বসন্ত রঞ্জনে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বসন্ত রঞ্জনে
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামবসন্ত বাবুরাও রঞ্জনে
জন্ম(১৯৩৭-০৭-২২)২২ জুলাই ১৯৩৭
পুনে, মহারাষ্ট্র, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু২২ ডিসেম্বর ২০১১(2011-12-22) (বয়স ৭৪)
পুনে, মহারাষ্ট্র, ভারত
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
সম্পর্কসুভাষ রঞ্জনে (পুত্র)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৮৬)
১২ ডিসেম্বর ১৯৫৮ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট২ অক্টোবর ১৯৬৪ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৬৪
রানের সংখ্যা ৪০ ৭০১
ব্যাটিং গড় ৬.৬৬ ১৪.৯১
১০০/৫০ -/- -/-
সর্বোচ্চ রান ১৬ ৫৬*
বল করেছে ১২৬৫ ৪৮৫৪
উইকেট ১৯ ১৭৫
বোলিং গড় ৩৪.১৫ ২৭.৭৩
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৪/৭২ ৯/৩৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ২২/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৩১ মে ২০২০

বসন্ত বাবুরাও রঞ্জনে (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; হিন্দি: वसंत राजने; জন্ম: ২২ জুলাই, ১৯৩৭ - মৃত্যু: ২২ ডিসেম্বর, ২০১১) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পুনে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১] ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৪ সময়কালে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মহারাষ্ট্র ও রেলওয়েজ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন বসন্ত রঞ্জনে

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন তিনি। কারখানার শ্রমিক পিতা দশ বছর বয়সে তাকে রেখে ইহলোক ত্যাগ করেন। তার মাতা একটি হাসপাতালে পরিচারিকার কাজ করে পরিবারের দায়িত্ব পালন করতেন। সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নের পর বিদ্যালয় ত্যাগ করেন তিনি।

তরুণ বয়সে পুনের শিবাজী প্রিপারেটরি স্কুলের মাঠে নিয়মিতভাবে খেলতেন। এ পর্যায়ে মধুসূদন রেগে কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি তাদেরকে সঙ্গম ওয়াদি ইউনিয়ন ক্লাবে অনুশীলন করাতেন ও সেখান থেকে প্রতিভাধর খেলোয়াড়দেরকে বেছে নিয়ে ভিলাস ক্লাবে খেলার সুযোগ করে দিতেন। এরফলে, খেলোয়াড়েরা প্রথম বিভাগ ও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিতে পারতো।[২]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৭০-৭১ মৌসুম পর্যন্ত বসন্ত রঞ্জনে’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল।

বসন্ত রঞ্জনে তার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন দূর্দান্তভাবে শুরু করেন। অভিষেক ইনিংসে ৯/৩৫ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে মহারাষ্ট্রের সদস্যরূপে সৌরাষ্ট্রের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ঐ ইনিংসটিতে হ্যাট্রিক করেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪/৩৬ পান। খেলায় তিনি ৭১ রান খরচায় ১৩ উইকেট লাভ করেন।[৩]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন বসন্ত রঞ্জনে। ১২ ডিসেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে কানপুরে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২ অক্টোবর, ১৯৬৪ তারিখে চেন্নাইয়ে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশগ্রহণে সাফল্য লাভের দুই বছর পর কানপুরের গ্রীন পার্কে অনুষ্ঠিত নিজস্ব প্রথম টেস্টে বিপরীত চিত্র বহন করে। কানপুরের গ্রীন পার্কে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত অভিষেক টেস্টে তিনি একটিমাত্র উইকেট পান। অন্যদিকে, সুভাষ গুপ্তে ৯/১০২ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন।

তিন বছর বাদে ১৯৬১-৬২ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার জন্যে তাকে পুনরায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রথম ইনিংসে ৪/৭৬ নিয়ে সর্বাপেক্ষা সেরা বোলারে পরিণত হন। তিন টেস্টে অংশ নিয়ে দশ উইকেট পান। এরপর, ১৯৬১-৬২ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনার্থে তাকে ভারত দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। দলটিতে বেশ কয়েকজন অল-রাউন্ডারের প্রাচুর্যতা ছিল। বসন্ত রঞ্জনেকে সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টে খেলার সুযোগ দেয়া হয়। কনরাড হান্ট, রোহন কানহাই, গ্যারি সোবার্সফ্রাঙ্ক ওরেলের উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। ৪/৭২ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। এরপর, তিনি আরও দুই টেস্ট খেলেছিলেন।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে মাদ্রাজে ইংল্যান্ড ও এক বছর পর একই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হলেও খুব কমই সফলতার স্বাক্ষর রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হবার পরও ১৯৭১ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যান। রঞ্জী ট্রফিতে ২২.১১ গড়ে ১১৬ উইকেট দখল করেছিলেন তিনি।

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

বসন্ত রঞ্জনের টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবন অনেকাংশেই দূর্ভাগ্যজনকভাবে হয়েছিল। নিষ্প্রাণ ব্যাটিং উপযোগী পিচ কিংবা স্পিনবান্ধব পিচে তাকে বলের চাকচিক্য থাকা অবস্থায় মাত্র কয়েক ওভার বোলিং উদ্বোধন করার সুযোগ দেয়া হতো। খুব কম সময়ই তিনি দীর্ঘক্ষণ বোলিং করতে পেরেছিলেন। পিচের উভয়দিকে বলকে সুইং ও কাট করাতে পারতেন।

কিঞ্চিৎ শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী বসন্ত রঞ্জনে উদ্বোধনী বোলার হিসেবে মানানসই ছিলেন না। উইকেট লাভের তুলনায় নিখুঁত অবস্থানে বল ফেলার দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটাতেন।[৪] তবে, সিমের সহায়তা নিয়ে উইকেটের উভয় দিকে সুইং ও কাট করাতে পারতেন।[৫]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ভারতীয় রেলে ফিটার হিসেবে চাকুরী করেন। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যান। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তবে, ছয় সন্তানকে দেখাশোনা করতে বেশ হিমশিম খান।[৬][৭] ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে গণমাধ্যমে তার দূর্দশার কথা জানা যায়। ফলশ্রুতিতে, ১৯৮৩ সালে নাগপুরে ভারত ও সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান একাদশের মধ্যকার আর্থিক সুবিধা খেলার আয়োজন করে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড। এছাড়াও, ১৯৬০-এর দশকে পুনার বন্যায় তার বাড়ীঘর নষ্ট হলে বিসিসিআই থেকে তাকে অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করা হয়। তার সন্তান সুভাষ রঞ্জনে মহারাষ্ট্রের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছে।

২২ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে ৭৪ বছর বয়সে পুনের রুবি হল ক্লিনিকে বসন্ত রঞ্জনে’র দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. http://www.espncricinfo.com/india/content/story/546594.html
  2. G. Viswanath, The Forgotten Figure, Sportstar, 29 September 1984
  3. Scorecard of Maharashtra v Saurashtra, 1956–57
  4. Sujit Mukherjee, Playing for India, Orient Longman (1988)
  5. Christopher Martin-Jenkins, The Complete Who's Who of Test cricketers
  6. Richard Cashman, Patrons, players and the crowd, Orient Longman (1980), p. 92
  7. "Pune's Hall Of Fame"। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০০৭ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]