মার্টিন স্যাগার্স

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মার্টিন স্যাগার্স
Martin Saggers.jpg
২০১৩ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে মার্টিন স্যাগার্স
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামমার্টিন জন স্যাগার্স
জন্ম (1972-05-23) ২৩ মে ১৯৭২ (বয়স ৫০)
কিংস লিন, নরফোক, ইংল্যান্ড
ডাকনামস্যাগস
উচ্চতা৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৮৮ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার, আম্পায়ার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৬২১)
২৯ অক্টোবর ২০০৩ বনাম বাংলাদেশ
শেষ টেস্ট১৩ জুন ২০০৪ বনাম নিউজিল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৯৬–১৯৯৮ডারহাম
১৯৯৮–২০০৯কেন্ট (জার্সি নং ৩৩)
২০০৭এসেক্স (ধারকৃত)
আম্পায়ারিং তথ্য
ওডিআই আম্পায়ার২ (২০২০)
টি২০আই আম্পায়ার৩ (২০২০)
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি এলএ টি২০
ম্যাচ সংখ্যা ১১৯ ১২৪ ১০
রানের সংখ্যা ১,১৬৫ ৩১৩
ব্যাটিং গড় ০.৩৩ ১১.২০ ৯.২০ ৫.০০
১০০/৫০ ০/০ ০/২ ০/০ ০/০
সর্বোচ্চ রান ৬৪ ৩৪*
বল করেছে ৪৯৩ ২০,৬৭৬ ৫,৬২২ ১৮৬
উইকেট ৪১৫ ১৬৬
বোলিং গড় ৩৫.২৮ ২৫.৩৩ ২৫.৪৭ ২৫.৪৭
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৮
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ২/২৯ ৭/৭৯ ৫/২২ ২/১৪
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/– ২৭/– ২৩/– ২/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মার্টিন জন স্যাগার্স (ইংরেজি: Martin Saggers; জন্ম: ২৩ মে, ১৯৭২) নরফোকের কিংস লিন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ আম্পায়ার ও সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে তিনবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশেষতঃ তিন টেস্টে অংশগ্রহণসহ খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ সময়ই কেন্টের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহাম ও কেন্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন ‘স্যাগস’ ডাকনামে পরিচিত মার্টিন স্যাগার্স

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মার্টিন স্যাগার্সের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৯৮ সালে ডারহাম কর্তৃপক্ষ মার্টিন স্যাগার্সকে অব্যাহতি প্রদান করলে দৃশ্যতঃ তার কাউন্টি ক্রিকেট জীবনের সমাপ্তি হবার কথা ভাবা হয়। এরপর তিনি নিজ এলাকা নরফোকের সাথে মাইনর কাউন্টিজের খেলায় প্রত্যাবর্তন করেন।

১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সময়কালে ডারহামের পক্ষে খেলেন। তবে, অংশগ্রহণকৃত তিন মৌসুমে খুব কমই সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পেরেছিলেন তিনি। এরপর, ২০০০ থেকে ২০০৩ সময়কালে কেন্টের পক্ষে অংশ নিয়ে প্রত্যেক বছরেই ৫০-এর অধিক প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভে সক্ষম হয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ২০০২ সালে সবচেয়ে বেশি ৮৩ উইকেট পেয়েছেন। এছাড়াও, ২০০৭ সালে এসেক্সের পক্ষে ধারকৃত খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিয়েছেন। মাইনর কাউন্টি খেলায় নিজ কাউন্টি নরফোকের পক্ষে ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত খেলেছেন।

কেন্ট কর্তৃপক্ষ তার দিকে আলোকপাত করে ও কয়েকজন নিয়মিত বোলারের আঘাতের ফলে তিনি এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন। প্রথম একাদশের নিয়মিত সদস্য হন। দীর্ঘদেহী ও স্বর্ণকেশের অধিকারী মার্টিন স্যাগার্স প্রাণবন্তঃ বোলিং কর্মে অগ্রসর হন। ২০০২ সালে ৮৩ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীতে পরিণত হন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন মার্টিন স্যাগার্স। ২৯ অক্টোবর, ২০০৩ তারিখে চট্টগ্রামে স্বাগতিক বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১০ জুন, ২০০৪ তারিখে নটিংহামে সফরকারী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি। তাকে কোন ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়া হয়নি।

প্রায় ত্রিশের কোটায় পদার্পণকালে ইংল্যান্ড দল নির্বাচকমণ্ডলী তার দিকে দৃষ্টি দেয়। নিজ কাউন্টি অধিনায়ক ডেভিড ফুলটনের সুপারিশক্রমে ২০০৩ সালের শেষদিকে তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তখন মার্টিন বিকনেলকেও ৩৪ বছর বয়সে দলে ডাকা হয়েছিল। ২০০৩-০৪ মৌসুমে মার্টিন স্যাগার্সের টেস্ট অভিষেক হয়। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা সফরে তিনি দলের সংরক্ষিত সদস্যের মর্যাদা পেয়েছিলেন। কিন্তু, ঢাকায় তিনি আঘাতপ্রাপ্ত অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের কুঁচকির আঘাত ধীরলয়ে সারতে থাকলে তাকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল। চট্টগ্রামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তার অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ফাইন লেগ অঞ্চলে দণ্ডায়মান থেকে এক হাতে দর্শনীয় ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

এছাড়াও, পরবর্তী গ্রীষ্মকালে হেডিংলিতে নিজ দেশে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আরও দুই টেস্টে অংশ নেন। লিডসে নিজস্ব প্রথম বলেই মার্ক রিচার্ডসনের উইকেট পান। তবে, কিছু খামখেয়ালীপূর্ণ বোলিং ও ব্যাট হাতে দূর্বলমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের খেলাসরত গুণতে হয় তাকে। এক খেলা পর তাকে বাদ দেয়া হয় ও আবারও দূর্ভাগ্যের শিকার হন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাকে দলের বাইরে রাখা হয়।[২] ব্যাট হাতে নিয়ে তিন ইনিংসে তিনি ১, ০ ও রান করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে, ০.৩৩ গড়ে রান তুলে টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি টানেন।[৩]

অবসর[সম্পাদনা]

আগস্ট, ২০০৯ সালে হাঁটুতে গুরুতর আঘাত পান। এর একমাস পর পেশাদারী পর্যায়ের ক্রিকেট থেকে নিজের অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন তিনি। কেন্টের ক্রিকেটবিষয়ক সভাপতি গ্রাহাম জনসন স্যাগার্সের অবদানের কথা উল্লেখ করে মন্তব্য করেন যে, মার্টিনের অবদানের কাছে আমরা চীরঋণী। এক পর্যায়ে তিনি আমাদের বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার এ সফলতার কারণেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাকে রাখা হয়েছিল। আমরা আশাবাদী যে, ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার পরও তার এ ধারা ভবিষ্যৎ ক্রিকেটারদের মাঝে বিলিয়ে দেবেন।[২]

২০১০ ও ২০১১ সালে আম্পায়ারদের সংরক্ষিত তালিকায় ছিলেন। ২০১২ সালে পূর্ণাঙ্গকালীন সময়ের জন্যে ক্রিকেট আম্পায়ার হিসেবে মনোনীত হন। ইংল্যান্ডের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় তিনি আম্পায়ারিত্ব করেন।[৪][৫] ২০২০ সালে আইসিসির আন্তর্জাতিক আম্পায়ার প্যানেলের সদস্য হন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Late bloomers: Joe Denly joins England's list of 30-plus debutants"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০১৯ 
  2. Cricinfo staff (১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৯), Martin Saggers announces retirement, Cricinfo, সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৯-১৫ 
  3. "Was Dawid Malan's hundred the fastest for England in T20Is?"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১২ নভেম্বর ২০১৯ 
  4. Saggers promoted to full umpires list, CricInfo, 2011-11-11. Retrieved 2016-04-08.
  5. Martin Saggers - from Test cricketer to first-class umpire, BBC Sport, 2012-02-29. Retrieved 2016-04-08.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]