ওয়েন এন. ফিলিপস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ওয়েন ফিলিপস
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামওয়েন নরম্যান ফিলিপস
জন্ম৭ নভেম্বর, ১৯৬২
জিলং, ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ৩৫১)
১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ বনাম ভারত
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৬০
রানের সংখ্যা ২২ ৩৮৫৯
ব্যাটিং গড় ১১.০০ ৩৮.৫৯
১০০/৫০ –/– ৯/১৮
সর্বোচ্চ রান ১৪ ২০৫
বল করেছে ২৪৬
উইকেট
বোলিং গড় ১২৪.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/৫৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং –/– ২৪/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৪ এপ্রিল, ২০২০

ওয়েন নরম্যান ফিলিপস (ইংরেজি: Wayne N. Phillips; জন্ম: ৭ নভেম্বর, ১৯৬২) ভিক্টোরিয়ার জিলং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯২ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন ওয়েন ফিলিপস নামে পরিচিত ওয়েন এন. ফিলিপস

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত ওয়েন এন. ফিলিপসের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। তুলনামূলকভাবে ছোট-খাটো গড়নের অধিকারী ছিলেন ওয়েন এন. ফিলিপস। ক্রিজে নেমে দূর্দান্ত ব্যাটিং কর্মে লিপ্ত থাকতেন। তবে, একই সময়ে আরও কয়েকজন বেশ ভালোমানের খেলোয়াড়ের উপস্থিতির কারণে অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে খেলা দূরূহ হয়ে পড়ে। পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে বেশ রুখে দাঁড়াতেন। শীর্ষসারিতে বিশেষতঃ ব্যাটিং উদ্বোধনে তাকে খেলতে দেখা যেতো।

খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে সাউথ মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাবে খেলেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে ক্লাবের পক্ষে দূর্দান্ত খেলে রাইডার পদক লাভ করেন। এরপর, ভিক্টোরিয়ার দ্বিতীয় একাদশেও বেশ ভালোমানের কিছু খেলা উপহার দেন। ফলশ্রুতিতে, ভিক্টোরিয়ার সদস্যরূপে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান একাদশের বিপক্ষে খেলার জন্যে তাকে সুযোগ দেয়া হয়। এভাবেই তার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্যাট্রিক প্যাটারসন, ইয়ান বিশপউইনস্টন বেঞ্জামিনের ন্যায় শক্তিধর পেস বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে নিজের সেরা খেলা উপহার দিতে সচেষ্ট হন। ১১১ রান তুলেন তিনি।[১]

১৯৮৯-৯০ মৌসুমে সফররত শ্রীলঙ্কা একাদশের বিপক্ষে আরও একটি সেঞ্চুরি করেন তিনি। তাসত্ত্বেও, শেফিল্ড শিল্ড প্রতিযোগিতায় ভিক্টোরিয়া দলকে আবারও হিমশিম খেতে হয়। পরপর দ্বিতীয় বছরের মতো দলটি দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করতে বাধ্য হয়। এরপর সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে তাকে দলের বাইরে রাখা হয়। তবে, পরবর্তী মৌসুমে দলে ফিরে ভিক্টোরিয়া দলকে সুসংগঠিত করার প্রয়াস চালিয়ে সফল হন। এ পর্যায়ে দলটি পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থানে চলে আসে। এমসিজিতে চূড়ান্ত খেলায় নিউ সাউথ ওয়েলসকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আমন্ত্রণ জানায়। নিম্নমূখী রানের খেলায় ২৩৯ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রসর হয় তার দল। ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে খুব দ্রুত দুইজন খেলোয়াড়ের বিদেয় দেখেন। তবে, জেমি সিডন্সকে সাথে নিয়ে আর কোন ক্ষতি না করে ভিক্টোরিয়াকে জয় এনে দেন। ৯১ রানের ঐ চমৎকার অপরাজিত ইনিংস খেলতে ২৫৪ বল ব্যয় করেন তিনি।[২] ১৯৯১-৯২ মৌসুমের শুরুতে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রচণ্ড চাপের মুখে থেকেও সেঞ্চুরি করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন ওয়েন এন. ফিলিপস। ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২ তারিখে পার্থে সফরকারী ভারত দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

ঘরোয়া ক্রিকেটে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ অস্ট্রেলিয়া একাদশের সদস্যরূপে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান একাদশের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলার জন্যে তাকে মনোনীত করা হয়। ডেভিড বুনের সাথে ব্যাট হাতে ইনিংস সূচনায় মাঠে নামেন। ৫১ রান করেন ও অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ব্যবধানে জয়লাভে ভূমিকা রাখেন।[৩] অস্ট্রেলিয়ার সহঃঅধিনায়কের দায়িত্ব পালনকারী জিওফ মার্শ ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ফলশ্রুতিতে, সিরিজের পঞ্চম টেস্টে তার স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। দলীয় অধিনায়ক অ্যালান বর্ডার তার সহকারীর অনুপস্থিতিজনিত সিদ্ধান্তে ক্ষুদ্ধ ছিলেন। ঐ টেস্টটি জিওফ মার্শের নিজ শহরের ওয়াকা গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয় ও নাটকীয়তায় ভরপুর ছিল।[৪] খেলায় ওয়েন ফিলিপস ৮ ও ১৪ রান তুললেও অস্ট্রেলিয়া দল বড় ধরনের জয় পায়।[৫] তার সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামা মার্ক টেলর একাধিক টেস্টে অংশগ্রহণ করলেও তাকে আর কোন টেস্ট খেলায় অংশ নেননি।

অবসর[সম্পাদনা]

টেস্ট দল থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ঠিকই রানের ফল্গুধারা বহমান রেখেছিলেন ওয়েন এন. ফিলিপস। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমের শুরুতে ভিক্টোরিয়ার পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২০৫ রান তুলেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে বড় ধরনের সংগ্রহটি গড়তে ৪৯৫ বল মোকাবেলা করেছিলেন তিনি।[৬]

ফলশ্রুতিতে পুনরায় বার্ষিকাকারে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলীয় একাদশের পক্ষে খেলার জন্যে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এবার তার সাথে ম্যাথু হেইডেনকে মাঠে নামানো হয়। এবারও ম্যাথু হেইডেন, মাইকেল স্ল্যাটারজাস্টিন ল্যাঙ্গার উদীয়মান তারকায় পরিণত হন ও তাকে আর কখনো অস্ট্রেলিয়া দলে খেলার জন্যে আহ্বান জানানো হয়নি।

১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে ভিক্টোরিয়ার পক্ষে সর্বশেষ মৌসুম খেলেন। এ মৌসুমে তিনি আরও দুইটি সেঞ্চুরি করেন। এছাড়াও, কয়েকটি খেলায় দলকে নেতৃত্ব দেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটকে বিদেয় জানালেও বেশ কয়েক বছর সাউথ মেলবোর্ন দলের পক্ষে বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন ওয়েন এন. ফিলিপস।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  2. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  3. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  4. http://cricket237.blogspot.co.uk/2011/02/when-sachin-cracked-perth-test.html
  5. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  6. "The Home of CricketArchive"। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০১৫ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]