কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার
কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার | |
|---|---|
| রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ১ম সরসঙ্ঘচালক | |
| কাজের মেয়াদ ১৯২৫ – ১৯৪০ | |
| পূর্বসূরী | অবস্থান প্রতিষ্ঠিত |
| উত্তরসূরী | মাধব সদাশিবরাও গোলওয়ালকর |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার ১ এপ্রিল ১৮৮৯ নাগপুর, মধ্যে প্রদেশ, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে মহারাষ্ট্র, ভারত) |
| মৃত্যু | ২১ জুন ১৯৪০ (বয়স ৫১) নাগপুর, মধ্য প্রদেশ ও বেরার, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে মহারাষ্ট্র, ভালত) |
| শিক্ষা | এমবিবিএস |
| প্রাক্তন শিক্ষার্থী | কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ |
| পেশা |
|
| যে জন্য পরিচিত | রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা |
| ডাকনাম | কেবি হেডগেওয়ার |
কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার বা কেবি হেডগেওয়ার (১ এপ্রিল ১৮৮৯ – ২১ জুন ১৯৪০) ছিলেন একজন ভারতীয় চিকিৎহক এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এর প্রতিষ্ঠাতা সরসঙ্ঘচালক। [১][২] হেডগেওয়ার ১৯২৫ সালে নাগপুরে আরএসএস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, হিন্দুত্বের আদর্শের উপর ভিত্তি করে একটি হিন্দু রাষ্ট্র গঠনের অভিপ্রায়ে ।[৩][৪]
জীবনের প্রথমার্ধ
[সম্পাদনা]| জীবনী বিষয়ক এই নিবন্ধটি অসম্পূর্ণ। আপনি চাইলে এটিকে সম্প্রসারিত করে উইকিপিডিয়াকে সাহায্য করতে পারেন। |
হেডগেওয়ার ১৮৮৯ সালের ১ এপ্রিল মধ্য প্রদেশ ও বেরারের নাগপুরে একটি দেশস্থ ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।[9][1][2][3][4][5] তাঁর প্রপিতামহ নরহর শাস্ত্রী বর্তমান তেলেঙ্গানার নিজামাবাদ জেলার কান্দাকুরথি থেকে নাগপুরে চলে আসেন।[10][11][12] তাঁর বাবা-মা ছিলেন বলীরাম পান্ত হেডগেওয়ার এবং রেবতীবাঈ, এক সাধারণ মারাঠি দম্পতি।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ১৯০২ সালের প্লেগ মহামারীতে[13] হেডগেওয়ারের তেরো বছর বয়সে তাঁর বাবা-মা দুজনেই মারা যান। হেডগেওয়ারের কাকা তাঁর ভালো পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন এবং বি. এস. মুঞ্জে তরুণ হেডগেওয়ারের জন্য একজন পৃষ্ঠপোষক ও পিতৃতুল্য ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন।[14]
তিনি নাগপুরের নীল সিটি হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন, যেখান থেকে তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকারের জারি করা সার্কুলার লঙ্ঘন করে "বন্দে মাতরম" গাওয়ার জন্য তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।[15] ফলস্বরূপ, তাকে ইয়াভাতমালের রাষ্ট্রীয় বিদ্যালয়ে এবং পরে পুনেতে তার উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়াশোনা করতে হয়েছিল। ম্যাট্রিকুলেশনের পর, ১৯১০ সালে বি. এস. মুঞ্জে (ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একজন সদস্য, যিনি পরে হিন্দু মহাসভার সভাপতি হয়েছিলেন) তাকে ডাক্তারি পড়াশোনার জন্য কলকাতায় পাঠান।[16] ১৯১৬ সালের জুন মাসে কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এল.এম.এস. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর, তিনি এক বছরের শিক্ষানবিশকাল সম্পন্ন করেন এবং ১৯১৭ সালে একজন চিকিৎসক হিসেবে নাগপুরে ফিরে আসেন।
আদর্শিক শিকড়
[সম্পাদনা]কলকাতায় পড়াশোনা করার সময়, হেডগেওয়ার বাংলার অনুশীলন সমিতিতে যোগ দেন, যা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিল।[18] হিন্দু প্রতীকবাদে প্রোথিত এই গোষ্ঠীতে হেডগেওয়ারের দীক্ষা, আরএসএস গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। হেডগেওয়ার বিনায়ক দামোদর সাভারকরের আদর্শিক পুস্তিকা 'এসেনশিয়ালস অফ হিন্দুত্ব'-এর মতো লেখকদের দ্বারাও সমানভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন।[19] হেডগেওয়ার সমর্থ রামদাসের 'দশবোধ' এবং লোকমান্য তিলকের 'গীতা রহস্য' দ্বারাও অত্যন্ত প্রভাবিত ছিলেন। তাঁর চিঠিতে প্রায়শই তুকারামের উদ্ধৃতি থাকত।[20]
আরএসএস গঠন
[সম্পাদনা]১৯২০-এর দশকে হেডগেওয়ার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে অংশগ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের নীতি ও রাজনীতিতে হতাশ হয়ে পড়েন। তিনি দলের স্বেচ্ছাসেবক বিভাগ – হিন্দুস্তানি সেবা দলের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন, যা কংগ্রেস সেবা দলের পূর্বসূরি।[21] তিনি লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক, বিনায়ক দামোদর সাভারকর, গণেশ দামোদর সাভারকর, শ্রী অরবিন্দ এবং বি. এস. মুঞ্জের লেখা দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। তিনি ম্যাজিনি এবং অন্যান্য জ্ঞানদীপ্তির দার্শনিকদেরও পড়েছিলেন। ১৯১২ থেকে ১৯২২ সালের মধ্যে, হেডগেওয়ার মূলত হিন্দু সমাজের একটি সমালোচনা গড়ে তোলেন, যেখানে তিনি সমস্যাটিকে জাতি, শ্রেণী এবং ধর্মের কারণে সৃষ্ট ভারতের খণ্ডিত সমাজ হিসাবে চিহ্নিত করেন। তিনি ভারতীয় সমাজ থেকে জাতিভেদ প্রথাকে "পুরোপুরি" নির্মূল করতে চেয়েছিলেন।[22] তা সত্ত্বেও তিনি মনে করতেন যে হিন্দুদের সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যই ভারতীয় জাতিসত্তার ভিত্তি হওয়া উচিত, তাই তিনি সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের দিকে ঝুঁকেছিলেন।[23][24]
১৯৩৯ সালে আরএসএস-এর একটি সভায় হেডগেওয়ার এবং তার প্রাথমিক অনুসারীরা হেডগেওয়ার ১৯২৫ সালে বিজয়াদশমীর দিনে আরএসএস প্রতিষ্ঠা করেন। তার লক্ষ্য ছিল হিন্দু সমাজকে তার সাংস্কৃতিক পুনরুজ্জীবনের জন্য সংগঠিত করা এবং এটিকে একীভূত ভারতের জন্য পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জনের একটি হাতিয়ারে পরিণত করা।[25][26] হেডগেওয়ারের দৃষ্টিকোণ থেকে "সংগঠিত করা" বলতে বোঝাতো অধ্যাপক রবার্ট পুটনামের সামাজিক পুঁজি (Social Capital) নামক ধারণার অনুরূপ কিছু।[27] হেডগেওয়ার তার হিন্দু সংগঠনের জন্য 'রাষ্ট্রীয়' (জাতীয়) শব্দটি প্রস্তাব করেছিলেন, কারণ তিনি 'রাষ্ট্রীয়' পরিচয়ের মাধ্যমে হিন্দু পরিচয়কে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।[28] হেডগেওয়ার ১৯৩৬ সালে সংগঠনের একটি মহিলা শাখা, রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি, প্রতিষ্ঠার সমর্থন করেছিলেন।[29][30]
যারা এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতেন তাদের স্বয়ংসেবক (স্বেচ্ছাসেবক) বলা হতো। প্রাথমিক স্বয়ংসেবকদের মধ্যে ভাইয়াজি দানি, বাবাসাহেব আপ্তে, এম. এস. গোলওয়ালকর, বালাসাহেব দেওরাস এবং মধুকর রাও ভাগবত প্রমুখ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সংঘ (সম্প্রদায়) নাগপুর এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে বৃদ্ধি পাচ্ছিল এবং শীঘ্রই এটি অন্যান্য প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। হেডগেওয়ার আরএসএস শাখা স্থাপন করতে এবং তরুণদের সংঘে যোগদানে অনুপ্রাণিত করতে মধ্য, উত্তর এবং পশ্চিম ভারত জুড়ে ব্যাপকভাবে ভ্রমণ করেছিলেন।[31]
আরএসএস গঠনের পরে রাজনৈতিক কার্যকলাপ
[সম্পাদনা]রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি প্রতিষ্ঠা
[সম্পাদনা]মৃত্যু এবং উত্তরাধিকার
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Timeline"। Rashtriya Swayamsevak Sangh। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০২০।)
- ↑ Kumar, Sumit (২০১৬)। Dr. Keshav Baliram Hedgewar। Mumbai: Prabhat Prakashan। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩৫০৪৮৬৯০০।
- ↑ Taneja, S. P. (২০০৯)। Society and politics in India। Delhi, India: Swastik Publishers & Distributors। পৃ. ৩৩২। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৮৯৯৮১-২৯-৭।
- ↑ Subramanian, N.V. (২৯ আগস্ট ২০১২)। "All in the Family"। News Insight। ২ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩১ আগস্ট ২০১২।
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- Sinha, Rakesh (২০০৩)। Dr. Keshav Baliram Hedgewar (হিন্দি ভাষায়)। New Delhi: Publication Division, Ministry of Information & Broadcasting, Government of India। এএসআইএন B00H1YYO3M।
- Rakesh Sinha's Dr. Keshav Baliram Hedgewar (in Telugu) by Vaddi Vijayasaradhi. আইএসবিএন ৮১২৩০১১৮৬৫.
- Bapu, Prabhu (২০১৩)। Hindu Mahasabha in Colonial North India, 1915–1930: Construction Nation and History। Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮-০৪১৫৬৭১৬৫১।
- Basu, Tapan; Sarkar, Tanika (১৯৯৩)। Khaki Shorts and Saffron Flags: A Critique of the Hindu Right। Orient Longman। আইএসবিএন ৯৭৮-০৮৬৩১১৩৮৩৩।
- Bhishikar, C. P. (২০১৪) [First published in 1979]। Keshav: Sangh Nirmata (হিন্দি ভাষায়)। New Delhi: Suruchi Sahitya Prakashan। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৩৮১৫০০১৮৭।
- Chitkara, M. G. (২০০৪)। Rashtriya Swayamsevak Sangh: National Upsurge। APH Publishing। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১৭৬৪৮৪৬৫৭।
- Curran, Jean Alonzo (১৯৫১)। Militant Hinduism in Indian Politics: A Study of the R.S.S.। International Secretariat, Institute of Pacific Relations। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০১৪।
- Frykenberg, Robert Eric (১৯৯৬)। "Hindu fundamentalism and the structural stability of India"। Martin E. Marty; R. Scott Appleby (সম্পাদকগণ)। Fundamentalisms and the State: Remaking Polities, Economies and Militance। University of Chicago Press। পৃ. ২৩৩–২৩৫। আইএসবিএন ৯৭৮-০২২৬৫০৮৮৪৯।
- Jaffrelot, Christophe (১৯৯৬)। The Hindu Nationalist Movement and Indian Politics। C. Hurst & Co. Publishers। আইএসবিএন ৯৭৮-১৮৫০৬৫৩০১১।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- Remembering Doctorji - samvada.org ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৮ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে