সেলিম দুরাণী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সেলিম দুরাণী
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামসেলিম আজিজ দুরাণী
জন্ম (1934-12-11) ১১ ডিসেম্বর ১৯৩৪ (বয়স ৮৪)
কাবুল, আফগানিস্তান[১]
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
সম্পর্কআব্দুল আজিজ (পিতা)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৯৫)
১ ডিসেম্বর ১৯৬০ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩ বনাম ইংল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৫৩সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট দল
১৯৫৪ – ১৯৫৬গুজরাত ক্রিকেট দল
১৯৫৬ – ১৯৭৮রাজস্থান ক্রিকেট দল
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ২৯ ১৭০
রানের সংখ্যা ১২০২ ৮৫৪৫
ব্যাটিং গড় ২৫.০৪ ৩৩.৩৭
১০০/৫০ ১/৭ ১৪/৪৫
সর্বোচ্চ রান ১০৪ ১৩৭*
বল করেছে ৬৪৪৬ ২৮১৩০
উইকেট ৭৫ ৪৮৪
বোলিং গড় ৩৫.৪২ ২৬.০৯
ইনিংসে ৫ উইকেট ২১
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৬/৭৩ ৮/৯৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৪/- ১৪৪/৪
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২ জুন ২০১৯

সেলিম আজিজ দুরাণী (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; জন্ম: ১১ ডিসেম্বর, ১৯৩৪) কাবুলে জন্মগ্রহণকারী আফগান বংশোদ্ভূত প্রথিতযশা ও সাবেক ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬০ থেকে ১৯৭৩ সময়কালে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে সৌরাষ্ট্র, গুজরাত ও রাজস্থান দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিং করার পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন সেলিম দুরাণী

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫৩-৫৪ মৌসুম থেকে ১৯৭৭-৭৮ মৌসুম পর্যন্ত সেলিম দুরাণী’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৩.৩৭ গড়ে ৮,৫৪৫ রান তুলেন। তন্মধ্যে, ১৪টি শতরানের ইনিংস ছিল তাঁর। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে দর্শকদের চাহিদাকে সম্মান জানিয়ে ছক্কা হাঁকাতেন। কখনো দর্শকেরা ছক্কার দাবী জানালে তিনি তা করার চেষ্টা চালাতেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ২৯ টেস্টে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। ১ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে মুম্বইয়ে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে সেলিম দুরাণী’র। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩ তারিখে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৬১-৬২ মৌসুমে ইংরেজ ক্রিকেট দল ভারত গমন করে। ঐ সিরিজ বিজয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনি। কলকাতায় ৮ উইকেট ও চেন্নাইয়ে ১০ উইকেট নিয়ে ভারত দলকে বিজয়ী করেন। এছাড়াও, এক দশক পর পোর্ট অব স্পেনে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ক্লাইভ লয়েডগ্যারি সোবার্সের উইকেট নিয়ে তুলে ভারত দলকে বিজয়ী হতে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন।[২] তন্মধ্যে, গ্যারি সোবার্স শূন্য রানে বিদায় নিতে বাধ্য হন। ২৯ টেস্টে অংশ নিয়ে ৫০ ইনিংস খেলেন। তবে, একটিমাত্র সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেছিলেন সেলিম দুরাণী। ১৯৬২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০৪ রান তুলেন।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৭৩ সালে কানপুর টেস্টে তাঁকে দলের বাইরে রাখা হলে দর্শকেরা ‘দুরাণী নেই, টেস্ট নেই’ প্ল্যাকার্ড বহন করে ও স্লোগান দেয়। একই বছরে ‘চরিত্রা’ চলচ্চিত্রে পারভীন ববি’র সাথে অভিনয় করেন।

প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে অর্জুন পুরস্কার লাভ করেন। ৩১ মে, ২০১১ তারিখে বিসিসিআই কর্তৃক শচীন তেন্ডুলকরসহ তিনি ‘সি.কে. নায়ড়ু আজীবন সম্মাননা’ পদকে ভূষিত হন।[৩] ১৪ জুলাই, ২০১৮ তারিখে বেঙ্গালুরুতে ভারত-আফগানিস্তানের মধ্যকার উদ্বোধনী টেস্টে তিনি উপস্থিত ছিলেন।

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

ছক্কা হাঁকানোর কারণে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। আক্রমণধর্মী বামহাতি ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন তিনি। সেরা বোলারদেরকেও তিনি মনোবলহীন করে দিতে সক্ষম ছিলেন। স্বীয় উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে বলকে বাঁকানোয় সক্ষমতা দেখিয়েছেন।

প্রথম-শ্রেণীর সাবেক ক্রিকেটার আব্দুল আজিজের সন্তান তিনি। একমাত্র আফগান বংশোদ্ভূত ভারত ক্রিকেট দলে খেলেছেন।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Ezekiel, Gulu (২৭ জুন ২০১৭)। "Afghan cricket: The Indian connection"Rediff.com। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুলাই ২০১৭ 
  2. date: 31 May 2011, access date: 2 June 2019, Tendulkar, Durani honoured at BCCI awards, espncricinfo.com
  3. "C.K. Nayudu Lifetime Achievement Award for Durani"The Hindu। ২৭ মে ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০১১ 
  4. "Archived copy"। ২৫ জানুয়ারি ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০০৭ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]