বিষয়বস্তুতে চলুন

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মাননীয়
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
এমপি
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
মাহমুদ, ২০২৫
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীতারেক রহমান
পূর্বসূরীমুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান (উপদেষ্টা হিসেবে)
সংসদ সদস্য
দায়িত্বাধীন
অধিকৃত কার্যালয়
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পূর্বসূরীজান্নাত আরা হেনরী
নির্বাচনী এলাকাসিরাজগঞ্জ-২
সংসদ সদস্য
কাজের মেয়াদ
২৮ অক্টোবর ২০০১  ২৭ অক্টোবর ২০০৬
পূর্বসূরীমোহাম্মদ নাসিম
উত্তরসূরীরুমানা মাহমুদ
নির্বাচনী এলাকাসিরাজগঞ্জ-২
সংসদ সদস্য
কাজের মেয়াদ
১০ জুলাই ১৯৮৬  ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০
উত্তরসূরীমীর্জা মুরাদুজ্জামান
নির্বাচনী এলাকাসিরাজগঞ্জ-২
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
১০ অক্টোবর ২০০১  ২০ মে ২০০৬
প্রধানমন্ত্রীখালেদা জিয়া
পূর্বসূরীরফিকুল ইসলাম
উত্তরসূরীআনোয়ারুল কবির তালুকদার
কৃষি প্রতিমন্ত্রী
কাজের মেয়াদ
২১ মে ২০০৬  ২৯ অক্টোবর ২০০৬
প্রধানমন্ত্রীখালেদা জিয়া
পূর্বসূরীমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
উত্তরসূরীপদ শূন্য
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম১০ মে ১৯৫০
কয়েলগাতি, সিরাজগঞ্জ, পূর্ববঙ্গ, পাকিস্তানের অধিরাজ্য
রাজনৈতিক দলবাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (১৯৯০–বর্তমান)
অন্যান্য
রাজনৈতিক দল
জাতীয় পার্টি (১৯৮৬–১৯৯০)
দাম্পত্য সঙ্গীরুমানা মাহমুদ
সন্তান১ পুত্র, ১ কন্যা
পিতামাতাআব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (পিতা)
আবেদা খাতুন (মাতা)
আত্মীয়স্বজনএম এ মতিন (ভগ্নীপতি)
এম এ মুহিত (ভাগ্নে)
প্রাক্তন শিক্ষার্থীঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পেশারাজনীতিবিদ, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (জন্ম: ১০ মে ১৯৫০) একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০৬ সালে কৃষি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।[][][]

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা

[সম্পাদনা]

মাহমুদ ১৯৫০ সালের ১০ মে সিরাজগঞ্জ জেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের কয়েলগাতি গ্রামে তালুকদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও আবেদা খাতুনের পুত্র। তাঁর পিতা পাকিস্তান সরকারের শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী ছিলেন। মাহমুদ সিরাজগঞ্জে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৭৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।[][]

ব্যবসায়িক জীবন

[সম্পাদনা]

রাজনীতির পাশাপাশি মাহমুদ দীর্ঘকাল শিল্প ও বাণিজ্য খাতে সক্রিয় ছিলেন। বিশেষত রপ্তানিমুখী উৎপাদনশিল্প, বস্ত্র ও গৃহবস্ত্র খাতে তাঁর সম্পৃক্ততা উল্লেখযোগ্য। তিনি অ্যাপেক্স উইভিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন; এছাড়া অ্যাপেক্স ট্যানারি লিমিটেড, অ্যাপেক্স ফুডস লিমিটেড এবং অ্যাপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস লিমিটেডের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।[][]

তিনি বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থার পরিচালক এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।[][]

রাজনৈতিক জীবন

[সম্পাদনা]

ছাত্ররাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধ

[সম্পাদনা]

ছাত্রাবস্থায় মাহমুদ পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৬৯ সালের ১১ দফা আন্দোলনে অংশ নেন। পরে তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।[]

সংসদীয় ও মন্ত্রিত্বকাল

[সম্পাদনা]

মাহমুদ ১৯৮৬ এবং ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯০ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন।[][]

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পুনরায় সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারে তিনি ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের মে পর্যন্ত বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০৬ সালের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত কৃষি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[][]

২০১৯ সালের ১৯ জুন মাহমুদ বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হন।[]

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবারও সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।[][]

আইনি কার্যক্রম ও নির্বাসন

[সম্পাদনা]

২০০৭ সালের মার্চ মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন মাহমুদের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে ২.৫৭ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন এবং সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। একই বছরের ১৫ নভেম্বর একটি বিশেষ আদালত তাঁকে নয় বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করে।[]

পরে মাহমুদ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। ২০১১ সালের জুনে হাইকোর্ট তাঁকে খালাস দিলেও ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে আপিল বিভাগ সেই খালাসের রায় বাতিল করে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেয়। ২০২৩ সালের মে মাসে হাইকোর্ট পুনরায় মূল সাজা বহাল রাখে। বিএনপি এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করে।[][১০]

রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে তিনি লন্ডনে অবস্থান নেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তিনি দেশে ফেরেন।[১১][১২]

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আপিল বিভাগ তাঁকে সকল অভিযোগ থেকে খালাস দেয় এবং দণ্ড বাতিল হয়।[১৩]

ব্যক্তিজীবন

[সম্পাদনা]

মাহমুদ রুমানা মাহমুদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। রুমানা মাহমুদ নিজেও সাবেক সংসদ সদস্য। তাঁদের এক পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে।[][১৪]

তাঁর ভগ্নীপতি ছিলেন সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী এম এ মতিন এবং মতিনের পুত্র এম এ মুহিত তাঁর ভাগ্নে। ২০২৬ সালে মাহমুদ ও মুহিত উভয়েই তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন।[১৫][১৬]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 6 "Biography of Power, Energy & Mineral Resources Minister Iqbal Hassan Mahmood"Bangladesh Sangbad Sangstha। ১ এপ্রিল ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৬
  2. 1 2 "Gazette reveals what Tarique's cabinet looks like"The Business Standard। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৬
  3. 1 2 3 "Iqbal Hasan Mahmud: BNP stands by parliamentary democracy"Dhaka Tribune। ২৯ আগস্ট ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৬
  4. 1 2 "সিরাজগঞ্জের সিংহপুরুষ বিদ্যুৎমন্ত্রী টুকুর বর্ণাঢ্য জীবন"দৈনিক যুগান্তর। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৬
  5. "Sonali Bank auctions Apex Weaving's assets to recover Tk390cr loan"The Business Standard। ১৯ মে ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৬
  6. "Previous Board of Directors"Dhaka Chamber of Commerce and Industry। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৬
  7. 1 2 "Power Minister Iqbal orders seamless electricity during Ramadan"bdnews24.com। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৬
  8. "Selima, Tuku made BNP standing committee members"New Age। ১৯ জুন ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৬
  9. 1 2 "HC upholds jail of Tuku, Aman in 2007-08 cases"New Age। ৩০ মে ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৬
  10. "BNP criticizes remand of Chand, jailing of Aman, Tuku"Dhaka Tribune। ৩০ মে ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৬
  11. "Arrest warrant issued against BNP leader Tuku in graft case"The Business Standard। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৬
  12. "Iqbal Hasan Mahmud Tuku returns home after long exile"Dhaka Tribune। ৬ অক্টোবর ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৬
  13. "Tuku acquitted of 9-year prison sentence in ACC case"Dhaka Tribune। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৬
  14. "BNP shifts focus to women's reserved seats in National Parliament"Dhaka Tribune। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৬
  15. "Fight between in-laws puts relatives in dilemma"The Daily Star। ১৭ ডিসেম্বর ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৬
  16. "Sirajganj uncle-nephew duo get cabinet call"bdnews24.com। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২৬