সৈয়দ আলী আহসান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সৈয়দ আলী আহসান
Syed Ali Ahsan
জন্ম ২৬ মার্চ, ১৯২০
আলোকদিয়া, মাগুরা, বাংলাদেশ
মৃত্যু ২৫ জুন, ২০০২ (৮২ বছর)
ঢাকা, বাংলাদেশ
জাতীয়তা বাংলাদেশী
যাঁদের দ্বারা প্রভাবান্বিত ইসলাম
নজরুল সাহিত্য
যাঁদের প্রভাবিত করেছেন বাংলা সাহিত্য
বাংলা সাহিত্যে সমালোচনা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা
ধর্ম ইসলাম

সৈয়দ আলী আহসান (২৬শে মার্চ, ১৯২২ - ২৫শে জুলাই, ২০০২) বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি ও শিক্ষাবিদ। ১৯৮৯ খ্রীস্টাব্দে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। তিনি তাঁর পাণ্ডিত্যের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। সৈয়দ আলী আহসান কৃত বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদ সরকারী ভাষান্তর হিসাবে স্বীকৃত।[১][২]

পরিচ্ছেদসমূহ

জন্ম ও কর্মজীবন[সম্পাদনা]

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কবি, প্রাবিন্ধিক, গবেষক, সম্পাদক, অনুবাদক ও জাতীয় অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান ১৯২২ খ্রীস্টাব্দের ২৬ মার্চ বর্তমান মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পুরোনো ঢাকা শহরের আরমানিটোলায় অবস্থিত আরমানিটোলা সরকারি হাইস্কুল থেকে এন্ট্রান্স (এসএসসি) এবং ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ (বর্তমানে ঢাকা কলেজ) থেকে এফএ (এইচএসসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে ১৯৪৩ খ্রীস্টাব্দে স্নাতক (বিএ)এবং ১৯৪৪ সালে স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি কলকাতা চলে যান। সেখানেই বিয়ে করেন ৭ জুলাই, ১৯৪৬।[৩] অত:পর যথাক্রমে অল ইন্ডিয়া রেডিও কলকাতা কেন্দ্রে এবং রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্রে কর্মসূচি নিয়ামকরূপে চাকরি করেছেন। তিনি ১৯৪৯ খ্রীস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৩ খ্রীস্টাব্দে সৈয়দ আলী আহসান করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। ১৯৬০ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত এ পদে কর্মরত ছিলেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৬৭ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা একাডেমীর পরিচালক (প্রধান নির্বাহী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অদ্যাপক ও অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭১ খ্রীস্টাব্দে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। ১৯৭২ খ্রীস্টাব্দ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।[১] এরপর পুনরায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৭৫ খ্রীস্টাব্দের ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৭৭ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের[৪] উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০২ খ্রীস্টাব্দের ২৫ জুলাই তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।

গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব[সম্পাদনা]

১৯৭৭-৭৮ খ্রীস্টাব্দে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও ধর্ম সম্পর্কিত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা পদে নিযুক্ত ছিলেন। সুইডেনের নোবেল কমিটির সাহিত্য শাখার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন ১৯৭৬ খ্রীস্টাব্দ থেকে ১৯৮২ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। ১৯৮৯ খ্রীস্টাব্দে তিনি জাতীয় অধ্যাপক হিসাবে অভিষিক্ত হন এবং সে বছরই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। শেষ বয়সে দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

১৯৭১ খ্রীস্টাব্দে সৈয়দ আলী আহসান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক হিসেবে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। এ সময় তিনি "চেনাকণ্ঠ" ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন।

প্রকাশনা[সম্পাদনা]

নিচে কয়েকটি প্রকাশিত গ্রন্থের তালিকা প্রদান করা হলো। এ ছাড়া তিনি আরো কিছু গ্রন্থ প্রকাশ করেন।।

কাব্যগ্রন্থ[সম্পাদনা]

  • অনেক আকাশ (১৯৬০),
  • একক সìধ্যায় বসন্ত (১৯৬২),
  • সহসা সচকিত (১৯৬৮),
  • উচ্চারণ (১৯৬৮),
  • আমার প্রতিদিনের শব্দ (১৯৭৩)।

প্রবন্ধ গ্রন্থ[সম্পাদনা]

  • বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ) [মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে] (১৯৫৬),
  • কবিতার কথা (১৯৫৭),
  • কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা (১৯৬৮),
  • আধুনিক বাংলা কবিতা : শব্দের অনুষঙ্গে (১৯৭০),
  • রবীন্দ্রনাথ : কাব্য বিচারের ভূমিকা (১৯৭৩), মধুসূদন : কবিকৃতি ও কাব্যাদর্শ (১৯৭৬)
  • আধুনিক জার্মান সাহিত্য (১৯৭৬)
  • যখন কলকাতায় ছিলাম, আহমদ পাবলিশিং হাউজ, ২০০৪।

সম্পাদিত গ্রন্থ[সম্পাদনা]

  • পদ্মাবতী (১৯৬৮),
  • মধুমালতী (১৯৭১)।

অনূদিত গ্রন্থ[সম্পাদনা]

  • ইকবালের কবিতা (১৯৫২),
  • প্রেমের কবিতা (১৯৬০),
  • ইতিহাস (১৯৬৮)।

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

  • বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৮),
  • দাউদ পুরস্কার (১৯৬৯ স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রাক্কালে প্রত্যাখ্যান),
  • শেরে বাংলা পুরস্কার [৫]
  • সুফি মোতাহার হোসেন স্বর্ণপদক (১৯৭৬),
  • বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ব একুশে পদক (১৯৮২),
  • নাসির উদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৮৫),
  • মধুসূদন পুরস্কার (১৯৮৫),
  • স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৮৭) [৬][৭]
  • জাতীয় অধ্যাপকরূপে নিযুক্তি (১৯৮৯)।
  • কিশোরকণ্ঠ সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর)-২০০৩

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ বাংলাপিডিয়ায় সৈয়দ আলী আহসান
  2. বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদ
  3. সৈয়দ আলী আহসান : ‘এই ভারতের মহামানবের সাগরতীরে’
  4. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভিসিদের তালিকা
  5. স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত সৈয়দ আলী আহসান
  6. স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত সৈয়দ আলী আহসান
  7. স্বাধীনতা দিবস পদক প্রাপ্তদের তালিকা

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]