১৯৮৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
১৯৮৩ আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনাল
১৯৮৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপ.jpg
বিষয় ১৯৮৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপ
ভারত ৪৩ রানে জয়ী
তারিখ ২৫ জুন ১৯৮৩
মাঠ লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড, ইংল্যান্ড
ম্যান অব দ্য ম্যাচ মহিন্দর অমরনাথ
আম্পায়ার ডিকি বার্ড এবং বারি মেয়ার

১৯৮৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনাল (ইংরেজি: 1979 Cricket World Cup Final) ২৫ জুন, ১৯৮৩ তারিখে লন্ডন নগরীর লর্ডসে অনুষ্ঠিত হয়। আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলাটি লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়। এ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে গত আসরের ন্যায় আবারো ওয়েস্ট ইন্ডিজ অংশগ্রহণ করে। এবার তারা ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। কিন্তু ভারতীয় দলের কাছে ৪৩ রানের স্বল্প ব্যবধানে নাটকীয়ভাবে পরাজিত হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নতুন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রথমবারের মতো ভারতীয় দলের অধিনায়ক কপিল দেব প্রুডেন্সিয়াল ট্রফি উত্তোলন করেন।

ব্যাটিং ও বোলিংয়ে অসামান্য দক্ষতা প্রদর্শন করায় অল-রাউন্ডার মহিন্দর অমরনাথ ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্টের কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ভারতীয় ক্রিকেট দলকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়নি। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে তারা বিশ্বকাপের ফাইনাল-পর্বে উত্তীর্ণ হয় এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পরাভূত করে।

বিবরণ[সম্পাদনা]

চূড়ান্ত খেলায় টসে হেরে ভারত ব্যাটিংয়ে নামে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বসেরা বোলিং আক্রমণের মুখে পড়ে দলটি মাত্র ১৮৩ রানে অল-আউট হয়ে যায়। কৃষ্ণমাচারী শ্রীকান্ত, মহিন্দর অমরনাথ অ্যান্ডি রবার্টস, ম্যালকম মার্শাল, জোয়েল গার্নার এবং মাইকেল হোল্ডিংয়ের বোলিং আক্রমণ কিছুটা আটকাতে পেরেছিলেন। নীচের সারির ব্যাটসম্যানের অংশগ্রহণে ৫৮.৪ ওভার পর্যন্ত খেলতে পেরেছিল ভারত। ভারতীয় ইনিংসে শ্রীকান্ত, সন্দ্বীপ পাতিল এবং মদন লাল একটি করে ছক্কা হাকান।

পরবর্তীতে অনুকূল আবহাওয়া এবং পীচের সুবিধা নিয়ে সঠিকমানের বোলিংয়ের ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্বখ্যাত ব্যাটিং লাইন-আপ ভেঙ্গে পড়ে। গত দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল মাত্র ১৪০ রানে অল-আউট হয়ে যায়। ফলে, ভারত ৪৩ রানে বিজয়ী হয় এবং ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটায়। অমরনাথ এবং মদন লাল - উভয়েই ৩টি করে উইকেট নেন। এছাড়াও, ভারতের অধিনায়ক কপিল দেব প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দৌঁড়িয়ে এসে ভিভ রিচার্ডসের ক্যাচ লুফে নেয়া ছিল উল্লেখযোগ্য ঘটনা। মহিন্দর অমরনাথ সুনিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ৭ ওভারে মাত্র ১২ রান দেন। তাঁর অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে বিচারকদের বিবেচনায় তাঁকে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার প্রদান করা হয়।[১]

স্কোরকার্ড[সম্পাদনা]

ভারতীয় ইনিংস[সম্পাদনা]

রা মি এসআর
সুনীল গাভাস্কার ডুজনরবার্টস ১৪ ১২ ১৬.৬৬
কে শ্রীকান্ত এলবিডব্লিউ ব মার্শাল ৩৮ ৮২ ৫৭ ৬৬.৬৬
মহিন্দর অমরনাথ হোল্ডিং ২৬ ১০৮ ৮০ ৩২.৫০
যশপাল শর্মা ক অতিঃ লোগিগোমস ১১ ৪৫ ৩২ ৩৪.৩৭
সন্দ্বীপ পাতিল গোমসগার্নার ২৭ ৪৮ ২৯ ৯৩.১০
কপিল দেব () হোল্ডিংগোমস ১৫ ১০ ১৮৭.৫০
কীর্তি আজাদ গার্নাররবার্টস ০.০০
রজার বিনি গার্নাররবার্টস ২৫.০০
মদন লাল মার্শাল ১৭ ৩১ ২৭ ৬২.৯৬
সৈয়দ কিরমানী (উইঃ) হোল্ডিং ১৪ ৫৫ ৪৩ ৩২.৫৫
বলবিন্দর সান্ধু * ১১ ৪২ ৩০ ৩৬.৬৬
অতিরিক্ত ( ৫, এলবি ৫, ৯, এনবি ১) ২০
সর্বমোট (অল আউট; ৫৪.৪ ওভার) ১৮৩ (৩.৩৪ রান প্রতি ওভারে)

উইকেট পতন ১-২ (গাভাস্কার), ২-৫৯ (শ্রীকান্ত), ৩-৯০ (অমরনাথ), ৪-৯২ (শর্মা), ৫-১১০ (কপিল), ৬-১১১ (আজাদ), ৭-১৩০ (বিনি), ৮-১৫৩ (পাতিল), ৯-১৬১ (মদন), ১০-১৮৩ (কিরমানী)

বোলিং মে রা গড়
রবার্টস ১০ ৩২ ৩.২০
গার্নার ১২ ২৪ ২.০০
মার্শাল ১১ ২৪ ২.১৮
হোল্ডিং ৯.৪ ২৬ ২.৬৮
গোমস ১১ ৪৯ ৪.৪৫
রিচার্ডস ৮.০০

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস[সম্পাদনা]

রা মি এসআর
গর্ডন গ্রীনিজ সান্ধু ১১ ১২ ৮.৩৩
ডেসমন্ড হেইন্স বিনিমদন ১৩ ৪৫ ৩৩ ৩৯.৩৯
ভিভ রিচার্ডস কপিলমদন ৩৩ ৪২ ২৮ ১১৭.৮৫
লয়েড কপিলবিনি ৩২ ১৭ ৪৭.০৫
ল্যারি গোমস গাভাস্কারমদন ১৮ ১৬ ৩১.২৫
ফাউদ বাক্কাস কিরমানীসান্ধু ৩৭ ২৫ ৩২.০০
জেফ ডুজন অমরনাথ ২৫ ৯৪ ৭৩ ৩৪.২৪
ম্যালকম মার্শাল গাভাস্কারঅমরনাথ ১৮ ৭৩ ৫১ ৩৫.২৯
অ্যান্ডি রবার্টস কপিল ১৬ ১৪ ২৮.৫৭
জোয়েল গার্নার অপরাজিত ৩৪ ১৯ ২৬.৩১
মাইকেল হোল্ডিং এলবিডব্লিউ ব মহিন্দর অমরনাথ ২৮ ২৪ ২৫.০০
অতিরিক্ত (এলবি ৪, ও ১০) ১৪
সর্বমোট (অল আউট; ৫২ ওভার) ১৪০ (২.৬৯ রান প্রতি ওভারে)

উইকেট পতন ১-৫ (গ্রীনিজ); ২-৫০ (হেইন্স), ৩-৫৭ (রিচার্ডস), ৪-৬৬ (গোমস), ৫-৬৬ (লয়েড), ৬-৭৬ (বাক্কাস), ৭-১১৯ (ডুজন), ৮-১২৪ (মার্শাল), ৯-১২৬ (রবার্টস), ১০-১৪০ (হোল্ডিং)

বোলিং মে রা গড়
কপিল দেব ১১ ২১ ১.৯০
বলবিন্দর সান্ধু ৩২ ৩.৫৫
মদন লাল ১২ ৩১ ২.৫৮
রজার বিনি ১০ ২৩ ২.৩০
মহিন্দর অমরনাথ ১২ ১.৭১
কীর্তি আজাদ ২.৩৩

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]