প্রাণী উপাসনা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কানিপাকামে প্রভু শিভ মন্দিরে গরুর একটি মূর্তি

প্রাণী উপাসনা (অথবা প্রাণীপূজা) বলতে প্রাণী সম্পর্কিত আচার-অনুষ্ঠান বোঝায়, উদাহরণস্বরূপ প্রাণী উপাস্য অথবা প্রাণী বলিদান। যখন একজন দেবতাকে শ্রদ্ধা করা হয় অথবা পূজা করা হয় প্রতিনিধি কোন পশুর মাধ্যমে, একটি প্রাণী অর্চনা গঠিত হয় (টিটার এবং প্রমুখ, ২০০২, পৃ. ৩৫৫)। প্রাণী অর্চনাসমূহকে তাদের বাহ্যিক গঠন বা নিহিতার্থ দ্বারা প্রকারভেদ করা যায়, যা অবশ্যই রূপান্তরের মধ্যে দিয়ে যেতে পারে।

চিরায়ত লেখক ডায়োডোরাস প্রাণীপূজার উৎস ব্যাখ্যা করেন সেই পুরাণ যাতে দেবতারা, আনুমানিকভাবে অসুরদের নিয়ে ভীত হয়ে, প্রাণীদের ছদ্মবেশে লুকিয়ে পড়েন। লোকেরা তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের দেবতারা যেসব প্রাণীর ছদ্মবেশ নিয়েছিলেন সেগুলোর পূজা করতে শুরু করল এবং দেবতারা তাদের আসল রূপে ফেরার পরও তা চালিয়ে যেতে লাগল। (Lubbock, 2005, পৃ. ২৫২)। ১৯০৬ সালে, হোয়াইজিনবর্ন ইঙ্গিত করেন যে প্রাণী উপাসনা মানুষের সহজাত কৌতূহল থেকে জন্ম নিয়েছে। আদিম মানব লক্ষ্য করে যে একটি প্রাণীর অনন্য বৈশিষ্ট্য আছে এবং এই বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যাহীনতা মানুষের কৌতূহলকে নাড়া দেয়।(Weissenborn, 1906b, পৃ. ২৮২)। এই স্বাতন্ত্র্যসূচক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আদিম মানবের পর্যবেক্ষণ বিস্ময়ের জন্ম দেয় এবং এই বিস্ময় অবশ্যম্ভাবীভাবে আরাধনা উৎপন্ন করে। এভাবে, আদিম মানব অননুকরণীয় বৈশিষ্ট্যসম্বলিত প্রাণীদের উপাসনা করত। (Weissenborn, 1906b, পৃ. ২৮২)। লাবক আরও সাম্প্রতিক এক অভিমত সামনে আনেন। লাবক প্রস্তাব করেন যে প্রাণী- পূজা পারিবারিক নাম থেকে উদ্ভূত লাভ করে। সমাজে, পরিবারগুলো তাদের নিজেদের এবং তাদের সন্তানদের নির্দিষ্ট প্রাণীদের নামে নামকরণ করত এবং শেষ পর্যন্ত পশুদের অন্যসব প্রাণী থেকে স্থাপন করল। অবশেষে, এইসব অভিমত গভীর শ্রদ্ধায় পরিণত হল এবং পুরোপুরি পারিবারিক প্রাণীর উপাসনায় বিকশিত হল (Lubbock, 2005, পৃ. ২৫৩)। একটি প্রাণী পবিত্র এই বিশ্বাস প্রায়ই তাদের আহার করা থেকে বিরত করে আহারের আইনে পরিণতি পায়। নির্দিষ্ট প্রাণীদের পবিত্র গণ্য করার সাথে সাথে, ধর্মগুলো বিপরীত ধারণা অবলম্বন করেছে, যে কিছু প্রাণী অপরিষ্কার।

এই ধারণা যে দেবতা নিজেকে প্রাণীতে মূর্ত করেন, কোন দেবতার রূপলাভ করার অনুরূপ, এবং তারপর পৃথিবীতে মনুষ্য প্রজাতির মধ্যে বসবাস করেন তা ইব্রাহিমীয় ধর্মগুলো দ্বারা উপেক্ষা করা হয় (Morris, 2000, পৃ. ২৬)। দেবতার স্বাধীন সভাসমূহে এবং খ্রিস্টীয় পর্বোপলক্ষে গ্রাম্য যাজকের প্রদত্ত অর্ঘ্য গির্জাসমূহে, প্রাণীদের খুব ক্ষুদ্র ধর্মীয় তাৎপর্য আছে (Schoffeleers, 1985; Peltzer, 1987; Qtd. in Morris, 2000, পৃ. ২৫)। অর্চনা রীতিনীতিতে এবং ধর্মে প্রাণীরা হ্রস্ব থেকে হ্রস্বতর গুরুত্মপূর্ণ এবং প্রতীকী হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে আফ্রিকার সংস্কৃতিতে, খৃষ্টান এবং ইসলাম ধর্মের বিস্তারের সাথে সাথে (Morris, 2000, পৃ. ২৪)।

মিশরীয় সর্বদেবতার মন্দির বিশেষ করে প্রাণীরূপান্তরের ভক্ত ছিল, একেক দেবতার সাথে প্রচুর প্রাণীর পবিত্র হওয়ার মাধ্যমে—বিড়াল "ব্যাস্টেটে"র এর জন্যে, সারস এবং বেবুন "থথে"র জন্যে, কুমির "সেবেক" রা'র জন্যে, সেটের জন্যে মাছ, বেজি, ছুঁচো এবং পাখি "হোরাসের" জন্যে,  কুকুর এবং শিয়াল "আনুবিসের" জন্যে, সাপ এবং বানমাছ "আটুমে"র জন্য, গুবরে পোকা  "খেপেরা"র জন্য, ষাঁড় "এপিসের" জন্য। এইসব বিশ্বাসের কারনে প্রায়ই প্রাণীদের মমিতে পরিণত করা হত।

শিকার অর্চনা[সম্পাদনা]

ভালুক[সম্পাদনা]

গ্রীক দেবী আর্তেমিসের সাথে ভালুকের অর্চনার যোগাযোগের প্রমাণ আছে। তার সম্মানে মেয়েরা "ভালুকের" বেশ নিয় নাচত, এবং এই অনুষ্ঠানের আগে হয়তবা বিয়ে করত না। পুরাণ অনুসারে, এই দেবী একবার এক জলপরীকে (পরবর্তীতে উরসা মেজর নক্ষত্রপুঞ্জকে) এক ভালুকে পরিণত করেন।

প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারের মাধ্যমে মধ্য প্রস্তরযুগে প্রস্তর মানবদের মধ্যে ভালুকের এক প্রাচীন অর্চনা উদ্দীপিত এক আলোচনার বিষয় হয়ে আছে (Wunn, 2000, পৃ. ৪৩৪-435)। বিভিন্ন গুহায় ভালুকের প্রাচীন হাড় খুঁজে পাওয়া গেছে এবং তাদের অদ্ভুত বিন্যাসকে কিছু প্রত্নতত্ত্ববিদ প্রস্তরযুগের এক ভালুক অর্চনার প্রমাণ বলে বিশ্বাস করেন (Wunn, 2000, পৃ. ৪৩৫)। যাইহোক, অন্যরা তর্ক করেন যে এইসব দেহাবশেষের স্থান, নির্দিষ্ট বিন্যাস বলে মনে হোক বা না হোক, হচ্ছে প্রাকৃতিক কারণ যেমন বাতাস, পলি বা পানির ফলাফল (Wunn, 2000, পৃ. ৪৩৭-438)।

আইনু লোম্যান্টে অনুষ্ঠান (ভালুক প্রেরণ). জাপানি কাগজ চিত্র, ১৮৭০ সাল নাগাদ.

আইনু জনগণ, যারা জাপানি দ্বীপপুঞ্জের নির্বাচিত দ্বীপসমূহে বাস করে, ভালুককে “কামুই” বলে ডাকে তাদের ভাষায়, যার আনুবাদিক অর্থ হয় দেবতা। যদিও আইনু সংস্কৃতিতে আরও অনেক প্রাণীকে দেবতা গণ্য করা হয়, ভালুক দেবতাদের প্রধান (Kindaichi, 1949, পৃ. ৩৪৫)। আইনুদের জন্যে, যখন দেবতাগণ মনুষ্য পৃথিবী ভ্রমণ করেন, তারা পশুর পশম এবং নখর ধারণ করেন এবং কোন প্রাণীর দেহধারণ করেন। সাধারণত, অবশ্য, যখন "কামুই" নামটি ব্যবহার করা হয়, এটি মূলত একটি ভালুক বোঝায় (Kindaichi, 1949, পৃ. ৩৪৫)। আইনুবাসীরা ইচ্ছাকৃতভাবে এবং কৃতজ্ঞতাসূচক ভালুক আহার করে যেহেতু তারা বিশ্বাস করে যে যে কোন দেবতার ছদ্মবেশ (মাংস এবং পশম) সেই দেবতা যে গৃহ পরিদর্শনের জন্য নির্বাচিত করেন তার জন্যে এক উপহার(Kindaichi, 1949, পৃ. ৩৪৮)।

তিমি[সম্পাদনা]

ভ্যান থুই টু মন্দিরে, ভিয়েতনামের সবচেয়ে বৃহৎ তিমির কঙ্কাল, one of  ভিয়েতনামি লোক ধর্মসমূহে, ভিয়েতনামি তিমি পূজার একটি

মানব ইতিহাসে তিমি ক্ষুদ্রই উপলব্ধ হয়েছে যেহেতু তারা তাদের জীবনের ৯০% পানির নিচে ব্যয় করে, অল্প সময়ের জন্য ভেসে উঠে নিশ্বাস নেওয়ার জন্য।[১] অনেক সংস্কৃতি, এমনকি সেগুলো যেগুলো তাদের শিকার করেছে, তিমিদের শ্রদ্ধার সাথে দেখে এবং তাদের পুরাণগুলোতে তাদের স্থানদান করে।

জাপানে বিদ্যমান এক তিমি অর্চনা উপকূলবর্তী এলাকায় সংঘটিত হয়। সেখানে তিমিদের উৎসর্গ করা স্মারক পাথর সংবলিত কবরস্থান আছে যেগুলো জনগণকে খাওয়ানোর জন্য শিকার এবং বধ করা হয়(Naumann, 1974, পৃ. ৪)। এইসব পাথরের বুদ্ধ সমাধিস্তম্ভ-লিপিসমূহ ইঙ্গিত করে যে বুদ্ধ তিমি হিসেবে পুনর্জন্ম লাভ করবেন (Naumann, 1974, পৃ. ৪)। এইসব স্মারকের সাথে, এর প্রমাণ পাওয়া যায় যে তিমি ভ্রুন, মৃত মায়ের গর্ভে প্রাপ্ত, বের এবং মানুষের মত একই শ্রদ্ধায় সমাহিত করা হয়(Naumann, 1974, পৃ. ৫)। নির্দিষ্ট মন্দিরের জন্যে, নিহত তিমির হাড়গুলোও সেই এলাকায় সমাধিস্থ হয় (Naumann, 1974, পৃ. ৫)।

আলাস্কায়, এমন সংস্কৃতি আছে যেখানে কোন শিকারে বন্দি করার পর তিমিসূহকে আনুষ্ঠানিক সম্মান দেওয়া হয় (Lantis 1938, পৃ. ৪৪৫)। কিছু গোষ্ঠী তিমিটির কুঁজ, ডানা, অথবা নাল তাদের ছাউনিতে অথবা তিমি শিকারির বাড়িতে নিয়ে আসে। মনে করা হয় এইসব অংশ তিমিটির সমগ্রতার প্রতিনিধিত্ব করে এবং উৎসবে এভাবে সম্মানিত হয় (Lantis 1938, পৃ. ৪৪৫)। একটি তিমির হাড়গুলোকেও শাস্ত্রীয় বিধি দেওয়া হত। আলাস্কার যেসব গোষ্ঠী এ ধরণের আচরণে অংশগ্রহণ করত তারা বিশ্বাস করত যে তাদের আচার-অনুষ্ঠান তিমিটির আত্মাকে অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবে এবং তারপর আত্মাটি মুক্ত হতে পারবে সাগরে ফিরে যাওয়ার জন্যে (Lantis 1938, পৃ. ৪৪৫)।

চীনে, বলা হত মানুষের হাত এবং পা সহ একটি তিমি, ইয়ু-কিয়াং সাগরকে শাসন করে।[২]

অষ্ট্রিয়ার টাইরল প্রদেশে, বিশ্বাস করা হত যে একজন কুমারি যখন পূর্ন যৌবনে প্রবেশ করে তখন সূর্যের একটি রশ্মি তার উপরে পড়লে, তাকে একটি তিমির পেটে করে বয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।[৩]

পাইকিয়া (কুঁজো তিমির মাওরি নামও[৪]), মানগাইয়া, বর্তমান কুক দ্বীপ, এর প্রধানের কনিষ্ঠ এবং সবচেয়ে প্রিয় পুত্র, কাইকুরা'র জনগণ কাটি কুরি'রা বলত যে তিনি প্রশান্ত মহাসাগর থেকে টাহোরা'র (দক্ষিন দিক তিমিদের মাওরি নাম) পিঠে চড়ে আসেন অনেক শতাব্দী আগে।[৫]

ইনুইট সৃষ্টি পুরাণে তিমি আছে। যখন 'বৃহৎ দাঁড়কাক', মানবরূপের এক দেবতা, একটি অসহায় তিমি খুঁজে পেলেন, মহান আত্মা তাকে বলে দেন কোথায় বিশেষ মাশরুম খুঁজতে হবে যা তাকে শক্তি দেবে তিমিটিকে সাফরে টেনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার এবং এভাবে পৃথিবীতে শৃঙ্খলা ফেরত আনা যাবে।[২]

উত্তর কানাডার ট্লিঙ্গিট অধিবাসীরা বলে যে যখন শিকারি ন্যাটসিহ্লানে হলুদ সিডার গাছ থেকে আটটি মাছ খোঁদাই করেন, তার সবচেয়ে শক্তিশালী গানটি গান এবং মাছগুলোকে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার আদেশ দেন, তখন ওরকারা সৃষ্টি হয়।[৬]

আইসল্যান্ডের কিংবদন্তিতে এক লোক একটি ফিন তিমির দিকে একটি পাথর ছুড়ে মারে এবং তার নাকে আঘাত করে, ফলাফল হিসেবে তিমিটি বিস্ফোরিত হয়। লোকটিকে বিশ বছর সাগরে না যেতে বলা হয়, কিন্তু উনিশতম বছরে সে মাছ ধরতে যায় এবং একটি তিমি এসে তাকে মেরে ফেলে।[৭]

পূর্ব আফ্রিকার কিংবদন্তিতে, রাজা সুলেমানী ঈশ্বরের কাছে অনুমতি চান পৃথিবীর সকল প্রাণীকে আহার করানোর। একটি তিমি আসল এবং সকল ভুট্টা শেষ না হওয়া পর্যন্ত খেতে থাকল আর তারপর সুলেমানীকে বলল যে সে তারপরও ক্ষুধার্ত এবং তার গোষ্ঠীতে আরও ৭০,০০০ তিমি আছে। সুলেমানী তারপর ঈশ্বরের ক্ষমা চেয়ে প্রার্থনা করলেন এবং প্রাণীটিকে ধন্যবাদ দিলেন নম্রতার শিক্ষা দেওয়ার জন্যে।

কিছু সংস্কৃতি যারা দেবত্বের সাথে তিমিকে সংশ্লিষ্ট করে, যেমন কিছু ঘানাবাসী এবন ভিয়েতনামি, সবেচেয়ে দক্ষিণের এলাকাবাদে উপকূলীয় চীনারা,[৮] জাপানীরা (এবিসু নামেও পরিচিত),[৯][১০] প্রায়ই তীরে ভেরা তিমিদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পালন করত; ভিয়েতনামের প্রাচীন সাগরের উপর ভিত্তি করা অস্ট্রো-এশিয়াটিক সংস্কৃতির দিকে প্রত্যাবর্তন।[১১][১২][১৩][১৪] নিচে উল্লেখিত মাছের অংশে এবিসু'তে আরও বিবরণের জন্যে দেখুন। কিছু লোককথায় এও বলা হয়, তিমিরা রিয়ুগু-জো -এর জন্যে কাজ করে।

বাইবেলে জেনেসিস ১ঃ২১, জব ৭ঃ১২, এজেকিয়েল এবং ৩২ঃ২ এ তিমির উল্লেখ আছে। ল্যামেন্টেশন্স ৪ঃ৩ এ "সাগরের দৈত্য" কিছু মন্তব্যকারী সামুদ্রিক প্রাণীর দিকে ইঙ্গিত বলে ধরে নিয়েছেন, বিশেষ করে তিমি, যদিও সবচেয়ে আধুনিক বর্ণনা এর বদলে "শেয়াল" শব্দটা ব্যবহার করে। জোনাহের “একটি বড় মাছ” গিলে ফেলার গল্পটি কোরআন[16] এবং বাইবেল উভয়েই আছে। ওল্ড টেস্টামেন্টে বুক অফ জোনাহ আছে এবং নিউ টেস্টামেন্টে, যিশু এই গল্প ম্যাথিউ ১২ঃ৪০ এ উল্লেখ করেন।

গৃহপালিত স্তন্যপায়ী[সম্পাদনা]

গবাদি পশু এবং মহিষ[সম্পাদনা]

অনেক ধর্ম গবাদি পশুকে পবিত্র গণ্য করে, বিশেষ করে ভারত এবং নেপালের হিন্দু ধর্মে, কিন্তু অগ্নি উপাসনায়ও, এবং প্রাচীন গ্রীক এবং মিশরীয় ধর্মে। প্রচুর মেষপালক গবাদি পশু এবং মহিষকে শ্রদ্ধা করত যাদের উপর তাদের জীবিকা নির্ভর করত এবং ষাঁড় হত্যা একটি বলির অনুষ্ঠান।

দক্ষিণ ভারতের টোডারা তাদের গৃহপালিত পশু, মহিষের মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকে। অবশ্য, বছরে একবার একটি মহিষের বাছুর বলি দেয়, যা পূর্ণবয়স্ক পুরুষরা জঙ্গলে বসে আহার করে। অনেক টোডা প্রথায় মহিষ এক গুরুত্মপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এইসব মহিষ বর্তমানে বিপন্ন।

মিশরীয় প্রাণী অর্চনাসমূহের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিল ষাঁড়েরটি, আপিস। তা কিছু নির্দিষ্ট চিহ্নের দ্বারা স্বতন্ত্র ছিল, এবং যখন বয়স্ক আপিস মারা যেত তখন নতুন একটি খোঁজা হত। আবিষ্কর্তাকে পুরস্কৃত করা হত, এবং নিলোপোলিসে ষাঁড়টিকে চার মাস শিক্ষাগ্রহণের মধ্যে দিয়ে যেতে হত। তার জন্মদিন বছরে একবার পালন করা হত যখন বাছুর, যাকে ধবল  সাদা হতে হবে, তার প্রতি বলি করা হত। একবার তার শিক্ষাগ্রহণ শেষ হলে মহিলাদের তাদের কাছে যাওয়া নিষেধ ছিল। তার কাছ থেকে নানা উপায়ে দৈববাণী সংগ্রহ করা হত। মৃত্যুর পর তাকে মমিতে পরিণত করা হত এবং পাথরের কবরে শায়িত করা হত। এরচেয়ে অল্প বিস্তৃত অর্চনা ছিল ম্নেভিসের, ওসিরিসের কাছেও পবিত্র বলে গণ্য।

একই রকম পর্যবেক্ষণ পাওয়া যায় আমাদের সময়ের উচ্চ নীলনদে। নুবা এবং নুয়ের হচ্ছে পূজার গবাদি। মধ্য আফ্রিকার আঙ্গনি এবং মাদাগাস্কারের সাকালাভা পবিত্র ষাঁড় রাখত. ভারতে গাভীর প্রতি সম্মান ব্যাপক প্রচলিত, কিন্তু উৎসের দিক থেকে বৈদিক-পরবর্তী; সেখানে আসল পূজা অল্পই আছে, কিন্তু গরুর উৎপাদিত বস্তুগুলো জাদুতে গুরুত্মপূর্ণ।

যদিও ভারতে বেশ কিছু প্রাণীর পূজা করা হয়, গাভী সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করে আছে (Margul, 1968, পৃ. ৬৩)। কুঁজওয়ালা ষাঁড়, গরুর একটি প্রজাতি, হিন্দু ধর্মের কেন্দ্র (Margul, 1968, পৃ. ৬৩)। পুরাণের কিংবদন্তীগুলো ষাঁড়ের পবিত্রতাকে পুরো ভারতে সমর্থন করেছে (Margul, 1968, পৃ. ৬৪)। এ ধরণের পুরাণে আছে স্বর্গে ঈশ্বর, ব্রাহ্ম এবং প্রিথু, কর্তৃক এক পবিত্র গোমাতা এবং এক গরুর সৃষ্টি, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সার্বভৌম, পৃথিবীর গাছপালা, আহারযোগ্য ফল এবং সবজি সৃষ্টি করেন, এক গরুর ছদ্মবেশে(Margul, 1968, পৃ. ৬৪)।

টাডিউসজ মারগুলের এর মতে, হিন্দু ধর্ম এবং গাভী পালন একটি ভুল ধারণার জন্ম দিয়েছে যে হিন্দির ষাঁড়ের সাথে এক দাসত্বের সম্পর্ক আছে, একে প্রাত্যহিক প্রার্থনা এবং নৈবেদ্য দিয়ে। সাধারণত, অবশ্য, শুধুমাত্র গাভী দিবসগুলোতে, একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান, গাভী এ ধরণের রীতির প্রাপক হয়(Margul, 1968, পৃ. ৬৫)। মারগুল বলেন যে গাভীর পবিত্রতা চারটি ভিত্তির ওপর স্থাপিতঃ গোহত্যা থেকে বিরত থাকা, গোমাংস আহার থেকে বঞ্চিত থাকা, লালনপালন এবং মালিকানার নিয়ন্ত্রণ, এবং গাভী থেকে প্রস্তুত দ্রব্যসমূহ (দুধ, দৈ, ঘি, গোবর এবং মুত্র)-এর শুদ্ধতা গুণে বিশ্বাস রাখা(Margul, 1968, পৃ. ৬৫-66)।

ভেড়া[সম্পাদনা]

আমুন, থেবস, মিশরের এক দেবতা, একজন মেষ-মস্তকবিশিষ্ট বলে চিত্রিত। তার উপাসকরা মেষকে পবিত্র মনে করতেন, অবশ্য, তাকে বছরে একবার বলি দেওয়া হত। তার চামড়া দ্বারা মূর্তির পোশাক তৈরি হত। আরেকটি মিশরীয় মেস-মাথার দেবতা ছিলেন বেনেব্জেদ, ওসিরিসের একটি রুপ।

ছাগল[সম্পাদনা]

প্যানের মস্তক দ্বারা তৈরি ফুটপাথের মোজাইক, রোমান শিল্পকর্ম, আন্তোয়া যুগ, ১৩৮-১৯২ সাধারণ যুগ

সাইলেনাস, বনদেবতা এবং ফনেরা ছিল হয় মকরআকৃতির অথবা তাদের শরীরের কিছু অংশ ছিল একটি ছাগলের মত আকারের। উত্তর ইউরোপে বিশ্বাস করা হয় গাছের আত্মা, লেসজির, ছাগলের শিং, কান এবং পা আছে। মেনডিসের ছাগল বলে পরিচিত এক দেবতা পঞ্চভুজের সাথে জড়িত।

গ্রিস, ইতালি, এবং মিশরে, ছাগলের পূজা করা হত ছাগল এবং লিঙ্গমূর্তি উভয়ের প্রতীক হিসেবে (Neave 1988, পৃ. ৮)। ধারণা করা হত, ছাগলের বর্ধিত যৌনাকাঙ্খাই ছাগল পূজার জন্যে দায়ী। একটি পাঠা দেড়শোরও বেশি ছাগীকে গর্ভবতী করতে পারত। গ্রীক দেবতা প্যানকে ছাগলের বৈশিষ্ট্যসূচক বলে চিত্রিত করা হয়, যেমন খুঁড়, শিং, এবং একটু দাঁড়ি। প্যানের সাথে, রোমান যুগে ছাগল গভীরভাবে সম্পর্কিত ছিল ডায়োনিসাসের সাথে(Neave 1988, পৃ. ৮)। ডায়োনিসাসকে সম্মান প্রদর্শন করতে, রোমান অধিবাসীরা একটি ছাগলকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করত এবং তা জীবিত ভক্ষণ করত। ছাগলকে সাধারণভাবে কাল জাদু এবং শয়তানের সাথে সম্পর্কিত ছিল। এই সম্পর্ক মিশরে মধ্যযুগে বেড়ে যায় (Neave 1988, পৃ. ৮)।

মধ্য এশিয়ায় খনন উন্মোচন করেছে ছাগল-গোরের প্রাচীন রীতি যা সেই এলাকায় ছাগলের এক ধর্মীয় তাৎপর্য প্রধানত দেখায় (Sidky 1990, পৃ. ২৮৬)। এইসব আবিষ্কার হয় নব্যপ্রস্তুর বা ব্রোঞ্জ যুগে উদ্ভব হওয়া এশিয়ার এক ছাগল-অর্চনার জন্যে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে (Sidky 1990, পৃ. ২৮৬)।

কুকুর[সম্পাদনা]

নেপালে কুকুর তিহারে উৎসবে একটি কুকুরকে সাজান হচ্ছে।

নেপালের হিন্দুদের মধ্যে এবং ভারতের কিছু এলাকায় কুকুরের এক প্রধান ধর্মীয় তাৎপর্য আছে। প্রতি বছর মোটামুটিভাবে নভেম্বরে পাঁচদিনের তিহার উৎসবে কুকুর উপাসনার এক অংশ। হিন্দু ধর্মে, এটা বিশ্বাস করা হয় যে কুকুর ইয়ামা, মৃত্যুর দেবতার এক দূত, এবং কুকুরেরা স্বর্গের দরজা পাহারা দেয়। সামাজিকভাবে, বিশ্বাস করা হয় তারা আমাদের বাড়ি এবং প্রাণের রক্ষক। তাই, মৃত্যুর পর স্বর্গের দরজায় কুকুরদের সাথে তাদের দেখা হবে সেই কুকুরদের প্রসন্ন রাখতে, যাতে তারা স্বর্গে প্রবেশের অনুমতি পায়, লোকেরা নভেম্বরের চান্দ্র চক্রের ১৪তম দিনটিকে কুকুর-তিহার হিসেবে চিহ্নিত করে রাখে, নেপালি ভাষায় যা কুকুরের দিন বলে পরিচিত। এটি হচ্ছে একটি দিন যখন টিকা (পবিত্র সিঁদুরের ফোঁটা)আগরবাতি এবং সাধারণত গাঁদা ফুলের মালা দিয়ে কুকুরের পূজা করা হয়।

সত্যিকারের কুকুর পূজা বিরল। বলা হয় পশ্চিম এশিয়ার নোসারি একটি কুকুরের উপাসনা করে। জাভার কারাংদের লাল কুকুরের একটি অর্চনা আছে, প্রতিটি পরিবার বাড়িতে একটি করে রাখে। একটি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী কুকুরেরা জঙ্গলের ছায়া যাকে পরিবারের কোন সদস্যের মৃত্যুর পর পূজা করা হয় এবং এক হাজার দিন পরে পোড়ান হয়। নেপালে এটা বলা হয় যে খিচা পূজা নামে এক উৎসবে কুকুরের উপাসনা করা হয়।। হারানিয়ানদের কাছে কুকুরেরা পবিত্র, সেটা বরংচ পুরোহিতের ভ্রাতা হিসেবে।

ঘোড়া[সম্পাদনা]

আফিংটন সাদা ঘোড়া

ঘোড়া উপাসনা  অসংখ্য ইন্দো-ইউরোপীয় এবং তুর্কি জনগণ দ্বারা অনুশীলিত হয়েছে। এটা বিশ্বাস করার কিছু কারণ আছে যে পসাইডন, অন্যসব পানির দেবতাদের মত, মূলত একটি ঘোড়ার রুপে গর্ভে এসেছিলেন। ফিগালিয়া ডেমেটারের গুহায় ছিল, জনপ্রিয় ঐতিহ্য হিসেবে, একটি ঘোড়ার মাথা এবং কেশরসহ চিত্রিত, সম্ভবত এমন এক সময়ের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে যখন ভুট্টার আত্মা এই রুপ ধারণ করত। লাকোনিয়ায় তার পুরোহিতদের ডাকা হত পোলোই নামে (পুংঘোটক শিশুর গ্রীক নাম)। রোমান দেবতা কনসাসের কাছে খচ্চর এবং ঘোড়া পবিত্র ছিল। গাউলে আমরা খুঁজে পাই একজন অশ্ব দেবী, এপোনা। সেখানে এক অশ্ব দেবতারও চিহ্ন আছে, রুডিওবাস। হিন্দু এবং বৌদ্ধ উভয় ধর্মেই হায়াগ্রিভা একজন অশ্ব-মস্তকসহ দেবতা। ভারতের গন্ডেরা এক অশ্ব দেবতার উপাসনা করে, কোডা পেন, একটি আকৃতিহীন পাথরের রূপে, কিন্তু ঘোড়াটিকে ঐশ্বরিক বলে গণ্য করা হয় কিনা তা স্পষ্ট নয়। ইউরোপে ঘোড়া বা ঘোটকী হচ্ছে ভুট্টা-আত্মার এক সাধারণ রুপ।

বলকান সংস্কৃতিতে, একজন অবিবাহিত মানুষকে ঘোড়ার জিনে কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা হচ্ছে এক সাধারণ প্রথা। এটা বিশ্বাস করা হয় যে ঘোড়াটির যৌনশক্তি তার জিনে জড়ান ব্যক্তির কাছে চলে যাবে (Vukanović 1980, পৃ. ১১২)। বলকান জড়ানোর সাথে, ভার্জিলের ঈনিড মহান নগর কার্থেজের পত্তন প্রতিষ্ঠা করেন একটি ঘোড়ার পিঠে চড়ে (Qtd. in Brown 1950, পৃ. ৩২)। যখন ফিনিশিয়রা মাটি থেকে একটি ঘোড়ার মাথা খুঁড়ে তোলে তখন তারা নগরটি (কার্থেজ) নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সেই স্থানেই কারণ ঘোড়াটি সাফল্যের এক চিহ্ন ছিল (Qtd. in Brown 1950, পৃ. ৩২)। এভাবে, ব্রাউন যুক্তি দেখান যে ঘোড়া ফিনিশিয়দের কাছে পবিত্র ছিল (Brown 1950, পৃ. ৩২)।

হাতি[সম্পাদনা]

হিন্দু জ্ঞানের এবং বাঁধা দূরীকরণের হাতির- মাথাওয়ালা দেবতা গণেশ - এর মূর্তি

থাইল্যান্ডে এটা বিশ্বাস করা হয় যে শাদা হাতি হয়তবা মৃত মানুষের আত্মা (সম্ভবত বুদ্ধের), বহন করে। যখন কোনটিকে ধরা হয় তখন আটককারীকে পুরস্কৃত করা হয় এবং প্রাণীটিকে রাজার কাছে নিয়ে আসা হয় পরবর্তীতে লালনপালনের জন্য। সেটা ক্রয় বা বিক্রয় হতে পারে না। তাকে দীক্ষিত করা হয় এবং ভোজ দেওয়া হয় এবং যেন কোন মানুষের জন্যে শোক প্রকাশ করা হচ্ছে এভাবে শোক করা হয়। ইন্দোচায়নার কিছু এলাকায় বিশ্বাস করা হয় যে হাতির আত্মা মৃত্যুর পর মানুষকে আহত করতে পারে; তাই তাকে পুরো গ্রাম ভোজ করায়। কম্বোডিয়ায় এটি রাজ্যে সৌভাগ্য বয়ে আনে বলে মনে করা হয়। দক্ষিণ ইথিওপিয়ার এনারিয়ায়ও শাদা হাতির অর্চনার সন্ধান পাওয়া যায়। ভারতে, জনপ্রিয় হিন্দু দেবতা গণেশের হাতির মাথা এবং মানুষের শরীর আছে।

সুরাটে, অবিবাহিত আনাভিল মেয়েরা আলুনাম নামে এক দিবসে অংশগ্রহণ করে(Naik, 1958, পৃ. ৩৯৩)। দেবী পার্বতীকে সম্মান প্রদর্শনের দিন এটি। এই উৎসবের দিন, একটি মাটির হাতি তৈরি করা হয় (সম্ভবত পার্বতীর হয় হলুদ বা চন্দনকাঠের প্রলেপ থেকে গণেশের সৃষ্টি উদযাপনের জন্যে)। প্রতিদিন, অবিবাহিত নারীরা এই হাতির উপাসনা করেন নাচ, গান গাওয়া, এবং লবণ খাওয়া থেকে বিরত থেকে। আলুনামের শেষদিনে, মাটির হাতিটিকে পানিতে নিমজ্জিত করা হয় (Naik, 1958, পৃ. ৩৯)।

কিছু সংস্কৃতিতে হাতির ক্ষুদ্র প্রস্তরমূরতিকে ব্যবহার করা হয় প্রাণীটির গুরুত্ম প্রদর্শনের জন্য। সুমাত্রায় এক প্রাচীন হস্তী অর্চনার প্রমাণ আছে(Schnitger, 1938, পৃ. ৪১)। সুমাত্রার সংস্কৃতিতে পাথরের হাতির ক্ষুদ্র মূর্তি নির্মিত হত "আত্মার আসন" হিসেবে(Schnitger, 1938, পৃ. ৪১)। উত্তর বোরনিওতে, অবশ্য, কাঠের হাতির ক্ষুদ্র মূর্তি বাঁশের একটি দণ্ডে স্থাপিত হত। বাঁশের এই দণ্ডটি স্থাপিত করা হত শুধুয়াত্র গোত্রপ্রধান কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক মানব মস্তক সংগ্রহ করার পর (Schnitger, 1938, পৃ. ৪১)।

বন্য স্তন্যপায়ী[সম্পাদনা]

একটি হরিণসহ আরটেমিস, ল্যুভরে গ্যালেরি দে ক্যারিটিডিসে ডায়ানা অফ ভারসেইলিসi যা এর জন্যে নকশা করা হয়েছিল

উত্তর আমেরিকায়  আলগোনকুইয়ান গোষ্ঠীর তাদের প্রধান দেবতা হিসেবে আছে এক “শক্তিশালী মহান খরগোশ” যার কাছে তারা মৃত্যুর পর যায়। একটি বর্ণনা অনুযায়ী তিনি পূবে থাকেন, আরেকটি অনুযায়ী উত্তরে। তার নরাত্মারূপে তিনি মেনাবশো বা মিকাবো বলে পরিচিত।

অনেক মানুষের পুরাণে হরিণ গুরুত্মপূর্ণ। গ্রীকদের মাঝে এটি দেবী আরটেমিসের কাছে পবিত্র ছিল, যেখানে হিন্দু ধর্মে তা দেবী সরস্বতীর সাথে জড়িত। হরিণ ইউরোপীয় প্রান্তরের রাখালি সংস্কৃতিতেও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ধরে রেখেছিল। পাজিরিক কবরস্থানে খুঁজে পাওয়া সোনালি পুংহরিণের ক্ষুদ্র মূর্তি সিথিয়ান শিল্পের সবচেয়ে বিখ্যাত একটি।

নেকড়ে[সম্পাদনা]

রোমের ভিত্তি টোটেম জাতীয় প্রতিমায় নেকড়েকে ব্যবহার করে।

ফেলিডি (বিড়াল প্রজাতি)[সম্পাদনা]

সিংহ মস্তক বিশিষ্ট মিশরীয় দেবী সেখমেট মুট এট লুক্সরের মন্দির, থেকে, গ্র্যানাইট, ১৪০৩-১৩৬৫ খৃষ্টাব্দ, জাতীয় জাদুঘর, কোপেনহেগেন

চিতাবাঘের অর্চনা পশ্চিম আফ্রিকায় ব্যপকভাবে পাওয়া যায়। আশান্টি জনগণের মধ্যে একটি মানুষ যে একটি হত্যা করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া বাধ্যতামূলক্ত; কোন চিতাবাঘের চামড়া দেখার জন্যে প্রকাশ করা যাবে না, কিন্তু একটি খড় ঠাসা চিতাবাঘকে উপাসনা করা হয়। গোল্ড কোস্টে একজন চিতাবাঘ শিকারি যে তার শিকারকে হত্যা করেছে তাকে চিতাবাঘের দেহের পেছনে বয়ে আনা হয়; সে কথা বলতে পারবে না, অবশ্যই এমনভাবে তাকে রঙ লাগাতে হবে যেন তাকে একটি চিতাবাঘের মত মনে হয় এবং সেটার নড়াচড়া অনুকরন করতে হবে। লোয়ানগোতে একজন রাজপুত্রের টুপি একটি মৃত চিতাবাঘের মাথায় পরানো হয়, এবং সেটার সম্মানে নাচের আয়োজন করা হয়।

মিশরীয় ছাব্বিশতম রাজবংশে মানুষ বিশেষ বিশেষ প্রাণীর প্রজাতিকে মমি করতে শুরু করল সেই প্রজাতি যে দেবতার প্রতিনিধিত্ব করে তার প্রতি অঞ্জলি হিসেবে। লক্ষ লক্ষ মমি করা বিড়াল, পাখি, এবং অন্যান্য জীবকে মিশরীয় দেবতাদের সন্তুষ্ট করতে মন্দিরে কবর দেওয়া হয়।[১৫][১৬] একটি নির্দিষ্ট দেবতার পুরোহিতকে উপাসকেরা অর্থ প্রদান করত একটি প্রাণী সংগ্রহ এবং মমিতে পরিণত করতে এবং মমিটি দেবতার অর্চনার কেন্দ্রের কাছে রাখা হত। সিংহ মিশরীয় দেবতা হোরাস, নেফেরটাম, রা এবং সেখমেটের সাথে সম্পর্কিত ছিল। বালবেকে একজন সিংহ- দেবতা ছিল। ইসলাম পূর্ব আরবদের একজন সিংহ- দেবতা ছিল, ইয়াগুথ। আধুনিক আফ্রিকায় আমরা একটি সিংহ- বিগ্রহ খুঁজে পাই বালোন্ডাদের মধ্যে। সিংহ হেবাটের কাছে, হারিয়ায়নদের মাতা দেবী পবিত্র ছিল

ইহুদীধর্মে কুলপতি জ্যাকব তার পুত্র জুডাহকে আশীর্বাদ করার সময় এক গুর আরিয়েহ বলে সম্বোধন করেন גּוּר אַרְיֵה יְהוּדָה, একজন “তরুণ সিংহ” (জেনেসিস ৪৯:৯)। এভাবে জুডাহের সিংহ অন্যান্য ইব্রাহিমীয় অর্চনায় সম্মানিত হতে থাকে, তাদের নবীর প্রতীক হিসেবে, যেমন যিশু এবং প্রথম হেইলি সেলাসি, রাস তাফারি।

মেসোআমেরিকায় অ্যাজটেক, মায়া এবং ওলমেকদের মধ্যে জাগুয়ার উর্বরতা এবং সাহসের প্রতীক হিসেবে সম্মানিত হত, এবং ওঝাবৃত্তিতে এক গুরুত্মপূর্ণ ভূমিকা ছিল বাঘের।

বাঘ[সম্পাদনা]

ভারতীয় দেবী দুর্গা একটি বাঘে চরছেন। গুলের বিদ্যালয়, ১৮দশ শতকের প্রথমদিকে।

চৈনিক পুরান এবং সংস্কৃতিতে প্রচুর গুরুত্মের, ১২টি চৈনিক রাশিচক্রের প্রাণীদের বাঘ একটি। বিভিন্নরকম চৈনিক শিল্প এবং মার্শাল শিল্পেও, বাঘ ভূমির এক প্রতীক হিসেবে চিত্রিত হয় এবং চৈনিক ড্রাগনের এক প্রতিদ্বন্দ্বী- যথাক্রমে বস্তু এবং আত্মার প্রতীক হিসেবে। সাদা বাঘ (চৈনিকঃ白虎; পিন-ইয়িনঃ বাই হু) চৈনিক নক্ষত্রপুঞ্জের চারটি প্রতীকের একটি। একে মাঝেমাঝে পশ্চিমের সাদা বাঘ বলে ডাকা হয় (西方白虎), এবং তা পশ্চিম এবং শরত ঋতুর প্রতীক।

পূর্ব এশিয়ার সংস্কৃতিতে রাজা হিসেবে বাঘ সিংহের জায়গা দখল করে, রাজপদ, নির্ভীকতা এবং ক্রোধের প্রতীক হয়ে।[১৭] চৈনিক শিশুদের গল্পে, একে প্রায়ই একটি বাঘের মাথায় 王 (“রাজা”) অক্ষরটি প্রকাশ করার জন্য ডোরা দিয়ে আঁকা হয়।[১৮]

কিছু সংস্কৃতি যেসব বাঘ উপাসনা উদযাপন করত এখনও সমকালীনার্থে প্রকাশিত হয়। কুনমিং, চীন-এর শহরতলীতে, একটি পর্যটক আকর্ষণ আছে যেখানে ঈ-এর বাঘ উপাসনা দর্শকদের জন্য প্রদর্শিত হয়। সৌর দিনপঞ্জি নামে এই আকর্ষণ একটি গর্জান বাঘের মূর্তি, পাঁচ মিটার উচ্চতার, নিয়ে সম্পূর্ণ হয়(Harrell & Yongxiang 2003, পৃ. ৩৮০)। চীনের ছুজিওনে, একইরকম একটি আকর্ষণ আছে। পর্যটকদের জন্য একটি বাঘের টোটেম উপস্থিত আছে; টোটেমটি (ঈ) বিশ্বাসটি যে বাঘ সমগ্র পৃথিবীকে গতিশীল করে তার চিত্র আঁকে। শুয়াংবাই প্রদেশের বাঘ নৃত্যও এ ধরণের স্থানে প্রদর্শিত হয় ঈ এবং তাদের বাঘ উপাসনার ইতিহাস ব্যাখ্যা করে(Harrell & Yongxiang 2003, পৃ. ৩৮০)।

ঈ-এর ঐতিহাসিক চর্চার প্রদর্শনীর এইসব পর্যটক আকর্ষণের পাশাপাশি, সেখানে বাঘ উপাসনার আরও অতিরিক্ত প্রমাণ আছে। ছোট পাথরে চিত্রিত বাঘ পাওয়া যায়। এইসব পাথরকে ফুটো করা হত এবং তাবিজ হিসেবে পড়া হত, এই পরিধানকারীকে রক্ষা করার এক নির্দিষ্ট ক্ষমতা আছে বাঘের তা নির্দেশ করে(Waterbury 1952, পৃ. ৭৬)। পশ্চিমের রানী মাতা দেবী, সি ও্যায়েং মু, তার প্রতিকৃতিতে মাঝেমাঝে একটি বাঘের লেজ ধারণ করেন, এবং বাঘের মত, পাহাড়ের সাথে সম্পর্কিত হন (Waterbury 1952, পৃ. ৭৬)। টুঙ্গূ এবং ব্ল্যাক পটারি উভয়ের জনগণের কাছেও একটি উপাস্য ছিল (Waterbury 1952, পৃ. ৮০)।

ভিয়েতনামের অনেক এলাকায়, বাঘ একটি শ্রদ্ধাশীল জীব। প্রতি গ্রামে, সেখানে একটি বাঘের মন্দির থাকতে পারে। এই উপাসনার চর্চা প্রাচীনকালে মানব বসতিতে বাঘের হানা দেওয়ার ভয় থেকে উৎপত্তি লাভ করতে পারে। তাদের পরম শক্তি, হিংস্রতা এবং সৌন্দর্যের কারণে বাঘরা প্রশংসিত হয়। বাঘকে একটি প্রতিপালক দেব হিসেবেও গণ্য হয়। মন্দির এবং প্রাসাদের ফটকে সাধারণত বাঘের নির্দেশের বিধান দেখা যায়, সেসব স্থানে অশুভ আত্মার প্রবেশে বাঁধা দিতে।

হিন্দু দেব শিব এবং দুর্গার সাথে বাঘ সংযুক্ত। নেপালের পোখারায়, বাঘের উৎসব বাঘ যাত্রা নামে পরিচিত। উৎসবকারীরা বাঘ এবং “শিকারের” বেশে নাচে। ভারতের, মহারাষ্ট্রের ওয়ারলি গোষ্ঠী, আকারহীন এক পাথরের রূপে বাঘদের প্রভু বাঘিয়ার উপাসনা করে। ভিয়েনামের লোক ধর্মে এবং ডংবেই লোক ধর্মেও বাঘ-দেবতাদের দেখা যায়।

বানর[সম্পাদনা]

তিন জ্ঞানী বানর তশু-গু মঠের ওপরে নিক্কো, জাপান

হিন্দু ধর্মে বানর দেবতা হনুমান, একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তিনি শিব, ধ্বংসের দেবতার, একটি পুনঃদেহদান। সনাতন গ্রামগুলোতে বানররা ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত।

চৈনিক ধর্মসমূহ এবং পুরাণসমূহ বানর এবং উল্লুককে সাংস্কৃতিক তাৎপর্য দেয় মানুষের রূপক হিসেবে। চৈনিক দেবতারা মাঝেমাঝে বানরের বেশে উপস্থিত হন, উদাহরণস্বরূপ, ঊ চেং’এনের প্রতারণাপূর্ণ উপন্যাস পশ্চিমের দিকে যাত্রায় সান ঊকং অথবা “বানর রাজা” প্রধান চরিত্র। চিরাচরিত চৈনিক লোক ধর্মে, বানররা অতিপ্রাকৃত সত্ত্বা যা হয় বানর-পিশাচ অথবা বানরমানবে আকার পরিবর্তন করতে পারে, এবং বানর-মানব সঙ্কর প্রজনন নিয়ে কিংবদন্তী খুবই সাধারণ। দাওইজমে বিশ্বাস করা হয়, বানররা (বিশেষ করে উল্লুক), একজন জিয়ানের মত দীর্ঘায়ু পায় “সর্বোৎকৃষ্ট, অমর”, এবং সহজাতভাবে সুদক্ষ কী “নিঃশ্বাস; জীবনী শক্তি” ছড়াতে এবং শুষে নিতে দাওইন শৃঙ্খলার দাওইন “পথপ্রদর্শন এবং টানা”র মাধ্যমে। দাওইজমের মত, চৈনিক বৌদ্ধ ধর্ম আপাতবিরোধীভাবে বানরকে জ্ঞানী এবং বোকা প্রাণী বলে মনে করে। একদিকে, জাতক গল্প বলে যে গৌতম বুদ্ধ একজন সদাশয় বানর রাজা ছিলেন প্রথমদিকের অবতারে; এবং অন্যদিকে, বানররা প্রতারণা এবং অজ্ঞতার প্রতীক, চ্যান বৌদ্ধ “চিত্ত বানর” দ্বারা প্রকাশিত মানবমনের অস্থির, অশান্ত প্রকৃতির রূপক।

বলা হয় টোগোতে বানরের উপাসনা করা হয়। ফরাসী পশ্চিম আফ্রিকার পোর্টো নোভোতে, যমজদের ছোট বানরের আকারের রক্ষাকারী আত্মা আছে।

ইঁদুর জাতীয় প্রাণী[সম্পাদনা]

কিছু দেশে, যেমন ভারত, এক ক্ষুদ্রসংখ্যক মন্দির বন্য ইঁদুরের উপাসনায় উৎসর্গিত। যদিও এড়িয়ে যাওয়ার প্রাণী হিসেবে ব্যপকভাবে গণ্য, এ ধরণের মন্দিরগুলোতে মহামারীর কারণের জন্য এইসব প্রাণী সক্রিয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পায়। একে প্রায়ই সেইন্ট টমাস এবং গণেশের সাথে সম্পর্কিত করা হয়। টিকে থাকার যোগ্য প্রাণী হিসেবে, একে সম্মান এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে দেশে।

পাখি[সম্পাদনা]

কাক/দাঁড়কাক[সম্পাদনা]

দাঁড়কাক আলাস্কার ট্লিঙ্গিট জনগণের প্রধান উপাস্য "শ্বর"। সেই এলাকার পুরোটায় এটি একদল পুরাণে প্রধান চরিত্র, একজন মার্জিত বীর যে আলো নিয়ে আসে, মানবজাতিকে আগুন দেয়, এবং ইত্যাদি ইত্যাদি, কাজ পরিপূর্ণ করে। পুগেট সাউন্ড প্রদেশের একটি দাঁড়কাকের গল্প “দাঁড়কাককে” বর্ণনা করে আদিতে আত্মার দেশে (আক্ষরিকভাবে পাখির দেশে) বসবাস করা হিসেবে যা মানব পৃথিবীর পূর্বে বিদ্যমান ছিল। একদিন দাঁড়কাক পাখির দেশে এত একঘেয়ে হয়ে গেল যে সে উড়ে চলে গেল, তার চঞ্চুতে একটি পাথর বয়ে নিয়ে। যখন দাঁড়কাক পাথরটি বইতে বইতে ক্লান্ত হয়ে গেল এবং তা ফেলে দিল, পাথরটি সাগরে পরে গেল এবং বর্তমানে মানুষ যে আকাশে বসবাস করে তা যতক্ষণ তৈরি না হল ততক্ষণ সম্প্রসারিত হতে থাকল।

সৃষ্টিকর্তার ভূমিকায়, এবং টোটেম আর চারটি উত্তরপশ্চিম বংশের গৃহের একটির পূর্বপুরুষ হিসেবে দাঁড়কাকের ভূমিকায়, দাঁড়কাককে প্রায়ই দাদা দাঁড়কাক বলে সম্বোধন করা হয়। এটি স্পষ্ট নয় যে এধরণের সম্বোধন এক সৃষ্টিকর্তা দাঁড়কাক যে প্রতারক দাঁড়কাক থেকে আলাদা তাকে নির্দেশ করার জন্য কিনা, অথবা এটা শুধু একটা ব্যর্থ চেষ্টা প্রতারক আত্মাকে দায়িত্বশীল হিসেবে আচরণ করার জন্য।

ঈগল-বাজের পাশাপাশি কাক পশ্চিমদক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার পুরাণে এক বিরাট ভূমিকা পালন করে। কিছু ইউরোপীয় পুরাণে দাঁড়কাকেরা একটি ভূমিকা পালন করে, যেমন কেল্ট এবং জার্মানির ধর্মে, যেখানে তারা পূর্বে ব্র্যান এবং মরিগান এবং সাম্প্রতিক উডেনের সাথে সংযুক্ত।

বাজ[সম্পাদনা]

উত্তর বোরনিও বাজকে একজন দেবতা হিসেবে গণ্য করত, কিন্তু তা প্রায়োগিক অর্থে ছিল জনগণের প্রধান ঈশ্বরের দূত (Waterbury 1952, পৃ. ৬২)। যখন স্থানীয়রা কোন নির্দিষ্ট ঘটনার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইচ্ছা করত তখন সেখানে আচার অনুষ্ঠান হত, যেমন বাড়ি থেকে যাত্রা, প্রধান কৃষিজাত কাজ, এবং যুদ্ধ (Waterbury 1952, পৃ. ৬২)। উত্তর বোরনিওতে আমরা দেখতে পাই কেনিয়াহ, কায়ান এবং সাগরের ডাইয়াকদের মধ্যে বাজের অর্চনা তিনটি স্তরে একজন দেবতার বিবর্তন। কেনিয়াহরা তাকে হত্যা করত না, সহায়তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করত, এবং কোন অভিযানে যাওয়ার জন্য গৃহত্যাগের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরামর্শ নিত। মনে হয় এটি, অবশ্য, প্রধান দেবতা বালি পেনিয়ালং-এর দূত হিসেবে পরিগণিত। কায়ানদের একজন বাজ-দেবতা আছে, লাকি নেহো, কিন্তু এটি মনে হয় বাজকে প্রধান দেবতা, লাকি টেনাঙ্গানের দাস বলে মনে করে। সিঙ্গালাং বুরং, ডাইয়াকদের বাজ-দেবতা, সম্পূর্ণভাবে নরত্বারোপ। তিনি পূর্বলক্ষণের দেবতা এবং পূর্বাভাসের পাখিদের শাসক, কিন্তু বাজ তার দূত নয়। কারণ তিনি কখনও গৃহত্যাগ করেন না। গল্প আছে, অবশ্য, মানবরূপে তার ভোজে উপস্থিত হওয়া এবং সব শেষ হলে বাজের আকারে উড়ে যাওয়ার।

ফ্লোরেন্স ওয়াটারবেরির মতে, বাজ উপাসনা সার্বজনীন (Waterbury 1952, পৃ. ২৬)। এই বিশেষ পাখিটি ছিল “একটি স্বর্গীয় দেবতা; এর ডানা ছিল আকাশ, সূর্য এবং চাঁদ ছিল তার চোখ” (Waterbury 1952, পৃ. ২৬)। বাজকে সাধারণত মিশরীয় দেবতা হোরাসের সাথে সম্পর্কিত করা হয়। প্রাক্তন ফারাওদের আত্মাগুলো হোরাসের অনুসারী ছিল, এবং তাই, বাজ (Waterbury 1952, পৃ. ২৬)। চতুর্থ এবং পঞ্চম রাজবংশে মিশরীয়দের দ্বারা হোরাসকে চিত্রিত করা হয় মানবদেহের সাথে বাজের মাথাসহ কিন্তু আগে তাকে একটি বাজ হিসেবে আঁকা হত (Waterbury 1952, পৃ. ২৭)।

মিশরই একমাত্র বাজ উপাসকদের ঠিকানা ছিল না। আরও কিছু সংস্কৃতি ছিল যেখানে বাজকে প্রবল শ্রদ্ধার সাথে পরিগণিত হত। হাওয়াইয়ের দ্বীপে বাজ একটি দেবতা ছিল এবং দ্রুত ন্যায়বিচারের প্রতীক ছিল(Waterbury 1952, পৃ. ৬২)। হাওয়াইয়ের দ্বীপমালার নির্জন দ্বীপের পাশাপাশি, ফিজি দ্বীপেও কিছু গোষ্ঠী ছিল যারা একজন বাজ দেবতার উপাসনা করত (Waterbury 1952, পৃ. ৬২)। অধিকন্তু, যদিও প্রাণী উপাসনা শিখ ধর্মের অংশ নয়, একটি সাদা বাজপাখিকে শিখ ধর্মে প্রবল সম্মান করা হয় যেহেতু তা ষষ্ঠতম গুরুর সাথে সম্পর্কিত ছিল এবং বিশেষত দশম গুরুর সাথে। দশম গুরু সবসময় তার সাথে তার হাতে বসে থাকা একটি সাদা বাজপাখি নিয়ে শিকারে জেতেন। দশম গুরু সাদা বাজের প্রভু বলে জ্ঞাত ছিলেন। অনেক মানুষ বিশ্বাস করতেন যে গুরু গোবিন্দ সিং দ্বারা বহন করা পাখিটি একটি বাজ ছিল, যদিও ঐতিহাসিকরা বিশ্বাস করেন যে পাখিটি একটি  অথবা শিকারি বাজ বা সাকর বাজ ছিল।

ফ্রিগেট পাখি[সম্পাদনা]

১৮৬০ সালের আগ পর্যন্ত ইস্টার দ্বীপে টাঙ্গাটা মানু (পাখি মানব) অর্চনা ছিল যা আমাদের জন্য পাখি মানবদের (আধা মানুষ আধা ফ্রিগেট পাখি) চিত্র এবং পাথরের শিল্প রেখে গেছে। অর্চনাটিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল বার্ষিক এক দৌড় সেই মৌসুমের সামুদ্রিক পাখির ডিম সংগ্রহ করার জন্য  মোটো ইটির ক্ষুদ্র দ্বীপ থেকে এবং তা ওরোঙ্গোতে নিয়ে যেতে।

ধারণা করা হয় ফ্রিগেট পাখি অর্চনার উৎপত্তি সলোমন দ্বিপপুঞ্জে ঘটে ইস্টার দ্বীপে দেশান্তরী হওয়ার আগে যেখানে তা অপ্রচলিত হয়ে পড়ে (Balfour 1917, পৃ. ৩৭৪)। ফ্রিগেট পাখি ছিল দেবতা মেক-মেকের,  ইস্টার দ্বীপে সাগরের পাখির ডিমের দেবতা, রুপ,(Balfour 1917, পৃ. ৩৭৪)।

অন্যান্য অস্তন্যপায়ী[সম্পাদনা]

সাপ[সম্পাদনা]

বেলুর, কর্ণাটক, ভারতে একটি মন্দিরে বেদী যেখানে সাপ দেবতাদের পূজা করা হয়

সর্প পূজা প্রাচীন পৃথিবীর অনেক এলাকায় এবং আমেরিকায় দেখা যায়।

ভারতে সর্প পূজা বলতে বোঝায় হিন্দু পুরাণে সাপের উচু মূর্তিসমূহকে। ভারতের এক বিশাল অংশে গোখরার (নাগের) খোঁদাই করা রুপ আছ অথবা তার বদলে পাথর আছে। এসবের প্রতি মনুষ্য খাদ্য এবং মালা অর্পণ করা হয় এবং মন্দিরের সামনে আলো জ্বালান হয়। দ্রাবিড়দের মধ্যে একটি গোখরা যে দুর্ঘটনাবশত নিহত হয় তাকে মানুষের মত পোড়ান হয়; কেউ কোন সাপকে ইচ্ছাকৃতভাবে মারবে না। সর্প দেবতার ছবি একটি বার্ষিক মিছিলে একজন অনূঢ়া ধর্মযাজিকা বহন করে।

একসময় ভারতে প্রচুর বিভিন্নরকম সাপের অর্চনার সমর্পণ বিদ্যমান ছিল। উত্তর ভারতে, সাপের এক নাগরাজ নামের এবং "সাপদের রাজা" নামে জ্ঞাত পুং রূপের উপাসনা হত। দক্ষিণ ভারতে "সাপদের রাজার" বদলে সত্যিকারের সাপের পূজা করা হত(Bhattacharyya 1965, পৃ. ১)। বাংলা, ভারতে মনসা- অর্চনা, অবশ্য, নরত্মারুপের সর্প দেবী, মনসার প্রতি উৎসর্গিত ছিল(Bhattacharyya 1965, পৃ. ১)।

আফ্রিকায় সর্প পূজার প্রধান কেন্দ্র ছিল দাহোমে, কিন্তু ময়াল সাপের অর্চনা মনে হয় বিদেশী উৎসের ছিল, ১৭দশ শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশের দিকে। হয়াইদাহের বিজয়ের পর দাহোমেয়ানরা সর্প পূজার জনগণের সংস্পর্শে আসে, এবং সমাপ্তি ঘটে তাদের বিশ্বাস গ্রহণ করে যা তারা প্রথমে ঘৃণা করেছিল। হয়াইদাহে, প্রধান কেন্দ্র, সেখানে এক সর্প মন্দির আছে, প্রায় পঞ্চাশটি সাপের আস্তানা হিসেবে। দানহ-গবির প্রতিটি ময়াল সাপকে অবশ্যই শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে, এবং কোনটিকে হত্যার শাস্তি হিচ্ছে মৃত্যুদণ্ড, এমনকি দুর্ঘটনাবশত হলেও। দানহ-গবির অসংখ্য স্ত্রী আছে, জিনি ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত এক প্রকাশ্য মিছিলে অংশ নিতেন যা থেকে পবিত্র মানুষ বর্জিত ছিল; একটি হ্যামকে একটি ময়াল সাপকে শহরের পুরোটা বহন করা হত, সম্ভবত অশুভের বিতাড়নের অনুষ্ঠান হিসেবে। ধারণা করা হয় রংধনুর দেবতা আশান্তিরও সাপের রূপ ছিল। বলা হয় তার দূত অজগরের একটি ক্ষুদ্র প্রকার, কিন্তু শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট রকম, পুরো প্রজাতি নয়, পবিত্র ছিল। আফ্রিকার অনেক অংশে সাপকে মৃত আত্মীয়ের রূপ বলে দেখা হয়। আমাজুলুদের মধ্যে, মাদাগাস্কারের বেতসিলিওদের মতই, কিছু প্রজাতি কিছু শ্রেণির আবাস হিসেবে স্থির হয়। মাসাইরা, অন্যদিকে, প্রতিটি প্রজাতিকে গোষ্ঠীর একটি নির্দিষ্ট পরিবারের আবাস বলে মনে করে।

প্রাচীন মিশরিয়রা বেশ কিছু সংখ্যক সাপ দেবতার উপাসনা করত, এপোফিস এবং সেট, সহ এবং তদের পূর্বে সুমেরীয়দের একটি সর্প দেবতা ছিল নিনগিজিদা।

মাছ[সম্পাদনা]

"মৎস্য দেবতা" ড্যাগনের এক আধুনিক চিত্র

ইহদী পণ্ডিত রাশি অনুযায়ী, কনানিয় উপাস্য শ্বর ড্যাগন একজন মৎস্য দেব ছিলেন। এখানে এই ধারণা হয়তবা, ভুল ব্যাখ্যা দ্বারা উৎপত্তি হয়েছে, কিন্তু সাম্প্রতিক আবিষ্কৃত কারুশিল্প কিছু মানুষ যারা মাছের চামড়া পরিধান করত তারা উপাসনা করত মানব মাথা এবং হাতসহ একজন মৎস্য দেবতার তার ইঙ্গিত করে।

জাপানে, একজন দেবতা ছিল এবিসু-গামি নামের যিনি, সাকুরাদা কাতসুনরির মতে, মৎস্য সম্প্রদায় এবং বাণিজ্যের দ্বারা ব্যপকভাবে সম্মানিত হতেন (Qtd. in Naumann, 1974, পৃ. ১)। এবিসু, পরবর্তী ঐতিহ্যে, সাধারণত একটি বড়শি হাতে এবং একটি লাল টাই (একটি পার্চ) সহ একজন জেলের রুপে উপস্থিত হন, মাঝেমাঝে একটি তিমি, হাঙর, মানুষের লাশ, অথবা পাথরের আকৃতি নিতেন (Naumann, 1974, পৃ. ১)। এবিসুর সাধারণ রূপ, অবশ্য, একটি তিমি অথবা একটি হাঙর ছিল, সাকুরাদার বর্ণনা অনুযায়ী (Qtd. in Naumann, 1974, পৃ. ২)।

এবিসু-গামি উৎসবের সময়, কিংবদন্তীতে বলা হয় অদ্ভুত মৎস্য জীবের যারা উপস্থিত হয় এবং পবিত্র গণ্য হয়। এ ধরণের মৎস্য জীবের অন্তর্ভুক্ত ছিল কয়েকটি লেজযুক্ত মছের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ প্রজাতি (Naumann, 1974, পৃ. ২)। মাঝেমাঝে এইসব মাছকে দেবতার অঞ্জলি বলে মনে করা হত। অন্য সময়ে, অবশ্য, তাদের এবিসু বলে মনে করা হত, উৎসবের দিনটি দেখতে আসা (Naumann, 1974, পৃ. ২)। বিশাল সামুদ্রিক মেগাফন যেমন তিমি এবং হাঙর তিমিকে ("এবিসু- হাঙর" বলেও ডাকা হয়) প্রায়ই এবিসু বলে ডাকা হয় তাদের মাঝে মাছের স্তুপ নিয়ে আসতে, এবং জেলেদের রক্ষক হিসেবে।

দৈববাণীসম্বন্ধীয় প্রাণী[সম্পাদনা]

প্রাণীদের প্রায়ই ভবিষ্যৎ কথনের ব্যবহার করা হয়। এই ভূমিকায় বিশেষ করে পাখিরা সাধারণ, তাদের ওড়ার ক্ষমতার জন্যে তারা নিজেদের স্বর্গীয় এবং মানব পরিমণ্ডলের মধ্যে দূত বলে গণ্য হয়। অগরি ছিল পাখিদের ওড়া থেকে ভবিষ্যৎ কথনের একটি বহুল ব্যবহৃত প্রাচীন অনাদিকালে। ঘুঘু নোয়ার গল্পে একজন দৈববাণী সম্পর্কিত প্রাণী হিসেবে উপস্থিত হয়, এবং বোয়েশিয়ার থিসবেতে  জিউসের একটি ঘুঘু অর্চনা ছিল। প্রাচীন গ্রিসে দৈববাণী বাচনে প্রায়ই প্রাণী চিত্র নিযুক্ত হয়।[১৯] "তোতা জ্যোতিষবিদ্যা" ভবিষ্যৎকথনের একটি রূপ- সবুজ টিয়া ব্যবহার করে যা দক্ষিণ ভারতে উৎপত্তি লাভ করে এবং বর্তমান সময়ে এখনও চর্চা হয়।[২০]

চৈনিক ঐতিহ্যবাহী ধর্মে, কাছিম একটি দৈববাণীসম্বন্ধীয় প্রাণী।

আধুনিক যুগে উল্লেখযোগ্য দৈববাণী সম্বন্ধীয় প্রাণীদের অন্তর্ভুক্ত আছে  লেডি ওয়ান্ডার, পানক্সাটওনি ফিল, ম্যাগি দ্যা মাঙ্কি, লাজডেইকা দ্যা ক্র্যাব, পল দ্যা অক্টোপাস, এবং সনি উল।

ওঝাগিরি এবং প্রাণী[সম্পাদনা]

মধ্য এশিয়ায় শাম্যান ধর্মে প্রাণীদের গুরুত্মপূর্ণ ভূমিকা ছিল। "সহায়ক আত্মা", "রক্ষাকারী আত্মা", এবং "সাহায্যকারী আত্মা" বলেও পরিচিত, প্রাণী আত্মারা একজন শাম্যানের কাজে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন শাম্যানের নিয়ন্ত্রণে যত বেশি প্রাণী আত্মা থাকবে, সেই শাম্যান তত বেশি ক্ষমতাশীল (Waida, 1983, পৃ. ২২৮-229)। যখন একজন শাম্যান বাইরের পৃথিবীর দিকে আধ্যাত্মিক যাত্রা করে, প্রাণীরা একটি প্রধান সঙ্গী, তাকে তার কাজে সহায়তা করে। একজন শাম্যানের এ ধরণের যাত্রায় যাওয়ার তিনটি প্রধান কারণ আছেঃ একটি হারান আত্মা খুঁজে বের করতে, উচ্চ দেবতাদের কাছে একটি প্রাণী আত্মা নিয়ে আসতে, অথবা প্রেতলোকে একটি আত্মাকে তার বিশ্রামের স্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্যে। শাম্যানবৃত্তির অনুসারীদের কাছে এইসব অসম্ভব গুরুত্মপূর্ণ ছিল এবং প্রাণীরা শাম্যানদের চেষ্টার সহায়তায় অসম্ভব গুরুত্মপূর্ণ (Waida, 1983, পৃ. ২৩১)।

শাম্যানবৃত্তিতে প্রাণী আত্মার উদাহরণ আসে ইয়েনিসেই ওস্তিয়াক্স সংস্কৃতি থেকে। একটি আরোগ্য প্রক্রিয়ায়, একজন শাম্যান কিছু সংখ্যক প্রাণী আত্মাকে আহ্বান করেন তাকে সাহায্য করার জন্যে। এইসব আত্মা শাম্যানকে অধিকার করে না; তিনি তাদের যে কোন সময় বহিষ্কৃত করতে স্বাধীন (Waida, 1983, পৃ. ২২৩)। তার শরীর পুরো স্থানে লাফ দিতে শুরু করে, তার আত্মা জাগ্রত হচ্ছে, পৃথিবী ত্যাগ করছে এবং উপরে আকাশে যাচ্ছে, তার প্রতীক হিসেবে। এটি একটি পাখির আত্মা যা তাকে বায়ুমণ্ডলে উঠিয়ে নিচ্ছে এবং সে চিৎকার করে যেন তা তাকে আরও ওপরে নিয়ে যায় যাতে সে আরও অনেকদূর দেখতে পায়। এডলফ ফ্রেড্রিখের ভাষ্যনুযায়ী, এই সময় শাম্যানের স্বত্বা, আসলে, তার শরীরের চৌকাঠ পার হওয়া সেই পাখির আত্মায় রূপান্তরিত হয়েছে (Waida, 1983, পৃ. ২২৩)। সে যা খুঁজছিল তা অবশেষে দেখতে পায়, তার অসুস্থ রোগীর আত্মা। তখনও তাকে সাহায্য করছে, প্রাণী আত্মারা শাম্যানকে রোগীর আত্মার কাছে বয়ে নিয়ে যায়। শাম্যান তা পুনরুদ্ধার করে এবং তা তার উপযুক্ত স্থানে ফিরিয়ে দেয়, রোগীকে আরোগ্য করে। প্রাণী আত্মার উপস্থিতি ব্যতিত, শাম্যান এ ধরণের প্রচেষ্টা অর্জন করতে পারত না (Waida, 1983, পৃ. ২৩১)।

অভ্যন্তরীণ ইউরেশিয়ান ধর্মে, শাম্যানের স্বত্বার একটি প্রাণীর আত্মায় রুপান্তরকে "প্রাণী হওয়া" হিসেবে উল্লেখিত হয় (Baldick 2000, পৃ. ১৬৭)। এই শাম্যান ধর্মে প্রাণীদের গুরুত্ম মানবজাতিকে প্রাণীরা সামর্থ্য দান করতে পারে তা দ্বারা প্রকাশিত হয়। প্রাণীদের সাহায্য ব্যতিত, অভ্যন্তরীণ ইউরেশিয়ার জনগণ আকাশে পৌছাতে, ভূমিতে দ্রুত যাত্রা করতে, অথবা ভূমির বহিরাবরণ থেকে নিচে যেতে সক্ষম নয়, যার সবকিছু সংস্কৃতিতে গুরুত্মপূর্ণ কাজ (Baldick 2000, পৃ. ১৬৭)। একজন মানুষের জন্যে স্বর্গ অর্জন সম্ভব নয় একটি ঈগলের সহায়তা ছাড়া। ঈগলের কারনে, একটি প্রাণী, অভ্যন্তরীণ ইউরেশিয়রা বিশ্বাস করত যে তাদের পরবর্তী জীবন অর্জন এবং পৃথিবী থেকে তাদের বিদায়ের পর তাদের পূর্বপুরুষ এবং প্রধান দেবতার গৃহে বসবাস করতে সক্ষম(Baldick 2000, পৃ. ১৬৭)। প্রাণীদের সমাবেশে মানুষ দ্বারা স্বর্গ প্রকাশিত হত, সাধারণত সাত বা নয়জনের দলে(Baldick 2000, পৃ. ১৬৭)। শিকার বা যুদ্ধে অংশগ্রহণের সময়, অভ্যন্তরীণ ইউরেশিয়রা প্রাণীদের গুণাবলীও গ্রহণ করত কারণ তারা বিশ্বাস করত যে তা তাদের সফলতার সম্ভাবনা বারিয়ে দেবে (Baldick 2000, পৃ. ১৬৭)। প্রাণীরা এই ধর্মের একটি কেন্দ্রীয় অংশ ছিল (Baldick 2000, পৃ. ১৬৭)।

ধর্ম এবং প্রাণী[সম্পাদনা]

বৌদ্ধধর্ম[সম্পাদনা]

বুদ্ধের বিশ্বাসের একটি গুরুত্মপূর্ণ দিক হল অহিংসার ধারণা, অথবা প্রাণের ধ্বংস থেকে বিরত থাকা (Regenstein 1991, পৃ. ২৩৪)। বৌদ্ধ ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষ অন্যান্য জীবিত প্রাণীর উপর উচ্চতর পদের যোগ্য না। এভাবে, পৃথিবী নির্দিষ্টভাবে মানুষের ব্যবহারের জন্য নয় এবং সকল প্রাণীর সাথে সমানভাবে ভাগ হওয়া উচিৎ(Epstein 1990)। বৌদ্ধরা সকল প্রাণীকে সচেতন বলে মনে করে এবং ব্যাথা, শোক, ভয়, আনন্দ, এবং ক্ষুধা অনুভবের সক্ষম বলে মনে করে(Regenstein 1991, pপৃ. ২৩৪–235)। দালাই লামা একবার বলেছেন, "এমনকি পিঁপড়া এবং অন্যান্য পতঙ্গ বিপদ থেকে দূরে সরে যাবে... তাদের বুদ্ধিমত্তা আছে এবং তারাও বাঁচতে চায়। আমরা কেন তাদের ক্ষতি করব?"(Qtd. in Regenstein 1991, পৃ. ২৩৫)। কোন জীবিত, সচেতন প্রাণীর ক্ষতিতে বিশ্বাস না করে, কিছু বৌদ্ধ নিরামিষ আহার গ্রহণ করেন কোন প্রাণীকে কষ্ট দেওয়া এড়াতে (Regenstein 1991, পৃ. ২৩৮)।

প্রাণ ধ্বংস এড়ানো বৌদ্ধদের খাদ্যভ্যাসকে দারুণ প্রভাবিত করতে পারে, যেমন ভ্রমণের পরিকল্পনা। যে কোন জীবিত প্রাণীকে মাড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য, হোক তা গাছ, পতঙ্গ, অথবা প্রাণী, কিছু বৌদ্ধ ভিক্ষু বর্ষা ঋতুতে ভ্রমণ করেন না (Regenstein 1991, পৃ. ২৩৬)। মূলত, বৌদ্ধ ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কিছু সময় পরেই, ভিক্ষুরা সকল ঋতুতে যাত্রা করতেন, কিন্তু জনগণের ধারণা তা বদলে দেয়। জনগণ বিরোধিতা করে যে যখন ভিক্ষুরা ভেজা ঋতুতে ভ্রমণ করেন তখন প্রচুর প্রাণ নিষ্পেষিত এবং ধ্বংস হয়। ফলাফল হিসেবে, ভিক্ষুরা এই ঋতুতে আশ্রয় গ্রহণ করতে এবং যাত্রা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হন (Chapple 1993, পৃ. ২২)।

বৌদ্ধ ধর্মে জীবিত প্রাণী, মানুষসহ, একটি বিশাল, সংযুক্ত জীবনী- শক্তিতে পরিণত হয়। বৌদ্ধরা, তাই, বিশ্বাস করেন যে অন্য কোন জীবের ক্ষতি করা, আসলে, নিজের ক্ষতি করা যেহেতু সকল জীবন অন্তঃসম্পর্কিত (Regenstein 1991, পৃ. ২৩৭)। প্রচুর গল্প প্রচলিত আছে যেখানে মানুষ তাদের নিজেদের জীবন বলি দেয় যাতে একটি প্রাণী বাঁচতে পারে। একটি জাতক, বা পূর্ব আবির্ভাবের গল্প, বলে কিভাবে বৌদ্ধ, (একটি সিংহীর তার শাবকদের খাওয়ানোর সংগ্রামে খেপা চিৎকার শুনে), একটি পর্বতগাত্র থেকে লাফ দেন এবং তার শরীরকে থেঁতলে ফেলেন উপহার হিসেবে, যাতে সিংহী তার শাবকদের তার মাংস খাওয়াতে পারে (Chapple 1993)।

হিন্দু ধর্ম[সম্পাদনা]

হিন্দু ধর্ম ভারতের প্রধান ধর্ম(Regenstein 1991, পৃ. ২২১)। হিন্দু ধর্ম কয়েক শতাব্দী ধরে বৈদিক সময় থেকে উদ্ভূত হয়েছে যখন সেখানে প্রাণী উপাসনায় কোন নিষেধ ছিল না এবং খাদ্য আহরণের জন্য প্রাণী আহার, পরবর্তীতে বুদ্ধ এবং জৈন-প্রভাবিত যুগে যা প্রাণীদের প্রতি অহিংস্রতা এবং শ্রদ্ধা, অহিংসা (অহিংস্রতা)-এর আরও প্রশস্ত ধারণার অভিযোজনের দিকে নিয়ে যায়, যা হিন্দু বিশ্বাসের একটি প্রধান ধারণা। (Regenstein 1991, পৃ. ২২৩)। মানুষ এবং প্রাণীরা একই পরিবারভুক্ত এবং এ কারনে, মানুষদের অবশ্যই সকল জীবিত প্রাণীকে শ্রদ্ধা এবং দয়ার সাথে ব্যবহার করা উচিৎ। পোষা প্রাণীদের সাথে এমন ব্যবহার করা হয় যেন তারা সত্যিই পরিবারের সদস্য (Regenstein 1991, পৃ. ২২৩-224)।

হিন্দু ধর্মে অহিংসার কিছু ব্যতিক্রম আছে। যদিও হিন্দু বিশ্বাস মানব খাদ্যের জন্যে প্রাণীহত্যা নিষেধ করে, ভারতের কিছু অংশে প্রাণী বলি একটি গৃহীত প্রথা(Regenstein 1991, পৃ. ২২৫)। এই অনুমিত আপাতবিরোধিতার একটি ব্যাখ্যা হল যে একটি বলির প্রাণীকে আসলে কোন প্রাণী বলে গণ্য করা হয় না, বরং একটি প্রতীক। এভাবে, যখন প্রাণীটি বলি দেওয়া হয়, তারা প্রতীকটিকে বলি দিচ্ছে এবং প্রাণীটিকে নয় (Regenstein 1991, পৃ. ২২৬)। মানুষের আনন্দের জন্য বা অতিপ্রাচুর্যের জন্য কোন প্রাণী হত্যা নিষিদ্ধ। এ ধরণের অতিপ্রাচুর্যের একটি উদাহরণ হচ্ছে আনন্দের জন্য শিকার, প্রাণী চামড়ার একটি পশমের কোট, ইত্যাদি। (Regenstein 1991, পৃ. ২২৬)।

জৈন ধর্ম[সম্পাদনা]

মহাবীর, জৈন ধর্মের জনক, বিশ্বাস করতেন যে জীবনচক্র (জন্ম, মৃত্যু, এবং তারপর পুনর্জন্ম) থেকে ত্রাণ পাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে, একজনকে অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে, বুদ্ধদের মত, অহিংসা এবং কোন জীবিত প্রাণীর ক্ষতি করা যাবে না(Regenstein 1991, পৃ. ২২৯)। কিছু জৈন তাদের সাথে একটি ঝাড়ু নিয়ে ঘুরেন এবং হাঁটার সময় তাদের পথ ঝাড়ু দেন যাতে কোন জীবিত প্রাণী তারা না মাড়ান। জৈনেরা তাদের মুখের ওপর মুখোশও পড়েন যাতে তারা কোন পতঙ্গ গিলে না ফেলেন এবং তাদের ফল পরীক্ষা করেন পোকার জন্যে। ফল পরীক্ষা, অবশ্য, পোকাদের প্রতি তাদের ঘৃণার জন্যে নয়, বরং পোকাদের নিজেদের সংরক্ষণের জন্য(Regenstein 1991, পৃ. ২২৯-230)। জৈনেরা দিবালোকে খাওয়ার জন্যেও অনুমোদিত নন, যখন তারা দৃষ্টিশক্তি সীমাবদ্ধ নয়, তাই তারা পতঙ্গ বা অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণী যা তাদের খাবারে থাকতে পারে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকে (Regenstein 1991, পৃ. ২৩০)।

জৈন ধর্ম একটি সাধারণ প্রকার অন্তর্ভুক্ত করে যা কিছুটা অল্প নিয়ন্ত্রক(Regenstein 1991, পৃ. ২৩১)। মূলত সাধারণ জৈনদের অবশ্যই বিভেদ করতে হবে কোন ধরণের হিংস্রতা প্রয়োজনীয় অথবা অপ্রয়োজনীয়, কিন্তু পুরোপুরি বিরত থাকতে হবে না (Vallely 2002, পৃ. ৫)। এর ফলাফল হচ্ছে সকল ধরণের শিকার, জমি চাষ (জমি চাষ মাটিতে থাকা প্রাণীদের বিরক্ত করে), এবং চোলাই (চোলাইয়ে জীবিত প্রাণী যেমন ইস্ট থাকে) এড়ানো (Regenstein 1991, পৃ. ২৩১)।

খাবার কখনই তাদের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হবে। তারা অন্যদের কাছে খাবার ভিক্ষা করেন এই বিশ্বাস করে যে যেহেতু খাবারটি অন্যদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, তারা জীবিত প্রাণীদের প্রতি হিংস্রতার কারণ নয়(Vallely 2002, পৃ. ৫)।

সাধারণ জৈনরা, যাদের আর্থিক সামর্থ আছে, প্রাণীদের বাজারে যাবে এবং বধ করার জন্য নির্ধারিত প্রাণীদের ক্রয়/উদ্ধার করবে ভাল কাজটির জন্য (Regenstein 1991, পৃ. ২৩২)।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

  • প্রাণী বলি
  • নৃবিদ্যা
  • টোটেমিসম
  • সর্বপ্রাণবাদ
  • টোটেম
  • প্রাচীন পৃথিবীতে প্রাণীদের নৈতিক অবস্থান
  • প্রাণী কল্যাণ
  • প্রাণী-সহায়তায় চিকিৎসা
  • প্রাণী-সহায়তার মধ্যস্থতা
  • প্রকৃতি পূজা

টীকা[সম্পাদনা]

  1. Bird, Jonathan"Sperm Wales: The deep rivers of the ocean"The Wonders of the Seas। Ocean Research Group। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  2. Siebert, Charles (২০১১)। NRDC The Secret World of Whales। illustrated by Molly Baker (illustrated সংস্করণ)। Chronicle Books। পৃষ্ঠা 15–16। আইএসবিএন 9781452105741 
  3. Sir James George Frazer (১৯১৩)। "Chapter II. The Seclusion of Girls at Puberty"। The Golden Bough: Balder the beautiful. The fire-festivals of Europe and the doctrine of the external soul (3rd সংস্করণ)। Macmillan। পৃষ্ঠা 72। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  4. http://www.teara.govt.nz/en/te-whanau-puha-whales
  5. Anon। "Whales"Tinirau education resource। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  6. Heimlich, Sara; Boran, James (২০০১)। Killer Whales। Voyageur Press। পৃষ্ঠা 7। আইএসবিএন 978-0896585454 
  7. Anon। "Whale Mythology from around the World"The Creative Continuum। worldtrans.org। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  8. 謝婧, 下園知弥, 宮崎克則 (২০১৫)। "明清時代の中国における鯨資源の利用" (pdf)西南学院大学博物館研究紀要 第3号Seinan Gakuin University: 9–14। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০১-১৫ 
  9. 村上健司編著 (২০০৫)। 日本妖怪大事典। Kwai books। 角川書店। পৃষ্ঠা 182। আইএসবিএন 978-4-04-883926-6 
  10. 大藤時彦他 (১৯৫৫)। 民俗学研究所編, সম্পাদক। 綜合日本民俗語彙第2巻柳田國男監修। 平凡社। পৃষ্ঠা 763। 
  11. "Whale funeral draws 1000 mourners in Vietnam"Sydney Morning Herald। AFP। ১৪ এপ্রিল ২০০৩। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১১ 
  12. "Thousand gather for whale's funeral in Vietnam"The Independent। London। Associated Press। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১১ 
  13. Viegas, Jennifer। "Thousands Mourn Dead Whale in Vietnam"Discovery News। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১১ 
  14. "Funeral for a Whale held at Apam"Ghana News Agency। GhanaWeb। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১১ 
  15. Quirke and Spencer 1992, pp. 78, 92–94
  16. Owen, James (২০০৪), "Egyptian Animals Were Mummified Same Way as Humans", National Geographic News, সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৮-০৬ 
  17. "Tiger Culture | Save China's Tigers"। English.savechinastigers.org। ২০০৯-০২-১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৩-০৭ 
  18. Cooper, JC (১৯৯২)। Symbolic and Mythological Animals। London: Aquarian Press। পৃষ্ঠা 226–27। আইএসবিএন 1-85538-118-4 
  19. J. L. Lightfoot, The Sibylline oracles Oxford University Press, 2008, ISBN 978-0-19-921546-1, p. 237, fn. 105.
  20. Naidu Ratnala, Thulaja। "Parrot astrologers"National Library Board Singapore। ২০১২-০১-০১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ডিসেম্বর ২০১১ 

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • Baldick, Julian (2000). “Animal and Shaman: Ancient Religions of Central Asia” New York University Press, New York
  • Balfour, Henry (1917). "Some Ethnological Suggestions in Regard to Easter Island, or Rapanui” Folklore, 28(4).
  • Bhattacharyya, Asutosh (1965). "The Serpent as a Folk-Deity in Bengal” Asian Folklore Studies, 24(1).
  • Brown, Theo (1950). "Tertullian and Horse-Cults in Britain” Folklore, 61(1).
  • Chapple, Christopher (1993). “Nonviolence to Animals, Earth, and Self in Asian Traditions” State University of New York Press, Albany
  • Epstein, Ronald (1990). “Hindusm's Perspective on Animal Rights” San Francisco State University, [১]
  • Harrell, Stevan; Yongxiang, Li (2003). "The History of the History of the Yi, Part II” Modern China, 29(3).
  • Kindaichi, Kyōsuke (1949). "The Concepts behind the Ainu Bear Festival (Kumamatsuri)", Southwestern Journal of Anthropology, 5(4), Trans. Minori Yoshida.
  • Lantis, Margaret (1938). "The Alaska Whale Cult and Its Affinities” American Anthropologist, New Series, 40(3).
  • Livingstone, A (1988). "The Isin “Dog House” Revisited", Journal of Cuneiform Studies, 40(1)
  • Lubbock, John (2005). "The Origin of Civilisation and the Primitive Condition of Man", Kessinger Publishing Company.
  • Margul, Tadeusz (1968). "Present-Day Worship of the Cow in India” Numen, 15(1),
  • Meyerowitz, Eva L. R. (1940). "Snake-Vessels of the Gold Coast” Man, 40.
  • Morris, Brian (2000). "Animals and Ancestors: An Ethnography", Berg, New York.
  • Naik, T.B. (1958). "Religion of the Anāvils of Surat", The Journal of American Folklore, 71(281).
  • Naumann, Nelly (1974). "Whale and Fish Cult in Japan: A Basic Feature of Ebisu Worship", Asian Folklore Studies, 33(1).
  • Neave, Dorinda (1988). "The Witch in Early 16th-Century German Art” Woman’s Art Journal, 9(1).
  • Nida, Eugene A.; Smalley, William A. (1959). "Introducing Animism” Friendship Press, New York.
  • Lord Raglan (1935). "The Cult of Animals ", Folklore, 46(4).
  • Regenstein, Lewis G. (1991). “Replenish the Earth: a History of Organized Religions’ Treatment of Animals and Nature – Including the Bible’s Message of Conservation and Kindness Toward Animals” Crossroad, New York
  • Schnitger, F.M. (1938). "Prehistoric Monuments in Sumatra", Man, 38.
  • Shaffer, Aaron (1974). "Enlilbaniand the ‘DogHouse’ in Isin", Journal of Cuneifrom Studies, 26(4).
  • Sidky, M. H. (1990). "”Malang”, Sufis, and Mystics: An Ethnographic and Historical Study of Shamanism in Afghanistan” Asian Folklore, 49(2).
  • Teeter, Emily et al. (2000). "A History of the Animal World in the Ancient Near East", ed. Collins, Billie Jean, Vol. 64, Brill, Boston.
  • Vallely, Anne (2002). “Guardians of the Transcendent: An Ethnography of a Jain Ascetic Community” University of Toronto Press, Toronto
  • te Velde, H. (1980). “Numen” 27(1).
  • Vukanović, T. P. (1980). "Swaddling Clothes for the Unmarried and for Herdsmen” Folklore, 91(1).
  • Waida, Manabu (1983). “Problems of Central Asian and Siberian Shamanism”, Numen, 30(2).
  • Waterbury, Florance (1952). "”Bird-Deities in China” Artibus Asiae. Supplementum, 10(2).
  • Weissenborn, Johannes (1906a). "Animal-Worship in Africa", Journal of the Royal African Society, 5(18).
  • Weissenborn, Johannes (1906b). "Animal-Worship in Africa (Concluded from p. 181)", Journal of the Royal African Society, 5(19).
  • Wunn, Ina (2000). "Beginning of Religion", Numen, 47(4).

আরোপণ

  •  এই নিবন্ধটি একটি প্রকাশন থেকে অন্তর্ভুক্ত পাঠ্য যা বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনেThomas, Northcote Whitbridge (১৯১১)। "Animal Worship"। চিসাম, হিউ। ব্রিটিশ বিশ্বকোষ (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। [[বিষয়শ্রেণী:উইকিসংকলনের তথ্যসূত্রসহ ১৯১১ সালের এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা থেকে উইকিপিডিয়া নিবন্ধসমূহে একটি উদ্ধৃতি একত্রিত করা হয়েছে]] This work in turn cites:
    • For a fuller discussion and full references to these and other cults (that of the serpent excepted):
      • N. W. Thomas in James Hastings' Dictionary of Religions
      • Frazer, Golden Bough
      • Campbell, Spirit Basis of Belief and Custom
      • Maclennan, Studies (series 2)
      • V. Gennep, Tabou et totémisme à Madagascar
    • For the serpent:
      • Ellis, Ewe-speaking Peoples, পৃ. ৫৪
      • Internat. Archiv', xvii. 113
      • Tylor, Primitive Culture, ii. 239
      • Fergusson, Tree and Serpent Worship
      • Mähly, Die Schlange im Mythus
      • Staniland Wake, Serpent Worship, &c.
      • 16th Annual Report of the American Bureau of Ethnology, পৃ. ২৭৩ and bibliography, পৃ. ৩১২

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]