ক্রিস বল্ডারস্টোন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ক্রিস বল্ডারস্টোন
ক্রিস বল্ডারস্টোন.jpg
১৯৯৩ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে ক্রিস বল্ডারস্টোন
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামজন ক্রিস্টোফার বল্ডারস্টোন
জন্ম(১৯৪০-১১-১৬)১৬ নভেম্বর ১৯৪০
হাডার্সফিল্ড, ইংল্যান্ড
মৃত্যু৬ মার্চ ২০০০(2000-03-06) (বয়স ৫৯)
কার্লাইল, ইংল্যান্ড
উচ্চতা৬ ফুট ১ ইঞ্চি (১.৮৫ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক২২ জুলাই ১৯৭৬ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট১২ আগস্ট ১৯৭৬ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
আম্পায়ারিং তথ্য
ওডিআই আম্পায়ার২ (১৯৯৪–১৯৯৮)
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৯০
রানের সংখ্যা ৩৯ ১৯০৩৪
ব্যাটিং গড় ৯.৭৫ ৩৪.১১
১০০/৫০ -/- ৩২/১০৩
সর্বোচ্চ রান ৩৫ ১৮১*
বল করেছে ৯৬ ১৯২২৪
উইকেট ৩১০
বোলিং গড় ৮০.০০ ২৬.৩২
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/৮০ ৬/২৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ২১০/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৬ আগস্ট ২০১৮
ফুটবল খেলোয়াড়ী জীবন
মাঠে অবস্থান মিডফিল্ডার
যুব পর্যায়ের খেলোয়াড়ী জীবন
১৯৫৫–১৯৫৭ শ্রিউসবারি টাউন
জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের খেলোয়াড়ী জীবন*
বছর দল উপস্থিতি (গোল)
১৯৫৮–১৯৬৫ হাডার্সফিল্ড টাউন ১১৭ (২৪)
১৯৬৫–১৯৭৫ কার্লাইল ইউনাইটেড ৩৭৬ (৬৮)
১৯৭৫–১৯৭৬ ডনকাস্টার রোভার্স ৩৯ (১)
১৯৭৬–১৯৭৮ কুইন অব দ্য সাউথ ৩৪ (০)
  • পেশাদারী ক্লাবের উপস্থিতি ও গোলসংখ্যা শুধুমাত্র ঘরোয়া লিগের জন্য গণনা করা হয়েছে।
† উপস্থিতি(গোল সংখ্যা)।

জন ক্রিস্টোফার বল্ডারস্টোন (ইংরেজি: Chris Balderstone; জন্ম: ১৬ নভেম্বর, ১৯৪০ - মৃত্যু: ৬ মার্চ, ২০০০) হাডার্সফিল্ডে জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা পেশাদার ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। ১৯৭৬ সালে স্বল্পকালীন টেস্ট ক্রিকেট জীবনে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পক্ষে দুই টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ হয় তার। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারলিচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন ক্রিস বল্ডারস্টোন

এছাড়াও, ফুটবলার হিসেবেও তার বেশ সুনাম ছিল। বর্ণাঢ্যময় দীর্ঘস্থায়ী খেলোয়াড়ী জীবনে ক্রিকেটফুটবল - উভয় ক্রীড়ায় শেষদিকের অন্যতম খেলোয়াড় ছিলেন তিনি।[১] ফুটবলে মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিতেন ক্রিস বল্ডারস্টোন। হাডার্সফিল্ড টাউন, কার্লাইল ইউনাইটেড, ডনকাস্টার রোভার্স ও কুইন অব দ্য সাউথের পক্ষে ফুটবল খেলেছেন।[২]

কাউন্টি ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১০ জুন, ১৯৬১ তারিখে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে অভিষেক ঘটে তার। এরপর রে ইলিংওয়ার্থের সহযোগিতায় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ক্রিকেটারদের কাছে বেশ কষ্টসাধ্য বিষয় হলেও ফুটবলারদের সাথে তুলনা করা চলে না। এটি আমাকে বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে। ১৯৭০-এর দশকের প্রথমার্ধ্ব থেকে মাঝামাঝি সময়ে ক্লাবের পাঁচটি ট্রফি বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আম্পায়ারিত্ব করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলা পরিচালনা করেছেন।

১৯৭২ সালে লিচেস্টারশায়ার প্রথমবারের মতো কোন ট্রফি জয়ে সমর্থ হয়। ১৯৭২ সালে লর্ডসে অনুষ্ঠিত বেনসন এন্ড হেজেস প্রতিযোগিতার শিরোপা জয় করে। ক্রিস বল্ডারস্টোন ম্যান অব দ্য ম্যাচ স্বর্ণপদক পুরস্কারে ভূষিত হন। খেলায় তিনি অপরাজিত ৪১ রান তুলে দলের বিজয়ে প্রভূতঃ ভূমিকার রাখেন। এভাবেই লিচেস্টারশায়ারের স্বর্ণযুগের সূত্রপাত শুরু হয় ও একাধারে ৫ মৌসুমে ৫বার ট্রফি জয় করে। এ সময় দলের প্রধান ব্যাটিং মেরুদণ্ড ছিলেন তিনি।[৩]

১৯৭৩ সালে বল্ডারস্টোন তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট মৌসুম খেলেন। একলাফে সম্মুখসারির ইংরেজ ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পান। ৪২ গড়ে ১,২২২ রান তুলেন। সহস্রাধিক রান সংগ্রহের এ মাইলফলক পরবর্তী ১২ মৌসুমের ১০টিতে করেছিলেন তিনি। মাঝারিসারিতে কিংবা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামতেন। ১৯৭৫ সালে তার রান সংগ্রহ লিচেস্টারশায়ারের প্রথম কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের ট্রফি জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়াও ঐ মৌসুমে ৪৩টি মূল্যবান উইকেট পেয়েছিলেন।[৩][৪]

১৯৭৪ সালে বেনসন এন্ড হেজেস প্রতিযোগিতায় তিনি দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হলেও চূড়ান্ত খেলায় সারের বিপক্ষে পরাজিত হয়েছিল। তবে, সানডে লীগের শিরোপা জয় করে তার দল। এর পূর্বে পূর্ববর্তী দুই মৌসুমে দলটি রানার্স-আপ হয়েছিল।[৩]

১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫ তারিখে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের খেলাসহ একই দিনে ফুটবল লীগের খেলায় অংশ নিয়ে ইতিহাস রচনা করেন ক্রিস বল্ডারস্টোন।[৫] চেস্টারফিল্ডে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে অপরাজিত ৫১ রান দ্বিতীয় দিনশেষে তুলেন। এরপর ফুটবল পোষাক পরিধান করে ৩০ মাইল দূরে সান্ধ্যকালীন খেলায় ডনকাস্টার রোভার্সের পক্ষে খেলেন। ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ঐ খেলাটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। পরদিন সকালে চেস্টারফিল্ডে ফিরে আসেন। সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ও তিন উইকেট নিয়ে লিচেস্টারশায়ারকে তাদের প্রথম কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা জয় এনে দেন।[৬][৭] ১৯৭৭ সালে ঐ সময়ে লিচেস্টারশায়ার দল তাদের শেষ ট্রফি হিসেবে সানডে লীগের শিরোপা পায়।[৩]

১৯৭৬ সালে ইস্টবোর্নে অনুষ্ঠিত খেলায় সাসেক্সের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেন। পাঁচ বছর পর লিচেস্টারশায়ারের নিজস্ব মাঠ গ্রেস রোডে এসেক্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে ডেভিড গাওয়ারের সাথে ২৮৯ রান তুলে কাউন্টি রেকর্ড গড়েন।[৩]

বেশ বয়স নিয়ে ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ হয় তার। ৪০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলেন। তার ব্যাটিংয়ের ধারা তেমন নষ্ট হয়নি কিংবা ফিল্ডিংয়েও প্রভাব ফেলেনি। তবে, ১৯৮০ সাল থেকে বোলিং কম করতে থাকেন। তার ব্যাটিংয়ের কল্যাণে লিচেস্টারশায়ার দল ১৯৮২ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে রানার্স-আপ হয়। ১৯৮৫ সালে তৃতীয়বার বেনসন এন্ড হেজেস প্রতিযোগিতার শিরোপা পান তার ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত শিরোপা লাভ ছিল। ফলশ্রুতিতে, ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক পদক বিজয়ীর সম্মাননা পান। ১৯৮৪ সালে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্য মনোনীত হন। লিচেস্টারশায়ারের পক্ষে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত খেলেন।[৩]

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে দুই টেস্টে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭৬ সালে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে খেলার জন্য তাকে ডাকা হয়। ২২ জুলাই, ১৯৭৬ তারিখে ৩৫ বছর বয়সে টেস্ট অভিষেক ঘটে ক্রিস বল্ডারস্টোনের যা তার তরুণ বয়সে ফুটবলে অভিষেক ঘটার বিপরীত চিত্র ছিল।[২] একই বছরে আর একটি টেস্ট খেলেছেন তিনি।

দূর্ভাগ্যবশতঃ পরবর্তী দুই দশকে বিশ্ব ক্রিকেটে রাজত্বকারী শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল তাকে। অ্যান্ডি রবার্টসমাইকেল হোল্ডিংয়ের ন্যায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমকারী পেস বোলারদের মুখোমুখি হন। চার ইনিংসে তিনি কেবল ৩৯ রান তুলেছিলেন। তবে, টেস্ট অভিষেকে ওভালের পিচে সাড়ে তিন ঘন্টা ক্রিজে অবস্থান করে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩৫ রান তুলেন। ঐ টেস্টে হোল্ডিংয়ের সংগৃহীত ১৪ উইকেট লাভে তিনি দূর্দান্ত রুখে দাঁড়াতে সক্ষমতা দেখিয়েছিলেন।

অপর ফাস্ট বোলার ভ্যানবার্ন হোল্ডার পরবর্তীকালে বলেন যে, আমার সৌভাগ্য হয়েছে তার বিপক্ষে খেলার। তিনি অকুতোভয়ে পাল্টা আক্রমণ শানেন ও দূর্দান্ত সাহসের পরিচয় দিয়েছেন।[৩]

অবসর[সম্পাদনা]

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর নেয়ার পর সরাসরি আম্পায়ারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ সালে দুইটি একদিনের আন্তর্জাতিক পরিচালনা করেছেন।

৬ মার্চ, ২০০০ তারিখে প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সে কাম্ব্রিয়ার কার্লাইলে ক্রিস বল্ডারস্টোনের দেহাবসান ঘটে।

সম্মাননা[সম্পাদনা]

ফুটবল[সম্পাদনা]

কার্লাইল ইউনাইটেড:-

  • দ্বিতীয় বিভাগ, ১৯৭৩-৭৪ – উত্তরণ
  • লীগ কাপ, ১৯৬৯-৭০ – সেমি-ফাইনাল

ক্রিকেট[সম্পাদনা]

লিচেস্টারশায়ার:-

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. David Hopps (৭ মার্চ ২০০০)। "Chris Balderstone, all-round sportsman, dies at 59"Obituary। guardian.co.uk। সংগ্রহের তারিখ ৩ আগস্ট ২০১০ 
  2. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 16। আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  3. "Chris Balderstone full cricket and football career profile on www.qosfc.com
  4. Crawford Boyd and George Cloy interviews
  5. Richard Cox, et al., eds., Encyclopedia of British Football (Frank Cass Publishing, 2002) p17
  6. Doug Thomson। "Famous Doncastrian: Chris Balderstone"Huddersfield Daily Examiner। Donny online। সংগ্রহের তারিখ ৯ অক্টোবর ২০১০ 
  7. "Stump the Bearded Wonder No. 76", BBC Sport, 3 June 2004

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]