ওয়াল্টার মিড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ওয়াল্টার মিড
Walter Mead cricketer c1905.jpg
আনুমানিক ১৯০৫ সালের গৃহীত স্থিরচিত্রে ওয়াল্টার মিড
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম(১৮৬৮-০৫-০১)১ মে ১৮৬৮
ক্ল্যাপটন, লন্ডন, ইংল্যান্ড
মৃত্যু১৮ মার্চ ১৯৫৪(1954-03-18) (বয়স ৮৫)
শেলী, এসেক্স, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক, লেগ ব্রেক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট১৫ জুন ১৮৯৯ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪২৯
রানের সংখ্যা ৪৯৯১
ব্যাটিং গড় ৩.৫০ ১০.৬১
১০০/৫০ -/- ১/৫
সর্বোচ্চ রান ১১৯
বল করেছে ২৬৫ ৮৯৭৭৭
উইকেট ১৯১৬
বোলিং গড় ৯১.০০ ১৮.৯৯
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৫২
ম্যাচে ১০ উইকেট ৩৯
সেরা বোলিং ১/৯১ ৯/৪০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ১৯৪/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৮ মার্চ ২০১৯

ওয়াল্টার মিড (ইংরেজি: Walter Mead; জন্ম: ১ এপ্রিল, ১৮৬৮ - মৃত্যু: ১৮ মার্চ, ১৯৫৪) লন্ডনের ক্ল্যাপটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৮৯৯ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।[১] ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স ও লন্ডন কাউন্টির প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি অফ ব্রেক কিংবা লেগ ব্রেক বোলারের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, মাঝারিসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন।

কাউন্টি ক্রিকেট[সম্পাদনা]

এসেক্সের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেয়া সত্ত্বেও ওয়াল্টার মিড ঠিকই নিজেকে মেলে ধরেছিলেন স্ব-মহিমায়। এ সময়েই বিশ্বমানের বোলারের মর্যাদায় আসীন হন। ১৮৯৩ সালে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে সতেরো উইকেট লাভে সক্ষমতা দেখান। কিন্তু, পরের বছরেই এর ব্যতয় ঘটে। উইকেট উপযোগী পিচেও কাঙ্খিত সফলতা লাভে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। এ মৌসুমে আটটি আন্তঃকাউন্টি খেলায় অংশ নিয়ে ২১ গড়ে মাত্র ৪১ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।

১৮৯৫ সালের শুরুতে ধীরলয়ে যাত্রা শুরু করলেও জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে পোতানো উইকেটে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেন। পুরো গ্রীষ্মে উইকেট প্রতি পনেরো রানেরও কম খরচায় রেকর্ডসংখ্যক ১৭৯ উইকেট পান। তন্মধ্যে, হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে ১১৯ রান খরচায় ১৭ উইকেট দখল করেছিলেন তিনি। তাসত্ত্বেও, তার দল পরাজিত হয়েছিল। ১৮৭৬ সালে হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষেই উইলিয়াম মাইক্রফটের পর তার বোলিং পরিসংখ্যান পরাজিত দলের পক্ষে দ্বিতীয় সেরার মর্যাদা লাভ করে। কেবলমাত্র টিচ ফ্রিম্যানের দুইবার খেলায় সতেরো উইকেট লাভের সাথে গুরুত্বতার দিক দিয়ে তার বোলিংয়ের তুলনায় করা চলে।

১৮৯৬ ও ১৮৯৭ সালে শুকনো আবহাওয়ার কারণে বেশ নিরাশ করেন। কিন্তু পরের বছরগুলোয় বোলিংশৈলীর ব্যাপক উত্তরণ ঘটান ও কাঙ্খিত সফলতা পান। ১৮৯৯ থেকে ১৯০৩ সালের প্রত্যেক মৌসুমেই প্রথম-শ্রেণীর গড়ে শীর্ষস্থানে অবস্থান করেন। এছাড়াও, ১৯০১ সালে এমসিসির সদস্যরূপে লর্ডসের অনুপযোগী পিচেও কিছুটা সফল হয়েছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর বোলিং গড়ে শীর্ষস্থানে অধিকারের স্বীকৃতিস্বরূপ শেষ মৌসুমে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হয়েছিলেন।[২] তন্মধ্যে, ওভালে সারের বিপক্ষে খেলায় ১২/৭৬ ও লেটনে লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ১৫/১১৫ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করিয়েছিলেন।

১৯০২ সালে লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে ১১৯ রান তুলে দর্শকদেরকে ব্যাপক মনোরঞ্জন করেছিলেন। ১৯০৩-০৪ মৌসুমের শীতকালে আর্থিক মতানৈক্যের কারণে এসেক্সের সাথে সাময়িকভাবে চুক্তি ছিন্ন করেছিলেন। ১৯০৪ ও ১৯০৫ সালে দলের বাইরে অবস্থান করেন। ১৯০৬ সালে প্রথম একাদশে ফিরে আসেন। ১৯০৬ সালের স্মরণীয় গরমেও নিজ কাউন্টি খেলাগুলোয় অত্যন্ত ভালো বোলিং করেন। নমনীয় পিচে তিনি দুর্দমনীয় ছিলেন।

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৮৯৯ সালে অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে দূর্দান্ত ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। এরই স্বীকৃতিস্বরূপ লর্ডসে অনুষ্ঠিত জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু, নিষ্প্রাণ পিচে তেমন কোন প্রভাব রাখতে পারেননি।

ব্যাট হাতে ৭ ও ০ রান করেন। উভয় ইনিংসেই তিনি আর্নি জোন্সের শিকারে পরিণত হন। প্রথম ইনিংসে ১/৯১ লাভ করেছিলেন। তিনি জিম কেলিকে ডিক লিলি’র কটে পরিণত করেন।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯০৮ সালে তার বোলিং প্রত্যাখ্যাত হয়। মাত্র ৪৮টি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের উইকেট পেয়েছিলেন। এরফলে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তার খেলার দিন ফুরিয়ে এসেছে। ১৯১০ ও ১৯১১ সালে কিছুটা জেগে উঠার প্রয়াস চালান। ১৯১২ সালের অধিকাংশ নমনীয় পিচে ওয়াল্টার মিড ব্যর্থ হলে প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়েন। ১৯১৩ সালে অবসর গ্রহণ করলেও এসেক্স দলে তার ন্যায় অন্য কোন স্পিন বোলারকে যুক্ত করতে পারেনি।

১৯১৮ সালে লর্ডসের মাঠ কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে চলে আসেন তিনি। তার সন্তান হ্যারল্ড মিডও এসেক্সের পক্ষে কয়েকটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্তির ফলে ১৯২১ সালে হ্যারল্ড মিডের জীবনাবসান ঘটেছিল।

৮৫ বছর বয়সে ১৮ মার্চ, ১৯৫৪ তারিখে এসেক্সের শেলীতে ওয়াল্টার মিডের দেহাবসান ঘটে।

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি দলের মর্যাদা লাভের প্রথম দুই দশকে এসেক্স দলের প্রধান বোলারের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। লর্ডসের মাঠ কর্মকর্তা থাকাকালে এমসিসি ও মাঠের দায়িত্বে নিয়োজিত জে. টি. হার্নের সাথে একত্রে বেশ কয়েকটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

ডানহাতি বোলার হিসেবে ওয়াল্টার মিড স্লো থেকে মিডিয়াম বোলিং করে ব্যাপক সাফল্যের পরিচয় তুলে ধরেছেন। সর্বদাই নিখুঁত নিশানা বজায় রেখে বোলিং কার্যে অগ্রসর হতেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত উইকেটেও বলে স্পিন এনে মৃত্যুদূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। মজুদকৃত অফ ব্রেক বলকে অপর প্রান্তে বাঁক খাওয়াতে সক্ষমতা দেখান। কিন্তু, কলিন ব্লাইদ, জ্যাক হোয়াইটের ন্যায় বিভ্রান্তিকরভাবে বলে ফ্লাইট আনতে পারতেন না। খুব কমই ব্যাটসম্যান হিসেবে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. [১] ESPNcricinfo, ESPN, সংগ্রহের তারিখ: ২১ নভেম্বর, ২০১৮
  2. "Wisden's Five Cricketers of the Year"ESPNcricinfoESPN। ২৩ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১৫ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]