উইলফ্রেড ফ্লাওয়ার্স

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
উইলফ্রেড ফ্লাওয়ার্স
Wilfred Flowers.jpg
১৮৯৬ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে উইলফ্রেড ফ্লাওয়ার্স
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামউইলফ্রেড ফ্লাওয়ার্স
জন্ম৭ ডিসেম্বর, ১৮৫৬
কার্লটন, নটিংহ্যামশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু১ নভেম্বর, ১৯২৬
ক্যালভার্টন, নটিংহ্যামশায়ার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
সম্পর্কটমাস ফ্লাওয়ার্স (কাকাতো ভাই)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৪৮)
১২ ডিসেম্বর ১৮৮৪ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট১৯ জুলাই ১৮৯৩ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪৪২
রানের সংখ্যা ২৫৪ ১২,৮৯১
ব্যাটিং গড় ১৮.১৪ ২০.০৭
১০০/৫০ ০/১ ৯/৫৬
সর্বোচ্চ রান ৫৬ ১৭৩
বল করেছে ৮৫৮ ৫৬,৩৭৫
উইকেট ১৪ ১,১৮৮
বোলিং গড় ২১.১৪ ১৫.৮৯
ইনিংসে ৫ উইকেট ৭৩
ম্যাচে ১০ উইকেট ১৫
সেরা বোলিং ৫/৪৬ ৮/২২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/০ ২২২/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৩ অক্টোবর ২০১৯

উইলফ্রেড ফ্লাওয়ার্স (ইংরেজি: Wilfred Flowers; জন্ম: ৭ ডিসেম্বর, ১৮৫৬ - মৃত্যু: ১ নভেম্বর, ১৯২৬) নটিংহ্যামশায়ারের কার্লটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৮৮৪ থেকে ১৮৯৩ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ ব্রেক বোলিং করতেন উইল্ফ ফ্লাওয়ার্স নামে পরিচিত উইলফ্রেড ফ্লাওয়ার্স

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৮৭৭ সাল থেকে ১৮৯৬ সাল পর্যন্ত উইলফ্রেড ফ্লাওয়ার্সের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৮৭৮ সালে সফররত অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে উদ্বোধনী খেলায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নটস একাদশের সর্বশেষ জীবিত সদস্য ছিলেন। তিনি তার সময়কালে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

নটিংহ্যামশায়ারের ক্যালভার্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী উইলফ্রেড ফ্লাওয়ার্স ধীরগতিসম্পন্ন বোলার ছিলেন। অফ ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি দক্ষ ব্যাটসম্যান হিসেবেও প্রভূতঃ সুনাম কুড়িয়েছেন। ১৭ বছর বয়সে ওয়ার্কশপ ক্লাবের সাথে প্রথম যুক্ত হন। তিন মৌসুম বাদে নটস কোল্টসের খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। মাত্র ৮ রানে পাঁচজন কাউন্টি একাদশের সদস্যকে বিদেয় করে সকলকে তাক লাগিয়ে দেন। এরফলে, স্বভাবতঃই এমসিসি বনাম ইংল্যান্ড কোল্টসের পক্ষে খেলার জন্যে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রথম ইনিংসে ডব্লিউ. জি. গ্রেসকে বিদেয় করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেট লাভের মধ্যে আবারও গ্রেসের উইকেট ছিল।

১৮৭৭ সালে নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন। পোতানো উইকেটে ব্যাটিং অনুপযোগী পিচে নিজেকে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। ১৮৮১ সালে খেলোয়াড়দের ধর্মঘটে নটিংহ্যামশায়ারে স্থবিরতা নেমে আসে।[১] এ পর্যায়ে তিনি আলফ্রেড শ, ফ্রেড মর্লে, আর্থার শ্রিউসবারি ও জন সেলবি’র তুলনায় নিচেরদিকে অবস্থান করেন। ফলশ্রুতিতে, কাউন্টি কর্মকর্তারা দলের পুণর্গঠনে তাকে উদ্বুদ্ধ করেন।[১] এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ১৮৮২ সালে প্রথমবারের মতো শতাধিক উইকেট লাভে কৃতিত্ব দেখান। তার ব্যাটিংয়ের মান অসাধারণ পর্যায়ের না হলেও নিম্নমূখী রানের খেলায় বেশ কার্যকর ছিল। পরের বছর প্রথম পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেট লাভের ন্যায় ডাবল লাভ করেন। এমসিসি দলের সদস্যরূপে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে খেলেন। ১৩১ রানের ইনিংস খেলায় সাতাশি রান খরচায় এগারো উইকেট পান।

একই ক্লাবে থেকে পরের বছর কেমব্রিজের বিপক্ষে আরও ভালো করেন। ১২২ রান সংগ্রহ করাসহ ১৬০ রান খরচায় চৌদ্দ উইকেট পান। এরপর তেমন ভালো না খেললেও ১৮৮৪-৮৫ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া গমনের জন্য তাকে মনোনীত করা হয়।

২৭ মে, ১৮৭৮ তারিখে এমসিসি’র অন্যতম স্মরণীয় খেলায় তার অংশগ্রহণ ছিল। নটিংহামে অস্ট্রেলিয়া একাদশ ইনিংস ব্যবধানে পরাভূত হলেও এমসিসি দল ৩৩ ও ১৯ এবং অস্ট্রেলিয়া দল ৪১ ও ১২/১ তুলে নয় উইকেটে পরাজিত করে। খেলাটি মাত্র একদিনেই শেষ হয়ে যায়। ফ্লাওয়ার্সকে বোলিং করার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আলফ্রেড শ ও ফ্রেড মর্লে অপরিবর্তিত অবস্থায় ইনিংস শেষ করেন। প্রথম ইনিংসে ফ্রেড স্পফোর্থ শূন্য রানে আউট করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে দলের ১৯ রানের মধ্যে তিনি একাই করেছিলেন ১১ রান।

দীর্ঘদিনের খেলোয়াড়ী জীবনে বেশ কয়েকবার অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৮৮৪ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ড নর্থের সদস্যরূপে ৯০ রান তোলার দুই বছর পর একই মাঠে ল্যাঙ্কাশায়ারের রিচার্ড বার্লো’র সাথে স্মরণীয় জুটি গড়েন। নবম উইকেট জুটিতে ১৭২ রান তুলেন। বার্লো ১১৩ ও ফ্লাওয়ার্স ৯৩ রান তুলেন।

১৮৯৩ সালে তৃতীয়বারের মতো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। জ্যাক ব্ল্যাকহামের অধিনায়কত্বে অস্ট্রেলীয় বোলিং আক্রমণ রুখে দিয়ে লর্ডসে তার দল ৪২৪ রান তুলে। ফ্লাওয়ার্সের ১৩০ ও ফ্রাঙ্ক মার্চেন্ট ১০৩ রান তুলেন। সম্ভবতঃ ১৮৮৩ সালটি তার স্বর্ণালী সময় ছিল। ২৪ গড়ে ১,১১৪ রান তুলেন ও ১৫ রানেরও কম গড়ে ১১৩ উইকেট পান। ১৮৯৩ সালে আবারও সহস্রাধিক রান করেন। ১৮৯৬ সালে নটসে সর্বশেষ খেলেন। ট্রেন্ট ব্রিজে সাসেক্সের বিপক্ষে শেষ খেলায় ১০৭ রান করেছিলেন। আঠারোবার বিভিন্ন দলের পক্ষে খেলেছিলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন উইলফ্রেড ফ্লাওয়ার্স। ১২ ডিসেম্বর, ১৮৮৪ তারিখে অ্যাডিলেডে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৭ জুলাই, ১৮৯৩ তারিখে লর্ডসে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৮৮৪-৮৫ মৌসুমে আলফ্রেড শয়ের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপ অস্ট্রেলিয়া গমনের জন্য তাকে মনোনীত করা হয়। তবে, অত্যন্ত গরম আবহাওয়ায় শারীরিকভাবে পর্যুদস্ত হন। অস্ট্রেলিয়ার শুকনো উইকেটে তেমন সফল হননি। তৃতীয় টেস্টে ৫/৪৬ পান। বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম খেলায় ৪৬ রান খরচায় আট উইকেট পান। ১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে পুণরায় অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। এবার তিনি ঠিকই শারীরিক সক্ষমতা বজায় রেখেছিলেন। এবারও তিনি খুব কমই নিজেকে মেলে ধরতে পেরেছিলেন। কাউন্টি পর্যায়ের খেলায়ও তেমন সফলতা পাননি। উইলিয়াম অ্যাটওয়েল তার চেয়ে এগিয়েছিলেন। ব্যাটিংয়েও তেমন সফল হননি। তাসত্ত্বেও, ১৮৯৩ সালের শুষ্ক গ্রীষ্মে দ্বিতীয়বারের মতো চার অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেন। এ পর্যায়ে সফররত অস্ট্রেলীয় চার্লস টার্নার, জর্জ গিফেনহিউ ট্রাম্বলের বল মোকাবেলা করে ১৩০ রান তুলেন। এরফলে লর্ডসে নিজস্ব শেষ টেস্টে খেলেন। ৩৫ রান করলেও জনি ব্রিগসের বোলিংয়ের কল্যাণে দল থেকে বাইরে অবস্থান করতে হয়।

অবসর[সম্পাদনা]

১৮৯৪ সালেও বেশ ভালোমানের বোলিং করেন। তবে, ১৮৯৫ সালে শুষ্ক আবহাওয়ায় তার বোলিংয়ের ধার কমে যায়। ১৮৯৬ সালে নিজস্ব শেষ মৌসুম খেলেন। এ মৌসুমে তিনি মাত্র বিশ ওভার বোলিং করেছিলেন।[২] তবে, শেষ খেলায় সাসেক্সের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন।

১৮৯৯ সালে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন। কিন্তু, লর্ডসে মিডলসেক্স বনাম সমারসেটের মধ্যকার খেলাটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খেলাটি মাত্র ৩ ওভারে শেষ হয়ে যায়। এ খেলাটিই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সংক্ষিপ্ত খেলা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।[৩] ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ১৯০৭ থেকে ১৯১২ সময়কালে উইলফ্রেড ফ্লাওয়ার্স আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। মার্থা নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। তার কাকাতো ভাই টমাস ফ্লাওয়ার্স প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১ নভেম্বর, ১৯২৬ তারিখে ৬৯ বছর বয়সে নটিংহ্যামশায়ারের ক্যালভার্টন এলাকায় উইলফ্রেড ফ্লাওয়ার্সের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Nottinghamshire strike
  2. Note that an over the consisted of five balls rather than six
  3. Brodribb, Gerald, "Next Man In", Souvenir Press, London, 1995

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]