স্থানাঙ্ক: ২৪°৪′০″ উত্তর ৮৯°২′৫০″ পূর্ব / ২৪.০৬৬৬৭° উত্তর ৮৯.০৪৭২২° পূর্ব / 24.06667; 89.04722

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
দেশবাংলাদেশ
অবস্থানরূপপুর, ঈশ্বরদী, পাবনা
স্থানাঙ্ক২৪°৪′০″ উত্তর ৮৯°২′৫০″ পূর্ব / ২৪.০৬৬৬৭° উত্তর ৮৯.০৪৭২২° পূর্ব / 24.06667; 89.04722
অবস্থানির্মাণাধীন
নির্মাণ শুরু২০০৯
নির্মাণ ব্যয়১,১৩,০৯২.৯১ কোটি টাকা
মালিকবাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন
পরিচালকনিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র
চুল্লির ধরনচাপযুক্ত জল চুল্লি
চুল্লী সরবরাহকারীরোসাটম
কুলিং উৎসপদ্মা নদী
বিদ্যুৎ উৎপাদন
তৈরি ও মডেলভিভিইআর-১২০০/৫২৩
Units under const.২ × ১২০০ মেও
Units planned
তাপীয় ক্ষমতা২ × ৩২০০ মেওতাপীয়
নামফলক ধারণক্ষমতা২১৬০ মেও
ওয়েবসাইট
www.rooppurnpp.gov.bd

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে ২.৪ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পরিকল্পিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র যা বাংলাদেশের পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর নামক স্থানে নির্মীত হচ্ছে। এটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র যার প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করবে।[১][২] এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রাশিয়ার রোসাটোম স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি কর্পোরেশন কর্তৃক নির্মিত হচ্ছে।

অবস্থান[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকা থেকে ২'শ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার অন্তর্গতক পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে নির্মিত হবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।[৩] প্রকল্পটি পদ্মা নদীর উপরে নির্মিত হার্ডিঞ্জ ব্রীজ ও লালন শাহ সেতুর পাশেই নদীতীরে অবস্থিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রথম প্রস্তাব করা হয় ১৯৬১ সালে পাকিস্তান আমলে। এ সময় তৎকালীন সরকার ২৫৩ দশমিক ৯০ একর জমি বরাদ্দ দেয়। ঐ সরকার বেশকিছু পর্যালোচনার ভিত্তিতে ১৯৬৩ সালে পাবনার রূপপুরে ৭০ মেগাওয়াটের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয়। ১৯৬৪ এবং ১৯৬৬ সালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিষয়ে আলোচনা হয় কানাডিয়ান সরকারের সাথে যা পরবর্তী কয়েক বছর সুইডিশ সরকার এবং নরওয়েজিয়ান সরকারের সাথেও আলোচনা চলতে থাকে, কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তব কোন অগ্রগতি হয়নি। ১৯৬৪ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য সকল যন্ত্রপাতি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে জাহাজে করে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই জাহাজ পাকিস্তান (তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান) তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তা চট্টগ্রাম বন্দরে না এনে করাচিতে নিয়ে যায়।[৪] বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিষয়ে আলোচনা হলেও কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ ২০০৯ সালের বাংলাদেশ সরকার পুনরায় রাশিয়ার সাথে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের আলোচনা শুরু করে এবং একই বছরের ১৩ই ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক বা MOU (Memorendum of Understanding) স্বাক্ষরিত হয়। [৫][৬][৭][৮][৯] তবে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য বর্তমান সরকারের উদ্যোগে ২০১০ সালের ২১ মে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ও রাশিয়ান ফেডারেশনের মধ্যে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার বিষয়ক একটি পরিকাঠামো আরেকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় মস্কোতে। যার ফলশ্রুতিতে ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫ সালে পাবনার রূপপুরে দুই হাজার চারশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করার জন্য রাশিয়ার এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করে বাংলাদেশ সরকার। চুক্তি বাস্তবায়নের সময়কাল ধরা হয়েছে সাত বছর। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট এবং ২০২৪ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদনে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মেয়াদকাল হবে ষাট বছর ধরে।[৪]

রূপপুর প্রকল্পের দিনলিপি[সম্পাদনা]

প্রকল্পে দুর্নীতি[সম্পাদনা]

সম্প্রতি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের জন্য ক্রয় করা আসবাবপত্রের হিসাবের টাকার মধ্যে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। এরমধ্যে একটি বালিশের দাম দেখানো হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা এবং নিচ থেকে উপরে উঠানোর খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় সাতশত টাকা। এটি নিয়ে সারা দেশজুড়ে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয়।তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। [১০][১১][১২]

নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সকল বাধ্যবাধকতা প্রতিপালন এবং আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। মানব সম্পদ উন্নয়ন, রিঅ্যাক্টরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশের ভারসাম্য সংরক্ষণ প্রভৃতি কাজ যথাযথ গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নির্বাচিত পারমাণবিক চুল্লিতে নিম্নবর্ণিত পাঁচ স্তরের[১৩] নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকবে:

  • ফুয়েল পেলেট:

নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রথমটি হচ্ছে ফুয়েল পেলেট, যা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় তার জ্বালানী বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে পারে। ফুয়েল পেলেট সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরী করা হয়, ফলে তেজস্ক্রি ফিশন প্রোডাক্টসমূহ পেলেটের ভেতরে অবস্থান করে।

  • ফুয়েল ক্ল্যাডিং:

ফুয়েল পেলেটগুলো জিরকোনিয়াম অ্যালয়ের তৈরী ফুয়েল ক্ল্যাডিং দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। বিশেষ কোন কারণে সামান্য পরিমাণ ফিশন প্রোডাক্ট ফুয়েল পেলেট থেকে বের হয়ে আসলেও তা এই ক্ল্যাডিং এ ভেদ করতে পারবে না।

  • রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল:

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের জন্য বিশেষ মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পুরু ইস্পাতের প্রেশার ভেসেল তৈরী করা হয় যা, উচ্চ তেজষ্ক্রিয় অবস্থাতেও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

  • প্রথম কন্টেইনমেন্ট বিল্ডিং:

রিইনফোর্সড কনক্রিট দিয়ে ১.২ মিটার পুরুত্বের প্রথম কন্টেইনমেন্ট বিল্ডিং তৈরী করা হয়, যা যেকোন পরিস্থিতিতে তেজস্ক্রিয়তা পরিবেশে ছড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখে।

  • দ্বিতীয় কন্টেইনমেন্ট বিল্ডিং:

নিরাপত্তা ব্যবস্থা অধিকতর জোরদার করার জন্য আধুনিক নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টগুলোতে প্রথম কন্টেইনমেন্ট বিল্ডিং-এর পর আরও ০.৫ মিটার পুরুত্বের আরও একটি কন্টেইনমেন্ট বিল্ডিং যুক্ত করা হয় যা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিমান দুর্ঘটনা ইত্যাদি থেকে প্লান্টকে সুরক্ষা করে। এই পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের কারণে মনুষ্য সৃষ্ট ঘটনা/দূর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেমন- শাক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, ভুমিকম্প, বন্যা ইত্যাদিও প্রভাব মোকাবেলায় সক্ষম থাকবে এই পারমাণবিক চুল্লি।

এই পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ছাড়াও এই প্লান্টের ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছে যাতে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও প্লান্ট নিরাপদ থাকবে।এছাড়া ৫.৭ টন পর্যন্ত ওজনের বিমানের আঘাতেও এটি অক্ষত থাকবে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Cabinet clears draft law to form company to operate Rooppur nuclear power plant"bdnews24.com। ৪ মে ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুন ২০১৫ 
  2. "Rooppur nuclear deal signed with Russia", The Financial Express, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫, সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  3. "Russian loan for Rooppur construction"World Nuclear News। ১৬ জানুয়ারি ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০১৩ 
  4. মো. নিজাম, উদ্দিন (20016-12-01)। "রূপ প্রকল্প ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র"Prothom Alo (Bangla ভাষায়)। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ 2017-01-06  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  5. Mahbub, Sumon (১৫ জানুয়ারি ২০১৩)। "N-plant funding deal cut"। bdnews24। 
  6. "PM seeks more Russian investment in ICT sector"। The News Today। ১৫ জানুয়ারি ২০১৩। 
  7. "Collaboration in defence, telecom agreed upon"। The News Today। ১৫ জানুয়ারি ২০১৩। 
  8. "Bangladesh agrees nuclear power deal with Russia"। BBC News। ২ নভেম্বর ২০১১। 
  9. "Bangladesh to Get $1Bln Loan for Weapons"The Moscow Times। ১৬ জানুয়ারি ২০১৩।  (সদস্যতা প্রয়োজনীয়)
  10. "বালিশ নিয়ে গণ ঐক্যের অন্যরকম প্রতিবাদ"দৈনিক যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৯ 
  11. "রূপপুর প্রকল্পে দুর্নীতির প্রতিবাদে ঢাকায় 'বালিশ বিক্ষোভ'"দৈনিক যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৯ 
  12. "সরকারি ফ্ল্যাটে বালিশের মূল্য নিয়ে যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা"দৈনিক যুগান্তর। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০১৯ 
  13. টেমপ্লেট:শিরোনাম=পাঁচ-স্তরের-নিরাপত্তা-ব্যবস্থা