মাশরাফি বিন মর্তুজা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মাশরাফি বিন মর্তুজা
ব্যক্তিগত তথ্য
উৎস: [{{{source}}}], {{{date}}} {{{year}}}

মাশরাফি বিন মর্তুজা (জন্ম অক্টোবর ৫, ১৯৮৩, নড়াইল যশোর জেলা) বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সম্ভাবনাময় পেস বোলার । তার ডাক নাম কৌশিক। তিনি একজন ডান হাতি ব্যাটসম্যান। তার বোলিং এর ধরণ ডান হাতি পেস বোলার। বাংলাদেশ জাতীয় দল ছাড়াও তিনি এশিয়ান একাদশ এ খেলেছেন।

সূচিপত্র

[সম্পাদনা] ব্যক্তিগত জীবন

দক্ষিণ-পশ্চিম বংলার নড়াইল জেলায় মাশরাফির জন্ম। ছোটবেলা থেকেই তিনি বাঁধাধরা পড়াশোনার পরিবর্তে ফুটবল আর ব্যাডমিন্টন খেলতেই বেশি পছন্দ করতেন, আর মাঝে মধ্যে চিত্রা নদীতে সাঁতার কাটা[১]। তারুণ্যের শুরুতে ক্রিকেটের প্রতি তার আগ্রহ জন্মে, বিশেষত ব্যাটিংয়ে; যদিও এখন বোলার হিসেবেই তিনি বেশি খ্যাত, যেজন্যে তাকে 'নড়াইল এক্সপ্রেস' নামেও অভিহিত করা হয়[১]

বাইকপ্রিয় মর্তুজাকে সবাই খুব হাসিখুশি আর উদারচেতা মানুষ হিসেবেই জানে। প্রায়অই তিনি বাইক নিয়ে স্থানীয় ব্রিজের এপার-ওপার চক্কর মেরে আসেন। নিজের শহরে তিনি প্রচন্ড রকমের জনপ্রিয়। এখানে তাকে "Prince of Hearts" বলা হয়। এ শহরেরই সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়ার সময় সুমনা হক সুমির সাথে তার পরিচয় হয়। দু'জনে ২০০৬ সালে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন[২]

[সম্পাদনা] ক্যারিয়ার

[সম্পাদনা] প্রাথমিক ক্যারিয়ার

মর্তুজা বাংলাদেশের সফলতম পেস বোলারদের একজন। আক্রমণাত্নক, গতিময় বোলিং দিয়ে অনূর্ধ-১৯ দলে থাকতেই তিনি সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাস্ট বোলার অ্যান্ডি রবার্টসের নজর কেড়েছিলেন, যিনি কিনা তখন দলটির অস্থায়ী বোলিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন। রবার্টসের পরামর্শে মাশরাফিকে বাংলাদেশ-এ দলে নেয়া হয়[৩]

বাংলাদেশ-এ দলের হয়ে একটিমাত্র ম্যাচ খেলেই মাশরাফি জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। ৮ নভেম্বর, ২০০১ এ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে তার অভিষেক ঘটে। একই ম্যাচে খালেদ মাহমুদেরও অভিষেক হয়। ব্‌ষ্টির বাগড়ায় ম্যাচটি অমীমাংসিত থেকে যায়। মাশরাফি অবশ্য অভিষেকেই তার জাত চিনিয়ে দেন ১০৬ রানে ৪টি উইকেট নিয়ে। গ্রান্ট ফ্লাওয়ার ছিলেন তার প্রথম শিকার[৪]। মজার ব্যাপার হল, মাশিরাফির প্রথম ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচও ছিল এটি। তিনি এই বিরল ক্‌তিত্বের অধিকারী ৩১তম খেলোয়াড় এবং ১৮৯৯ সালের পর ত্‌তীয়। একই বছর ২৩শে নভেম্বর ওয়ানডে ক্রিকেটে মাশরাফির অভিষেক হয় ফাহিম মুনতাসির ও তুষার ইমরান এর সাথে। অভিষেক ম্যাচে মোহাম্মদ শরীফের সাথে বোলিং ওপেন করে তিনি ৮ ওভার ২ বলে ২৬ রান দিয়ে বাগিয়ে নেন ২টি উইকেট [৫]

বিপক্ষে ব্যক্তিগত তৃতীয় টেস্ট খেলার সময় তিনি হাঁটুতে আঘাত পান। এর ফলে তিনি প্রায় দু'বছর ক্রিকেটের বাইরে থাকতে বাধ্য হন। ইংল্যন্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট খেলায় তিনি সফলতা পান। ৬০ রানে ৪ উইকেট নেয়ার পর আবার তিনি হাঁটুতে আঘাত পান। এযাত্রায় তিনি প্রায় বছরখানেক মাঠের বাইরে থাকতে বাধ্য হন।

২০০৪ সালে ভারতের বিরুদ্ধে খেলার সময় রাহুল দ্রাবিড়কে অফ-স্ট্যাম্পের বাইরের একটি বলে আউট করে তিনি স্বরুপে ফেরার ঘোষনা দেন। সেই সিরিজে তিনি ধারাবাহিকভাবে বোলিং করেন এবং টেন্ডুলকারগাঙ্গুলীকে আউট করার সুযোগ তৈরি করেন। তবে ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় তিনি উইকেট পাননি। এই সিরিজের একটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে অবিশ্বরনীয় জয়ের নায়ক ছিলেন তিনি।

২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তিনি ভালো বল করেন। বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে তার গড় ছিল সবচেয়ে ভাল। কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নাটকীয় জয়ে তিনি অবদান রাখেন। তিনি মারকুটে ব্যাটসম্যান এডাম গিলক্রিস্টকে শূণ্য রানে আউট করেন এবং দশ ওভারে মাত্র ৩৩ রান দেন।

ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে ভালো পেস বোলারের ঘাটতি ছিল। বাংলাদেশে মোহাম্মদ রফিকের মত আন্তর্জাতিক মানের স্পিনার থাকলেও উল্লেখযোগ্য কোন পেস বোলার ছিলনা। মাশরাফি বাংলাদেশের সেই শূণ্যস্থান পূরণ করেন।

২০০৬ ক্রিকেট পঞ্জিকাবর্ষে মাশরাফি ছিলেন একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় বিশ্বের সর্বাধিক উইকেট শিকারী। তিনি এসময় ৪৯টি উইকেট নিয়েছেন।

২০০৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে স্মরনীয় জয়ে মর্তুজা ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ৩৮ রানে ৪ উইকেট দখল করেন। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি খেলায় নিউজিল্যান্ডের সাথে বিজয়েও মাশরাফির ভূমিকা রয়েছে।

মাশরাফি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গতির বোলার এবং সমর্থকদের কাছে "নড়াইল এক্সপ্রেস" নামে পরিচিত।

মাশরাফি একজন মারকুটে ব্যাটসম্যান। ভারতের বিপক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় তিনি পরপর চার বলে ছক্কা পেটান। সেই ওভার থেকে তিনি ২৬ রান সংগ্রহ করেন যা কোন বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানের জন্য এক ওভারে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

[সম্পাদনা] ক্যারিয়ার মাইলফলক

[সম্পাদনা] টেস্ট

অভিষেক: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, ২০০১

[সম্পাদনা] একদিনের আন্তর্জাতিক

অভিষেক: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, এমএ আজিজ স্টেডিয়াম, ২০০১

[সম্পাদনা] বহিসংযোগ

মাশরাফির প্রোফাইল


বাংলাদেশ বাংলাদেশ দল - ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০০৭ বাংলাদেশ

 বাশার (অ) |  নাফিস |  তামিম |  আফতাব |  সাকিব |  আশরাফুল |  রহীম (উর) |  রফিক |  রাজ্জাক | ১০ মর্তুজা | ১১ শাহাদাত | ১২ বৈশ্য | ১৩ রাসেল | ১৪ সালেহ | ১৫ ওমর | ১৬ রেজা | কোচ: হোয়াটমোর

তাপস বৈশ্য আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় তার স্থলে রেজা এসেছেন


বাংলাদেশ বাংলাদেশ দল - ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০০৩ বাংলাদেশ

 মাসুদ (উর) |  আল শাহরিয়ার |  কাপালি |  আকরাম |  বাশার |  সরকার |  এহসানুল |  সানোয়ার |  মাহমুদ | ১০ মানজারুল | ১১ মর্তুজা | ১২ আশরাফুল | ১৩ রফিক | ১৪ জুবায়ের | ১৫ বৈশ্য | ১৬ ইমরান | কোচ: কামালজিয়া

[সম্পাদনা] References

  1. ১.০ ১.১ Andrew Miller (31 March 2007), নড়াইল এক্সপ্রেস, প্রকাশক: Cricinfo.com, http://content-www.cricinfo.com/magazine/content/story/288111.html, r হয়েছে: 2008-11-26 
  2. Rabeed Imam (9 September 2006), নড়াইল এক্সপ্রেসে চড়ে, প্রকাশক: TigerCricket.com, archived from the original on 17 October 2007, http://web.archive.org/web/20071017221504/http://tigercricket.com/viewNews.aspx?newsID=193, r হয়েছে: 2010-07-07 
  3. Staff Correspondent (24 October 2001), মাশরাফি ও মাহমুদের সামনে সুবর্ণ সুযোগ, প্রকাশক: Cricinfo.com, http://content-www.cricinfo.com/ci/content/story/109296.html, r হয়েছে: 2008-11-26 
  4. ১ম টেস্টঃ জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ সিরিজ, প্রকাশক: Cricinfo.com, 12 November 2001, http://content-www.cricinfo.com/ci/engine/match/63956.html, r হয়েছে: 2008-11-26 
  5. ১ম ওয়ানডেঃ জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ সিরিজ, প্রকাশক: Cricinfo, 23 November 2001, http://content-uk.cricinfo.com/bangladesh/engine/match/64733.html, r হয়েছে: 2008-11-26 
নিজস্ব হাতিয়ারসমূহ
নামস্থান

বিকল্পসমূহ
কার্যক্রম
পরিভ্রমন
মুদ্রণ/এক্সপোর্ট
সরঞ্জাম
অন্যান্য ভাষাসমূহ