শুট ব্যানার্জী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শুট ব্যানার্জী
শুট ব্যানার্জী.jpg
১৯৪৬ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে শুট ব্যানার্জী
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামশরবিন্দুনাথ ব্যানার্জী
জন্ম(১৯১১-১০-০৩)৩ অক্টোবর ১৯১১
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু১৪ অক্টোবর ১৯৮০(1980-10-14) (বয়স ৬৯)
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ৫২)
৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৯ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১৩৮
রানের সংখ্যা ১৩ ৩৭১৫
ব্যাটিং গড় ৬.৫০ ২০.৬৩
১০০/৫০ -/- ৫/১১
সর্বোচ্চ রান ১৩৮
বল করেছে ২৭৩ ১৮৮৩৯
উইকেট ৩৮৫
বোলিং গড় ২৫.৩৯ ২৬.৬৮
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৫
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৪/৫৪ ৮/২৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং -/- ৭৪/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১ জানুয়ারি ২০২০

শরবিন্দুনাথ শুট বন্দ্যোপাধ্যায় (জন্ম: ৩ অক্টোবর, ১৯১১ - মৃত্যু: ১৪ অক্টোবর, ১৯৮০) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশের কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৪৯ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলা, হিন্দু, মধ্যপ্রদেশ ও নয়ানগর দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন শুট ব্যানার্জী

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৩১-৩২ মৌসুম থেকে ১৯৫৯-৬০ মৌসুম পর্যন্ত শুট ব্যানার্জী’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। সমগ্র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে ২৬.৬১ গড়ে ৩৮১ উইকেট ও পাঁচ সেঞ্চুরি সহযোগে ২০.৫০ গড়ে ৩৬৭১ রান তুলেছিলেন। ১৫ বছর বিহার দলকে রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দেন।

উনিশ বছর বয়সে শুট ব্যানার্জী’র প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) ভারত গমন করে। সফরকারী দলটির বিপক্ষে ভারতীয় ও অ্যাংলো-ভারতীয়দের নিয়ে গড়া দলের সদস্যরূপে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি।

১৯৩৭-৩৮ মৌসুমে রঞ্জী ট্রফিতে বাংলা দলের পক্ষে খেলেন। মধ্য ভারতের বিপক্ষে তিনি ৫/৩৩ লাভ করেন। হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে অপরাজিত ৪৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে সেমি-ফাইনালে নিয়ে যান। কিন্তু, নয়ানগরের বিপক্ষে চূড়ান্ত খেলায় অংশগ্রহণের পূর্বে জামনগরে সরকারি চাকুরি নিয়ে চলে যান। ফলশ্রুতিতে, চূড়ান্ত খেলায় উভয় দলের পক্ষে খেলায় অংশগ্রহণের অনুপযোগী হন।

নভেম্বর, ১৯৪১ সালে মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে নয়ানগরের সদস্যরূপে খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। এক ঘণ্টার অল্প সময় বেশি নিয়ে ৮/২৫ পান ও উভয় ইনিংসেই দলের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান তোলেন। পরের বছর জামশেদপুরে টাটা স্টিলে যোগদান করেন ও খেলোয়াড়ী জীবনের বাদ-বাকী সময়ে বিহার দলের পক্ষে খেলেছিলেন তিনি।

১৯৪৯ সালে জামশেদপুরে প্রতিপক্ষ দিল্লি দল তৃতীয় দিনে ৪৬ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রসর হয় ও ঐ দলের হাতে আট উইকেট ছিল। ব্যানার্জী হ্যাট্রিক করেন ও ঊনচল্লিশ মিনিটে গুটিয়ে দেন।[১] ঐ বছরের শেষদিকে ওড়িষ্যার বিপক্ষে ৪৩ ও ১১০ রান তুলে উভয় ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। এরপর বল হাতে ৬/৩৭ পেয়েছিলেন। আরও এক দশক রঞ্জী ট্রফিতে ব্যানার্জী তার খেলা চালিয়ে যান।[২]

বিহার দলে যোগদানের পর থেকেই অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতেন। রঞ্জী ট্রফিতে ১৯৫০-এর দশকে বিহার দল নিয়মিতভাবে প্রথম রাউন্ডেই বাংলা দলের কাছে পরাজিত হয়ে বিদেয় হতো। এ ধরনের একটি খেলাতেই ব্যানার্জী প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৩৮ রান তুলেছিলেন। ষাটের কাছাকাছি বয়সে ভিলাইয়ে চলে যান ও ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে মধ্যপ্রদেশের সদস্যরূপে সর্বশেষ মৌসুম অতিবাহিত করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন শুট ব্যানার্জী। এছাড়াও, পাঁচটি অনানুষ্ঠানিক টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দূর্ভাগ্যের শিকারে পরিণত হওয়া ভারতীয় ক্রিকেটারদের লম্বা তালিকায় খুব সম্ভবতঃ শুট ব্যানার্জী’র নাম শীর্ষে অবস্থান করবে।

১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে জ্যাক রাইডারের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া দল সিলন ও ভারত সফর করে। বাংলা ও আসামের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া যৌথ দলের সদস্যরূপে খেলে ৫/৫৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। এরপর তৃতীয় অনানুষ্ঠানিক খেলায় একই দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। তবে, এরজন্যে তাকে বাংলা দলের পক্ষে প্রথমবারের মতো রঞ্জী ট্রফি খেলা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছিল। ১৯৩৬ সালে ভারত দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। কিন্তু, মোহাম্মদ নিসার, অমর সিংজাহাঙ্গীর খানের ন্যায় ফাস্ট বোলারদের অংশগ্রহণের কারণে তাকে কোন টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।

ভারত ক্রিকেট ক্লাবের সদস্যরূপে লর্ড টেনিসন একাদশের বিপক্ষে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হন। ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম খেলায় তিনি ৬/৮৯ পান। একই দলের বিপক্ষে তিনবার অনানুষ্ঠানিক খেলায় অংশ নিলেও পরের খেলাগুলোয় তার খেলার মান সাধারণ পর্যায়ের ছিল।

ইংল্যান্ড গমন, ১৯৪৬[সম্পাদনা]

১৯৪৫-৪৬ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ান সার্ভিসেস একাদশের বিপক্ষে একটি অনানুষ্ঠানিক টেস্টে অংশ নেন ও আট উইকেট পান। ফলশ্রুতিতে, ১৯৪৬ সালে বিস্ময়করভাবে ইংল্যান্ড গমনার্থে ভারত দলের পক্ষে খেলার জন্যে আহুত হন। ১৯৩৬ সালে ভারত দলে বেশ কয়েকজন ফাস্ট বোলারের উপস্থিতি থাকলেও ১৯৪৬ সালে এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। দলে কেবলমাত্র শুট ব্যানার্জী ও রঙ্গ সোহনী’র অংশগ্রহণ ছিল। তবে, সোহনী দুই টেস্টে অংশ নিলেও শুট ব্যানার্জীকে এবারো বিফল মনোরথে ফিরে আসতে হয়। তিনি কোন টেস্টেই খেলার সুযোগ পাননি। কিন্তু, এ সফরের প্রস্তুতিমূলক খেলাগুলোয় অংশ নিয়ে ৩১৫ রান ও ৩১ উইকেট পেয়েছিলেন। ল্যাঙ্কাশায়ারমিডলসেক্সের বিপক্ষে চার উইকেট পেয়েছিলেন এবং উভয় ক্ষেত্রেই ভারত দলের বিজয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন।

ওভালে সারে দলের বিপক্ষে দলের সংগ্রহ ২০৫/৯ থাকাকালীন চান্দু শরতের সাথে জুটি গড়েন। শরৎ অপরাজিত ১২৪ ও তিনি ১২১ রান তুলেছিলেন।[৩] একই ইনিংসে ১০ ও ১১ নম্বরে সেঞ্চুরি করার এটিই একমাত্র ঘটনা ছিল।[৪] ২০০৯ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে শেষ উইকেট জুটিতে ২৪৯ রান দ্বিতীয় সর্বাধিক রানের মর্যাদা পায়।[৫]

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি[সম্পাদনা]

১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে ভারতের মাটিতে পূর্ব অঞ্চলের সদস্যরূপে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশের মুখোমুখি হন। এলাহাবাদের ম্যাটিং উইকেটে তিনি ৭/৬৭ পেয়েছিলেন। এরপর, জয়সূচক রান তুলে দলকে দশ উইকেটে জয় এনে দেন। এ সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এটিই একমাত্র পরাজয়ের ঘটনা ছিল। দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৭ বছর বয়সে সিরিজের শেষ টেস্টে তাকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৯ তারিখে মুম্বইয়ে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি। একমাত্র টেস্টে ১/৭৩ ও ৪/৫৪ বোলিং করেন। এরফলে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। নিজস্ব পঞ্চম বলেই উইকেটের সন্ধান পান তিনি। ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত চার উইকেট পান ও ভারতের জয়ের ৩৬১ রানের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে তিনি মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। পরবর্তী তিন বছর ভারত দল কোন টেস্ট খেলেনি। এরফলে, শুট ব্যানার্জী’র আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনেরও সমাপ্তি ঘটে।

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

ব্যানার্জী তার বোলিং ব্যাটসম্যানের উইকেট বরাবর অন ও অফ - উভয় দিকেই করতে পারতেন। ১৯৩৬ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম সফরের পর ইনসুইঙ্গারের উন্নতি ঘটান। মাঝেমধ্যেই আউট সুইঙ্গার করতেন ও লেগ ব্রেকের আদলে ধীরলয়ে বোলিং করতেন। খেলোয়াড়ী জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন অবস্থানে ব্যাটিং করেছেন। সচরাচর, নিচেরসারিতেই ব্যাটিংয়ে নামতেন তিনি। এছাড়াও, মাঝেমধ্যে ইনিংসের গোড়াপত্তনে নামতেন।

১৪ অক্টোবর, ১৯৮০ তারিখে ৬৯ বছর বয়সে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এলাকায় শুট ব্যানার্জী’র দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bihar v Delhi 1948–49
  2. Between Indian Wickets, p.159
  3. Indians v Surrey, 1946
  4. "Sting in the tail"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মে ২০১৭ 
  5. Partnership records

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]