মুশফিকুর রহিম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

সংযোগের শিরোনাম

মুশফিকুর রহিম
Mushfiquer Rahim.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নাম মোহাম্মদ মুশফিকুর রহিম
ডাকনাম রহিম
উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৬০ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরণ ডানহাতি ব্যাটসম্যান
ভূমিকা উইকেট-রক্ষক এবং অধিনায়ক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক (ক্যাপ ৪১) ২৬ মে ২০০৫ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট ২১ অক্টোবর ২০১৩ বনাম নিউজিল্যান্ড
ওডিআই অভিষেক (ক্যাপ ৮০) ৬ আগস্ট ২০০৬ বনাম জিম্বাবুয়ে
শেষ ওডিআই ৩ নভেম্বর ২০১৩ বনাম নিউজিল্যান্ড
ওডিআই শার্ট নং ১৫
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছর দল
২০০৬ রাজশাহী বিভাগ
২০০৭ সিলেট বিভাগ
২০০৮– রাজশাহী বিভাগ
২০১২ দুরন্ত রাজশাহী
২০১২ নাগেনাহিরা নাগাজ
২০১৩- সিলেট রয়্যালস
কর্মজীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৪০ ১৩৫ ৬৭ ১৬২
রানের সংখ্যা ২,৩৫২ ২,৯৪০ ৩,৫৪৩ ৩,৮৪৩
ব্যাটিং গড় ৩৩.৬০ ২৮.২৬ ৩৩.৪২ ৩১.৫০
১০০/৫০ ৩/১৩ ২/১৬ ৪/২২ ৩/২১
সর্বোচ্চ রান ২০০ ১১৭ ২০০ ১৪৫*
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৬০/১০ ৮৯/৩৪ ১১৪/১৭ ১২৮/৫০
উত্স: ক্রিকইনফো; ক্রিকেট আর্কাইভ, ২৮ নভেম্বর ২০১৩

মোহাম্মদ মুশফিকুর রহিম (জন্ম: ১লা সেপ্টেম্বর, ১৯৮৮) একজন বাংলাদেশী ক্রিকেটার। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেপ্টেম্বর ২০১১ থেকে তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন।[১] মূলত তিনি একজন উইকেট-রক্ষক এবং নিম্ন সারির ব্যাটসম্যান। ছোটখাটো গড়নের এই সদা হাস্যোজ্জ্বল খেলোয়াড়টি স্ট্যাম্পের পেছনে বকবক করার জন্য বিখ্যাত। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তথা সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হিসেবে কৃতিত্ব অর্জন করেন।[২][৩][৪][৫]

ক্যারিয়ার[সম্পাদনা]

২০০৫ সালে ইংল্যান্ড সফরে মুশফিক প্রথমবারের মত জাতীয় দলে সুযোগ পান। ইংল্যান্ডের মাটিতে এটাই ছিলো বাংলাদেশের প্রথম সফর। অপরিচিত পরিবেশ এবং সীম বোলিংয়ের মোকাবেলায় তাই বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের যথেষ্ট ভুগতে হয়। প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলে মুশফিক পরিবেশের সাথে ধাতস্থ হয়ে নেন। যার প্রমাণ সাসেক্সের বিরুদ্ধে তার ৬৩ রানের ইনিংস এবং নটিংহ্যাম্পশায়ারের বিরুদ্ধে করা অপরাজিত ১১৫। শুরুর দিকে যদিও তাকে কেবল উইকেটকিপার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, গা গরমের ম্যাচগুলোতে তার ক্রীড়া প্রদর্শন নির্বাচকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। ফলশ্রুতিতে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তিনি স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবেই দলে জায়গা করে নেন। ১৬ বছর বয়সী এই তরুণ প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯ রানেই প্যাভিলিয়নে ফেরত যান। দল অল আউট হয় ১০৮ রানে এবং সাকুল্যে তিনজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছুতে সমর্থ হন। এ্যাংকেল ইনজুরির কবলে পড়ায় সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো তার আর খেলা হয়নি।

২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ-১৯ বিশ্বকাপে মুশফিক বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেন। অন্যান্যদের মধ্যে এই দলে ছিলেন ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক তারকা সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবাল। মুশফিকের নেতৃত্বে দলটি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যেতে সমর্থ হয়।[৬]

২০০৬ সালের জিম্বাবুয়ে সফরে মুশফিক আবার জাতীয় দলে সুযোগ পান। এই ট্যুরে তার সাথে সাথে ফরহাদ রেজা এবং সাকিব আল হাসানেরও ওয়ানডে অভিষেক হয়।[৭] হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে মুশফিক তার প্রথম হাফ-সেঞ্চুরি করেন এবং পরের বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের জন্য খালেদ মাসুদের স্থলাভিষিক্ত হন।

জুলাই, ২০০৭ এ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে মুশফিক আবার দলে ডাক পান। এক ইনিংস ও ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে বাংলাদেশ পরাজিত হয়। মুশফিক, মোহাম্মদ আশরাফুলকে সঙ্গী করে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে রেকর্ড ১৯১ রান করেন।[৮][৯] ৮০ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন মুশফিক।[১০]

সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব[সম্পাদনা]

২০০৯ এর জিম্বাবুয়ে ট্যুরে মুশফিক বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হন। তৎকালীন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় সাকিব তার স্থলাভিষিক্ত হন এবং সহ-অধিনায়ক সাকিবের দায়িত্ব পান মুশফিক।[১১] ২০১০ এর ২১ জানুয়ারী ভারতের বিরুদ্ধে হোম সিরিজের প্রথম টেস্টের পঞ্চম দিনে মুশফিক তার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন। মাত্র ১১২ বলে সেঞ্চুরি করে তিনি বাংলাদেশের দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক হন। ১১৩ রানের ব্যবধানে ভারত ম্যাচটি জিতে নেয়।[১২]

ঐ বছরের ৮ নভেম্বর ওয়ানডেতে মুশফিক তার সেরা ইনিংসটি খেলেন। জাতীয় ক্রিকেট লীগের একটি ম্যাচে তিনি রাজশাহীর হয়ে ১১৪ বলে করেন ১২০ রান।[১৩] ডিসেম্বর, ২০১০ এ মুশফিকের জায়গায় তামিম ইকবাল সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পান।[১৪]

অধিনায়কের দায়িত্ব (২০১১ -)[সম্পাদনা]

২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন শুরু করেন।[১] তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এশিয়া কাপে নিজেদের সেরা সাফল্য রানার্সআপ হয়।[১৫]

রেকর্ড[সম্পাদনা]

মুশফিকুর রহিম প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করেন।[১৬][১৭] ৩২১টি বল মোকাবিলা করে ২২ চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে ২০০ রান করেন। ২০১৩ শ্রীলঙ্কা সফরে তিনি এই রেকর্ডটি করেন। তিনি ৮ম উইকেটরক্ষক যিনি টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন এবং ৯ম ব্যাটসম্যান যিনি টেস্টে ৬নং এ নেমে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন।[১৮]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম’এর নতুন ক্যাপ্টেন মুশফিক বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম’এর নতুন ক্যাপ্টেন মুশফিক
  2. http://banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=4a05f240e9561e222d8532eb5c0043c2&nttl=11032013180682
  3. http://banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=2514874f89abbe0b592907b5ca145297&nttl=11032013180684
  4. http://www.natunbarta.com/sports/2013/03/11/15831/59d1148f290c5b95d6a85585a6cdf1ae
  5. http://bangla.bdnews24.com/sport/article600700.bdnews
  6. Miller, Andrew, ইংল্যান্ড বনাম বাংলাদেশ সিরিজ, ২০০৫, Wisden Cricketers' Almanack, সংগৃহীত 2011-02-14 
  7. Cricinfo staff (20 July 2006), হোয়াটমোর: 'বাংলাদেশই ফেভারিট', Cricinfo, সংগৃহীত 2010-11-09 
  8. Austin, Charlie, শ্রীলংকা বনাম বাংলাদেশ সিরিজ, ২০০৭, Wisden Cricketers' Almanac, সংগৃহীত 2011-02-14 
  9. Austin, Charlie, দ্বিতীয় টেস্ট: শ্রীলংকা বনাম বাংলাদেশ সিরিজ, ২০০৭, Wisden Cricketers' Almanac, সংগৃহীত 2011-02-14 
  10. দ্বিতীয় টেস্ট: শ্রীলংকা বনাম বাংলাদেশ সিরিজ, ২০০৭ (2nd Test), CricketArchive.com, সংগৃহীত 2011-02-14 
  11. Cricinfo staff (28 July 2009), জিম্বাবুয়ে ট্যুরে সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে মুশফিক, Cricinfo, সংগৃহীত 2009-08-01 
  12. [১]
  13. a20876 বরিশাল বিভাগ বনাম রাজশাহী বিভাগ: জাতীয় ক্রিকেট লীগ ২০১০-১১ (Second Phase), CricketArchive.com, সংগৃহীত 2010-11-12 
  14. অধিনায়কের দায়িত্বে আবারও সাকিব, Cricinfo, 31 December 2010, সংগৃহীত 2011-01-13 
  15. এশিয়া কাপ ফাইনাল : হারলেও হারায়নি বাংলাদেশ
  16. "ইতিহাস গড়লেন মুশফিকুর"দৈনিক প্রথম আলো। ১১-০৩-২০১৩। সংগৃহীত ১১-০৩-২০১৩ 
  17. "টেস্টে সর্বোচ্চ রান মুশফিকের"। বিডিনিউজটুয়েন্টিফোর। সংগৃহীত ১১-০৩-২০১৩ 
  18. "নতুন উচ্চতায় মুশফিকুর এবং বাংলাদেশ"ক্রিকইনফো। সংগৃহীত ১১-০৩-২০১৩ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

পূর্বসূরী
সাকিব আল হাসান
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক
২০১১–বর্তমান


উত্তরসূরী