ডিক বার্লো

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ডিক বার্লো
Dick Barlow 1882.jpg
১৮৮২ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে ডিক বার্লো
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরিচার্ড ডিক গর্টন বার্লো
জন্ম(১৮৫১-০৫-২৮)২৮ মে ১৮৫১
বোল্টন, ইংল্যান্ড
মৃত্যু৩১ জুলাই ১৯১৯(1919-07-31) (বয়স ৬৮)
ব্ল্যাকপুল, ইংল্যান্ড
ডাকনামডিক, স্টোনওয়ালার
উচ্চতা৫ ফুট ৮ ইঞ্চি (১.৭৩ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনবামহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার, আম্পায়ার, ফুটবল রেফারি
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৯)
৩১ ডিসেম্বর ১৮৮১ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট১ মার্চ ১৮৮৭ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৮৭১ - ১৮৯১ল্যাঙ্কাশায়ার
আম্পায়ারিং তথ্য
টেস্ট আম্পায়ার১ (১৮৯৯)
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১৭ ৩৫১
রানের সংখ্যা ৫৯১ ১১,২১৭
ব্যাটিং গড় ২২.৭৩ ২০.৬১
১০০/৫০ ০/২ ৪/৩৯
সর্বোচ্চ রান ৬২ ১১৭
বল করেছে ২,৪৫৬ ৪৩,৪৬৮
উইকেট ৩৪ ৯৫০
বোলিং গড় ২২.৫৫ ১৪.৫২
ইনিংসে ৫ উইকেট ৬৬
ম্যাচে ১০ উইকেট ১৪
সেরা বোলিং ৭/৪০ ৯/৩৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৪/– ২৬৮/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১০ অক্টোবর ২০১৯

রিচার্ড ডিক গর্টন বার্লো (ইংরেজি: Dick Barlow; জন্ম: ২৮ মে, ১৮৫১ - মৃত্যু: ৩১ জুলাই, ১৯১৯) বোল্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৮৮১ থেকে ১৮৮৭ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন ডিক বার্লো

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

শৈশবেই ক্রিকেট খেলার প্রতি অসম্ভব আকর্ষণ ছিল ডিক বার্লো’র। ২০ বছর ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে খেলেন। এরপর ষাটোর্ধ্ব বয়সেও নীচুস্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

চৌদ্দ বছর বয়সে বিদ্যালয় জীবন ত্যাগ করে শিক্ষানবিশ কম্পোজিটর হিসেবে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে থাকেন। ১৯৬৫ সালে ডার্বিশায়ারে চলে আসলে তার পিতা স্ট্যাভলি আয়রন ওয়ার্কসে কাজ দেন। এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় স্ট্যাভলি আয়রন ওয়ার্কস ক্রিকেট ক্লাবে প্রথমবারের মতো ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। ১৮৭১ সালে লিডসের ফারস্লের পক্ষে পেশাদারী পর্যায়ে ক্রিকেট খেলেন।

১৮৭৩ থেকে ১৮৭৭ সময়কালে ব্রাডফোর্ডের সল্তেয়ারের পক্ষে পেশাদারী পর্যায়ে খেলেন। ১৮৭৫ সালে ইংল্যান্ড ইউনাইটেড নর্থের সদস্যরূপে ডার্বিশায়ারের সদস্যরূপে একটি খেলায় অংশ নেন। ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতা ও প্রায় এগারো স্টোন ওজনের অধিকারী ছিলেন ডিক বার্লো। শক্ত ও মজবুত গড়ন ছিল তার। রক্ষণাত্মক ব্যাটিংশৈলীর কারণে সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। ফলশ্রুতিতে, তাকে আউট করা দুরূহ ছিল ও ‘স্টোনওয়ালার’ ডাকনামে আখ্যায়িত হন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৮৭১ সাল থেকে ১৮৯১ সাল পর্যন্ত ডিক বার্লো’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল।

চমৎকার ভঙ্গীমায় বামহাতে স্লো মিডিয়াম বোলিং করতেন। বলে বৈচিত্র্যতা আনয়ণে ব্যাটসম্যানের দূর্বলতা দেখে প্রভূতঃ সাফল্য পেতেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের নিজস্ব প্রথম বলে উইকেট পান। চারটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে হ্যাট্রিক রয়েছে তার। এগারোবার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ছাড়েন।

এ. এন. হর্নবি’র সাথে জুটি গড়ে স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। তাদের ব্যাটিংয়ের বিষয়টি ফ্রান্সিস টমসন কবিতায় লিপিবদ্ধ করেন। একবার এ এন হর্নবি’র সাথে ৪৫ রানের জুটি গড়েন। হর্নবি ৪৪ রান করে আউট হলেও তিনি কোন রানই সংগ্রহ করেননি। ১৮৮২ সালে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে সর্বনিম্ন রান সংগ্রহ করার রেকর্ড গড়েন। ল্যাঙ্কাশায়ার দল ৬৯ রানে আউট হলেও দুই ঘন্টায় তিনি ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।[১] কথিত রয়েছে যে, অ্যালেন গিবসন বার্লো’র ব্যাটিং নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন যে, বার্লোকে মুটে হিসেবে রেলওয়েতে দেখতে পান। স্টেশন-মাস্টার তাকে ব্যাটিংয়ে রেখে বোলিং করেন। তিনি তাকে নিজের দিকে বোলিং করতে বললেন। ঠিক আছে, তাই করছি। তিনি এক পক্ষকাল অপেক্ষা করতে লাগলেন।[২]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে মাত্র চারবার শতরানের ইনিংস খেলতে সমর্থ হন। একই বছরে প্লেয়ার্সের সদস্যরূপে জেন্টলম্যানের বিপক্ষে স্মরণীয় হ্যাট্রিক করেন। ডব্লিউজি, শাটাররিড তার বলগুলো যথাযথভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হননি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে সতেরোটি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন। ৩১ ডিসেম্বর, ১৮৮১ তারিখে মেলবোর্নে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৭ তারিখে সিডনিতে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ করেছেন মাত্র ৬২। বেশ কয়েকবার দলের বিপর্যয়ে রুখে দাঁড়িয়েছেন। বোলার হিসেবেই অধিক সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৮৮৬ সালে ম্যানচেস্টারে ৭/৪৪ নিয়ে দলের জয়ে সবিশেষ অবদান রাখেন।

ইংল্যান্ডের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাতবার খেলেন। ১৮৮২ সালে ওভালে সৃষ্ট অ্যাশেজ সিরিজসহ ১৮৮৪ সালে লর্ডস, ওভালে এবং ১৮৮৬ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে অংশ নেন। খেলাগুলোয় তিনি বড় অঙ্কের রানের সন্ধান পাননি। তবে, ১৮৮৪ সালে লর্ডসে অ্যালান স্টিলের সাথে জুটি গড়ে খেলার গতিধারাকে পরিবর্তন করে দেন। ১৮৮৬ সালে ম্যানচেস্টার টেস্টে অস্ট্রেলীয় বোলারেরা পিচের সহায়তায় ব্যাটসম্যানদেরকে কুপোকাত করলেও তিনি অবিচল ছিলেন। এছাড়াও, অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ৭/৪৪ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন।

১৮৮৪ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ড নর্থের সদস্যরূপে অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে খেলেন। বার্লো নিজের সেরা খেলা উপহার দেন। অপরাজিত ১০ ও ১০১ রান তুলেন এবং ৪/৬ ও ৬/৪২ পেয়েছিলেন। নর্থ তাদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করলে অস্ট্রেলিয়ার দৈত্যকায় বোলার ফ্রেড স্পফোর্থ মন্তব্য করেন যে, আমাকে বল দাও। তাদের ৬০ রানের বেশী তুলতে দিব না। কিন্তু, দলটি ২৫৫ রান তুলেছিল। দলের সংগ্রহ ৫/৫৩ হবার পর বার্লো-ফ্লাওয়ার্স জুটি ১৫৮ রান যুক্ত করেন। এ পর্যায়ে বার্লো বেশী খুশী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ায় তিনবার গমন করেন। ১৮৮১-৮২ ও ১৮৮৬-৮৭ মৌসুমে আলফ্রেড শআর্থার শ্রিউসবারি এবং ১৮৮২-৮৩ মৌসুমে সম্মানীয় ইভো ব্লাইয়ের নেতৃত্বে খেলেন। এ তিনটি সফরের প্রত্যেক খেলাতেই তার অংশগ্রহণ ছিল।

এ সফরগুলোর প্রথমটিতে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে সিডনিতে ৭৫ রান তোলার পর এক বেখেয়ালী লোক বার্লোকে স্মারকসূচক বেল্ট প্রদান করে। আলিক ব্যানারম্যান মন্তব্য করেন যে, আমিতো ভেবেছি চ্যাম্পিয়ন স্টিকার লাভ করেছি। লোকটি জবাব দিল যে, কিন্তু, তোমরা নিসন্দেহে বেল্টটি জিতেছ।

অবসর[সম্পাদনা]

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ার হিসেবে খেলা পরিচালনায় অগ্রসর হন। ১ জুন, ১৮৯৯ তারিখে নটিংহামে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টেস্ট খেলাটি পরিচালনা করেছিলেন তিনি। এটিই তার একমাত্র টেস্ট খেলা পরিচালনা ছিল।

এছাড়াও, ফুটবল খেলায় রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। এফএ কাপে প্রেস্টন নর্থ এন্ড বনাম হাইডের মধ্যকার খেলায় রেফারি ছিলেন তিনি। ঐ খেলায় ২৬-০ গোলে জয় পেয়েছিল প্রেস্টন দল।[৩]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ক্রিকেটের বাইরে ফুটবল খেলায় গোলরক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এছাড়াও, শীর্ষস্থানীয় স্প্রিন্টার হিসেবেও সুনাম ছিল তার। জীবনের শেষদিকে ম্যানচেস্টার গার্ডিয়ানে ডিক বার্লো মন্তব্য করেন যে, আমি মনে করি না যে, আমার ন্যায় অন্য কেউ ক্রিকেট খেলাকে উপভোগ করতে পেরেছে। যদি পুণরায় আমার সময় ফিরে আসে তাহলে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে স্বীয় জীবনকে উৎসর্গ করবো।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন তিনি। হ্যারিয়েট নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির এলিজা নাম্নী এক কন্যা ছিল। ৩১ জুলাই, ১৯১৯ তারিখে ৬৮ বছর বয়সে ব্ল্যাকপোলের স্ট্যানলি পার্কে ডিক বার্লোর জীবনাবসান ঘটে। লেটন সমাধিক্ষেত্রে তাকে সমাহিত করা হয়। সমাধিপ্রস্তরে উল্লেখ রয়েছে যে, অবশেষে বোল্ড হলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Lynch, Steven। "Tight-fisted in T20, and a shared birthday"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১০ এপ্রিল ২০১৮ 
  2. Gibson, Alan (1989) The Cricket Captains of England, The Pavilion Library. p. 41.
  3. Taw, Thomas (২০০৬)। Football's Twelve Apostles: The Making of The League 1886–1889। পৃষ্ঠা 50। আইএসবিএন 1-905328-09-5 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]