টেড ওয়েইনরাইট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
টেড ওয়েইনরাইট
Ted Wainwright c1900.jpg
আনুমানিক ১৯০০ সালে টেড ওয়েইনরাইট
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামএডওয়ার্ড ওয়েইনরাইট
জন্ম(১৮৬৫-০৪-০৮)৮ এপ্রিল ১৮৬৫
টিনস্লে, শেফিল্ড, ইয়র্কশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২৮ অক্টোবর ১৯১৯(1919-10-28) (বয়স ৫৪)
শেফিল্ড, ইয়র্কশায়ার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি স্লো
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৯১
রানের সংখ্যা ১৩২ ১২,৫১৩
ব্যাটিং গড় ১৪.৬৬ ২১.৭৬
১০০/৫০ –/– ১৯/৪৮
সর্বোচ্চ রান ৪৯ ২২৮
বল করেছে ১২৭ ৪৬,৬৩৬
উইকেট ১,০৭১
বোলিং গড় - ১৮.২৪
ইনিংসে ৫ উইকেট ৬৩
ম্যাচে ১০ উইকেট ১৫
সেরা বোলিং - ৯/৬৬
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/– ৩৫৩/–
উৎস: ক্রিকইনফো, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮

এডওয়ার্ড ওয়েইনরাইট (ইংরেজি: Ted Wainwright; জন্ম: ৮ এপ্রিল, ১৮৬৫ - মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯১৯) শেফিল্ডের টিনস্লে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৮৯৩ থেকে ১৮৯৮ সময়কালে ইংল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে স্লো বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন টেড ওয়েইনরাইট

১৮৮৮ থেকে ১৯০২ সময়কালে ঘরোয়া ইংরেজ প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ইয়র্কশায়ার ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন তিনি।[১] কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শুরুরদিকে লর্ড হকের অধিনায়কত্বে কাউন্টি দলকে শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন টেড ওয়েইনরাইট।

কাউন্টি ক্রিকেট[সম্পাদনা]

টেড ওয়েইনরাইট কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের ইতিহাসে সর্বনিম্ন বোলিং গড় স্থাপন করে স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। ১৮৯৪ সালে ১০.১৭ গড়ে ৯৭ উইকেট দখল করেছিলেন তিনি। ঐ উইকেটগুলোর অনেকগুলোই গ্রীষ্মের পোতানো উইকেট ছিল। সঠিক নিশানা বরাবর বোলিং করতেন ও তাঁর স্পিনগুলো কেবলমাত্র ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞরাই যথাযথভাবে মোকাবেলায় সক্ষম ছিলেন।

বোলিংয়ের সাথে তুলনান্তে ব্যাটিংয়েই অধিক সফল হয়েছিলেন তিনি। তবে, তাঁর ব্যাটিংয়ে কোন ধারাবাহিকতা ছিল না। নিজের সেরা দিনগুলোয় তিনি মারকুটে ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ১৯০০ সালে কেন্টের বিপক্ষে অন্যতম সেরা ১১৬ রানের ইনিংস খেলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল জয়লাভ করেছিল। ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করতেন। জন টানিক্লিফের সাথে একত্রে ফিল্ডিং করে ইয়র্কশায়ারের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণকে সহযোগিতার হাত প্রশস্ত করেন। ১৮৯৫ সালে বিয়াল্লিশটি ক্যাচ হাতের মুঠোয় পুরেছিলেন তিনি।

১৮৮৮ সালে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। এরপর থেকেই খুব দ্রুত দলে প্রতিষ্ঠিত হন। সফরকারী অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ১০৫ রানের মনোরম ইনিংস উপহার দেন। তবে, কয়েকটি বছর নিজেকে ধীরলয়ে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৯১ সালে শেফিল্ডে পোতানো উইকেটে তাঁর বোলিং দর্শনীয় পর্যায়ের ছিল। এরফলে ওয়েইনরাইটকে বোলার হিসেবে পরিচিত করে তোলে।

১৮৯৩ সাল পর্যন্ত ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীয় দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারছিলেন না। লর্ডসে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে তেমন সফলতা না পাওয়ার ফলে ডাবল লাভ করতে পারেননি। ১৮৯২ সালে ইয়র্কশায়ারের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী ছিলেন তিনি। তবে, তিনি মাঝারীমানের খেলা উপহার দিয়েছিলেন। শুষ্ক বসন্তে কিছু বাজে উইকেট লাভের প্রেক্ষিতে ১২.৫৫ গড়ে ৯০ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৮৯৩ সালে ইয়র্কশায়ার দল প্রথমবারের মতো কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা লাভে সক্ষমতা দেখায়। একই সময়ে দলের অন্যতম সদস্য ববি পিলকে সাথে নিয়ে চমৎকার স্লো বোলিং জুটি গড়েছিলেন। প্রায়শঃই উইকেটের সহযোগিতা নিয়ে তাঁরা দূর্দান্ত ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করেছিলেন।

১৮৯৪ সালে সাসেক্সের বিপক্ষে সাত বলে পাঁচ উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছিলেন টেড ওয়েইনরাইট। ঐ ইনিংসে ৭/২০ লাভ করাসহ খেলায় ৩৮ রানের বিনিময়ে তেরো উইকেট পান তিনি। মিডলসেক্সের বিপক্ষে খেলায় ৬৩ রানের বিনিময়ে দশ ও সারের বিপক্ষে ১০৮ রানের বিনিময়ে বারো উইকেট পেয়েছিলেন। তবে, ঐ মৌসুমে ওভালের সেরা পিচেও কাঙ্খিত সফলতা না পাবার প্রেক্ষিতে শীতকালে অ্যাশেজ সিরিজে অংশগ্রহণের সুযোগ হারান। ১৮৯৫ সালে ব্যাট কিংবা বল হাতে ব্যর্থ হন। তবে, ফিল্ডিংয়ের কারণে ইয়র্কশায়ার একাদশের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরূপে দলে টিকে থাকেন। ১৮৯৬ সালের শুষ্ক গ্রীষ্মে পোতানো উইকেটে আবারও নিজের দক্ষতা প্রদর্শনে তৎপর হন। এমনকি প্রথমবারের মতো হাজারো রানের মাইলফলকের দোরগোড়ায় এগিয়েছিলেন।

১৮৯৯ সালের জুন মাসে বোলিং অনুপযোগী পিচে খুব কমই বোলার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনা করেছিলেন। তবে, ওভালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা ২২৮ রান তুলেন। এছাড়াও, ১৮৯৭ সালের তুলনায় অধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন। উইলফ্রেড রোডসশোফিল্ড হেই পোতানো উইকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রধান বোলিং আক্রমণকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯০০ ও ১৯০১ সালে নিজের শেষ দুই মৌসুমে টেড ওয়েইনরাইট বল হাতে খুব কমই অংশ নেন। তাসত্ত্বেও, ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতাহীন অবস্থায় দলের ভরসার শেষ কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন।

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে পাঁচটিমাত্র টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ ঘটে টেড ওয়েইনরাইটের। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে তেমন সফলতার মুখ দেখেননি তিনি। ১৭ জুলাই, ১৮৯৩ তারিখে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর। ব্যাটিং উপযোগী পিচে তাঁর বোলিং কার্যকরী ছিল না। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অংশগ্রহণকৃত পাঁচ টেস্টের কোনটিতেই উইকেটের সন্ধান পাননি। ১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে অ্যান্ড্রু স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ঐ সফরে পাঁচ টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের চারটিতে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। সেখানে তিনি লক্ষ্য করেন যে, তাঁর অফ স্পিন কাজ করছে না। ঐ সফর শেষে ইয়র্কশায়ারে ফিরে এসে অনুশীলনীতে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন ও বল ঠিকই স্পিন করছিল।

১৮৯৭ সালে বোলার হিসেবে বেশ রান খরচ করে ফেলেন। তবে, ব্যাট হাতে পাঁচটি সেঞ্চুরি রানের ইনিংস ছিল তাঁর। ফলশ্রুতিতে ১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে অ্যাশেজ সফরের জন্য ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভূক্ত হন। তবে, এবারও তিনি টেস্টগুলোয় ভালো খেলতে পারেননি।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর টেড ওয়েইনরাইট পেশাদারী পর্যায়ে শ্রিউসবারি স্কুলে নিযুক্ত হন। তিনি উইলিয়াম অ্যাটওয়েলের স্থলাভিষিক্ত হন ও পূর্বে নিযুক্ত নেভিল কারদাস তাঁর সহকারীর দায়িত্বে ছিলেন। এ প্রসঙ্গে কারদাস তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেন যে,

"যখন আমি ১৯১৩ সালে কর্মরত ছিলাম তখন একটি ধাক্কা খাই। আমি মিসেস রোডেনহার্স্টের কক্ষে প্রবেশ করি ও তাঁকে অ্যাটওয়েলের অনুপস্থিতি জানাই। তিনি জানান যে, উইলিয়াম অ্যাটওয়েল আর শ্রিউসবারিতে আসবেন না। তাঁর পরিবর্তে শেফিল্ডের বাসিন্দা মি. টেড ওয়েইনরাইট স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। তিনি এখন থেকে ক্রিকেট প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করবেন ও আপনি তাঁর পাশে থাকবেন। তিনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে মি. অ্যাটওয়েলের পরিবর্তে অন্য কাউকে যুক্ত করার কথা শুনেছিলেন।[২]

২৮ অক্টোবর, ১৯১৯ তারিখে ৫৪ বছর বয়সে ইয়র্কশায়ারের শেফিল্ডে টেড ওয়েইনরাইটের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Warner, David (২০১১)। The Yorkshire County Cricket Club: 2011 Yearbook (113th সংস্করণ)। Ilkley, Yorkshire: Great Northern Books। পৃষ্ঠা 380। আইএসবিএন 978-1-905080-85-4 
  2. Cardus, Neville (1947) Autobiography. Collins. pp. 72–73.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]