বাহাউদ্দিন নকশবন্দ বুখারী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(বাহা-উদ-দিন নকশবন্দ বুখারী থেকে পুনর্নির্দেশিত)
সৈয়দ বাহাউদ্দিন নকশবন্দি বুখারী
بهاءالدین محمد نقشبند بخاری
Bahaouddin Naqshbandi mausoleum entrance 3.JPG
বর্তমান উজবেকিস্তানের বুখারায় বাহাউদ্দিন নকশবন্দির দরগা
জন্মমহররম ৭১৭ হিজরি
মার্চ ১৩১৭
বুখারা
মৃত্যু৩ রবিউল আউয়াল ৭৯১ হিজরি
২ মার্চ ১৩৮৯
বাহাউদ্দীন স্থাপত্য কমপ্লেক্স, বুখারা
শ্রদ্ধাজ্ঞাপনইসলাম

সৈয়দ বাহাউদ্দিন নকশবন্দি বুখারী (১৩১৮-১৩৮৯ (উজবেক: بهاءالدین محمد نقشبند بخاری) একজন ইসলামি সুফি ব্যক্তিত্ব, লেখক ও অতীন্দ্রবাদী। তিনি নকশবন্দি তরিকার প্রতিষ্ঠাতা, যা ইসলামি বিশ্বের অন্যতম সর্ববৃহৎ তরিকার একটি।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

বাহাউদ্দিন বুখারার (বর্তমানে উজবেকিস্তান) সন্নিকটে কাসরে হিন্দুভান (পরবর্তীতে কাসরে আরেফান নামকরণ করা হয়) নামক স্থানে ১৩১৭ সালের মার্চে (মহররম ৭১৭ হিজরী) জন্মগ্রহণ করেন।[১] অল্প বয়স থেকেই তিনি আধ্যাত্মিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। ইউসুফ হামাদানির পঞ্চম বংশধর বাবা সাম্মাসি একবার কাসরে আরেফান গ্রাম অতিক্রম করে বলেছিলেন, "আমি একজন আধ্যাত্মিক জ্ঞানীর ঘ্রাণ অনুভব করছি যিনি এখানে জন্মগ্রহণ করবেন এবং যার নামে এই পুরো তরিকাটি পরিচিত হবে।"

আধ্যাত্মিক সাধনাকাল[সম্পাদনা]

শৈশব থেকেই বাহাউদ্দিন অসংখ্য সুফি সাধকদের সাহচর্যে ও সংশ্রবে ছিলেন। অল্প বয়সেই তিনি বাবা মোহাম্মদ সাম্মাসির নিকট বায়াত গ্রহণ করেন এবং তিনিই ছিলেন তার আধ্যাত্মিক জীবনের প্রথম দীক্ষাগুরু। তবে বাবা মোহাম্মদের প্রধান খলিফা (আধ্যাত্মিক প্রতিনিধি) আমির কুলালের সাথে বাহউদ্দিনের সম্পর্ক তার আধ্যাত্মিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মূলত তার থেকেই বাহাউদ্দিন আধ্যাত্মিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। তার সিলসিলার ক্রমটি নিম্নরূপ:[২]

  1. মুহাম্মদ
  2. আবু বকর
  3. সালমান আল-ফারসি
  4. কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর
  5. জাফর সাদিক
  6. বায়েজিদ বোস্তামি
  7. আবুল হাসান খারকানী
  8. আবু আলী ফরমাদি
  9. ইউসুফ হামদানি
  10. আবুল আব্বাস খিজির
  11. আবদুল খালিক গাযদাওয়ানী
  12. আরিফ বিওগরী
  13. মাহমুদ ফাগনাভী
  14. আলী রামীতনী
  15. বাবা সাম্মাসি
  16. আমির কুলাল
  17. বাহাউদ্দিন নকশবন্দ বুখারী

ওফাত[সম্পাদনা]

বাহাউদ্দিন ১৩৮৯ সালের ২ মার্চ (৩ রবিউল আউয়াল ৭৯১ হিজরি) ৭৩ বছর বয়সে কাসরে আরেফানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়। ১৫৪৪ সালে খান আবদুল আজিজ তার কবরের উপরে একটি সমাধি এবং আশেপাশের ইমারত নির্মাণ করেছিলেন। বুখারা থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে একটি মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স রয়েছে এবং বর্তমানে এটি একটি তীর্থযাত্রার স্থানে পরিণত হয়েছে।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "YAWM-A-WILAADAT HAZRAT KHWAJA SHAH BAHAUDDEEN NAQHSHBAND QADDAS ALLAHU SIRRUHUL AZEEZ"। ১৭ নভেম্বর ২০১৩। ২০১৩-১২-২৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  2. Sultanova, Razia (২০১১)। "Naqshbandiyya"। From Shamanism to Sufism। I.B.Tauris। পৃষ্ঠা 32–37। আইএসবিএন 978-1-84885-309-6 
  3. Mausoleum of Bahauddin Naqshbandi 2003-2013 Hotelica.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]