পাঞ্চাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
প্রাচীন ভারতে পাঞ্চালের অবস্থান

পাঞ্চাল (সংস্কৃত: पञ्चाल) প্রাচীন ভারতের উত্তর গাঙ্গেয় সমতলভূমিতে গঙ্গা-যমুনা দোয়াবে অবস্থিত একটি রাজ্য ছিল। বৈদিক যুগের শেষের দিকে এই রাজ্য দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী রাজ্য হিসেবে গণ্য হত।[১] খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে এই রাজ্য বহুশাসিত সমষ্টিতন্ত্রে পরিণত হয়ে ষোড়শ মহাজনপদ হিসেবে পরিগণিত হত। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে মৌর্য্য সাম্রাজ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েও চতুর্থ শতাব্দীতে গুপ্ত সাম্রাজ্যের শাসনাধীন না হওয়া পর্য্যন্ত পাঞ্চালের স্বায়ত্তশাসন বজায় ছিল।

বৈদিক যুগে পাঞ্চাল[সম্পাদনা]

বৈদিক সভ্যতায় ১১০০ খ্রিস্টপূর্ব হতে ৬০০ খ্রিস্টপূর্ব পর্য্যন্ত কুরু রাজ্যের পরেই পাঞ্চাল উত্তরাপথের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র ছিল। পাঞ্চালে শৌনকতৈত্তিরীয় বৈদিক সম্প্রদায় পাঞ্চাল রাজ্যে গড়ে ওঠে। এই সময় পাঞ্চালে কৃবি, তুর্বষ, কেশিন, সৃঞ্জয় এবং সোমক এই পাঁচটি গোষ্ঠী দ্বারা শাসিত হত। কৃবি গোষ্ঠী থেকে ক্রব্য পাঞ্চাল; তুর্বষ গোষ্ঠী থেকে সোন সত্রসহ; কেশিন গোষ্ঠী থেকে কেশিল দলব্য; সৃঞ্জয় গোষ্ঠী থেকে সহদেব সৃঞ্জয় এবং সোমক গোষ্ঠী থেকে সোমক সহদেব্য ইত্যাদি রাজপুরুষদের নাম বৈদিক সাহিত্য, মহাভারতপুরাণে উল্লিখিত রয়েছে। মহাভারতে উল্লিখিত পাঞ্চালের রাজা দ্রুপদ ও তাঁর কন্যা দ্রৌপদী সোমক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।[২] মহাভারতপুরাণে পাঞ্চাল শাসনকারী গোষ্ঠী গুলিকে ভরত গোষ্ঠীর শাখা বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।[৩]:৬৫-৬৮

মগধের শাসনাধীন পাঞ্চাল[সম্পাদনা]

অগ্নিমিত্রের মুদ্রার এক পিঠে অগ্নির শিখা ও অপর পিঠে রাজকীয় চিহ্ন যুক্ত অগ্নিমিতস নামটি খোদিত রয়েছে।

আনুমানিক ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পাঞ্চাল রাজতন্ত্র গণশাসিত সমষ্টিতন্ত্রে পরিণত হয়। বৌদ্ধ গ্রন্থ সুত্তপিটকের অঙ্গুত্তরনিকায় অংশে পাঞ্চালকে ষোড়শ মহাজনপদের অন্যতম বলে বর্ণনা করা হয়েছে।[৩]:৮৫ পাঞ্চাল রাজশব্দোপজীবিন সংবিধান অনুসরণ করত বলে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে রচিত অর্থশাস্ত্রে উল্লিখিত রয়েছে। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীর মধ্যভাগে মহাপদ্ম নন্দের রাজত্বকালে পাঞ্চাল নন্দ রাজবংশের শাসনাধীন হয়।[৩]:২০৬

অহিছত্রে আবিষ্কৃত মুদ্রা[সম্পাদনা]

অচ্যুতের মুদ্রার একপিঠে চক্র ও পর পিঠে অচ্যু নামটি খোদিত রয়েছে।

অহিছত্র ও তার পার্শ্ববর্তী স্থান থেকে আবিষ্কৃত বেশ কিছু মুদ্রা থেকে মৌর্য যুগের পরবর্তী কালে পাঞ্চাল শাসনকারী কয়েকজন স্বাধীন নৃপতির প্রমাণ যাওয়া যায়। এই মুদ্রাগুলি তামার সংকর যুক্ত ধাতব ও গোলাকার। মুদ্রাগুলির মধ্যভাগে চতুর্ভজাকৃতি বিশিষত একটি গর্তে তিনটি চিহ্নের সারির নিচে একটি পংক্তিতে শাসকের নাম খোডিত রয়েছে। মুদ্রার অপর পীঠে কোন বৈদিক দেবতার চিহ্ন খোদিত রয়েছে। এই সমস্ত মুদ্রায় যে সমস্ত রাজাদের নাম পাওয়া গেছে, তাঁরা হলেন বঙ্গপাল, যজ্ঞপাল, দমগুপ্ত, রুদ্রগুপ্ত, জয়গুপ্ত, সূর্য্যমিত্র, ফাল্গুনীমিত্র, ভানুমিত্র, ভূমিমিত্র, ধ্রুবমিত্র, অগ্নিমিত্র, ইন্দ্রমিত্র, বিষ্ণূমিত্র, জয়মিত্র, প্রজাপতিমিত্র, বরুণমিত্র, অনামিত্র, ভদ্রঘোষ ও যুগসেন। পভোষ লিপিতে খোদিত বৈদেহীপুত্র অশধসেনার পিতামহ অহিছত্রের অধিপতি শৌনকযোনিপুত্র বঙ্গপাল এবং আবিষ্কৃত মুদ্রায় খোদিত বঙ্গপাল একই ব্যক্তি বলে ঐতিহাসিকদের মত।[৪]:১৭০-১৮৮[৫] সম্ভবত অচ্যুত পাঞ্চালের শেষ স্বাধীন রাজা ছিলেন, যিনি গুপ্ত সম্রাট সমুদ্রগুপ্ত দ্বারা পরাজিত হলে পাঞ্চাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীন হয়।[৩]:৪৭৩ অচ্যুতের মুদ্রায় একদিকে তাঁর নাম ও অপরদিকে একটি চাকা খোদিত রয়েছে।[৪]:১৮২

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Witzel, Michael (1995), "Early Sanskritization: Origin and Development of the Kuru state", EJVS vol. 1 no. 4 (1995)
  2. Pargiter, F.E. (1972). Ancient Indian Historical Tradition, Delhi: Motilal Banarsidass, p.117
  3. Raychaudhuri, H.C. (1972) Political History of Ancient India, Calcutta: University of Calcutta
  4. Lahiri, B. (1974). Indigenous States of Northern India (Circa 200 B.C. to 320 A.D.) , Calcutta: University of Calcutta
  5. Bhandare, S. (2006). Numismatics and History: The Maurya-Gupta Interlude in the Gangetic Plain in P. Olivelle ed. Between the Empires: Society in India 300 BCE to 400 CE, New York: Oxford University Press, আইএসবিএন ০-১৯-৫৬৮৯৩৫-৬, pp.76,88