মহীরাবণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

মহীরাবণ চরিত্রটি কৃত্তিবাসী রামায়ণে পাওয়া যায় মূল রামায়ণে পাওয়া যায় না। মহীরাবণ রাবণের পুত্র ছিলেন। এঁর নয়টি মুণ্ড ছিল।

জন্ম ও বরলাভ[সম্পাদনা]

শক্রধনু নামের এক গন্ধর্ব দেবসভায় নৃত্য করার সময় এক অপ্সরাকে দর্শন করে মুগ্ধ হয় ও তালভঙ্গ করে। এতে ব্রহ্মা ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে রাক্ষস রূপে পৃথিবীতে জন্ম নেয়ার অভিশাপ দেন। রাবণ বলির কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ফেরার সময় পথমধ্যে গৌতমপত্নী অহল্যাকে দেখে এমনই কামমোহিত হন যে সেখানেই তার বীর্য স্খলিত হয়। সেই বীর্যে অভিশপ্ত গন্ধর্ব শক্রধনু জন্ম নেন। পৃথিবী থেকে জন্ম নেওয়ায় এর নাম মহীরাবণ। রাবণ মহীরাবণকে লঙ্কায় এনে তাকে মন্দোদরীকে প্রতিপালন করতে করতে দেন। পরে রাবণ ইন্দ্রজিতের সহায়তায় বলিকে পরাজিত করে পাতালের অন্তর্গত কাঞ্চনা নগরী অধিকার করে মহীরাবণকে তার রাজা করেন। মহীরাবণ পিতা রাবণের কাছে প্রতিজ্ঞা করেন তাকে যেকোনো বিপদে স্মরণ করলেই উপস্থিত হবেন। মহীরাবন নিজের রাজধানীতে উগ্রতারার পূজা করতেন। তার বরে মহীরাবণ মায়াবিদ্যায় পারদর্শিতা লাভ করেন। তিনি আরও বর দেন মানুষ ও বানর ব্যতীত কারো হাতে তার মৃত্যু হবে না।

হনুমানের হাতে মৃত্যু[সম্পাদনা]

গন্ধমাদন পর্বতের ঔষধি গূণে সবাই পুনর্জীবিত হলে রাবণ তার পুত্র মহীরাবণকে ডাকেন। মহীরাবণকে সকল কথা বললে তিনি রামলক্ষ্মণকে পাতালে নিয়ে গিয়ে হত্যা করবে বলে কথা দিলেন। এসময় বিভীষণ পাখির রূপ ধরে সব কথা শুনে রামকে তা জানিয়ে দেন। বিভীষণের পরামর্শে একটি গড় নির্মিত হয়। তার মাঝে রাম লক্ষ্মণকে রেখে চারিদিকে পাহারার ব্যবস্থা করলেন। মহীরাবণ বিভীষণের রূপ ধরে সবাইকে মায়াগ্রস্ত করে গড়ে প্রবেশ করেন এবং সুড়ঙ্গ পথে তাঁদের পাতালে নিয়ে যান। বিভীষণ এই সময় সেই স্থানে ছিলেন না। তিনি ফিরে আসলে সবাই খুব অবাক হয় কারণ সবাই তাকে এইমাত্র গড়ে প্রবেশ করতে দেখেছেন। তারা সবাই গড়ে গিয়ে দেখেন রাম - লক্ষ্মণ সেখানে নেই। জাম্বুবান এক সুড়ঙ্গ দেখতে পান। হনুমান সেই সুড়ঙ্গ পথে গিয়ে এক বৃদ্ধার কাছে জানতে পারেন দুই সুদর্শন যুবককে পাতালে আনা হয়েছে যাদের দেবী মহামায়ার কাছে বলি দেওয়া হবে। হনুমান মক্ষিকার রূপ ধরে কারাবন্দী রাম ও লক্ষ্মণের কাছে গেলেন তারপর নিজের আসল রূপে তাঁদের অভয় দিলেন। পুনর্বার হনুমান মাছির রূপ ধরে প্রাসাদে স্থাপিত দেবীর কানের কাছে বসে তার অভিমত জানলেন। দেবীও মহীরাবণের পাপকর্মের জন্য তার বিনাশ চান। হনুমান ফিরে এসে রাম ও লক্ষ্মঙ্কে বললেন মহী যখন তাঁদের দেবীকে প্রণাম করতে বলবে তারা যেন বলেন আমরা প্রণাম জানিনা। এরপর মহী দুই ভাইকে বলি দেওয়ার জন্য মন্দিরে নিলেন। তিনি তাঁদের দেবীকে প্রণাম করতে বললেন কিন্তু তারা হনুমানের শিখান কথা বললেন। মহী তখন ভূমিতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম কীভাবে করে তা দেখাতে লাগলেন। এমন সময় হনুমান নিজের রূপ ধরে দেবীর খড়্গ দিয়ে তার মস্তক দ্বিখণ্ডিত করলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • কৃত্তিবাসী রামায়ণ