হুসাইন বিন তালাল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
হুসাইন বিন তালাল
حسين بن طلال
Hussein of Jordan 1997.jpg
জর্ডানের বাদশাহ
রাজত্ব১১ আগস্ট ১৯৫২ – ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯
পূর্বসূরিতালাল বিন আবদুল্লাহ
উত্তরসূরিদ্বিতীয় আবদুল্লাহ
জন্ম(১৯৩৫-১১-১৪)১৪ নভেম্বর ১৯৩৫
আম্মান, ট্রান্সজর্ডান আমিরাত
মৃত্যু৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯(১৯৯৯-০২-০৭) (৬৩ বছর)
আম্মান, জর্ডান
সমাধিরাগাদান প্রাসাদ
দাম্পত্য সঙ্গীদিনা বিনতে আবদুল হামিদ
(বি. ১৯৯৫; তালাক. ১৯৫৭)

প্রিন্সেস মুনা আল-হুসাইন
(বি. ১৯৬১; তালাক. ১৯৭২)

আলিয়া আল-হুসাইন
(দাম্পত্যজীবন: ১৯৭২-৭৭; আলিয়ার মৃত্যু)
রাণী নুর
(দাম্পত্যজীবন: ১৯৭৮–৯৯; হুসাইনের মৃত্যু)
বংশধর
Details and adopted children
প্রিন্সেস আলিয়া বিনতে হুসাইন

দ্বিতীয় আবদুল্লাহ
প্রিন্স ফয়সাল বিন আল হুসাইন
প্রিন্সেস আয়িশা বিনতে আল হুসাইন
প্রিন্সেস জাইন বিনতে আল-হুসাইন
প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল হুসাইন
প্রিন্স আলি বিন আল হুসাইন
প্রিন্স হামজা বিন আল হুসাইন
প্রিন্স হাশিম আল হুসাইন
প্রিন্সেস ইমান বিনতে আল হুসাইন
প্রিন্সেস রাইয়াহ বিনতে আল হুসাইন
রাজবংশআল-হাশিম
পিতাতালাল বিন আবদুল্লাহ
মাতাজাইন আল-শারাফ তালাল
ধর্মইসলাম (সুন্নি)
স্বাক্ষরহুসাইন বিন তালাল স্বাক্ষর

হুসাইন বিল তালাল (Arabic: حسين بن طلال‎, Ḥusayn bin Ṭalāl; ১৪ নভেম্বর ১৯৩৫ – ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯) ছিলেন জর্ডানের বাদশাহ। ১৯৫২ সালে তার পিতা তালাল বিন আবদুল্লাহ ক্ষমতা ত্যাগ করার পর থেকে শুরু করে ১৯৯৯ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাদশাহ ছিলেন।[১] স্নায়ুযুদ্ধ ও আরব-ইসরায়েলি সংঘাতের সময়জুড়ে তার শাসনকাল বিস্তৃত ছিল।[২] ১৯৯৪ সালে তিনি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেন। আনোয়ার সাদাতের পর তিনি দ্বিতীয় আরব রাষ্ট্রপ্রধান যিনি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

হুসাইন নবী মুহাম্মদ (সা) এর সরাসরি বংশধর বলা হয়।[২]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

হুসাইন ১৯৩৫ সালের ১৪ নভেম্বর আম্মানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বাদশাহ তালাল বিন আবদুল্লাহ এবং রাণী জাইন আল-শারাফ তালালের সন্তান। আম্মানে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করার পর তিনি মিশরের আলেক্সান্দ্রিয়ার ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়াশোনা করেছেন। এরপর তিনি ইংল্যান্ডের হ্যারো স্কুলে ভর্তি হন। এখানে তার চাচাত ভাই দ্বিতীয় ফয়সালের সাথে তার বন্ধুত্ব হয়। এরপর তিনি রয়েল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্ট‌ে পড়াশোনা করেছেন।

হুসাইন বিন তালাল, ১৯৫০

১৯৫১ সালের ২০ জুলাই হুসাইন তার দাদা বাদশাহ প্রথম আবদুল্লাহর সাথে জুমার নামাজের জন্য জেরুজালেম যান। এদিন আবদুল্লাহ আততায়ীর হাতে নিহত হন। তবে হুসাইন হামলা থেকে বেঁচে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে হুসাইনের দিকে বন্দুকধারী আততায়ী নিশানা করে কিন্তু ইউনিফর্মের মেডেলে লাগার কারণে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।[২]

১৯৫১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তাকে যুবরাজ নিযুক্ত করা হয়। বাদশাহ তালাল তার মানসিক অসুস্থতাজনিত (ইউরোপীয় ও আরব চিকিৎসকদের মতে স্কিজোফ্রেনিয়া) কারণে পদত্যাগ করার পর ১৯৫২ সালের ১১ আগস্ট হুসাইনকে বাদশাহ ঘোষণা করা হয়।[৩] এসময় হুসাইনের বয়স ছিল ১৬ বছর। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত শাসনকাজ পরিচালনার জন্য এসময় একটি কাউন্সিল গঠিত হয়েছিল। ১৯৫৩ সালের ২ মে তিনি সিংহাসনে বসেন।[২]

শাসনকাল[সম্পাদনা]

রয়েল এয়ার ফোর্স‌ ঘাটিতে বাদশাহ হুসাইন, ১৯৫৫

১৯৫৬ সালের মার্চে হুসাইন জর্ডান সেনাবাহিনীর প্রধান গ্লাব পাশাকে অপসারণ করেন এবং সেনাবাহিনীর অন্যান্য ব্রিটিশ অফিসারদের স্থলে জর্ডানি অফিসার নিয়োগ করেন। গোত্রীয় সম্পর্কের কারণে এই নতুন বাহিনী তার প্রতি অধিক অনুগত ছিল।

হুসাইনের শাসনামলে আঞ্চলিক শান্তি রক্ষার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। ১৯৬৩ সালের দিকে হুসাইনের সাথে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবা ইবান ও গোল্ডা মেয়ার বৈঠক করেন। জর্ডানের সাথে ইসরায়েলের দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত রয়েছে। জর্ডান এসময় ইসরায়েলের সাথে শান্তি বজায় রাখতে চেয়েছিল।

আলেক্সান্দ্রিয়ায় আরব লীগ সম্মেলনে বাদশাহ হুসাইন ও মিশরের রাষ্ট্রপতি জামাল আবদেল নাসের, ১৯৬৪

হুসাইন ইসরায়েলের সাথে আলোচনার পক্ষে ছিলেন। ইরাক ও সিরিয়ার বাথপন্থি শাসন এবং নাসেরের আরব জাতীয়তাবাদি আদর্শ সামরিক বাহিনীর উপর প্রভাব বিস্তার করার ঘটনা এই ইচ্ছার উপর প্রভাব ফেলেছে। ১৯৬৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর হুসাইন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী লেভি এশকলের প্রতিনিধি কূটনৈতিক ইয়াকভ হার্জ‌গের মধ্যে প্রথম গোপন বৈঠক হয়।[৪]

১৯৬৬ সালের ১৩ নভেম্বর ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বাদশাহ হুসাইনের সাথে স্বাক্ষরিত একটি গোপন চুক্তি লঙ্ঘন করে জর্ডানের সীমানার ভেতরে অভিযান চালায়। এটি সামু ঘটনা নামে পরিচিত।

আরব কোঅপারেশন কাউন্সিল নিয়ে ইরাকি ডাকটিকেট। জর্ডানের বাদশাহ হুসাইন, মিশরের রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারক, উত্তর ইয়েমেনের রাষ্ট্রপতি আলি আবদুল্লাহ সালেহ এবং ইরাকের রাষ্ট্রপতি সাদ্দাম হুসাইন এর প্রতিষ্ঠা করেন।

ইসরায়েলের সাথে শান্তিপূর্ণ অবস্থা মেনে চলার জন্য হুসাইনের প্রচেষ্টা অন্যান্য আরব নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে। মিশরের রাষ্ট্রপতি জামাল আবদেল নাসের প্রায় হুসাইনকে "সাম্রাজ্যবাদের ভৃত্য" হিসেবে অভিহিত করতেন।[৫] সেনাপ্রধান জাইদ বিন শাকির একটি সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করে বলেন যে যদি জর্ডান যুদ্ধে যোগ না দেয় তবে জর্ডানে গৃহযুদ্ধ দেখা দেবে।[৬] দেশে এবং আরব বিশ্বে বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখার জন্য তিনি ১৯৬৭ সালের ৩০ মে মিশরের সাথে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

জর্ডানিদের জীবনমান উন্নয়ন[সম্পাদনা]

জর্ডানের নাগরিকদের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য হুসাইন অর্থনৈতিক ও শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলায় মনোনিবেশ করেন। ১৯৬০ এর দশকে জর্ডানের মূল শিল্প যেমন ফসফেট, পটাশ ও সিমেন্ট শিল্প গড়ে তোলা হয়। এছাড়াও দেশজুড়ে মহাসড়কের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়।

সামাজিক সূচকে হুসাইনের সাফল্য প্রকাশ পেয়েছে। ১৯৫০ সালে শুধুমাত্র ১০% জর্ডানি পানি, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুত সুবিধা পেত। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৯৯% শতাংশ হয়েছে। ১৯৬০ সালে ৩৩% জর্ডানি শিক্ষিত ছিল। ১৯৯৬ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৮৫.৫% হয়। ১৯৬১ সালে জর্ডানের বাসিন্দাদের গড় দৈনিক ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ ছিল ২১৯৮ ক্যালরি। ১৯৯২ সাল নাগাদ তা ৩৭.৫% বৃদ্ধি পায় এবং পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০২২ ক্যালরি। ইউনিসেফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৮১ ও ১৯৯১ সালের মধ্যে জর্ডানের শিশু মৃত্যু হার হ্রাস সবচেয়ে দ্রুততম ছিল। ১৯৮১ সালে এই হার ছিল প্রতি হাজারে ৭০ জন, ১৯৯১ সালে এই হার দাঁড়ায় প্রতি হাজারে ৩৭ জন।

ছয়দিনের যুদ্ধ[সম্পাদনা]

কারামিহর যুদ্ধের পর একটি পরিত্যক্ত ইজরায়েলি ট্যাংক পরিদর্শন শেষে বাদশাহ হুসাইন, ১৯৬৮

১৯৬৭ সালে ছয়দিনের যুদ্ধে জর্ডান পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণ হারায়। এসময় দ্বিতীয়বারের মত ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুরা জর্ডানে ব্যাপক আকারে প্রবেশ করতে থাকে। তাদের অনেককে জর্ডানের নাগরিকত্ব দেয়া হয়। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফিলিস্তিনির উপস্থিতির কারণে তারা কিছু কিছু এলাকায় তারা ক্ষমতাশালী হয়ে উঠে।[৭]

কালো সেপ্টেম্বর[সম্পাদনা]

১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনকে বিতাড়নের জন্য হুসাইন জর্ডানের সেনাবাহিনীকে আদেশ দেন। ১৯৭১ সালের জুলাই পর্যন্ত ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের উপর হামলা চালানো হয়। এসময় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নির্বাসিত হয়, তাদের অধিকাংশ প্রতিবেশি লেবাননে পালিয়ে যায়।[৮]

ইয়ম কিপুর যুদ্ধ[সম্পাদনা]

১৯৬৭ সালের যুদ্ধ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাব ২৪২ গ্রহণের পর গানার জেরিং মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার বিশেষ প্রতিনিধি নিযুক্ত হন এবং জেরিং মিশনের নেতৃত্ব দেন। মিশর ও ইসরায়েল উভয়ে শান্তি প্রক্রিয়ার সমর্থনে জেরিঙের প্রস্তাবে সাড়া দেয়, তবে এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি হয়নি।[৯] মিশরের রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাত এবং সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি হাফিজ আল আসাদ ১৯৭৩ সালে বাদশাহ হুসাইনের সাথে যুদ্ধের ব্যাপারে সাক্ষাত করেন। কিন্তু পুনরায় ইসরায়েলের কাছে অঞ্চল হারানোর আশঙ্কায় তিনি তা নাকচ করে দেন। তিনি পশ্চিম তীরকে জর্ডানের অংশ বলে মনে করতেন। কিন্তু আনোয়ার সাদাত প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাতকে প্রতিশ্রুতি দেন যে যুদ্ধে বিজয়ী হলে পশ্চিম তীর ফিলিস্তিনিদেরকে দেয়া হবে, তাই হুসাইন সন্দিহান ছিলেন। ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ারকে আসন্ন সিরিয়ান আক্রমণ সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য হুসাইন গোপনে হেলিকপ্টার করে তেল আভিভ রওয়ানা হন।[১০] গোল্ডা মেয়ার তার কাছে জানতে চান যে সিরিয়ানরা কি মিশরীয়দের ছাড়া যুদ্ধ করবে কিনা? জবাবে হুসাইন বলেন যে তিনি তেমন মনে করেন না এবং তার ধারণা মিশরীয়রা সহযোগিতা করবে।[১১]

হুসাইন ও জিমি কার্টারের সাক্ষাত, ১৯৮০

১৯৭৩ সালের ৬ অক্টোবর জর্ডানকে ছাড়া মিশর ও সিরিয়া ইসরায়েলের উপর আক্রমণ করে। ২৩ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়। তবে ১৯৭৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত লড়াই চলেছিল। ১৪ মাসব্যপী মিশর, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর ১৯৭৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মিশরের রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাত ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মেনাখেম বেগিনের মধ্যে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

ইসরায়েলের সাথে শান্তি আলোচনা[সম্পাদনা]

১৯৯৪ সালে হুসাইন ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধাবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত করেন। এসময় ইসরায়েল-জর্ডান শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১৯৬০ এর দশকে তিনি গোপনে ইসরায়েলের সাথে এ ব্যাপারে আলোচনা শুরু করেছিলেন। ১৯৬৩ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে ইসরায়েলি নেতৃস্থানীয়দের সাথে তিনি কমপক্ষে ৫৫ বার গোপন বৈঠক করেছেন। এই নেতৃস্থানীয়দের মধ্যে কমপক্ষে সাতজন প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।[১২]

আলোচনার সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হওয়ায় রবিনের শেষকৃত্যে হুসাইনকে বিশেষ বক্তৃতা দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বে আইজ্যাক রবিন এবং বাদশাহ হুসাইনের করমর্দন, ২৪ অক্টোবর ১৯৯৪

শান্তিপ্রতিষ্ঠাতাদের সম্মেলন[সম্পাদনা]

১৯৯৬ সালের ১৩ মার্চ মিশরের শার্ম‌ আল-শাইখে "শান্তিপ্রতিষ্ঠাতাদের সম্মেলন" অনুষ্ঠিত হয়। মিশরের রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারক এর আয়োজন করেছিলেন। বাদশাহ হুসাইন ছাড়াও তুরস্কের রাষ্ট্রপতি সুলাইমান ডেমিরেল, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী শিমন পেরেজ, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি বরিস ইয়েলতসিন এতে অংশ নেন। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনার ব্যাপারে এই সম্মেলন হয়।

হেবরন চুক্তি[সম্পাদনা]

হুসাইন অনেক সময় ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। বলা হয় যে ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে তার ১১ ঘন্টাব্যপী হস্তক্ষেপের পর ফিলিস্তিনি চেয়ারম্যান ইয়াসির আরাফাত এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের অধিকাংশ থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার বিষয়ে এক চুক্তিতে উপনীত হন।

খালিদ মিশাল হত্যাচেষ্টা[সম্পাদনা]

১৯৯৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দুইজন মোসাদ এজেন্ট জর্ডানে বসবাসরত খালিদ মিশালকে বিষপ্রয়োগ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এর ফলে চুক্তি ঝুকির মুখে পড়ে। হুসাইন একে জর্ডানের সার্বভৌমত্বের উপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেন এবং মিশালের মৃত্যু হলে তিনি চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসবেন বলে সতর্ক করে দেন। তবে মিশাল এই হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে যান।[১৩]

ওয়াই নদী মেমোরেন্ডাম[সম্পাদনা]

১৯৯৮ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন ওয়াই নদী মেমোরেন্ডামে অংশ নেয়ার জন্য হুসাইনকে আমন্ত্রণ জানান। এসময় হুসাইন ক্যামোথেরাপি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

অসুস্থতা[সম্পাদনা]

১৯৯৮ সালের জুলাই মাসের শেষের দিকে হুসাইনের লিম্ফেটিক ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মেয়ো ক্লিনিকের চিকিৎসকরা তার রোগ নির্ণয় করেছিলেন। চিকিৎসার জন্য তিনি ক্যামোথেরাপি গ্রহণ শুরু করেন। চিকিৎসকরা তার সুস্থতার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জর্ডানের টেলিভিশনে দেয়া বক্তৃতায় জর্ডানের জনগণকে তিনি জানান যে তার রোগ নিরাময়যোগ্য। তবে তিনি দুর্বল হয়ে পড়ছিলেন। ক্যান্সারের কারণে ইতিপূর্বে ১৯৯২ সালে তার একটি কিডনি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।[১৪]

১৯৯৯ সালের জানুয়ারিতে দেশে ফেরার সময় তিনি লন্ডনে যাত্রাবিরতি করেন।[১৫] দুর্বলতার কারণে চিকিৎসকরা তাকে কয়েক সপ্তাহের জন্য ইংল্যান্ডে বিশ্রাম নেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে তিনি জর্ডানে ফিরে আসেন[১৬]

জর্ডানে ফিরে আসার পর পরিবারের সদস্য, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ‌ এবং সাধারণ নাগরিকদের স্রোত তাকে স্বাগত জানায়। জর্ডানের সরকারি সূত্রমতে এই সংখ্যা ৩০ লক্ষ।[৭]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

মৃত্যুর পূর্বে হুসাইন তার অসিয়ত পরিবর্তন করেছিলেন। ইতিপূর্বে তার ভাই হাসান বিল তালান উত্তরসুরি মনোনীত হয়েছিলেন। হুসাইন তা বদলে তার পুত্র দ্বিতীয় আবদুল্লাহ উত্তরসুরি মনোনীত হন। ১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাবস্থা থেকে তিনি জর্ডানে ফিরে আসেন।

সেই বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি হুসাইন মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তিনি ছিলেন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশিদিনব্যপী প্রভাব ফেলা নেতাদের অন্যতম।[২] ৪৬ বছর যাবত তিনি জর্ডানের বাদশাহ ছিলেন। এসময় তিন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের একজন প্রধান ব্যক্তি ছিলেন। মৃত্যুর পূর্বে সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিস্টিয়ান আমানপোরকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন যে আরব-ইসরায়েলি সংঘাতের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌছানো সম্ভব।[১৭]

৮ ফেব্রুয়ারি তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তার পাঁচ পুত্রের সকলে, বিদেশি ব্যক্তিবর্গ‌ অংশ নেন। এছাড়া হিসাব অনুযায়ী প্রায় ৮,০০,০০০ জর্ডানি নাগরিক অংশ নেয়।[১৮][১৯]

তার মৃত্যুর পরে তার পুত্র দ্বিতীয় আবদুল্লাহ জর্ডানের বাদশাহ হন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

হুসাইন একজন শৌখিন রেডিও অপারেটর ছিলেন এবং তার কাছে দ্য রেডিও সোসাইটি অফ হ্যারোর সম্মানসূচক সদস্যপদ ছিল। এছাড়াও তিনি আমেরিকান রেডিও রিলে লীগের আজীবন সদস্য ছিলেন।[২০] [২১] সৌখিন রেডিও সম্প্রদায়ের কাছে তার জনপ্রিয়তা ছিল। এসকল অপারেটরদের তিনি তার উপাধির বদলে শুধু নাম দ্বারা সম্বোধন করতে বলতেন।

হুসাইন এছাড়াও একজন প্রশিক্ষিত পাইলট ছিলেন। উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার চালানো তার শখ ছিল। তার মোটরসাইকেল সংগ্রহের শখও ছিল।[২২] জর্ডানের রাণী নুরের লিপ অফ ফেইথ: মেমোয়ার্স‌ অফ এন আনএক্সপেক্টেড লাইফ বইয়ের পেপারব্যাক সংস্করণে তাদের দুইজনের হার্লে‌-ডেভিডসনে চড়ার ছবি ছিল।

পরিবার[সম্পাদনা]

  1. পুনর্নির্দেশ টেমপ্লেট:উৎসহীন অনুচ্ছেদ
হুসাইন ও তার মা জাইল আল শারাফ তালাল, ১৯৪১

বাদশাহ হুসাইন চারবার বিয়ে করেছেন:

  • দিনা বিনতে হামিদ (জন্ম ১৯২৯)
    • কন্যা: আলিয়া বিনতে হুসাইন (জন্ম ১৯৫৬)
  • মুনা আল-হুসাইন (জন্ম ১৯৪১)
    • সন্তান:
      • দ্বিতীয় আবদুল্লাহ (জন্ম ১৯৬২)
      • ফয়সাল বিন আল হুসাইন (জন্ম ১৯৬৩)
      • আয়িশা বিনতে আল হুসাইন (জন্ম ১৯৬৮)
      • জাইন বিনতে আল হুসাইন (জন্ম ১৯৬৮, আয়িশার জমজ বোন)
  • আলিয়া আল হুসাইন (১৯৪৮-১৯৭৭)
    • সন্তান:
      • হায়া বিনতে আল হুসাইন (জন্ম ১৯৭৪)
      • আলি বিন আল হুসাইন (জন্ম ১৯৭৫)
      • দত্তক কন্যা: আবির মুহাইসিন (জন্ম ১৯৭২, দত্তকগ্রহণ ১৯৭৬)
বাদশাহ হুসাইন বিন তালাল, ১৯৮০
  • লিসা নাজিব হালাবি (জন্ম ১৯৫১), ইসলামগ্রহণের পর নতুন নাম হয় নুর
    • সন্তান:
      • হামজা বিন আল হুসাইন (জন্ম ১৯৮০)
      • হাশিম আল হুসাইন (জন্ম ১৯৮১)
      • ইমান বিনতে আল হুসাইন (জন্ম ১৯৮৩)
      • রাইয়াহ বিনতে আল হুসাইন (জন্ম ১৯৮৬)

সম্মাননা[সম্পাদনা]

হুসাইন নিম্নোক্ত জর্ডানি সম্মাননায় ভূষিত হয়েছিলেন:

  • অর্ডার অফ আল-হুসাইন বিন আলি
  • সুপ্রিম অর্ডার অফ দ্য রেনেসা
  • অর্ডার অফ দ্য স্টার অফ জর্ডান
  • অর্ডার অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স
বিদেশি সম্মাননা
  • ইরাক রাজতন্ত্র কিং ফয়সাল ২ করোনেশন মেডেল - ২ মে ১৯৫৩
  • ইরাক রাজতন্ত্র কলার অফ দ্য গ্র্যান্ড অর্ডার অফ দ্য হাশেমাইটস - ১৯৫৩
  • ইরাক রাজতন্ত্র গ্র্যান্ড কর্ড‌ন অফ দ্য অর্ডার অফ আল রাফিদাইন – ১৯৫৩
  • যুক্তরাজ্য নাইট গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য রয়েল ভিক্টোরিয়ান অর্ডার - ১৯৫৩
  • যুক্তরাজ্য বাইলিফ গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য ভেনেরেবল অর্ডার অফ সেইন্ট জন অফ জেরুসালেম - ১৯৫৫
  • মিশর গ্র্যান্ড কলার অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য নাইল - ১৯৫৫
  • স্পেন গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য ক্রসেস অফ মিলিটারি মেরিট (স্পেন) – ৩ জুন ১৯৫৫[২৩]
  • সিরিয়া গ্র্যান্ড কর্ড‌ন অফ দ্য অর্ডার অফ উমাইয়াদ অফ সিরিয়া - ১৯৫৫
  • তিউনিসিয়া গ্র্যান্ড কর্ড‌ন অফ দ্য অর্ডার অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স (তিউনিসিয়া) – ১৯৫৬
  • তাইওয়ান কলার স্পেশাল ক্লাস অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য প্রপিশাস ক্লাউডস – ১৯৫৯[২৪][২৫]
  • ইরান কলার অফ দ্য অর্ডার অফ পাহলভি – ১৯৫৯
  • ইরান কমেমোরেটিভ মেডেল অফ দ্য ২,৫০০ এনিভার্সা‌রি অফ দ্য ফাউন্ডিং অফ দ্য পার্সিয়ান এম্পায়ার – ১৪ অক্টোবর ১৯৭১[২৬][২৭]
  • মরক্কো কলার অফ দ্য অর্ডার অফ মুহাম্মদ অফ মরক্কো - ১৯৬০
  • ইথিওপিয়া নাইট অফ দ্য অর্ডার অফ সলোমন অফ দ্য ইথিওপিয়ান এম্পায়ার - ১৯৬০
  • লিবিয়া কলার অফ দ্য অর্ডার অফ ইদ্রিস ১ - ১৯৬০
  • লেবানন এক্সট্রাঅর্ডি‌নারি ক্লাস অফ দ্য অর্ডার অফ মেরিট (লেবানন) - ১৯৬০
  • সৌদি আরব গ্র্যান্ড কলার অফ দ্য অর্ডার অফ আবদুল আজিজ আল সৌদ - ১৯৬০
  • সৌদি আরব কলার অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য বদর চেইন – ১৯৬০
  • গিনি কলার অফ দ্য অর্ডার অফ ন্যাশনাল মেরিট অফ গায়ানা – ১৯৬০
  • গ্রিস রাজ্য গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য রিডিমার - ১৯৬০
  • বেলজিয়াম কলার অফ দ্য অর্ডার অফ লিওপল্ট (বেলজিয়া) - ১৯৬৪
  • নেদারল্যান্ডস গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য নেদারল্যান্ডস লায়ন - ১৯৬৪
  • নরওয়ে নাইট গ্র্যান্ড ক্রস উইথ কলার অফ দ্য অর্ডার অফ সেইন্ট ওলাভ - ১৯৬৪
  • পর্তুগাল কলার অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য টাওয়ার এন্ড সোর্ড‌ - ১৯৬৪
  • পবিত্র আসন (সার্বভৌম রাষ্ট্র) নাইট অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য গোল্ডেন স্পার অফ দ্য ভেটিকান - ১৯৬৪
  • মালয়েশিয়া নাইট অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য ক্রাউন অফ দ্য রেল্ম – ১৯৬৫
  • যুক্তরাজ্য রয়েল ভিক্টরিয়ান চেইন - ১৯৬৬
  • ফ্রান্স গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য লিজিওন অফ অনার - ১৯৬৭
  • জার্মানি গ্র্যান্ড ক্রস স্পেশাল ক্লাস অফ দ্য অর্ডার অফ মেরিট অফ দ্য ফেডারেল রিপাবলিক অফ জার্মানি - ১৯৬৭
  • কুয়েত ক্কলার অফ দ্য অর্ডার অফ মুবারক দ্য গ্রেট - ১৯৭৪
  • জাপান কলার অফ দ্য অর্ডার অফ ক্রিসেন্থেমাম - ১০ মার্চ ১৯৭৬
  • বাহরাইন কলার অফ দ্য অর্ডার অফ খলিফা - ১৯৭৬
  • ফিলিপাইন গ্র্যান্ড কলার অফ দ্য এনশেন্ট অর্ডার অফ সিকাটুনা - ১৯৭৬ [২৮]
  • অস্ট্রিয়া গ্র্যান্ড স্টার অফ দ্য ডেকোরেশন অফ অনার ফর সার্ভিস টু দ্য রিপাবলিক অফ অস্ট্রিয়া – ১৯৭৬[২৯]
  • স্পেন কলার অফ দ্য অর্ডার অফ ইসাবেল দয ক্যাথলিক (স্পেন) - ১৮ মার্চ ১৯৭৭[৩০]
  • কাতার কলার অফ দ্য অর্ডার অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স অফ কাতার - ১৯৭৮
  • যুগোস্লাভিয়ার সমাজতান্ত্রিক ফেডারেল প্রজাতন্ত্র গ্রেট স্টার অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য ইয়ুগোস্লাভ স্টার - ১৯৭৯
  • ইতালি নাইট গ্র্যান্ড ক্রস উইথ কলার অফ দ্য অর্ডার অফ মেরিট অফ দ্য ইতালীয় রিপাবলিক - ২৬ নভেম্বর ১৯৮৩[৩১]
  • যুক্তরাজ্য নাইট গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য বাথ - ১৯৮৪[৩২]
  • ব্রুনাই কলার অফ দ্য রয়েল ফ্যামিলি অর্ডার অফ দ্য ক্রাউন অফ ব্রুনাই - ১৯৮৪
  • স্পেন নাইট অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য গোল্ডেন ফ্লিস – ২২ মার্চ ১৯৮৫[৩৩]
  • সুইডেন নাইট অফ দ্য অর্ডার অফ সেরাফিম - ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯
  • আস্তুরিয়াস প্রিন্স এস্টুরিয়াস এওয়ার্ড ফর পীস - ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫[৩৪]
  • ডেনমার্ক নাইট অফ দ্য অর্ডার অফ এলিফেন্ট - ২৭ এপ্রিল ১৯৯৮

রাস্তা, চত্বর, পার্ক

  • রাশিয়া হুসাইন বিন তালাল পার্ক, গ্রোজনি, রাশিয়া
  • ফ্রান্স এভিনিউ রই হুসাইন লির দা জর্ডানি, প্যারিস, ফ্রান্স

গ্রন্থপঞ্জি[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "The Hashemite Royal Family"kinghussein.gov.jo 
  2. "King Hussein is dead"। CNN। ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯। 
  3. "The Life of King Hussein"। Royalty। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১০ 
  4. Shlaim 2007, p. 194–203 (Lion of Jordan: The Life of King Hussein in War and Peace).
  5. BBC on this Day, Egypt and Jordan unite against Israel. Retrieved 8 October 2005.
  6. quoted in Mutawi 2002, p. 102.
  7. "Highlights of King Hussein's life"। CNN। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১০ 
  8. Shlaim, Avi (২০০৭)। Lion of Jordan; The Life of King Hussein in War and Peace। London: Allen Lane। পৃষ্ঠা 301–302। আইএসবিএন 978-0-7139-9777-4 
  9. "The Jarring initiative and the response," Israel's Foreign Relations, Selected Documents, vols. 1–2, 1947–1974 . Retrieved 9 June 2005.
  10. Kumaraswamy, P.R. (২০১৩-০১-১১)। Revisiting the Yom Kippur War। Routledge। পৃষ্ঠা 14। আইএসবিএন 9781136328954। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০১৪ 
  11. Rabinovich, The Yom Kippur War, Schocken Books, 2004. Page 50
  12. The Economist, 24 November 2007, p.88
  13. "Kill Him Silently"Al Jazeera World। Al Jazeera English। ৩০ জানুয়ারি ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০১৩ 
  14. "King Hussein's eldest son handed power in Jordan"tribunedigital-baltimoresun 
  15. "King to address Jordanians tonight ahead of Tuesday return"। Jordan embassy। ১৬ জানুয়ারি ১৯৯৯। ৩১ আগস্ট ২০০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ জুলাই ২০১০ 
  16. Mideastnews.com; 8 February 1999
  17. CNN/Time "Newsstand" Interviewer: Christiane Amanpour. 24 January 2000
  18. PBS NewsHour with Jim Lehrer, 1999 Online NewsHour
  19. Geocities.com at geocities.com [ত্রুটি: আর্কাইভের ইউআরএল অজানা] ([তারিখ অনুপস্থিত] তারিখে আর্কাইভকৃত)[অকার্যকর সংযোগ]
  20. "In Memory of JY1"। সংগ্রহের তারিখ ২২ নভেম্বর ২০১৪ 
  21. "The Radio Society of Harrow - Dedication to JY1"। G3EFX। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০১৫ .
  22. Nightline: Hussein of Jordan, ABC Evening News for Friday, Feb 05, 1999
  23. "Boletín Oficial del Estado" (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৬-০৯ 
  24. List of orders, decorations and medals of the Republic of China
  25. Chih-Ping Chen
  26. "Badraie"। Badraie। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৬-০৯ 
  27. "Badraie"। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৬-০৯ 
  28. "President's Week in Review: March 1 – March 9, 1976"Official Gazette of the Republic of the Philippines 
  29. "Reply to a parliamentary question" (PDF) (German ভাষায়)। পৃষ্ঠা 454। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১২ 
  30. "Boletín Oficial del Estado" (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৬-০৯ 
  31. "S.M. Hussein Re di Giordania – Decorato di Gran Cordone" (Italian ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১২ 
  32. "jordan3"। Royalark.net। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৬-০৯ 
  33. "Boletín Oficial del Estado" (PDF)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৬-০৯ 
  34. "El rey Husein I de Jordania, premio Príncipe de Asturias de la Concordia"El Pais। ১৯৯৫-০৯-১৬। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৬-০৯ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

উইকিসংকলন
উইকিসংকলন-এ এই লেখকের লেখা মূল বই রয়েছে:
রাজত্বকাল শিরোনাম
পূর্বসূরী
তালাল বিন আবদুল্লাহ
জর্ডানের বাদশাহ
১৯৫২–১৯৯৯
উত্তরসূরী
দ্বিতীয় আবদুল্লাহ
পুরস্কার
পূর্বসূরী
আইজ্যাক রবিন
রোনাল্ড রিগ্যান ফ্রিডম এওয়ার্ড
১৯৯৫
উত্তরসূরী
বব হোপ