকালে আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজাতেন।

ওয়ালি হ্যামন্ড তার সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, উদ্বোধনী বোলার হিসেবে তিনি বেশ বিপজ্জ্বনক ছিলেন যা আমি আর দেখিনি।[১১] ১৯৭০ সালে অনানুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে লিওনার্ড হাটন মন্তব্য করেন যে, বিশ্বে অমর সিংয়ের ন্যায় সেরা বোলার আর কেউ নেই। ইয়র্কশায়ারে থাকাকালে তিনি অমর সিংয়ের বিপক্ষে খেলেছেন।

৯২টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ৭৭ ক্যাচ নিয়েছেন। রুসি মোদির মতে, স্লিপে অবস্থান করার ফলে তিনি বব সিম্পসন কিংবা ওয়ালি হ্যামন্ডের তুলনায় অধিক সফল ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

লধা রামজী নামীয় তার এক জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ছিল। রামজী বোম্বেতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি টেস্টে খেলেছিলেন। তার ভাইপো ভিএল নকুম প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছেন।

২১ মে, ১৯৪০ তারিখে মাত্র ৩০ বছর বয়সে গুজরাতের জামনগর এলাকায় নিজ বাসভবনে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অমর সিংয়ের দেহাবসান ঘটে।[১২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Freelooters v Nizam's State Railway A, 1931-32
  2. "Colne Cricket Club"। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০১৮ 
  3. Indian bowling records 1932
  4. Jardine spares England's blushes
  5. Wisden report-ENGLAND v INDIA
  6. 2nd Test, England v India at Kolkata, 5–8 Jan 1934
  7. 1st test, England v India, at Lord's, 27–30 June 1936
  8. England v India, at Chennai, 1934
  9. India's first lethal weapon
  10. Fast bowling legacy: Mohammad Nissar and Amar Singh
  11. Simon Wilde, Number One: The World's Best Batsmen and Bowlers, Victor Gollancz, 1998, আইএসবিএন ০-৫৭৫-০৬৪৫৩-৬, p135.
  12. "Amar Singh Dead"The Indian Express। ২২ মে ১৯৪০। পৃষ্ঠা 1। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০১৭ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]