মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

স্থানাঙ্ক: ২১°৪৮′ উত্তর ৯২°০০′ পূর্ব / ২১.৮০° উত্তর ৯২.০০° পূর্ব / 21.80; 92.00
উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
  • মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র
  • মহেশখালী বিদ্যুৎ কেন্দ্র
দেশ বাংলাদেশ
অবস্থানমাতারবাড়ি, মহেশখালী উপজেলা, কক্সবাজার জেলা, বাংলাদেশ
স্থানাঙ্ক২১°৪৮′ উত্তর ৯২°০০′ পূর্ব / ২১.৮০° উত্তর ৯২.০০° পূর্ব / 21.80; 92.00
অবস্থাপ্রস্তাবিত
বিদ্যুৎ উৎপাদন
Units planned১২০০ মেগাওয়াট

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হল বাংলাদেশের একটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি মহেশখালী উপজেলায় মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নের এক হাজার ৪১৪ একর জমিতে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ৬০০ মেগাওয়াডটর মোট দুটি ইউনিট তৈরি হবে। ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১২০০ মেগাওয়াট।[১][২] ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট অর্থাৎ ৬০০ মেগাওয়াট এবং একই বছরের জুলাইতে দ্বিতীয় ইউনিট আরও ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে।[৩]

কূটনীতিক চাপ সামাল,[৪] দূষণ, জাপানের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অর্থায়ন না করার অঙ্গীকার ভঙ্গ, অর্থনৈতিক মুনাফার অযোগ্যতার জন্য প্রকল্পটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত।[৫]

বিবরণ[সম্পাদনা]

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পটি সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত (ফাস্ট ট্র্যাক) ১০ মেগা প্রকল্পের একটি। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) এর অধীনে নির্মাণ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে গত বছরের জুলাইয়ে জাপানের তিনটি প্রতিষ্ঠানের একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি করে সিপিজিসিবিএল। জাপানি কনসোর্টিয়ামের অন্যতম কোম্পানি তোশিবা করপোরেশন। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নের এক হাজার ৪১৪ একর জমিতে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে। সিপিজিসিবিএল জানায়, প্রকল্পে ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি স্টিম টারবাইন, সার্কুলেটিং কুলিং ওয়াটার স্টেশন স্থাপন, ২৭৫ মিটার উচ্চতার চিমনি ও পানি শোধন ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

কয়লা আমদানির জন্য নদীতে ৭ কিলোমিটার নৌ চ্যানেল করা হবে। পাশাপাশি কয়লা ওঠানামার জন্য নির্মাণ করা হবে জেটি। কয়লা আমদানির পর তা সংরক্ষণের জন্য বানানো হবে কয়লা ইয়ার্ড। পাশাপাশি নগর নির্মাণ, গ্রাম বিদ্যুতায়ন এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন কাজের আওতায় চকোরিয়া-মাতারবাড়ী ১৩২ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণ ও ১৩২/৩৩ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন একটি উপস্টেশন নির্মাণ করা হবে।

পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। নির্মাণ করা হবে ছাই নিষ্কাশন এলাকা এবং বাফার জোন। পরিবেশ দূষণ রোধে অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৪ হাজার ৭০০ কেজি স্ট্যান্ডার্ডে প্রয়োজনীয় পরিমাণ কয়লা আমদানি করা হবে। এতে প্রতি টন কয়লার দাম প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার ২৫৫ টাকা ৫০ পয়সা ধরা হয়েছে। নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ রোধ করার জন্য লোরেট বার্নার স্থাপন করা হবে। সালফার-ডাই অক্সাইড রোধ করার জন্য সাগরের পানিতে ডি-সালফারাইজেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। ছাই রোধ বা কমানোর জন্য ইলেকট্রোস্টেটিক প্রিসিপিটেটর এ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাব-বিটুমিনাস কয়লা ব্যবহার করা হবে। এছাড়া এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা আনার জন্য একটি বন্দর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৫৯ ফুট গভীর এ বন্দরে ৮০ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারবে। জাপানের তোশিবা করপোরেশন এ বন্দরটি নির্মাণ করবে।

প্রকল্পের অর্থায়ন[সম্পাদনা]

২০১৪ সালে অনুমোদন পাওয়া ‘মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিকিটক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার’ প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। সংশোধন করে প্রকল্পের ব্যয় ১৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা বাড়ানো হয়। ফলে মোট ব্যয় দাঁড়াল প্রায় ৫১,৮৫৪.৮৮ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে আগে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থা (জাইকা) দেওয়ার কথা ছিল ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। এবার সেই ঋণ বাড়িয়ে জাইকা মোট দিচ্ছে প্রায় ৪৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। আর প্রকল্পটিতে সরকারি তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে ৬ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নের এক হাজার ৪১৪ একর জমিতে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে।[৬]

প্রকল্পের মেয়াদ[সম্পাদনা]

মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ১৫ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে সাড়ে তিন বছর। মূল অনুমোদিত প্রকল্পটি জুলাই ২০১৪ হতে জুন ২০২৩ মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মূল প্রকল্প ব্যয় ছিল ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এখন প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে প্রায় ৫১,৮৫৪.৮৮ কোটি টাকা হয়েছে।[৭]

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমসমূহ[সম্পাদনা]

১ হাজার ৬০৮ দশমিক ৪৬ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ, ৩৫০ মিটার প্রস্থ ও ১৮ দশমিক ৫ মিটার গভীরতার চ্যানেল, সি-ওয়াল সহ আনুষঙ্গিক ফ্যাসিলিটিস নির্মাণ। এছাড়া পাওয়ার প্ল্যান্ট এরিয়া ও টাউনশিপের জন্য ভূমি উন্নয়ন, জেটি, কোল ইয়ার্ড ও চিমনি নির্মাণ, ১২’শ মেগাওয়াট ক্ষমতার আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পাওয়ার প্লান্ট ও আনুষঙ্গিক ফ্যাসিলিটিজ নির্মাণ। প্রকল্পের আওতায় পল্লী বিদ্যুতায়নের আওতায় ২৫/৪১ এমভিএ ক্ষমতার ১৩২/৩৩ কেভি সঞ্চালন উপকেন্দ্র, ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন, ১০ এমভিএ ক্ষমতার ৩৩/১১ কেভি বিতরণ উপকেন্দ্র নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় টাউনশিপ নির্মাণ করা হবে।[৮] মাতারবাড়ি হবে বাংলাদেশের বিদ্যুৎহাব। আর এই বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে সেখানে গড়ে তোলা হবে আধুনিক উন্নত শহর।[৯]

সমালোচনা[সম্পাদনা]

এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরিতে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, পরিবেশ দূষণ, প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ তৈরি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার ভঙ্গীতে কঠোর সমালোচনা হয়েছে।[১০]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "মহেশখালী বিদ্যুৎ কেন্দ্র জন্য ৩৬০০০ কোটি টাকা"বাংলাদেশ২৪ঘণ্টা.কম। সংগ্রহের তারিখ ২৪ আগস্ট ২০১৬ 
  2. "এক নজরে মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র"বাংলাট্রিবিউনডটকম। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০১৮ 
  3. প্রতিবেদক,প্রতিনিধি, নিজস্ব। "মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৪ দিনে ৭৫ বিদেশিসহ ১০৪ জনের করোনা শনাক্ত"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-০৭ 
  4. রহমান, আরিফুর। "পায়রা উড়ে গেল মাতারবাড়ী"Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-১০ 
  5. Correspondent, Staff (২০২২-০৩-১০)। "Matarbari plant: Japanese firm Sumitomo won't bid for phase-2"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-১০ 
  6. "এক নজরে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্প"Bangla Tribune। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-০৭ 
  7. "মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের সময়-ব্যয় বাড়লো"jagonews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-০৭ 
  8. "মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের সময়-ব্যয় বাড়লো"jagonews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-০৭ 
  9. "মাতারবাড়ি বিদ্যুৎহাব"এনার্জি বাংলা (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৭-০৮-১০। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-০৭ 
  10. "The Risks From JICA's Involvement in the Matarbari Power Plant Project of Bangladesh"Energy Tracker Asia (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২২-০৩-৩০। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-১০