অষ্টশম্ভু শিবমন্দির
| অষ্টশম্ভু শিবমন্দির | |
|---|---|
| ধর্ম | |
| অন্তর্ভুক্তি | হিন্দুধর্ম |
| অধীশ্বর | শিব |
| অবস্থান | |
| অবস্থান | ভুবনেশ্বর |
| রাজ্য | ওড়িশা রাজ্য |
| দেশ | ভারত |
| স্থানাঙ্ক | ২০°১৪′৩৭.২৮″ উত্তর ৮৫°৫০′১০.০৪″ পূর্ব / ২০.২৪৩৬৮৮৯° উত্তর ৮৫.৮৩৬১২২২° পূর্ব |
| স্থাপত্য | |
| ধরন | কলিঙ্গ শৈলী |
| সম্পূর্ণ হয় | ১০ম শতক |
| উচ্চতা | ৩৩ মি (১০৮ ফু) |
অষ্টশম্ভু শিবমন্দির ভারতের ওড়িশা রাজ্যের রাজধানী ভুবনেশ্বরে অবস্থিত দেবতা শিবের উদ্দেশ্যে নির্মিত আটটি মন্দিরের সমষ্টি।[১]
মন্দির
[সম্পাদনা]
উত্তরেশ্বর শিব মন্দির প্রাঙ্গণে একই আকার ও পরিমাপের আটটি মন্দির রয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে অষ্টশম্ভু নামে পরিচিত। অষ্ট অর্থ আট এবং শম্ভু হলো ভগবান শিবের আরেকটি নাম। এর মধ্যে পাঁচটি মন্দির একটি সারিতে অবস্থিত, যা পঞ্চু পাণ্ডব নামেও পরিচিত। বড়ার বিভাজন এবং পভাগার অলংকরণসহ স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, মন্দিরগুলো আনুমানিক দশম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল। এটি পাথরে নির্মিত একটি স্থাপনা এবং এর স্থাপত্যশৈলী রেখা দেউল। মন্দিরটি পূর্ব দিকে গোদাবরী জলাশয়, পশ্চিম দিকে উত্তরেশ্বর শিব মন্দিরের সীমানা প্রাচীর এবং দক্ষিণ দিকে সীমানা প্রাচীরের বাইরে বিন্দুসাগর জলাশয় দ্বারা পরিবেষ্টিত। মন্দিরটিতে একটি পূর্বমুখী গর্ভগৃহ রয়েছে।
স্থাপত্যশৈলী
[সম্পাদনা]মন্দিরটিতে ২.৪৫ মিটার পরিমাপের একটি বর্গাকার বিমান এবং ০.৫৩ মিটার পরিমাপের একটি সম্মুখ বারান্দা রয়েছে। এর পঞ্চরথ পরিকল্পনায় একটি কেন্দ্রীয় রথ এবং রথের উভয় পাশে এক জোড়া অনুরথ ও কণিকাপাগ রয়েছে। উচ্চতার দিক থেকে বিমানটি রেখা শৈলীর, যা পভাগ থেকে কলস পর্যন্ত ৫.৭২ মিটার উঁচু। নিচ থেকে ওপরের দিকে মন্দিরটি বড়া, গণ্ডী ও মস্তক—এই তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত। বড়ার ত্রিবিভাজনের কারণে মন্দিরটিতে ১.৭২ মিটার পরিমাপের একটি ত্রিঅঙ্গ বড়া রয়েছে। নিচের পভাগে খুর, কুম্ভ, পট ও বসন্ত—এই চার ধরনের ভিত্তি অলংকরণ রয়েছে, যার উচ্চতা ০.৪৭ মিটার। জঙ্ঘার উচ্চতা ০.৯০ মিটার এবং ০.৩৫ মিটার পুরু বারান্দায় তিনটি অলংকরণ রয়েছে। ৩.০০ মিটার উচ্চতার গণ্ডী কোনো ধরনের অলংকরণবিহীন এবং ১.০০ মিটার পরিমাপের মস্তকে বেকি, আমলক, খাপুরি ও কলসের মতো উপাদান রয়েছে।
পার্শ্বদেবতার কুলুঙ্গিগুলো জঙ্ঘার রাহাপাগে উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। এগুলোর পরিমাপ ০.৫০ মিটার × ০.৩২ মিটার এবং গভীরতা ০.২০ মিটার। দক্ষিণ দিকের কুলুঙ্গি ছাড়া অন্য দুটি খালি রয়েছে। কুলুঙ্গিগুলো খাখারা শৈলীর তালগর্ভিকা ও ঊর্ধ্বগর্ভিকা অলংকরণে সজ্জিত। দক্ষিণের কুলুঙ্গিতে চতুর্ভুজ গণেশ মূর্তি রয়েছে। তাঁর নিচের বাম হাতে পরশু এবং নিচের ডান হাতে বরদা মুদ্রায় একটি জপমালা রয়েছে। তাঁর ওপরের দুই হাত ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। দেবতার ওপরের অংশের দুই পাশে দুটি উড়ন্ত বিদ্যাধর মূর্তি রয়েছে, যাদের হাতে মালা রয়েছে। মন্দিরটি মোটা ধূসর বেলেপাথর দিয়ে নির্মিত এবং এর নির্মাণপদ্ধতি শুষ্ক গাঁথনি। এর স্থাপত্যশৈলী কলিঙ্গ স্থাপত্যর অন্তর্ভুক্ত।
আলংকারিক বৈশিষ্ট্য
[সম্পাদনা]দরজার চৌকাঠটি তিনটি উল্লম্ব পটি দিয়ে অলংকৃত এবং এর উচ্চতা ১.২০ মিটার ও প্রস্থ ০.৮৪ মিটার। চৌকাঠের নিচের অংশের দুই পাশে দ্বারপালের জন্য দুটি কুলুঙ্গি রয়েছে, যেগুলোর উচ্চতা ০.২৮ মিটার এবং প্রস্থ ০.১২ মিটার। এসব কুলুঙ্গিতে শৈব ঐতিহ্যের দ্বারপালের ত্রিশূলধারী মূর্তি স্থাপিত রয়েছে। ললাটবিম্বে গজলক্ষ্মীর একটি মূর্তি রয়েছে, যেখানে তাঁর বাম হাতে একটি পদ্ম এবং ডান হাতে বরদা মুদ্রা প্রদর্শিত হয়েছে। চৌকাঠের ওপরের আর্কিট্রেভে ঐতিহ্যবাহী নবগ্রহ খোদাই করা আছে এবং এর দুই পাশে দুটি অ্যাটলান্টিড মূর্তি রয়েছে।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Iconography of the Buddhist Sculpture of Orissa: Text .P.42.Thomas E. Donaldson