আন্তঃসরকারি সংস্থা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আন্তঃসরকারি সংস্থা বলতে চুক্তির মাধ্যমে দুই বা ততোধিক জাতিরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত একটি আইনি সত্তাকে বোঝায়, যারা সরল বিশ্বাসে অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপরে যৌথ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। চুক্তির অনুপস্থিতিতে আইনি অর্থে আন্তঃসরকারী সংস্থার কোনও অস্তিত্ব থাকে না। চুক্তির মাধ্যমে সৃষ্ট আন্তঃসরকারি সংস্থাগুলি অধিকতর সুবিধাজনক কেননা এগুলি আন্তর্জাতিক আইনের অধীন এবং এগুলির সদস্যরাষ্ট্রগুলি নিজেদের মধ্যে বা অন্য রাষ্ট্রের সাথে বলবৎযোগ্য চুক্তিতে প্রবেশ করতে পারে। এগুলিকে ইংরেজি ভাষায় ইন্টারগভার্নমেন্টাল অর্গানাইজেশন (Inter-governmental Organization) বা সংক্ষেপে আইজিও (IGO) বলা হয়।[১]

আন্তঃসরকারি সংস্থাগুলির মূল উদ্দেশ্য ছিল সমগ্র বিশ্বের অধিবাসীদের জন্য এমন একটি কর্মপদ্ধতি সৃষ্টি করা, যাতে তারা একে অপরের সাথে আরও সফলভাবে শান্তি ও নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রগুলিতে একত্রে কাজ করতে পারে। বর্তমান সময়ে বিশ্বায়ন ও জাতিসমূহের পরস্পরনির্ভরশীলতার কারণে আন্তঃসরকারি সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যবস্থাসমূহে ও বৈশ্বিক শাসন প্রক্রিয়াতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

আন্তঃসরকারি সংস্থাগুলি বিভিন্ন বিষয়ের উপরে কাজ করে এবং বিশ্বের সমস্ত অঞ্চলের বিভিন্ন সরকার এগুলির সাথে জড়িত। সবচেয়ে প্রাচীন কয়েকটি আন্তঃসরকারী সংস্থা হল জাতিসংঘ (যেটি সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ-কে প্রতিস্থাপন করেছিল), বিশ্ব ডাক সংস্থা এবং উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা বা নেটো। ১৮৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব ডাক সংস্থা বর্তমানে জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থায় পরিণত হয়েছে। অন্যান্য সুপরিচিত আন্তঃসরকারি সংস্থার মধ্যে ইউরোপীয় ঐক্যসংস্থা (ইউরোপীয় ইউনিউয়ন), পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশসমূহের সংস্থা (ওপেক), বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক উল্লেখ্য।

জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নেটো-র মতো সংস্থাগুলি তাদের সদস্য রাষ্ট্রগুলির উপরে নিয়ম বেঁধে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এবং এগুলির বৈশ্বিক প্রভাব দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Intergovernmental Organizations (IGOs)"। Harvard Law School। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০২১