আসমা বিনতে উমাইস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আসমা বিনতে উমাইস বা আসমা বিনতে আমিসা (আরবি: أسماء بنت عميس‎‎) একজন সম্মানিত সাহাবিয়া ছিলেন। তিনি খলিফা আবু বকর ও আলী এবং বিশিষ্ট সাহাবা আবু জাফর ইবনে আবু তালিবের স্ত্রী ছিলেন। তিনি প্রায় ৬০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদের অন্তিমকালে তিনি অনেক সেবা শুশ্রূষা করেন।

জন্ম ও পরিচয়[সম্পাদনা]

তার নাম আসমা। তিনি ছিলেন খুশয়াম গোত্রের মহিলা। তার পিতার নাম ছিলো আমিস ইবনে সাদ ইবনে তামিম ইবনে হারেস, আর মাতার নাম ছিলো খাওলা বিনতে আওফ। আসমার পিতা ছিলো কেনানা গোত্রের বাসিন্দা।[১][২]

পরিবার-পরিজন[সম্পাদনা]

আসমার মা হিন্দ বিনতে আওফের সন্তানাদির মধ্যে দুই কন্যা ছিলেন মুহাম্মাদের স্ত্রী। একজন হলেন জয়নব বিনতে খুযায়মা এবং অন্যজন মায়মুনা বিনতে আল-হারিস। তার বৈমাত্রিক বোন সালমা বিনতে উমাইস ছিলেন হামযা ইবন আবদুল মুত্তালিব এর স্ত্রী। আসমা বিনতে উমাইসের গর্ভে মোট ৭জন সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন-পাঁচ জন পুত্র ও দুজন কন্যা।

  • প্রথম স্বামী জাফরের ঔরসে তিন পুত্রঃ মুহাম্মদ ইবনে জাফর, আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ও আওন ইবনে জাফর,
  • দ্বিতীয় স্বামী আবু বকরের ঔরসে এক পুত্রঃ মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর এবং
  • তৃতীয় স্বামী আলীর ঔরসে এক পুত্র ইয়াহিয়া ইবনে আলী

ইসলাম গ্রহন[সম্পাদনা]

আসমা বিনতে উমাইস মুহাম্মাদের মক্কায় দারে আরকাম-এ অবস্থানের পূর্বে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবী (সা.) এর হাতে বায়আতের গৌরব অর্জন করেন। মুহামাদের ইন্তিকালের আগে রোগাক্রান্ত হলে আসমা অনেক সেবা শুশ্রুষা করেন।

বৈবাহিক জীবন[সম্পাদনা]

প্রথম বিবাহ[সম্পাদনা]

বিশিষ্ট সাহাবা ও মুহাম্মাদের এর চাচাতো ভাই জাফর ইবনে আবি তালিব এর সাথে আসমা বিনতে উমাইসের প্রথম বিবাহ হয়। আসমার ইসলাম গ্রহনের সমসাময়িক সময়ে তার স্বামীও ইসলাম গ্রহন করেন, তারপর তারা একত্রে হাবশায় হিজরত করেন। সেখানে আবু জাফরের ঔরসে তিনটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করে- মুহাম্মাদ, আবদুল্লাহ ও আওন।[৩]

হাবশায় কিছু বছর অবস্থানের পরে শেষে ৭ম হিজরি ৬২৯ খৃস্টাব্দে খায়বার বিজয়ের পর তারা মদিনায় ফিরে আসেন এবং হাফসা বিনতে উমরের গৃহে অবস্থান করেন। ৮ম হিজরির জমাদিউল উলা মাসে, ৬২৯ খৃস্টাব্দে মুতার যুদ্ধে জাফর ইবনে আবু তালিব শাহাদত বরণ করেন, মুহাম্মাদ এই পরিবারের পাশে ছিলেন, তাদের খোঁজ-খবর নেন এবং খাবারের ব্যবস্থা করেন। জাফরের শাহাদাতের পর আবু বকরের সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের এক সন্তান মুহাম্মাদ বিন আবু বকর ছিলেন বিখ্যাত আলেম ও যোদ্ধা।

দ্বিতীয় বিবাহ[সম্পাদনা]

জাফরের শাহাদতের ৬ মাস পর ৮ম হিজরির শাওয়াল মাসে হযরত আবু বকরের সাথে আসমার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। দু’বছর পর ১০ম হিজরির যিলকাদ মাসে আসমা হজ্ব করতে আসলে, সেই সময় যুলহুলাইফা নামক স্থানে মুহাম্মাদের জন্ম হয়। ১৩ হিজরিতে তার স্বামী আবু বকর ইন্তিকাল করেন, তিনি আবারো একাকী হয়ে যান, অসিয়ত অনুসারে তার স্বামীর জানাজার গোসল তিনিই করান। আবু বকরের মৃত্যুবরণকালে পুত্র মোহাম্মদের বয়স ছিল আনুমানিক তিন বছর।

তৃতীয় বিবাহ[সম্পাদনা]

আবু বকরের ইন্তিকালের পর আলীর সাথে তার তৃতীয় বিয়ে হয়। শিশু পুত্র মোহাম্মদও মাতার সাথে হযরত আলীর গৃহে প্রতিপালিত হয়। মুহাম্মাদ ইবনে জাফরমুহাম্মাদ ইবনে আবু বকরের মধ্যকার বিতর্কও আসমা সমাধান করতেন। আলীর ঔরসে এক পুত্র ইয়াহিয়া ইবনে আলী জন্ম গ্রহণ করেন। তবে মুহাম্মাদ ইবনে ওমরের মতে, আলীর ঔরসে দুই পুত্র জন্ম গ্রহণ করে, ইয়াহিয়া ও আওন।[৪]

হাদিস বর্ণনা[সম্পাদনা]

আসমা বিনতে উমাইস ৬০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। এসব হাদিস বর্ণনা করেছেন যেসব তাবেয়ী তারা হলো

আবদুল্লাহ ইবনে জাফর,

ইবনে আব্বাস,

কাসেম ইবনে মুহাম্মদ,

আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ,

ইবনুল হাদ,

ওরওয়া,

ইবনে মোসাইয়ের,

উম্মে আওন বিনতে মুহাম্মদ ইবনে জাফর,

ফাতমা বিনতে আলী,

আবু ইয়াযিদ মাদানী প্রভৃতি

মৃত্যু[সম্পাদনা]

৪০ হিজরির দিকে খলিফা আলী শাহাদাত বরণ করেন, তার স্ত্রী আসমা তার মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে ইন্তিকাল করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Landau-Tasseron, Ella, সম্পাদক (১৯৯৮)। The History of al-Ṭabarī, Volume XXXIX: Biographies of the Prophet's Companions and their Successors: al-Ṭabarī's Supplement to his History। SUNY Series in Near Eastern Studies.। Albany, New York: State University of New York Press। আইএসবিএন 978-0-7914-2819-1 
  2. Muhammad ibn Saad. Kitab al-Tabaqat al-Kabir vol. 8. Translated by Bewley, A. (1995). The Women of Madina. London: Ta-Ha Publishers.
  3. Ali ibn al-Athir. Usd al-Ghābah fi Ma‘rifat al-Ṣaḥābah, pp. 262–271.
  4. তাবকাত, পৃষ্ঠা ২০৮