সালাহ উদ্দিন ইউসুফ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অ্যাডভোকেট

সালাহ উদ্দিন ইউসুফ
সালাহ উদ্দিন ইউসুফ.png
খুলনা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য
কাজের মেয়াদ
৭ মার্চ ১৯৭৩ – ৬ নভেম্বর ১৯৭৬
খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য
কাজের মেয়াদ
২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ – ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬
পূর্বসূরীএইচ এম এ গাফ্ফার
উত্তরসূরীগাজী আব্দুল হক
কাজের মেয়াদ
১২ জুন ১৯৯৬ – ৬ অক্টোবর ২০০০
পূর্বসূরীগাজী আব্দুল হক
উত্তরসূরীনারায়ন চন্দ্র চন্দ
মন্ত্রী -স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
কাজের মেয়াদ
২৩ জুন ১৯৯৬ – ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯৯
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৩১
খুলনা জেলা
মৃত্যু৬ অক্টোবর ২০০০
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
দাম্পত্য সঙ্গীবেগম হাসিনা (বি. ১৯৫৬)
সন্তানচার মেয়ে ও এক ছেলে
পিতামাতাসাহামত উল্লাহ
করিমুন্নেসা
পুরস্কারলেফটেন্যান্ট জেনারেল

সালাহ উদ্দিন ইউসুফ (১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৩১–৬ অক্টোবর ২০০০) বাংলাদেশের খুলনা জেলার রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী যিনি তৎকালীন খুলনা-১৪,[১] খুলনা-৯[২]খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।[৩][৪] মুক্তিযুদ্ধে তার দক্ষতার পুরস্কার হিসেবে বাংলাদেশ সরকা সম্মানজনক 'লেফটেন্যান্ট জেনারেল' পদ বা উপাধি দিয়েছিল।[৫]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

সালাহ উদ্দিন ইউসুফ ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৩১ সালে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের ধোপাখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।[৫][৬] তার পিতা আইনজীবী সাহামত উল্লাহ ও মা করিমুন্নেসার দশ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।[৫]

তিনি ১৯৩৭ সালে খুলনা ভিক্টোরিয়া ইনফ্যান্ট স্কুল থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করে খুলনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও খুলনা ব্রজলাল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে তিনি আইএ পাশ করে ১৯৫৩ সালে বিএ পাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে তিনি এলএলবি পাশ করে আইন পেশা শুরু করেন।[৫]

২৫ ডিসেম্বর ১৯৫৬ সালে বেগম হাসিনাকে বিয়ে করেন। তার চার মেয়ে ও এক ছেলে।[৫]

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

সালাহ উদ্দিন ইউসুফ আইনজীবী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। তিনি ৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলনবাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণসহ তৎকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। নয় নম্বর সেক্টরে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৪-১৯৬৬ মেয়াদে তিনি খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৭-১৯৭১ মেয়াদে তিনি খুলনা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও একই সময়  নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২-১৯৭৫ মেয়াদে তিনি খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২-১৯৭৮ মেয়াদে তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। ১৯৭৮ সালে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্মসম্পাদক মনোনীত হন। ১৯৮০ সাল থেকে তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে তার দক্ষতার পুরস্কার হিসেবে বাংলাদেশ সরকা সম্মানজনক 'লেফটেন্যান্ট জেনারেল' পদ বা উপাধি দিয়েছিল।[৫]

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি ১৯৭০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে এমএনএ নির্বাচিত হন।[৫] ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন খুলনা-১৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[১] ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন খুলনা-৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[২] তীয় জাতীয় সংসদে তিনি বিরোধীদলীয় হুইপের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।[৫]

তিনি ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[৩][৪] সপ্তম জাতীয় সংসদে তিনি (২৩ জুন ১৯৯৬ – ২৯ ডিসেম্বর ১৯৯৯) স্বাস্থ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[৬] এরপর থেকে ৬ অক্টোবর ২০০০ সাল মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দপ্তরবিহীন মন্ত্রী ছিলেন।[৫]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

সালাহ উদ্দিন ইউসুফ ৬ অক্টোবর ২০০০ সালে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য থাকাকালীন মৃত্যুবরণ করেন।[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "১ম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (PDF)জাতীয় সংসদবাংলাদেশ সরকার। ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ 
  2. "২য় জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (PDF)জাতীয় সংসদবাংলাদেশ সরকার। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  3. "৫ম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (PDF)জাতীয় সংসদবাংলাদেশ সরকার। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। 
  4. "৭ম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ-সদস্যদের নামের তালিকা" (PDF)জাতীয় সংসদবাংলাদেশ সরকার। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০২০ 
  5. কাজী মুরাদ হোসেন (১৭ অক্টোবর ২০২০)। "তিনি ছিলেন রাজনীতির আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র"দৈনিক কালের কণ্ঠ। ১৭ অক্টোবর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০২০ 
  6. "গুটুদিয়া ইউনিয়ন, প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। ১২ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০২০ 
  7. "সাবেক মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন ইউসুফের মৃত্যু বার্ষিকী পালিত"খুলনা টাইমস। ৬ অক্টোবর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০২০