বীরগঞ্জ, নেপাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বীরগঞ্জ
बीरगञ्ज
মহানগরপালিকা
বীরগঞ্জের স্কাইলাইন
বীরগঞ্জ নেপাল-এ অবস্থিত
বীরগঞ্জ
বীরগঞ্জ
বীরগঞ্জের অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৭°০′ উত্তর ৮৪°৫২′ পূর্ব / ২৭.০০০° উত্তর ৮৪.৮৬৭° পূর্ব / 27.000; 84.867স্থানাঙ্ক: ২৭°০′ উত্তর ৮৪°৫২′ পূর্ব / ২৭.০০০° উত্তর ৮৪.৮৬৭° পূর্ব / 27.000; 84.867
দেশ   নেপাল
প্রদেশপ্রদেশ নং ২
জেলাপর্সা
প্রতিষ্ঠা১৮৯৭
প্রতিষ্ঠা করেনবীর শমসের জঙ বাহাদুর রানা
সরকার
 • মেয়রবিজয় সারাওয়াগি (এফএসএফএন)
 • উপমেয়রশান্তি কর্কী (এনসি)
আয়তন
 • মোট৭৫.২৪ কিমি (২৯.০৫ বর্গমাইল)
মাত্রা
 • দৈর্ঘ্য১৯ কিলোমিটার (১২ মাইল)
 • প্রস্থ৪ কিলোমিটার (২ মাইল)
উচ্চতা৯২ মিটার (৩০২ ফুট)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট২,০৪,৮১৬
 • জনঘনত্ব২৭০০/কিমি (৭১০০/বর্গমাইল)
বিশেষণবীরগঞ্জ
ভাষা
 • দাপ্তরিকনেপালি, ভোজপুরী, উর্দু
সময় অঞ্চলএনএসটি (ইউটিসি+৫:৪৫)
পোস্ট কোড৪৪৩০০, ৪৪৩০১
এলাকা কোড০৫১
ওয়েবসাইটbirgunjmun.gov.np
নারায়ণী রঙ্গশালা
শ্রীপুর মসজিদ
ঘাড়িয়ারবা পোখারি
মাইস্থান মন্দির
ঘণ্টাঘর

বীরগঞ্জ (নেপালি: बीरगंज) নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের প্রদেশ নং ২-এর একটি মহানগরপালিকা। এটি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ১৩৫ কিমি (৮৪ মা) দক্ষিণে ভারতীয় রাজ্য বিহারের রক্সৌল শহরসংলগ্ন সীমান্তে অবস্থিত।[১] পাটনাকলকাতা থেকে সড়কপথে এটি নেপালের প্রবেশপথ হিসেবে বীরগঞ্জকে নেপালের প্রবেশদ্বার বলা হয়। নেপালের অর্থনীতিতে বীরগঞ্জ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সাথে নেপালের অধিকাংশ বাণিজ্য বীরগঞ্জ ও ভারতীয় শহর রক্সৌলের মাধ্যমে হয়ে থাকে। ত্রিভুবন মহাসড়ক বীরগঞ্জকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর সাথে যুক্ত করে। ২০১৭ সালের ২২ মে বিরাটনগরপোখারার সাথে বীরগঞ্জকে মহানগরপালিকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বীরগঞ্জ বর্তমানে বিরাটনগরের পর তরাইয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং নেপালের ষষ্ঠ ঘনবসতিপূর্ণ মহানগর।

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

গাহাওয়া মাই মন্দির ও এর আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের সমন্বয়ে বীরগঞ্জ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। গাহাওয়া মাই মন্দিরটি বর্তমানে শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত। রানা শাসনামলের প্রধানমন্ত্রী বীর শমসের জঙ বাহাদুর রানার নামানুসারে শহরের নামকরণ করা হয় 'বীরগঞ্জ'।

ভূগোল[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারী অনুসারে বীরগঞ্জের জনসংখ্যা প্রায় ১,৩৩,২৩৮।[২] এটি তরাই উপত্যকার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং কাঠমান্ডু, পোখারা, ললিতপুর এবং বিরাটনগরের পর নেপালের পঞ্চম বৃহত্তম শহর। এটি পর্সা জেলার সদর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রধান দাপ্তরিক ভাষা নেপালি হওয়া সত্ত্বেও ভোজপুরি প্রধান মৌখিক ভাষা। এছাড়া মৈথিলী, হিন্দি, ইংরেজিনেওয়ারি ভাষা অধিক প্রচলিত।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

রানা রাজবংশের ৩য় প্রধানমন্ত্রী বীর শমসের জঙ বাহাদুর রানা ১৮৯৭ সালে বীরগঞ্জ শহর প্রতিষ্ঠা করেন। এই শহরের পূর্ব নাম ছিল গাহাওয়া।

২০০৬ সালের ১৮ মে সরকার নেপালকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র করার ঘোষণা দিলে হিন্দু মৌলবাদীরা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে। এর প্রেক্ষিতে বীরগঞ্জ প্রায় দুই বছর অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকে। পরবর্তী আরও দশ বছর বীরগঞ্জে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করে।[৩]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

বীরগঞ্জ নেপালের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র। বিশেষত ভারতের সাথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বীরগঞ্জ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভারতের সাথে প্রায় অধিকাংশ পণ্য বিনিময় এই পথেই হয়ে থাকে। বাণিজ্যিক আদানপ্রদানের জন্য ভারতীয় সীমান্তবর্তী শহর রক্সৌল ভারী যানবাহনে ব্যস্ততম নগরে পরিণত হয়েছে। বীরগঞ্জ থেকে পাথলাইয়া ২৯ কিমি (১৮ মা) সড়ক নেপালের ব্যস্ততম মহাসড়ক হিসেবে বিবেচ্য। মূলত কৃষিপণ্য, রাসায়নিক, বস্ত্র, কাঠ, পেট্রোলিয়াম প্রভৃতি পণ্য এই পথে আনা নেওয়া করা হয়।[৪] বীরগঞ্জের রপ্তানিপণ্যের প্রায় ৫৬% ভারতীয় রাজ্য বিহারে রপ্তানি করা হয়।[৫]

পরিবহন[সম্পাদনা]

রাজধানী কাঠমান্ডুর সাথে ভারতকে সংযুক্তকারী সবচেয়ে নিকটবর্তী নেপালি শহর হিসেবে বীরগঞ্জকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। নেপাল সরকারি রেলওয়ের মাধ্যমে বীরগঞ্জ স্টেশন ভারতীয় সীমান্তের ওপর দিয়ে বিহারের রক্সৌল স্টেশনের সাথে সংযুক্ত ছিল। এই ৪৭ কিমি (২৯ মা) দীর্ঘ রেলওয়ে উত্তরে নেপালের অমলেখগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। ১৯২৭ সালে ব্রিটিশরা এটি নির্মাণ করে, কিন্তু ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বরে এই রেলপথ বন্ধ হয়ে যায়।[৬]

রেল পরিবহন[সম্পাদনা]

রক্সৌল স্টেশন (বীরগঞ্জের সীমান্তবর্তী ভারতীয় শহর) এবং সুগৌলী স্টেশন (রক্সৌল থেকে ১৭ মাইল দূরে) থেকে ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে ট্রেন যাতায়াত করে। এর মধ্যে দিল্লিগামী সত্যাগ্রহ এক্সপ্রেস, কলকাতাগামী মিথিলা এক্সপ্রেস, মুম্বাইগামী লোকমান্য তিলক এক্সপ্রেস, হায়দরাবাদগামী হায়দরাবাদ-রক্সৌল এক্সপ্রেস অন্যতম। এর মাধ্যমে বীরগঞ্জ ভারতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর, যেমন- পাটনা, বারাণসী, এলাহাবাদ, কলকাতা, নতুন দিল্লি, মুম্বই, ভোপাল, অমৃতসর, গুয়াহাটি, লখনউ, গোরক্ষপুর, কানপুর, রাঁচি, রাইপুর, নাগপুর, হায়দ্রাবাদ প্রভৃতির সাথে সরাসরি সংযুক্ত।

বিমান পরিবহন[সম্পাদনা]

বীরগঞ্জ শহরের ৯ মাইল উত্তরে সিমরা বিমানবন্দর অবস্থিত। এই বিমানবন্দরের মাধ্যমে কাঠমান্ডু ও সিমরার মধ্যে নিয়মিত বিমান চলাচল করে। বীরগঞ্জ থেকে ২২ মাইল দূরত্বে নিজগড়ে নেপালের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ চলছে। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার পর বীরগঞ্জ ও কাঠমান্ডুর মধ্যে সংযোগকারী "ফাস্টট্র‍্যাক এক্সপ্রেসওয়ে" নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা রাজধানী কাঠমান্ডু ও বীরগঞ্জের মধ্যকার ভ্রমণ সময় কমিয়ে আনবে।

বাস পরিষেবা[সম্পাদনা]

বীরগঞ্জ থেকে নেপালের অন্যান্য প্রধান শহর, যেমন- কাঠমান্ডু, পোখারা, পাটন, ভক্তপুর, বিরাটনগর, ধরন, বুটবল, নেপালগঞ্জ, ধনগড়ী, কাকরভিট্টা, জনকপুর, লুম্বিনী, ভরতপুর (চিতবন) প্রভৃতি শহরে নিয়মিত বাস চলাচল করে। স্থানীয় বাস পরিষেবা শহর ও এর আশেপাশের অঞ্চলে পরিবহন সেবা প্রদান করে। বীরগঞ্জ থেকে কাঠমান্ডু পর্যন্ত রাত্রিকালীন বাস পরিষেবা নেপালের অন্যতম বিলাসবহুল বাস পরিষেবা। শহরের প্রধান বাস টার্মিনাল বীরগঞ্জ বাস পার্ক থেকে সব রুটের বাস ছেড়ে যায়।

টাঙ্গা[সম্পাদনা]

ঘোড়াচালিত যান, স্থানীয়ভাবে টাঙ্গা নামে পরিচিত, ঐতিহাসিকভাবে স্থানীয় মধেশীদের যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে এটি বীরগঞ্জ ও এর পার্শ্ববর্তী শহর রক্সৌলের মধ্যে সংযোগকারী জনপ্রিয় বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কার্গো[সম্পাদনা]

ভারত রক্সৌল থেকে সব রেলপথ ব্রডগেজ করার দুই বছর পর বীরগঞ্জ থেকে রক্সৌল পর্যন্ত ৬ কিমি (৩.৭ মা) রেলপথ ব্রডগেজে পরিণত করা হয়৷ ২০০৫ থেকে সম্পূর্ণ সক্রিয় সির্সিয়া (বীরগঞ্জ) অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) থেকে ব্রডগেজ লাইনের মাধ্যমে রক্সৌলের সাথে সংযুক্ত হয়। আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব বিবেচনায় বীরগঞ্জ-অমলেখগঞ্জ রেলপথ ব্রডগেজে উন্নতির মাধ্যমে পুনরায় চালু করার জন্য আলোচনা চলমান।

ভারত থেকে নেপালে পণ্য বিনিময়ের জন্য বীরগঞ্জ স্থলবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের এই কার্গো বন্দর রাজধানী কাঠমান্ডুর সাথে আরেকটি বাণিজ্যিক শহর হেটৌডার মাধ্যমে সংযুক্ত। এছাড়া ত্রিভুবন মহাসড়কের সাথে যুক্ত থেকে ভারতীয় সীমান্তের রক্সৌলের সাথে বীরগঞ্জ ও হেটৌডা হয়ে কাঠমান্ডু সরাসরি সংযুক্ত হয়। মহাসড়কের ৯ মা (১৪ কিমি) উত্তরে বারা জেলার পিপরা সিমরায় অবস্থিত সিমরা বিমানবন্দরে কাঠমান্ডু থেকে নিয়মিত বিমান চলাচল করে।

ভারত ও নেপালের অধিবাসীদের মুক্তভাবে যাতায়াতের জন্য দুই দেশের সীমানা খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে পণ্য ও অন্য দেশের নাগরিকদের জন্য এখানে একটি চেকপয়েন্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

দর্শনীয় স্থান[সম্পাদনা]

ঘণ্টাঘর

খেলাধুলা[সম্পাদনা]

বীরগঞ্জের নারায়ণী রঙ্গশালা দশরথ রঙ্গশালার পর ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্টেডিয়াম। নারায়ণী রঙ্গশালার ধারণক্ষমতা ১৫,০০০ জন। তবে স্টেডিয়ামটির বর্তমান অবস্থা শোচনীয়। এছাড়াও নারায়ণী স্টেডিয়ামের পাশে একটি জাতীয় মানের ক্রিকেট মাঠ রয়েছে। এই মাঠে উচ্চ মানের আউটফিল্ড এবং ভালো মানের ক্রিকেট পিচ রয়েছে। নিয়মিত জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের ক্রিকেট ম্যাচ এখানে অনুষ্ঠিত হয়। অস্থায়ীভাবে স্থাপিত ফ্লাডলাইটের মাধ্যমে এখানে প্রতি বছর দিবারাত্রির টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। নেপালের প্রথম দিবারাত্রির ক্রিকেট ম্যাচ এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

এই শহরকে নেপাল ক্রিকেটের কেন্দ্র বলা হয় এবং এখানে আদর্শ নগর স্টেডিয়াম বিদ্যমান। নেপাল জাতীয় ক্রিকেট দলের হাসিম আনসারি, আরিফ শেখ, অবিনাশ কর্ণ এবং ইরশাদ আহমেদ প্রমুখ বীরগঞ্জের অধিবাসী। এখানে অন্যান্য খেলাধুলার চাইতে ক্রিকেটই সবচেয়ে জনপ্রিয়।

শিক্ষাব্যবস্থা[সম্পাদনা]

যুদ্ধ শমসের জঙ বাহদুর রানার শাসনামলে ত্রিযুদ্ধ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে এই শহরে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সূচনা ঘটে।

ঠাকুরাম বহুমুখী শিক্ষায়তন কাঠমান্ডু উপত্যকার বাইরে শহরের এমনকি নারায়ণী অঞ্চলের প্রথম ক্যাম্পাস। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই শহর শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছে। বীরগঞ্জের উল্লেখযোগ্য বিদ্যাপীঠের মধ্যে রয়েছে জ্ঞান জ্যোতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গৌতম বিদ্যালয়, জিএইচপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শ্রী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কদমবাড়ি একাডেমি, ন্যাশনাল ইনফোটেক কলেজ, বীরগঞ্জ কলেজ প্রাইভেট লিমিটেড, গুরুকুল একাডেমি, জ্ঞানদা একাডেমি, সিদ্ধার্থ একাডেমি, বিপিসি কলেজ, হরি খেতন শিক্ষায়তন, গৌতম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শ্রী নরসিংহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ইত্যাদি। এছাড়া কয়েকটি ব্যবসায় শিক্ষা কলেজ ও একটি মেডিকেল কলেজ (বীরগঞ্জ জাতীয় মেডিকেল কলেজ), হিমাল স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট রয়েছে, যেখানে নেপালি ও ভারতীয় শিক্ষার্থীরা শিক্ষাগ্রহণ করে থাকে।

গণমাধ্যম[সম্পাদনা]

বীরগঞ্জে বেশ কয়েকটি এফএম কম্যুনিটি রেডিও স্টেশন রয়েছে। যেমন নারায়ণী এফএম ১০৩.৮ মেগাহার্টজ, তরাই এফএম, রেডিও বীরগঞ্জ, ভোজপুরিয়া এফএম, ইন্দ্রানী এফএম, রেডিও বিন্দাস, বীরগঞ্জ মিউজিক্যাল এফএম, সিটি এফএম, আওয়াজ এফএম, পাবলিক এফএম ইত্যাদি। স্থানীয় টেলিভিশন স্টেশন বীরগঞ্জ টিভি (বিটিভি) স্থানীয় সংবাদ পরিবেশন করে। প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্রের মধ্যে রয়েছে প্রতীক, লোকটাইমস ডেইলি, কৃপা, ভোজপুরি টাইম, জন আওয়াজ ইত্যাদি। ১৭ ডিসেম্বর নেপালের তরাই অঞ্চলের প্রথম টেড সম্মেলন টেডএক্সবীরগঞ্জ অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাস্থ্যসেবা[সম্পাদনা]

নারায়ণী উপ-আঞ্চলিক হাসপাতাল নেপালের অন্যতম প্রাচীন হাসপাতাল। টিইউয়ের অধিভুক্ত জাতীয় মেডিকেল কলেজ[৭] এবং কেন্দ্রীয় ডেন্টাল কলেজ[৮] স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রধান দুই প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ছোট-বড় হাসপাতাল ও আন্তর্জাতিক মানের রোগনির্ণয় কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে আশ্রম হাসপাতাল, গণ্ডক হাসপাতাল, অ্যাডভান্স মেডিকেয়ার হাসপাতাল, কেডিয়া চক্ষু হাসপাতাল, ভবানী হাসপাতাল, মঙ্গলম রোগনির্ণয় কেন্দ্র, ভিশন ডায়গনস্টিক প্রাইভেট লিমিটেড, ব্যোধ্যা হাসপাতাল ইত্যাদি। ছাপাকাইয়া ওয়ার্ড নং ৩ থেকে গণ্ডক পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বেসরকারি নার্সিং হোম ও ক্লিনিক রয়েছে। মূলত পর্সা, বারা ও রক্সৌলের গ্রামীণ এলাকার অধিবাসীরা স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য এখানে আসে।

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

বীরগঞ্জের একটি মসজিদ

গণেশ চতুর্থী, হোলি, তীজ, কৃষাণ জন্মাষ্টমী, মহা শিবরাত্রি, দুর্গাপূজা, ছথ, দীপাবলি, ঈদ হলো বীরগঞ্জের প্রধান উৎসব। শহরের জনসংখ্যার একটি ছোট অংশ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তাই বুদ্ধ জয়ন্তীও শহরব্যাপী উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়। বীরগঞ্জ শহরের সংস্কৃতি শুধুমাত্র ধর্মীয় বৈচিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জাতিগত বৈচিত্রও দেখা যায়। মধেশী জনগোষ্ঠীর লোক শহরের জনসংখ্যার অধিকাংশ গঠন করে, যারা আবার কয়েকটি গোত্রে বিভক্ত - কান্ডু, গুপ্ত, শাহ, সিংহ, যাদব, মাহাতো, রাউনিয়ার ইত্যাদি। রাজস্থান থেকে আসা মারওয়ারিরা শহরের বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। এছাড়া বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী ইসলাম ধর্মাবলম্বী, যারা ঈদ, বকরা ঈদ প্রভৃতি উৎসব পালন করে থাকে।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ABOUT BIRGUNJ"www.cgibirgunj.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৭-০৪ 
  2. "Nepal population statistics"। ২০১৫-০৭-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  3. Nepal's Hindu majority is denouncing the recent move to end Nepal's longtime status as the world's only Hindu state. The Christian Science Monitor
  4. "Birgunj: Nepal's 'drug capital'"। english.aljazeera.net। 
  5. CPS, NEPAL 2013, Annual UN Report Bureau.
  6. "Transport in Nepal"। nepal.saarctourism.org। ২০০৮-১২-২৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-১২-২০ 
  7. "National Medical College Birgunj" 
  8. http://www.mbkediadentalcollege.com

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]