বিষয়বস্তুতে চলুন

ম্যাগনেসিয়াম পারক্সাইড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ম্যাগনেসিয়াম পারক্সাইড
নামসমূহ
ইউপ্যাক নাম
ম্যাগনেসিয়াম পারক্সাইড
অন্যান্য নাম
ম্যাগনেসিয়াম ডাই অক্সাইড, ম্যাগনেসিয়াম বায়োক্সাইড, ইউএন১৪৭৬
শনাক্তকারী
ত্রিমাত্রিক মডেল (জেমল)
কেমস্পাইডার
ইসিএইচএ ইনফোকার্ড ১০০.০৩৪.৯২৮
ইসি-নম্বর
  • 238-438-1
ইউএনআইআই
  • InChI=1S/Mg.O2/c;1-2/q+2;-2 YesY
    চাবি: SPAGIJMPHSUYSE-UHFFFAOYSA-N YesY
  • InChI=1/Mg.O2/c;1-2/q+2;-2
    চাবি: SPAGIJMPHSUYSE-UHFFFAOYAN
বৈশিষ্ট্য
MgO2
আণবিক ভর 56.3038 g/mol
বর্ণ সাদা বা অফ-হোয়াইট পাউডার
ঘনত্ব 3 g/cm3
গলনাঙ্ক ২২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৪৩৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট; ৪৯৬ kelvin)
স্ফুটনাঙ্ক ৩৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৬৬২ ডিগ্রি ফারেনহাইট; ৬২৩ kelvin) (decomposes)
insoluble
গঠন
স্ফটিক গঠন Cubic, cP12
Space group Pa3, No. 205
ঔষধসংক্রান্ত
ATC code
ঝুঁকি প্রবণতা
জিএইচএস চিত্রলিপি The flame-over-circle pictogram in the Globally Harmonized System of Classification and Labelling of Chemicals (GHS)
জিএইচএস সাংকেতিক শব্দ সতর্কতা
জিএইচএস বিপত্তি বিবৃতি H272
জিএইচএস সতর্কতামূলক বিবৃতি P210, P220, P221, P280, P370+378, P501
এনএফপিএ ৭০৪
সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা ছাড়া, পদার্থসমূহের সকল তথ্য-উপাত্তসমূহ তাদের প্রমাণ অবস্থা (২৫ °সে (৭৭ °ফা), ১০০ kPa) অনুসারে দেওয়া হয়েছে।
☒না যাচাই করুন (এটি কি YesY☒না ?)
তথ্যছক তথ্যসূত্র

ম্যাগনেসিয়াম পারক্সাইড (MgO2) হলো একটি গন্ধহীন, সূক্ষ্ম গুঁড়ো পারক্সাইড, যার রঙ সাদা থেকে অফ-হোয়াইট (ঈষৎ সাদা) হয়ে থাকে। এটি অনেকটা ক্যালসিয়াম পারক্সাইডের মতোই কাজ করে; কারণ ম্যাগনেসিয়াম পারক্সাইডও পানির সংস্পর্শে নিয়ন্ত্রিত গতিতে ভেঙে গিয়ে অক্সিজেন তৈরি করে। বাণিজ্যিকভাবে, ম্যাগনেসিয়াম পারক্সাইড সাধারণত ম্যাগনেসিয়াম পারক্সাইড ও ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের মিশ্রণ হিসেবে পাওয়া যায়।

O2 এবং N2 অণুর সাইড-অন (side-on) বা এন্ড-অন (end-on) পদ্ধতিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। MgO2-এর গঠনে ম্যাগনেসিয়ামের সাথে O2 অণু সাইড-অন বন্ধনের মাধ্যমে একটি ত্রিভুজাকার আকৃতি গঠন করে বলে হিসাব করা হয়েছে। এই বিন্যাসে Mg+ অক্সিজেনে চার্জ প্রদান করে এবং একটি Mg2+O22− গঠন করে। O2 এবং ম্যাগনেসিয়াম পরমাণুর মধ্যকার বন্ধনের আনুমানিক বিয়োজন শক্তি ৯০ kJ mol−1[]

কঠিন অবস্থায় MgO2-এর স্ফটিক কাঠামো কিউবিক পাইরাইট আকৃতির হয়। এতে ৬-সমন্বয়ী (6-coordinate) Mg2+ আয়ন এবং O22− পারক্সাইড গ্রুপ থাকে। পরীক্ষামূলক তথ্য[] এবং বিবর্তনীয় স্ফটিক কাঠামোর পূর্বাভাস অনুযায়ী,[] ৫৩ GPa চাপে এটি একটি টেট্রাগোনাল কাঠামোতে রূপান্তরিত হয়। এই নতুন কাঠামোতে ৮-সমন্বয়ী Mg2+ আয়ন থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় MgO2 একটি মেটাস্টেবল (metastable) যৌগ, যা -এর চেয়ে কম স্থিতিশীল। তবে ১১৬ GPa-এর বেশি চাপে এটি টেট্রাগোনাল অবস্থায় তাপগতিগতভাবে স্থিতিশীল হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একটি লেজার-উত্তপ্ত ডায়মন্ড অ্যানভিল কোষে সংশ্লেষণের মাধ্যমে এই তাত্ত্বিক পূর্বাভাসটি পরীক্ষামূলকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।[]

সংশ্লেষণ

[সম্পাদনা]

ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইডের (MgO) সাথে হাইড্রোজেন পারক্সাইড (H2O2) বিক্রিয়া করিয়ে ম্যাগনেসিয়াম পারক্সাইড ও পানি তৈরি করা যায়। এটি একটি তাপোৎপাদী বিক্রিয়া হওয়ায় বিক্রিয়ার সময় মিশ্রণটি ঠান্ডা রাখা প্রয়োজন এবং তাপমাত্রা ৩০-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি রাখা উচিত। লোহা বা আয়রন পারক্সাইডের বিয়োজনকে ত্বরান্বিত করে। তাই বিক্রিয়ার পরিবেশ থেকে যতটা সম্ভব লোহা অপসারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। পারক্সাইডের অকাল বিয়োজন রোধ করতে সোডিয়াম সিলিকেটের মতো অক্সিজেন স্টেবিলাইজার যোগ করা যেতে পারে। তবে সব মিলিয়ে এই বিক্রিয়া থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৩৫% ফলন (yield) পাওয়া যায়।

বিক্রিয়ার ফলন বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ উৎপন্ন MgO2 পানির সাথে বিক্রিয়া করে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইডে পরিণত হয়। এটি 'মিল্ক অব ম্যাগনেসিয়া' নামেও পরিচিত।

ব্যবহার

[সম্পাদনা]

ম্যাগনেসিয়াম পারক্সাইড একটি স্থিতিশীল অক্সিজেন উৎপাদনকারী যৌগ, যা কৃষিপরিবেশ সংক্রান্ত শিল্পে ব্যবহৃত হয়। এটি ভূগর্ভস্থ পানির দূষণ কমাতে ব্যবহৃত হয়। ম্যাগনেসিয়াম পারক্সাইড দূষিত মাটির বায়োরিমিডিয়েশনে (জৈব প্রতিকার) ব্যবহৃত হয়। এটি উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিপাকীয় প্রক্রিয়ার সুবিধার্থে মাটির গুণমান উন্নত করতে পারে। এছাড়া জলজ পরিবেশের জৈব প্রতিকারেও এটি ব্যবহৃত হয়।

পরিচ্ছন্নতা বা স্যানিটেশনের কাজে জৈবিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অপসারণের জন্য ম্যাগনেসিয়াম পারক্সাইড ব্যবহৃত হয়। এটি সবাত (aerobic) অণুজীবের জন্য অক্সিজেনের উৎস হিসেবে কাজ করে। যেহেতু সবাত বা অক্সিজেনসমৃদ্ধ পরিবেশে মাটিতে হাইড্রোকার্বনের ক্ষয় দ্রুত হয়, তাই কম্পোস্টের স্তূপে বা মাটিতে MgO2 যোগ করা হয়। এটি জীবাণুর কার্যকারিতা বাড়ায় এবং বর্জ্যের দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে।[]

কিছু কিছু ক্ষেত্রে MgO2 ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করতে পারে বলেও দেখা গেছে। বিশেষ করে, ম্যাগনেসিয়াম পারক্সাইডের উপস্থিতিতে সালফেট-হ্রাসকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। যদিও এখান থেকে অক্সিজেন ধীরে ধীরে নির্গত হয়, তাত্ত্বিকভাবে মনে করা হয় যে এই অক্সিজেন সালফেটকে প্রতিস্থাপিত করে। সাধারণত এই ব্যাকটেরিয়ার ইলেকট্রন পরিবহন শৃঙ্খলে সালফেটই শেষ ইলেকট্রন গ্রহীতা হিসেবে কাজ করে।[]

বিষাক্ততা

[সম্পাদনা]

ম্যাগনেসিয়াম পারক্সাইড একটি উত্তেজক (irritant) পদার্থ। এটি ত্বকে বা চোখে লাগলে লালচে ভাব, চুলকানি, ফোলাভাব এবং ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। শ্বাসের সাথে এটি শরীরে প্রবেশ করলে ফুসফুস, নাক ও গলায় জ্বালাপোড়া এবং কাশি হতে পারে। দীর্ঘদিন এর সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসের ক্ষতি, শ্বাসকষ্ট এবং বুক ভারী হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। MgO2 গিলে ফেললে পেট ফাঁপা, ঢেকুর ওঠা, পেটে ব্যথা, মুখ ও গলায় জ্বালাপোড়া, বমি বমি ভাব, বমি এবং ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।[][]

পরিবেশগত দিক থেকে, ম্যাগনেসিয়াম পারক্সাইড কোনো প্রাকৃতিক যৌগ নয়। এটি পরিবেশে দীর্ঘকাল অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকে না এবং এটি জৈব-সঞ্চয়ও (bioaccumulate) হয় না। প্রাকৃতিকভাবে ভেঙে গিয়ে MgO2 ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড, O2 এবং পানিতে (H2O) পরিণত হয়। এটি কোথাও ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত তা সংগ্রহ করা উচিত এবং যেকোনো জলাশয় বা নর্দমা থেকে দূরে রাখা উচিত। এছাড়া কাগজ, কাপড় ও কাঠের মতো দাহ্য পদার্থ বা অন্যান্য রাসায়নিক থেকে এটিকে আলাদা রাখা প্রয়োজন।[]

সাধারণ পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া

[সম্পাদনা]

বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে ম্যাগনেসিয়াম বিভিন্ন আণবিক আকারে অবস্থান করে। অক্সিজেন এবং কার্বন-অক্সিজেন যৌগগুলোর সাথে বিক্রিয়া করার প্রবণতার কারণে ম্যাগনেসিয়াম বিভিন্ন জারিত (oxidized) যৌগ হিসেবে থাকতে পারে; যেমন: MgO2, OMgO2, MgO এবং O2MgO2[]

MgCO3+O → MgO2+CO2
OMgO2+O → MgO2+O2
MgO+O3 → MgO2+O2
MgO2+O2 → O2MgO2
MgO2+O → MgO+O2

পানির সংস্পর্শে এটি নিচের বিক্রিয়াগুলোর মাধ্যমে বিয়োজিত হয়:

MgO2+2H2O → Mg(OH)2+H2O2
2H2O2 → 2H2O+O2

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Plowright, Richard J.; Thomas J. McDonnell (২৮ জুলাই ২০০৯)। "Theoretical Study of Mg+−X and [X−Mg−Y]+Complexes Important in the Chemistry of Ionospheric Magnesium (X, Y = H2O, CO2, N2, O2, and O)": ৯৩৫৪–৯৩৬৪। ডিওআই:10.1021/jp905642hপিএমআইডি 19637880 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  2. Vannerberg N. (১৯৫৯)। "The formation and structure of magnesium peroxide": ৯৯–১০৫। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  3. Zhu, Qiang; Oganov, Artem R. (২০১৩)। "Novel stable compounds in the Mg–O system under high pressure": ৭৬৯৬–৭০০। ডিওআই:10.1039/c3cp50678aপিএমআইডি 23595296 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  4. Lobanov, Sergey S.; Zhu, Qiang (১ সেপ্টেম্বর ২০১৫)। "Stable magnesium peroxide at high pressure": ১৩৫৮২। আরজাইভ:1502.07381ডিওআই:10.1038/srep13582পিএমসি 4555032পিএমআইডি 26323635 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  5. 1 2 Vidali, M. (১ জুলাই ২০০১)। "Bioremediation. An overview": ১১৬৩–১১৭২। ডিওআই:10.1351/pac200173071163 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  6. Chang, Yu-Jie; Yi-Tang Chang (২০০৮)। "The use of magnesium peroxide for the inhibition of sulfate-reducing bacteria under anoxic conditions": ১৪৮১–১৪৯১। ডিওআই:10.1007/s10295-008-0450-6পিএমআইডি 18712535 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  7. "Product Safety Summary: Magnesium Peroxide" (পিডিএফ)। Solvay America Inc.। সংগ্রহের তারিখ ২৫ এপ্রিল ২০১২
  8. Pohanish, Richard P. (২০১১)। Sittig's Handbook of Toxic and Hazardous Chemicals and Carcinogens। William Andrew। পৃ. ১৬৪৫–১৬৪৬। আইএসবিএন ৯৭৮-১৪৩৭৭৭৮৭০০
  9. Plane, John M. C.; Charlotte L. Whalley (২০১২)। "A New Model for Magnesium Chemistry in the Upper Atmosphere": ৬২৪০–৬২৫২। ডিওআই:10.1021/jp211526hপিএমআইডি 22229654 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)