যুক্তরাষ্ট্রতন্ত্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

যুক্তরাষ্ট্রতন্ত্র এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে এক বা একাধিক গোষ্ঠী অন্যান্য বেশির ভাগ গোষ্ঠী বা দলের চেয়ে বেশি স্বাধীনতা উপভোগ করে। কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থাকে অপ্রতিসম মৈত্রীতন্ত্রও বলা হয়।

পরিচ্ছেদসমূহ

বর্ণনা[সম্পাদনা]

যুক্তরাষ্ট্রতন্ত্র আসলে এক ধরণের সরকার ব্যবস্থা যেখানে সংঘ ও একক রাষ্ট্র এই উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। যুক্তরাষ্ট্রতন্ত্রে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অংশগুলোর মধ্যে অন্তত একটি অংশকে স্বাধীন হতে হবে। যেখানে অন্য সাংবিধানিক অংশগুলো পরাধীন বা কিছুটা স্বাধীন থাকবে। এর একটি উদাহরন হচ্ছে ফিনল্যান্ড। যেখানে অ্যাল্যান্ড নামক রাষ্ট্রের সাংবিধানিক অংশের অন্য প্রদেশের চেয়ে স্বায়ত্তশাসন এর ক্ষমতা বেশী। এই স্বায়ত্তশাসিত সাংবিধানিক অঞ্চলটি স্বাধীনতার এমন মাত্রা ভোগ করে যেন এটি ফেডারেশনের একটি অংশ। যেখানে রাষ্ট্রের অন্য সাংবিধানিক অংশগুলো অন্যান্য অংশের মতই স্বাধীনতা পায়। এই স্বায়ত্তশাসন দেশের সংবিধানে নিশ্চিত করা হয়। স্বায়ত্তশাসিত উপনিবেশগুলি প্রায়ই ঔপনিবেশিক সম্পদ হয়ে থাকে অথবা দেশের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর বাসস্থান হয়ে থাকে।এই স্বায়ত্তশাসিত উপনিবেশগুলি প্রায়ই একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভেতরে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রতন্ত্রের রাষ্ট্রসমূহ[সম্পাদনা]

বিভিন্ন রাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রতন্ত্র আছে। বিভিন্ন উপনিবেশে স্বায়ত্বশাসন এর মাত্রা রাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রে ভিন্ন ভিন্ন হয়।

অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা[সম্পাদনা]

বার্বুডা অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডার অধীনে স্বায়ত্বশাসিত।

অস্ট্রেলিয়া ও নরফোক দ্বীপ[সম্পাদনা]

২০১৫ সালে অস্ট্রেলীয় ফেডারেল সরকার নরফোক আইল্যান্ডের নিজস্ব সরকারকে প্রত্যাহার করে। এর আইনগুলি নিউ সাউথ ওয়েলসের আইনগুলিতে অন্তর্ভুক্ত করে নিউ সাউথ ওয়েলসের অধীনে করে দেওআ হয়। ১ জুলাই ২০১৬ তে নিউ সাউথ ওয়েলসের আইনের অধীনে একটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

আজারবাইজান ও নাকচিভান[সম্পাদনা]

নাকচিভান আজারবাইজানের অধীনে স্বায়ত্বশাসিত।

ফিজি ও রটুমা[সম্পাদনা]

রটুমা ফিজির ওপর নির্ভরশীল।

ফিনল্যান্ড ও অ্যাল্যান্ড[সম্পাদনা]

অ্যাল্যান্ড এর দ্বীপপুঞ্জ ফিনল্যান্ডের একটি অঞ্চল, কিন্তু অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায়, এটি একটি উচ্চ মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন উপভোগ করে। ১৯২১ সালে অ্যাল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনের আইনটিতে (১৯৯১ সালে সর্বশেষ সংশোধিত) ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়। এবং স্বায়ত্তশাসন ১৯২১ সালে লীগ অব নেশনসের সিদ্ধান্ত দ্বারা নিশ্চিত হয়। আল্যান্ডের সংসদ অন্যান্য প্রদেশের মধ্যে কর্তব্য পরিচালনা করে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের রাজ্য প্রাদেশিক অফিসের দ্বারা প্রয়োগ করে। অ্যাল্যান্ড ফিনল্যান্ড পার্লামেন্টে একটি প্রতিনিধি পাঠায়, যে নর্ডিক কাউন্সিলের সদস্য। এটি সিদ্ধান্ত হয় যে, এবং জনগনকে চাঁদা দিতে হবে না। অ্যাল্যান্ড ১৯৮৪ সাল থেকে নিজস্ব ডাকটিকেট চালু করেছে, এবং এখানে এদের নিজস্ব পুলিশ বাহিনীও আছে। অ্যাল্যান্ড এর অধিবাসীদের অধিকাংশ তাদের প্রথম ভাষা হিসাবে সুইডিশকে গন্য করে (২০০৭ সালে ৯১.২%)। সুইডেন এবং ইম্পেরিয়াল রাশিয়ার মধ্যে ১৮০৯ সালে এবং ফিনল্যান্ড এবং সুইডেন ১৯১৭-১৯২১ এর মধ্যে বিরোধের ফলস্বরূপ অ্যাল্যান্ড স্বায়ত্বশাসিত অবস্থায় ছিল।

ফ্রান্স ও এর বিদেশী অঞ্চল[সম্পাদনা]

ফরাসি প্রজাতন্ত্র ১৮ টি বিভাগে বিভক্ত, যার মধ্যে ১৩ টি মহানগর ফ্রান্সে (কর্সিকা এদের মধ্যে একটি। যাকে কঠোরভাবে একটি অঞ্চল বলে উল্লেখ করা হয় না তবে প্রায়ই এটিকে অঞ্চল বলে গণনা করা হয়)। অঞ্চলগুলির মধ্যে পাঁচটি অঞ্চল 'd'outre-mer' (বিদেশী অঞ্চল)। ফ্রান্সের পাঁচটি collectivités d'outre-mer' আছে, একটি territoire d'outre-mer, এবং এক collectivité sui generis আছে। এইসব অঞ্চল সবগুলিই ফ্রান্সের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ফরাসি আইন সাপেক্ষে সৃষ্ট, তবে নিউ ক্যালডোনিয়া '(collectivité sui generis)' এবং ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া (পাঁচটি 'ollectivités d'outre-mer এর' মধ্যে একটি) বেশিরভাগ স্বায়ত্তশাসন। ফরাসি সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল ছাড়াও অ্যান্টার্কটিক ফ্রেঞ্চ সাউদার্ন এবং এন্টার্কটিক অঞ্চল ফ্রান্স প্রতিনিধিত্ব করে। প্রতিরক্ষা এবং কূটনৈতিক বিষয়ে ফ্রান্সের দায়িত্ব আছে। কিন্তু তারা সরাসরি কিছু সংগঠনে অংশগ্রহণ করে। উদাহরণস্বরূপ, রেউনিওন ভারত মহাসাগর কমিশনের সদস্য। উপরন্তু, ফ্রান্সের বিদেশী অঞ্চল কর্তৃপক্ষের সরাসরি অধীনে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্লিপারটন দ্বীপ রয়েছে। ফরাসি বিদেশী অঞ্চল অতীতে ঔপনিবেশিক সম্পত্তি ছিল।

ইরাক ও কুর্দিস্তান[সম্পাদনা]

আরব্য ইরাক এবং কুর্দিস্তানের তাদের নিজ নিজ অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলির উপর সার্বভৌমত্ব রয়েছে। চুক্তিটি ২০০৫ সালের সংবিধানে স্থির হয়েছিল।

কাশ্মীর ও ভারত/পাকিস্তান[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর ব্রিটিশ ভারতেের রাজ্যগুলোকে ভারত বা পাকিস্তানকে বেছে নেওয়ার জন্য সুযোগ দেওয়া হয়। কাশ্মিরি রাজ্যের শাসন ছিল হিন্দু রাজা মহারাজা হারি সিং এর অধীনে, কিন্তু এর জনসংখ্যার অধিকাংশ মুসলিম ছিল। বার্টন স্টেইন এর হিস্টরি অব ইন্ডিয়া অনুসারে,

"কাশ্মির হায়দ্রাবাদের মতো বড় বা পুরনো স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল না, এটি ১৮৪৬ সালে শিখদের প্রথম পরাজয়ের পর ব্রিটিশদের পক্ষপাতী একজন প্রাক্তন কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করার পর ব্রিটিশদের দ্বারা গঠিত হয়েছিল রাজ্যটি। হিমালয় রাজ্য পাঞ্জাবের একটি জেলার মাধ্যমে ভারতের সাথে যুক্ত ছিল, কিন্তু এর জনসংখ্যার ৭৭ শতাংশ মুসলিম ছিল। এবং এটি পাকিস্তানের সাথেও সীমানা ভাগ করে নেয়। অতএব, এটি আশা করা হয়েছিল যে মহারাজা পাকিস্তানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হবে যখন ব্রিটিশ সার্বভৌমত্ব ১৪-১৫ আগস্টে শেষ হবে। যখন তিনি এই কাজ করতে দ্বিধা করেন, তখন পাঠান উপজাতি তাদের শাসকের ওপর গেরিলা আক্রমণ চালায় এবং তারা নেতা হয়ে ওঠে। পরিবর্তে মহারাজা সাহায্যের জন্য মাউন্টব্যাটেনের কাছে আবেদন করেন[১] এবং গভর্নর জেনারেল এই শর্তে সম্মত হন যে শাসক ভারতে প্রবেশ করবে। ভারতীয় সৈন্যরা কাশ্মিরে প্রবেশ করেছিল এবং পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকদের রাজ্যের একটি ছোট অংশের থেকে তাড়াতে সক্ষম হয়েছিল। জাতিসংঘ মিশন কাশ্মীরিদের মতামত নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছিলেন। অথচ ভারত জোর দিয়েছিল যে পর্যন্ত না সব অনিয়ম রাজ্য থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত কোন গণভোট ঘটতে পারে না।"[২]

বর্তমানে, অঞ্চলটি আঞ্চলিক বিরোধে তিনটি দেশের মধ্যে বিভক্ত: পাকিস্তান উত্তর-পশ্চিম অংশ (গিলগিট-বাল্টিস্থান এবং আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর) নিয়ন্ত্রণ করে, ভারত কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ অংশ (জম্মু ও কাশ্মীর) ও লাদাখ নিয়ন্ত্রণ করে এবং চীন উত্তর-পূর্ব অংশ (আকসিন চিন ও ট্রান্স-কারাকোরাম ট্র্যাক্ট) নিয়ন্ত্রণ করে। সল্টোরো রিজ পাসসহ ভারত সিয়াচেন হিমবাহ এলাকার বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, যদিও পাকিস্তান সল্টোরো রিজের দক্ষিণ-পশ্চিমে নিচু অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে। ভারত বিতর্কিত অঞ্চলের ১০১,৩৩৮ বর্গকিলোমিটার (৩৯,১২৭ বর্গ মাইল) নিয়ন্ত্রণ করে; পাকিস্তান ৮৫,৮৪৬ বর্গকিলোমিটার (৩৩,১৪৫ বর্গ মাইল); এবং পিআরসি, বাকি ৩৭,৫৫৫ বর্গকিলোমিটার (১৪,৫০০ বর্গ মাইল) নিয়ন্ত্রন করে।

মরিশাস ও রদ্রিগেজ[সম্পাদনা]

২০শে নভেম্বর ২০০১ এ মরিশাস জাতীয় পরিষদ দুটি আইন গ্রহণ করে রদ্রিগেজের সার্বভৌমত্বকে স্বায়ত্বশাসিত এবং একটি বিকেন্দ্রীভূত সরকার ব্যবস্থা তৈরি করে। এই নতুন আইনটি রদ্রিগেজের একটি আঞ্চলিক নির্বাহী পরিষদ বাস্তবায়নের অনুমতি দিয়েছে সদস্য হবে ১৮ জন এবং একজন প্রধান কমিশনার নেতৃত্বে থাকবে। কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিতে, আইন প্রণয়ন করতে এবং বাজেট পরিচালনা করতে প্রতি সপ্তাহে মিলিত হয়। দ্বীপের বিভিন্ন কাজ পরিচালনার তথ্য মৌরিতানীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়ার দায়িত্বটি প্রধান কমিশনারের রয়েছে।

মল্ডোভা ও গাগাজিয়া[সম্পাদনা]

১৯৯৪ এ, মল্ডোভা প্রজাতন্ত্রের দক্ষিণাঞ্চলের একটি অঞ্চল গাগাজিয়া নগরের বাসিন্দা যারা বেশিরভাগ মল্ডোভিয়ানদের থেকে আলাদা একটি জাতিগত গোষ্ঠী, তাদেরকে "বাহ্যিক আত্মনির্ধারণের অধিকার" সহ স্বায়ত্তশাসন এর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। এটি মল্ডোভার অন্যান্য উপবিভাগের (রাইওয়েন) বিপরীতে, যা সামান্য স্বায়ত্তশাসনের সাথে কাউন্টি স্তরের প্রশাসনিক অঞ্চল। তবে, মল্ডোভার পূর্বাঞ্চল একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিচ্ছিন্ন প্রজাতন্ত্র (ট্রান্সনিস্ট্রিয়া) যা প্রকৃতপক্ষে স্বায়ত্বশাসিত।

নেদারল্যান্ড, আরুবা, কুরাসাও ও সিন্ট মার্টিন[সম্পাদনা]

নেদারল্যান্ড রাজ্যটি চারটি স্বায়ত্তশাসিত দেশ নিয়ে গঠিত, যা নেদারল্যান্ডস কিংডম অব চার্টার দ্বারা সংযুক্ত। যার অংশ হিসাবে যুক্ত: নেদারল্যান্ড (একটি স্বায়ত্তশাসিত, স্বতন্ত্র দেশ) এবং আরুবা, কুরাসাও এবং সিন্ট মার্টিন, তিনটি পৃথক নিজেদের দ্বারা স্বায়ত্তশাসিত দেশ। আরুবা, কুরাসাও এবং সিন্ট মার্টিন পূর্বে নেদারল্যান্ডস অ্যান্টিলিস গঠন করেছিল, যা ১৯৫৪ সাল অবধি নেদারল্যান্ডসের উপনিবেশ ছিল। ১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত গণভোটের পরে আরুবা নেদারল্যান্ডসের রাজ্যের সাথে উপনিবেশ থেকে বাতিল সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল এবং স্বায়ত্তশাসিত হয়ে অ্যান্টিলিস থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছিল , status aparte সহ: মানে একটি স্বায়ত্তশাসিত দেশ। যার পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেশের মর্যাদা ১৯৮৬ সাল থেকে সনদে সরকারীভাবে স্বীকৃত হয়। সনদটি চারটি পৃথক স্বায়ত্তশাসিত দেশকে যুক্ত করেছে। তিনটি দেশ আরুবা, কুরাসাও এবং সিন্ট মার্টিনের রাষ্ট্রীয়তা নেই তবে নেদারল্যান্ডসের সাথে ডাচ জাতীয়তার এবং পাসপোর্টের মিল আছে। নেদারল্যান্ডস রাজ্য সহ চারটি দেশের পৃথক সংবিধান, সরকার এবং সংসদ রয়েছে। তবে আরুবার নিজস্ব জাতীয় মুদ্রা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে রাজ্যের মন্ত্রিপরিষদ হল নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রিপরিষদের কার্যকরী তিন মন্ত্রীর সমন্বয়। এবং এই তিন মন্ত্রীর একজন অন্য দেশের দ্বারা মনোনীত হন। রাজ্যের আইনসভা নেদারল্যান্ড সংসদ নিয়ে গঠিত। নেদারল্যান্ডের মন্ত্রিপরিষদ আরুবা, কুরাসাও এবং সিন্ট মার্টিনের পাশাপাশি ডাচ সরকারের দায়িত্বে থাকার জন্য দায়বদ্ধ এবং নেদারল্যন্ডের সংসদের ওপর নির্ভরশীল। এখানে অন্যান্য দেশের রাজনীতিবিদদের সীমিত অংশগ্রহণ রয়েছে। আরুবা, কুরাসাও এবং সিন্ট মার্টিন একটি সাধারণ আদালতে আপিল করে; Dutch Hoge Raad ("উচ্চ কাউন্সিল") তাদের সবার সর্বোচ্চ আদালত হিসাবে কাজ করে।

এই অঞ্চলের সাথে সম্পর্কিত ডাচ নাগরিকগন সম্পূর্ণরূপে ইউরোপীয় নাগরিক; তবে, আরুবা, কুরাসাও এবং সিন্ট মার্টিনের বাসিন্দা ডাচ-ক্যারিবিয়ান নাগরিক। যারা সাধারণত ডাচ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার পায় না। তবে ইউরোপীয় সংসদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোট দিতে পারে। আরুবা, কুরাসাও এবং সিন্ট মার্টিন হলেন বিদেশী দেশ এবং অঞ্চলসমূহ (OCTs)। যা ইসি চুক্তির দ্বিতীয় সংযুক্তি অনুসারে তালিকাভুক্ত। তাই ইসির আইন সেখানে প্রয়োগ হয় না।

নেদারল্যান্ডস অ্যান্টিলিসকে ১৫ ই ডিসেম্বর ২০০৮ এ একীভূত রাজনৈতিক সত্তা হিসাবে বিলুপ্ত করার কথা ছিল। যাতে পাঁচটি দ্বীপপুঞ্জ নেদারল্যান্ডের রাজ্যের মধ্যে নতুন সাংবিধানিক মর্যাদাগুলি অর্জন করতে পারে। তবে এই বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছিল ১০ ই অক্টোবর, ২০১০ পর্যন্ত। ১৯৮৬ সালে আরুবা যেমন পরাধীন দেশ হিসেবে স্বায়ত্তশাসন লাভ করেছিল, কুরাসাও এবং সিন্ট মার্টিনও তেমনি পরাধীন দেশ হিসেবে স্বায়ত্তশাসন লাভ করেছিল। এবং বোনেয়ার, সিন্ট ইউস্টাটিয়াস এবং সাবা এই তিনটি দ্বীপপুঞ্জ নিজেই নেদারল্যান্ডসের বিশেষ পৌরসভাতে পরিণত হয়েছিল।

নিউজিল্যান্ড ও কুক দ্বীপপুঞ্জ[সম্পাদনা]

কুক দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ফোরামের সদস্য এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের "Umbrella Agreement" এর অংশ। যা "Pacific Agreement on Closer Economic Relations" (PACER) নামে পরিচিত। এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ১৪ টি এসিপি ফোরামের দ্বীপপুঞ্জের দেশগুলির (অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ছাড়া) মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য এলাকা তৈরির ভবিষ্যৎ এর পরিকল্পনা যা "Pacific Island Countries Trade Agreement" (PICTA) নামে পরিচিত। ২০০৮ সালে কটনু চুক্তির অধীনে, কুক দ্বীপপুঞ্জ এসিপি রাজ্যের এবং ইইউ মধ্যে নতুন Economic Partnership Agreement (EPA) নিয়ে আলোচনা যা ২০০৮ থেকে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। কুক দ্বীপপুঞ্জ ৯ম EDF (PRIP) Regional Trade and Economic Integration Programme থেকেও উপকৃত হয়। যা PICTA বাস্তবায়নে বিভিন্ন অঞ্চলের সহায়তার জন্য প্রায় ৯ মিলিয়ন ইউরো সরবরাহ করে। উন্নত অংশীদারদের সাথে বাণিজ্য চুক্তি (যেমন EPA) করে, যার ফলে WTO'র সাথে ভালো সম্পর্ক এবং বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়।

নিকারাগুয়া, উত্তর ক্যারীবিয়ান উপকূলের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল, দক্ষিন ক্যারীবিয়ান উপকূলের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল[সম্পাদনা]

নিকারাগুয়া ১৫ টি বিভাগে ও দুইটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলে বিভক্তঃ উত্তর ক্যারীবিয়ান উপকূলের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল, দক্ষিন ক্যারীবিয়ান উপকূলের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল। স্বায়ত্বশাসিত এই দু'টি অঞ্চল জেলায়ার ঐতিহাসিক বিভাগ এবং মস্কুইটো উপকূলের অংশ।

পাপুয়া নিউগিনি ও বগেনভিল[সম্পাদনা]

পাপুয়া নিউগিনি ২০ টি প্রদেশে বিভক্ত। তাদের মধ্যে বগেনভিলের স্বায়ত্বশাসিত সরকার আছে।

সেইন্ট কিটস ও নেভিস[সম্পাদনা]

নেভিস, সেইন্ট কিটসের অধীনে স্বায়ত্বশাসিত। যাদের নিজেদের ডেপুটি গভর্নর ও সরকার রয়েছে।

সাও তোম ও প্রিন্সিপে[সম্পাদনা]

সাও তোমের ভিতরে থেকেও ১৯৯৫ সাল থেকে প্রিন্সিপের নিজস্ব সরকার আছে।

সার্বিয়া, ভজভোদিনা, কসোভো[সম্পাদনা]

সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী সার্বিয়াতে ২টি স্বায়ত্বশাসিত প্রদেশ আছেঃ ভজভোদিনা, কসোভো ও মেটোছিয়া। কোসোভোর একটি আংশিক স্বীকৃত প্রজাতন্ত্র পরবর্তীতে প্রদেশটিকে পরিচালনা করে, যার ফলে একটি আঞ্চলিক বিরোধ ঘটে।

তাজিকিস্তান ও গোর্নো-বাদাখসান[সম্পাদনা]

গোর্নো-বাদাখসান পূর্ব তাজিকিস্তানের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।

তানজানিয়া ও যানজিবার[সম্পাদনা]

তানজানিয়া ৩০ টি অঞ্চলে বিভক্ত। ঐ অঞ্চলের পাঁচটি একসঙ্গে যানজিবার গঠন করে। এই দ্বীপ একটি স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল। অঞ্চলটিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হয়, যিনি দ্বীপটির অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলির উপর নিয়ন্ত্রণ রাখেন। যানজিবার একটি স্বাধীন দেশ ছিল এবং ব্রিটিশদের রক্ষাকারী ছিল। তানজানিয়া ১৯১২ সাল পর্যন্ত জার্মান Schutzgebiet ছিল, যখন এটি ব্রিটিশদের আজ্ঞার অঞ্চল হয়ে ওঠে। যানজিবারের সুলতানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পর থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত দেশ দুইটি ঐক্যবদ্ধ ছিল।

ত্রিনিদাদ ও ট্যোবাগো[সম্পাদনা]

টোবাগোর নিজস্ব অধিবেশনের এবং নিজস্ব প্রধান সচিব আছে। এটি ত্রিনিদাদ ও টোবাগো কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু দায়িত্ব পালন করে।

ইউক্রেন[সম্পাদনা]

ইউক্রেনে ২৩ টি বিশেষ এলাকা এবং একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ পৌরসভা (কিভ) রয়েছে। ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত ক্রিমিয়ার উপদ্বীপ রাশিয়ান এসএফএসআর এর অধীনে বিশেষ এলাকা ছিল। পেরিয়াসল্ভ চুক্তির ৩০০ তম বার্ষিকীর স্মৃতি হিসেবে এটি সোভিয়েত পলিতবুরো এর দ্বারা স্থানান্তরিত হয়। ১৯৯১ সালে ক্রিমিয়াতে স্বায়ত্বশাসন শুরু হয়। এটির জনসংখ্যার ভিতরে রাশিয়ান (৫৮%), ইউক্রেনিয়ান (২৪%) ও ক্রিমিয়ান (১২%) ছিল। উপদ্বীপটি রাশিয়ার কালো সাগর ফ্লিটে যা ২০২৪ সাল পর্যন্ত লিজে রয়েছে। এবং উপদ্বীপটি সেভস্তোপল শহরে অবস্থিত। ১৬ই মার্চ, ২০১৪ তারিখে অনুষ্ঠিত গণভোটের পর ক্রিমিয়া ইউক্রেন থেকে আলাদা হয়ে রাশিয়ার সাথে যোগ দেয়। বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং ইউক্রেন নিজেই এটি অবৈধ ঘোষণা করে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পুয়ের্তো রিকো[সম্পাদনা]

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রপুয়ের্তো রিকোর মধ্যে সম্পর্ক হচ্ছে স্বায়ত্বশাসনের।[৩][৪]

পুয়ের্তো রিকোতে বসবাস্কারী জনগণ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং তারা অবাধে যুক্তরাষ্ট্র ও পুয়ের্তো রিকোর মধ্যে যাতায়াত করতে পারে। পুয়ের্তো রিকোর বাসিন্দারা কিছু ফেডারেল ট্যাক্স থেকে মুক্ত। পুয়ের্তো রিকোর স্বায়ত্তশাসন কংগ্রেস এর মাধ্যমে দেওয়া হয়। পুয়ের্তো রিকোর সরকারের উপর কোনো ট্যাক্স নেই যদি না সরকার ট্যাক্স দিতে না চায়। যদিও মার্কিন সরকার তাদের বিদেশী নীতির উপর সম্পূর্ণ বলার অধিকার রাখে, তবুঅ পুয়ের্তো রিকো তার ক্যারিবিয়ান প্রতিবেশীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখে।

পুয়ের্তো রিকোর ইউএস কংগ্রেসে পূর্ণ ভোটের অধিকা নেই। কিন্তু তাদের জনগণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেয় না।

উজবেকিস্তান ও কারাকালপাক্স্তান[সম্পাদনা]

কারাকালপাক্স্তান একটি স্বায়ত্বশাসিত রাষ্ট্র যা উজবেকিস্তানের পুরো পশ্চিমাঞ্চল দখল করে নিয়েছে।

স্বায়ত্তশাসনের অন্যান্য পদ্ধতির তুলনা[সম্পাদনা]

বিকেন্দ্র্রীকরণ[সম্পাদনা]

যুক্তরাষ্ট্রতন্ত্র বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভর করে। যেমনঃ ডেনমার্ক, স্পেন এবং যুক্তরাজ্য, কেননা একটি স্বীকৃত রাষ্ট্রের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার উপনিবেশগুলির স্বাধীনতা প্রত্যাহার করতে পারে সংবিধান পরিবর্তন ছাড়াই। (যেমন স্কটিশ পার্লামেন্ট, ওয়েলসের জাতীয় পরিষদ, উত্তর আয়ারল্যান্ড অ্যাসেম্বলিতে যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে)।

সংযুক্ত রাষ্ট্র[সম্পাদনা]

যুক্তরাষ্ট্রতন্ত্র বিভিন্ন সংযুক্ত রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে ফেডারেটেড স্টেটস অফ মাইক্রোনেশিয়া (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুক্ত সহযোগিতায়) এবং কুক দ্বীপপুঞ্জ এবং নিউ (যা নিউজিল্যান্ডের রাজ্যের অংশ)। দুই ধরণের সংযুক্ত রাষ্ট্র রয়েছে: মাইক্রোনেশিয়ার ক্ষেত্রে, দুইটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি দ্বারা সংসদের সমাপ্তি ঘটে; কুক দ্বীপপুঞ্জ এবং নিউয়ের ক্ষেত্রে, দেশীয় আইনি ব্যবস্থা দ্বারা সংসদের সমাপ্তি হয়।

রাজশক্তির নির্ভরতা[সম্পাদনা]

যুক্তরাষ্ট্র এবং রাজশক্তির নির্ভরতার সম্পর্ক যেমনঃ আইল অফ ম্যান এবং চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জের গার্নসে এবং জার্সির মধ্যকার সম্পর্ক একটি যুক্তরাষ্ট্রতন্ত্রের সম্পর্কের অনুরূপ: দ্বীপগুলি যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা ভোগ করে রাজশক্তির মাধ্যমে। এবং রাজশক্তি তাদের বিদেশী সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষার ওপর কর্তৃত্ব খাটায়। দ্বীপপুঞ্জগুলি যুক্তরাজ্যের সংসদের অন্তর্ভুক্ত বা অংশ নয় এবং এগুলি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসাবে বিবেচিত হয় না। আইল অব ম্যান এর রাজা নেই কিন্তু দ্বিতীয় রানী এলিজাবেথ তাদের ম্যান অফ লর্ড।

বিদেশী অঞ্চল[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ বিদেশি অঞ্চল গুলো বিভিন্ন মাত্রার ক্ষমতার চর্চা করে। কেউ কেউ যুক্তরাজ্য থেকে যথেষ্ট স্বাধীনতা উপভোগ করেন যা কেবল তাদের বিদেশী সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষার প্রতি খেয়াল রাখে। তবে এগুলো দেশকে যুক্তরাজ্যের অংশ হিসাবে বিবেচনা করা হয় না, বা সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবেও স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।

অসম ফেডারেশন[সম্পাদনা]

একটি অসম্পূর্ণ ফেডারেশনের উপনিবেশের মধ্যে একটি উপনিবেশে অন্যেটির চেয়ে বেশি স্বাধীনতা থাকে। উদাহরণঃ কানাডা, যেখানে ক্যুবেককে স্বাধীন ভাষা ও শিক্ষানীতি নৈপুণ্যের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সম্মান দেওয়া হয়েছে।

কিছু একক রাজ্য, যেমনঃ স্পেন এবং যুক্তরাজ্যকেও অসম ফেডারেশন হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, স্প্যানিশ স্বায়ত্তশাসিত সম্প্রদায়ের তুলনায় স্পেনের বাস্ক রাষ্ট্র, কাতালোনিয়া এবং গ্যালিসিয়া (পরবর্তীতে আন্দালুসিয়া, আরাগন, বেলিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ, ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ, নাভেরে, ভ্যালেন্সিয়া ইত্যাদি) কে স্বায়ত্তশাসন এবং রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

একটি অসম ফেডারেশন এবং ফেডারেসির মধ্যে পার্থক্য হল নির্বিচার। একটি ফেডারেসি মূলত অসম ফেডারেশনের ক্ষেত্র, বা সাংবিধানিক ব্যবস্থার কঠোরতার কারণ।

সমালোচনা[সম্পাদনা]

ডক্টর জেমি লুক এলজার ও ওয়াটসের যুক্তরাষ্ট্রতন্ত্রের বর্ণনার সমালোচনা করেন। লুক যুক্তি দেন যে "ফেডারেসি" পুয়ের্তো রিকোর (এবং অন্যান্য তুলনীয় ক্ষেত্রে) ক্ষেত্রে অপব্যবহার করা হয়েছে, এবং এটি "ধারণাগত প্রসারন" এর একটি উদাহরণ। তিনি দেখান যে "ফেডারেসি" শেষ পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার প্রকার বোঝার জন্য সহায়ক নয়। এবং সুপারিশ করে যে তুলনামূলক ফেডারালিজমের বিশেষজ্ঞদের পুয়ের্তো রিকোর মতো সমসাময়িক প্রকৃতি বিদ্যমান এমন স্বায়ত্তশাসনের বিবরণ দেওয়ার জন্য আরও ভাগের সন্ধান করা উচিত। লুক দেখাযন যে ফেডারেসি সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামান্য কিছু করার আছে। এবং আসলে স্বতন্ত্র ব্যবস্থা যা "স্বায়ত্তশাসন" হিসাবে দেখা হয় এটি অনেক বিস্তৃত। এই ধরণের স্বায়ত্তশাসন যে ধারাবাহিকতায় শ্রেণীতে রয়েছে তা "ফেডারেসি"কে এভাবে পুনর্বিবেচনা করবে:

  • একক রাজ্যে স্বায়ত্তশাসন: কর্সিকা, অ্যাল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জ, ক্রিমিয়া এবং গগজিয়া।
  • "ফেডারেল রাজনৈতিক ব্যবস্থা"য় অযুক্তরাষ্ট্রতন্ত্রীয় স্বায়ত্তশাসন (যা তিনি দুই বা তার বেশি) যা সরকারের স্তরের পদ্ধতি হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেন, যা যৌথ সরকারের জন্য সাধারণ প্রতিষ্ঠান এবং আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসনের মাধ্যমে নিয়মগুলির উপাদানগুলিকে এক করেঃ পুয়ের্তো রিকো, উত্তর মেরিয়েনাস, গুয়াম, নুনাভুত, আইল অফ ম্যান, জার্সি, গার্নসে।
  • ফেডারেল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিবর্তনমূলক স্বায়ত্তশাসন: স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, উত্তর আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ টাইরল, ভ্যালি ডি'আস্ত, সার্ডিনিয়া, সিসিলি এবং ফ্রুলি-ভেনিজিয়া গিয়ুলিয়া।
  • ফেডারাল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আধা-ফেডারেল স্বায়ত্তশাসন: কাতালোনিয়া, বাস্ক রাষ্ট্র এবং গ্যালিসিয়া।

পুয়ের্তো রিকোর ক্ষেত্রে[সম্পাদনা]

পুয়ের্তো রিকোর ক্ষেত্রে, লুক উল্লেখ করেছেন যে, যদিও এলজারা পুয়ের্তো রিকো-মার্কিন সম্পর্কের প্রকৃতিকে ভুলভাবে চিহ্নিত করেছেন, তবুও এটি এখনও "ফেডারেশন" এর আদিরূপ হিসাবে এটিকে উল্লেখ করা হয়। লুক পুয়ের্তো রিকোকে একটি অ-ফেডারেল স্বায়ত্তশাসন হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রাজনৈতিক সিস্টেমের আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভূক্ত অঞ্চল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের অধীনে মার্কিন কংগ্রেসের পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা সাপেক্ষে বলা হয় যে পুয়ের্তো রিকো কোন মুক্ত রাষ্ট্র নয়। ২০০৫, ২০০৭ এবং ২০১১ সালে পুয়ের্তো রিকোর স্থিতি বিষয়ক তিনটি রাষ্ট্রপতি-সংক্রান্ত কর্মীদলের দ্বারাও একই রকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বিশেষত, লুক মনে করেন যে ১৯৮৭ ও ১৯৯১ সালে এলজারের দাবির বিপরীতে, পুয়ের্তো রিকো-মার্কিন সম্পর্কের অবসান বা সংশোধন করার ক্ষমতা রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে। স্পষ্টতই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে যে, পুয়ের্তো রিকোর উপর সার্বভৌমত্ব সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আছে করে এবং পুয়ের্তো রিকোর নেই।

লুক নোট করেছেন যে ওয়াটস এবং এলজার উভয়ই "ফেডারেশন" হিসাবে সংজ্ঞা দেয় "একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে একটি বড় একক একটি ছোট একক বা এককগুলির সাথে সংযুক্ত থাকে তবে ছোট এককটি যথেষ্ট স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখে এবং বৃহত্তর এককটি সরকারের সর্বনিম্ন ভূমিকা রাখে, যেখানে সম্পর্ক কেবলমাত্র পারস্পরিক চুক্তি দ্বারা বাতিল হতে পারে"। তবে এই সংজ্ঞার বিপরীতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সর্বনিম্ন ভূমিকা থেকেও পুয়ের্তো রিকোর নির্বাচিত প্রতিনিধি ব্যতীত কংগ্রেসে তাদের কোন কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নেই। পুয়ের্তো রিকোর বাসিন্দারাও মার্কিন রাষ্ট্রপতির পক্ষে ভোট দেয় না। তবে পুয়ের্তো রিকানরা মার্কিন রাজনৈতিক দলগুলিতে যোগদানের যোগ্য। উভয় প্রধান দল পুয়ের্তো রিকোতে জাতীয় পদের জন্য প্রাথমিক নির্বাচন পরিচালনা করে। পুয়ের্তো রিকোর কেন্দ্রীয় রাজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলিতেও সরাসরি কোন প্রতিনিধিত্ব নেই। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মূলত পুয়ের্তো রিকো-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক সাম্রাজ্যের কিছু উপাদান কোনো ফেডারেলিজমের প্রদর্শন করে না। "ফেডারেশন"এর স্বায়ত্তশাসনের উদাহরণ হিসেবে পুয়ের্তো রিকোকে আরও ভালভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। যা এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করার জন্য কম সহায়ক।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Viscount Louis Mountbatten, the last Viceroy of British India, stayed on in independent India from 1947 to 1948, serving as the first Governor-General of the Union of India.
  2. স্টেইন, বার্টন (২০১০)। "A History of India।" অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস। পৃষ্ঠা ২৫৮। আইএসবিএন 978-1-4051-9509-6।
  3. এলাজার, ড্যানিয়েল জে. (১৯৯১)। Federal Systems of the World: A Handbook of Federal, Confederal and Autonomy Arrangements। লন্ডন: লংম্যান। পৃষ্ঠা ২৩৬। আইএসবিএন 0-582-08694-9 
  4. Rezvani, David A. (২০০৭)। "The Basis of Puerto Rico's Constitutional Status: Colony, Compact, or "Federacy"?"। Political Science Quarterly। একাডেমি অব পলিটিক্যাল সায়েন্সেস। ১২২ (১): ১১৫–১৪০। doi:10.1002/j.1538-165x.2007.tb00594.xআইএসএসএন 0032-3195ওসিএলসি 128034053