গৈরিক সন্ত্রাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

গৈরিক সন্ত্রাস হল উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদকামী সংগঠন বা এর সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত সহিংসতা। শব্দটি উদ্ভাবন হয় ২৯ শে সেপ্টেম্বর ২০০৮ পশ্চিম ভারত বোমাবর্ষণের ঘটনার সময় থেকে।[১] এবং অন্যদের মধ্যে এটি হিন্দু জাতীয়তাবাদ সম্পর্কহীন হতে নির্ধারিত হয়েছে।[২] শব্দটি হিন্দুদের সঙ্গে জাফরান রঙ এ্যাসোসিয়েশন থেকে এসেছে।[৩][৪][৫][৬]

ব্যবহার[সম্পাদনা]

"গৈরিক সন্ত্রাস" শব্দটি ২০০২ সালের গুজরাট রায়টস প্রসঙ্গে প্রথম পরিচিত; যেটি ফ্রন্টলাইনে ২০০২ থেকে নিবন্ধিত হয়েছে।[৭]

Bhagwa or the [deep] saffron colour denotes renunciation or disinterestedness. Our leaders must be indifferent to material gains and dedicate themselves to their work.

— Dr Sarvepalli Radhakrishnan

গৈরিক সন্ত্রাসের অভিযোগ ঘটনা[সম্পাদনা]

হিন্দু চরমপন্থী সংগঠনকে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত থাকার জন্য অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে; যেমন: ২০০৬ সালের মালেগাও বিষ্ফোরণ, মক্কা মসজিদ বোমা হামলা (হায়দরাবাদ), সমঝোতা এক্সপ্রেস বোমা হামলা এবং আজমীর শরীফ দরহাহ বিষ্ফোরণ

২০০৭ সালের সমঝোতা এক্সপ্রেসে বোমা হামলা[সম্পাদনা]

২০০৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তারিখের প্রায় মধ্যরাতে সমঝোতা এক্সপ্রেসে এর দুটি কোচে জোড়া বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ৬৮ জনের মত মত আগুনে পুড়ে মারা যান এবং কয়েক ডডন মানুষ আহত হন।[৮] একটি হিন্দু মৌলবাদী গোষ্ঠী "অভিনব ভারতের" ঘটনার সাথে সম্পর্কযুক্ত আছে বলে অভিযোগ করা হয়।[৯]

আজমীর দরগাহ আক্রমণ[সম্পাদনা]

আজমের দরগাহ বিস্ফোরণ ২০০৭ সালের ১১ অক্টোবর তারিখে আজমের, রাজস্থান, ভারতের সুফি সন্ত মঈনউদ্দীন চিশতি এর দরগাহ (মঠ) এর বাইরে ঘটান হয়েছিল। অভিযোগ আনা হয়েছিল হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসবক সংঘ এবং তার দলদের উপর।[১০] ২০১০ সালের ২২ অক্টোবর তারিখে পাঁচ জন অভিযুক্ত হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসবক সংঘের একাত্মতার চারটি বিস্ফোরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় যারা ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ছিলেন।[১১]

পুনে প্রযুক্তিবিদ হত্যা[সম্পাদনা]

২০১৪ সালের ২ জুন সোমবার ২৪ বছর বয়সী একজন মুসলিম তরুন আইটি প্রফেশনাল (IT professional) কে মারধর করে হত্যা করে হিন্দু রাষ্ট্র সেনার সদস্যরা। সংগঠনটি মৌলবাদী দল হিসাবে মহারাষ্ট্রে সক্রিয়।[১২] নিহিত ব্যাক্তির নাম মহসিন মহম্মদ সাদিক সেখ।[১৩] মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার বাসিন্দা মহসিন পুনেতে একটি প্রাইভেট ফার্মে আইটি ম্যানেজার হিসাবে কাজ করতেন। রাত ৯টার সময় মসজিদ থেকে নামাজ পরে ফেরার পথে তার উপর আক্রমণ করা হয়। অপরাধ শাখা, হিন্দু রাষ্ট্র সেনার প্রধান ধনন্জ্জয় দেশাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে অন্য অপরাধমুলক কাজে জড়িত থাকার জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ পর্যন্ত মোট ১৭ জনকে জড়িত থাকার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে। পুনে পুলিশ হিন্দু রাষ্ট্র সেনা কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পক্ষে বিবেচনা শুরু করেছে।[১৪]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. Zubair Ahmed (২১ নভেম্বর ২০০৮)। "'Hindu terrorism' debate grips India"। BBC। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০১০ 
  2. Vishwa Mohan, TNN 8 Aug 2010, 03.10am IST (৮ আগস্ট ২০১০)। "HuJI ban takes no note of 'Hindu terror' role"The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ৭ মার্চ ২০১৩ 
  3. "Leading News Resource of Pakistan"Daily Times। ২৬ আগস্ট ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০১৩ 
  4. "Beware of saffron terror too, warns home minister"The Economic Times। ২৬ আগস্ট ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১০ 
  5. PC defends ‘saffron terror’ remark Deccan Herald — 1 September 2010
  6. Rise of Hindu 'saffron terror' ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০ জানুয়ারি ২০১১ তারিখে New straits Times — 25 August 2010
  7. "Saffron Terror"। Front Line। ৩১ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০১৪ 
  8. "66 die in 'terror attack' on Samjhauta Express"Hindustan Times। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০১৩ 
  9. "The Mirror Explodes | Smruti Koppikar"। Outlookindia.com। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১৩ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  10. Mohan, Vishwa (৯ জানুয়ারি ২০১১)। "Co-conspirators saw RSS man as ISI mole"The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জানুয়ারি ২০১১ 
  11. "Four of five Ajmer blast accused have RSS links: ATS"The Indian Express। ১ নভেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জানুয়ারি ২০১১ 
  12. "Muslim techie beaten to death in Pune, 7 men of Hindu outfit held"দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুন ২০১৪ 
  13. "Pune techie murder: Who is 'Bhai', chief of Hindu Rashtra Sena?"। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুন ২০১৪ 
  14. "Pune police consider ban on Hindu Rashtra Sena"দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ৬ জুন ২০১৪ 

উপরন্তু পড়ুন[সম্পাদনা]