মোংলা বন্দর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মোংলা বন্দর
Mongla Port 3916.jpg
অবস্থান
দেশবাংলাদেশ
অবস্থানবাগেরহাট, খুলনা
স্থানাঙ্ক২২°২৯′২০″ উত্তর ৮৯°৩৫′৪৩″ পূর্ব / ২২.৪৮৮৮৯° উত্তর ৮৯.৫৯৫২৮° পূর্ব / 22.48889; 89.59528স্থানাঙ্ক: ২২°২৯′২০″ উত্তর ৮৯°৩৫′৪৩″ পূর্ব / ২২.৪৮৮৮৯° উত্তর ৮৯.৫৯৫২৮° পূর্ব / 22.48889; 89.59528
বিস্তারিত
চালু১৯৫০ সালে
পরিচালনা করেমোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ
মালিকবাংলাদেশ সরকার
পোতাশ্রয়ের প্রকারকৃত্রিম / প্রাকৃতিক
উপলব্ধ নোঙরের স্থান১১
পরিসংখ্যান
জলযানের আগমন৭৬২ টি (২০১৭-১৮)
বার্ষিক কন্টেইনারের আয়তন৪৩,৮২৭ টিইউ (২০১৭-১৮) [১]
কার্গো মূল্য৯.৫ মিলিয়ন টন (২০১৭-১৮) [১]
ওয়েবসাইট
mpa.gov.bd

মোংলা বন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত। এটা দেশের ২য় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর। এটি খুলনা শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। বন্দরটি ১ ডিসেম্বর, ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার সেলাবুনিয়া মৌজায় পশুর নদীমোংলা নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত। এটি পশুর নদী ও মংলা নালার সংযোগস্থলে ও বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৭১ নটিক্যাল মাইল উজানে  দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অংশে অবস্থিত এবং প্রধান অভ্যন্তরীণ নদী বন্দরসমূহ ও খুলনায় রেল টার্মিনালের সাথে সংযুক্ত। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক বন্দর চট্টগ্রামের উপর চাপ বেড়ে যাওয়ায়, অনেক আন্তর্জাতিক জাহাজ কোম্পানি বিকল্প রুট হিসেবে মোংলা বন্দরকে বেঁছে নিয়েছে।[২]

মোংলা বন্দর সুন্দরবন এবং মসজিদের শহর বাগেরহাট সহ দুটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানে পর্যটক জাহাজে করে ভ্রমণের জন্য একটি প্রবেশদ্বার। এই বন্দরে মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (মংলা ইপিজেড) এরও অবস্থান।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মোংলায় কাজে নিয়োজিত একটি স্ট্রাডল ট্রাক।

পূর্ব বাংলার দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলে সেবা দেয়ার জন্য ১৯৫০ সালে এই বন্দরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুরুর দিকে এটি চালনা বন্দর নামে পরিচিত ছিল।[৩] ১৯৫০ সালে এটি প্রতিষ্ঠা লাভের পর চালনা বন্দর কর্তৃপক্ষ নামে একটি সরকারি অধিদপ্তর হিসাবে যাত্রা শুরু করে এবং মে ১৯৭৭ সালে, চালনা বন্দর কর্তৃপক্ষ নামক একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে যা পুনঃরায় ১৯৮৭ সালের মার্চ মাসে নাম পরিবর্তনপূর্বক "মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ” হিসেবে যাত্রা শুরু করে।[৪]

ভৌগলিক অবস্থান[সম্পাদনা]

এই বন্দরটি চালনা থেকে পশুর নদীর ১১ মাইল (১৮ কিলোমিটার) উজানে গড়ে উঠে। ১৯৫০ সালের ১১ ডিসেম্বর বন্দরটি বিদেশি জাহাজ নোঙরের জন্য উন্মুক্ত হলে একটি ব্রিটিশ বণিক জাহাজ বন্দরে প্রথম নোঙ্গর করে। সমুদ্রগামী জাহাজ নোঙরের ক্ষেত্রে মোংলা অধিকতর সুবিধাজনক বিধায় ১৯৫৪ সালে বন্দরটি মোংলায় স্থানান্তরিত হয়।[৫] তখন মোংলা বন্দর দীর্ঘদিন ধরে চালনা নামেই পরিচিত হতে থাকে। পাকিস্তান আমলে একজন বন্দর পরিচালকের ওপর মোংলা বন্দরের প্রশাসনিক দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল, যার প্রধান কার্যালয় ছিল খুলনা শহরে।[৫] সমুদ্রগামী জাহাজ চলাচলের উপযোগী গভীরতা হারিয়ে ফেলায় পরবর্তী সময়ে, বিশেষ করে ১৯৮০ সাল থেকে বন্দরটি প্রায়ই বন্ধ করে দেওয়া হতো, এবং প্রতিবারই খননের পর এটি আবার জাহাজ নোঙরের জন্য উন্মুক্ত করা হতো

বন্দরের অবকাঠামো[সম্পাদনা]

এই বন্দরে ১১টি জেটি, পণ্য বোঝাই ও খালাসের জন্য ৭টি শেড এবং ৮টি ওয়্যারহাউজ রয়েছে। নদীর গভীরে রয়েছে ১২টি ভাসমান নোঙরস্থান। হিরণ পয়েন্টে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ নাবিকদের জন্য একটি রেস্ট হাউজ নির্মাণ করেছে। এই বন্দরটি বাংলাদেশ রেলওয়ের মাধ্যমে খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকার সাথে সংযুক্ত।

জাহাজ সেবা[সম্পাদনা]

২০১৫-১৬ তে, ৬৩৬টি জাহাজ এই বন্দরে নোঙর করে।[৬] বিশ্বের প্রায় সকল প্রধান বন্দরের সাথে এই বন্দরের সংযোগ আছে, যদিও এখানে বেশিরভাগ জাহাজ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপউত্তর আমেরিকা থেকে আসে। মাঝে মাঝে কিছু জাহাজ লাতিন আমেরিকা বা আফ্রিকার দেশগুলি থেকে আসে।[৫] শতশত জাহাজ প্রতি বছর এই বন্দর ব্যবহার করে, যেগুলোর বেশিরভাগ সিঙ্গাপুর, হংকং এবং কলম্বো দিয়ে আসে। ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জ বন্দর সহ বাংলাদেশের বেশিরভাগ নদীবন্দরকে এটি সংযুক্ত করেছে।

ভারতের সাথে একটি উপকূলীয় জাহাজ চুক্তির মাধ্যমে, মোংলা প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের সাথে জাহাজ রুটে সরাসরি কলকাতা বন্দরকে সংযোগ করেছে। থাইল্যান্ডের সাথেও একটি উপকূলীয় জাহাজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।[৭][৮]

ব্যবসা বাণিজ্য[সম্পাদনা]

রূপসা ব্রিজ মোংলা এবং খুলনাকে সংযুক্ত করেছে।

বর্তমানে বন্দরটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে, পণ্য খালাসের জন্য ২২৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করতে পারে। নোঙরের জন্য একটি বাধ্যতামূলক খোলামেলা দীর্ঘ চ্যানেল রয়েছে এবং উভয় পার্শ্বে ৩৩টি জাহাজ একই সাথে পণ্য খালাস বা বোঝাইয়ের জন্য সুবিধা পায়। প্রতিবছর এই বন্দরে প্রায় ৪০০টি জাহাজ এই বন্দরে নোঙর করে এবং বছরে গড়ে ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন পণ্যের আমদানি-রপ্তানি সম্পন্ন হয়।

ভবিষ্যৎ প্রসারণ[সম্পাদনা]

মোংলা বন্দরের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধিকল্পে বাংলাদেশ সরকার খনন কর্মসূচী এবং জেটি নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে।[৬][৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. https://www.youtube.com/watch?v=AL4xZZFxnm4
  2. "Bangladesh port expands as shippers avoid Chittagong"। Joc.com। ২০১২-০৬-০৫। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৭-২৪ 
  3. "Mongla Port - Banglapedia"। En.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৭-২৪ 
  4. "ইতিহাস-Mongla Port Authority"। www.mpa.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৪-১৭ 
  5. Banglapedia - Mongla Port
  6. "Mongla port capacity expanding"। En.prothom-alo.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৭-২৪ 
  7. G. Padmaja (২০১৬-০৬-২১)। "Coastal Shipping Could Propel Ties Between India and Bangladesh - The Wire"। Thewire.in। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৭-২৪ 
  8. Reuters Editorial (২০১৬-০২-০৯)। "Bangladesh-Thailand trade to quadruple with direct shipping links"। Reuters। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৭-২৪ 
  9. "Bangladesh: Plan for Mongla Port Development Project Unveiled"। Dredging Today। ২০১০-০৭-০৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৭-২৪