সুরসা
| সুরসা | |
|---|---|
নাগমাতা | |
হনুমান সুরসার মুখে প্রবেশ করার চিত্রকর্ম। পান্না বুদ্ধ মন্দির দেওয়ালে অঙ্কিত, ব্যাংকক, থাইল্যান্ড। | |
| গ্রন্থসমূহ | রামায়ণ |
| ব্যক্তিগত তথ্য | |
| মাতাপিতা | দক্ষ |
| দম্পত্য সঙ্গী | কশ্যপ |
সুরসা (সংস্কৃত: सुरसा) বা সিরসা হল হিন্দুধর্মে একজন হিন্দু দেবী ও রাক্ষসী। তিনি ছিলেন নাগমাতা [১] তাকে হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণে দেখা যায়। লঙ্কা গমন পথে হনুমানকে পরীক্ষা করার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিল।
কিংবদন্তি
[সম্পাদনা]
হিন্দু মহাকাব্য রামায়ণে, সুরসা হলেন দক্ষের ১৩ জন কন্যার একজন, যারা ঋষি কশ্যপের সাথে বিবাহিত। তিনি নাগদের মাতা ছিলেন। তার সতীন ও বোন কদ্রু অন্য এক নাগ জাতী উরগগণকে জন্ম দিয়েছিলেন।[১] বাসুকী, তক্ষক, ঐরাবত এবং সুরসার অন্যান্য পুত্রদের ভোগবতীতে বসবাস করার বর্ণনা আছে।[২]
মহাকাব্য মহাভারত বর্ণনা করে যে তিনি কশ্যপের অপর সহধর্মিণী ক্রোধবশার ক্রোধ থেকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সুরসার তিন কন্যা: অনলা, রুহা ও বিরুধা। সর্পগণ সুরসার কন্যাদের থেকে জন্ম নেয়। এইভাবে তাকে নাগ ও সারসের জননী বলা হয়; অপর সর্পজাতি পন্নগ কদ্রুর গর্ভজাত।[১][২]
মৎস্যপুরাণ ও বিষ্ণুপুরাণ অনুসারে, সুরসা হলেন কশ্যপের ১৩ জন স্ত্রীর একজন এবং দক্ষের কন্যা। বিষ্ণুপুরাণ মতে, তিনি এক হাজার বহু-পদযুক্ত সাপের জন্ম দিয়েছেন, যারা আকাশে উড়ে বেড়ায়; কদ্রুও এক হাজার সাপের জন্ম দেন। মৎস্যপুরাণ মতে, তিনি গরু ব্যতীত সমস্ত চতুষ্পদের মাতা; সর্পগণকে কদ্রুর সন্তান বলে বর্ণনা করা হয়েছে। ভাগবত পুরাণ তাকে রাক্ষস-এর মাতা হিসেবে চিত্রিত করেছে। বায়ুপুরাণ ও পদ্মপুরাণ তালিকায় তাকে কশ্যপের স্ত্রী বলে উল্লেখ করা হয়নি; বিপরীতে অনায়ুষ বা দানায়ুষ সর্পমাতারূপে তার অবস্থান গ্রহণ করেন।[৩][৪][৫]
দেবীভাগবত পুরাণে রোহিণীকে সুরসার অবতার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; তার পুত্র বলরাম ছিলেন সুরসার পুত্র নাগ অনন্ত শেষের অবতার।[১]
মৎস্যপুরাণ অনুসারে, যখন দেবতা শিব ত্রিপুরান্তক রূপে তিনটি অসুর নগরে যাত্রা করেন, তখন বিভিন্ন দেবতা তাকে সাহায্য করেন। সুরসা এবং অন্যান্য দেবী তার তীর এবং বর্শা হয়ে ওঠেন। যখন রাক্ষস অন্ধক-এর রক্তের ফোঁটা থেকে বহু দানবের মধ্যে বৃদ্ধি হয়েছিল, তখন সুরসা এবং অন্যান্য মাতৃদেবীরা মাতৃকা রক্ত পান করে রাক্ষসকে বধ করতে শিবকে সাহায্য করেন।[৩]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 Mani, Vettam (১৯৭৫)। Puranic Encyclopaedia: A Comprehensive Dictionary With Special Reference to the Epic and Puranic Literature। Delhi: Motilal Banarsidass। পৃ. ৭৬৭। আইএসবিএন ০-৮৪২৬-০৮২২-২।"
- 1 2 Hopkins, Edward Washburn (১৯১৫)। Epic mythology। Strassburg K.J. Trübner। পৃ. ২০, ২৮, ২০০। আইএসবিএন ০-৮৪২৬-০৫৬০-৬।
{{বই উদ্ধৃতি}}: আইএসবিএন / তারিখের অসামঞ্জস্যতা (সাহায্য) - 1 2 Baman Das Basu। The Sacred books of the Hindus। Published by Cosmo Publications for Genesis Pub.। পৃ. ৯, ৫২, ১৩৭, ১৫৫। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৩০৭-০৫৩৩-০।
- ↑
- Horace Hayman Wilson (১৮৪০)। "CHAP. XV"। The Vishnu Purana। পৃ. ১১০।
- CHAP. XXI p. 147
- ↑ Aadhar, Anand। "Bhagavata Purana: Canto 6: Chapter 6: The Progeny of the Daughters of Daksha"।
গ্রন্থপঞ্জী
[সম্পাদনা]- Robert P. Goldman, Sally J. Sutherland Goldman (১ জানুয়ারি ২০০৭)। The Rāmāyaṇa of Vālmīki: An Epic of Ancient India. Sundarakāṇḍa। Motilal Banarsidass। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-২০৮-৩১৬৬-৭।