বাসুকী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বাসুকি নাগ

বাসুকি (ইংরেজি:Vasuki এবং Sanskrit: वासुकी, वासव) মহাভারত মহাকাব্যে উল্লিখিত সর্পকুলের রাজা অর্থাৎ নাগরাজ। বাসুকি শিবের সর্প, মনসা তার বোন। সে দেবতা শিবের গলা পেঁচিয়ে থাকে। হিন্দু পূরান অনুযায়ী দেবতারা সমুদ্র মন্থনের জন্য বাসুকিকে রজ্জু হিসাবে ব্যবহার করেছিল।[১][২]

কশ্যপ ও তার স্ত্রী কদ্রুর পুত্র তিনি। শেষনাগ হলেন বাসুকির জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা। এঁর ফণার সংখ্যা মোট পাঁচটি। এবং তা পদ্মফুলের মতো বিস্তৃত। পুরাণ মতে― নাগদের মধ্যে ইনিই সর্বশ্রেষ্ঠ।

কশ্যপ মুনির ঔরসে কদ্রুর গর্ভে ইনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বাসুকি-র স্ত্রীর নাম ছিল তুষ্টি। অমর হওয়ার জন্য দেবতা ও অসুররা যখন সমুদ্র-মন্থন শুরু করে, তখন রজ্জু হিসাবে বাসুকিকে ব্যবহার করা হয়েছিল। সমুদ্র মন্থনের প্রথম পর্যায়ে অমৃত উত্থিত হয়। কিন্তু অসুরদের বঞ্চিত করে দেবতারা অমৃত গ্রহণ করেন। ফলে অমৃত বঞ্চিত অসুররা আবার সমুদ্র মন্থন করতে থাকেন। কিন্তু সহস্র বৎসর ক্রমাগত মন্থনের পর বাসুকি হলাহল নামক তীব্র বিষ উদগীরণ করতে লাগলেন। এই বিষের প্রভাবে জীবজগত বিপন্ন হলে, দেবতাদের অনুরোধে মহাদেব সমস্ত হলাহল পান করে ফেললেন। উচ্চৈঃশ্রবা নামক অশ্বের লেজের বর্ণ নিয়ে কদ্রুর সাথে বিনতার তর্ক হলে, কদ্রু অশ্বের লেজ কালো বলেন। কদ্রু তার কথা সত্য প্রমাণিত করার জন্য, তার সর্পপুত্রদের উচ্চৈঃশ্রবার লেজে অবস্থান করতে বলেন।

বাসুকি জরৎকারু মুনির সঙ্গে তার নিজের বোনের বিবাহ দেন। উল্লেখ্য এই বোনের নাম ছিল মনসা

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. কালের কণ্ঠ প্রতিবেদন[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. "হিন্দু পূরাণে বাসুকির কাহিনী"। ৫ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ মে ২০১৪