মার্ক ইলট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মার্ক ইলট
Mark Ilott 2002.jpg
২০০২ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে মার্ক ইলট
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামমার্ক ক্রিস্টোফার ইলট
জন্ম (1970-08-27) ২৭ আগস্ট ১৯৭০ (বয়স ৫২)
ওয়াটফোর্ড, হার্টফোর্ডশায়ার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনবামহাতি মিডিয়াম-ফাস্ট
ভূমিকাবোলার
সম্পর্কনাইজেল ইলট (ভ্রাতা)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৫৬১)
১ জুলাই ১৯৯৩ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট১৬ ডিসেম্বর ১৯৯৫ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৮৮ - ২০০২এসেক্স
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১৯২ ১৮৫
রানের সংখ্যা ২৮ ২,৮৩০ ৭৯৭
ব্যাটিং গড় ৭.০০ ১৪.৬৬ ১২.০৭
১০০/৫০ ০/০ ০/৪ ০/২
সর্বোচ্চ রান ১৫ ৬০ ৫৬*
বল করেছে ১০৪২ ৩৫,৩৫৯ ৮,৭১৪
উইকেট ১২ ৬৩৩ ২৩২
বোলিং গড় ৪৫.১৬ ২৭.৭০ ২৬.৩৯
ইনিংসে ৫ উইকেট ২৭
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৩/৪৮ ৯/১৯ ৫/২১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ০/– ৫৪/– ৩১/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২ জানুয়ারি ২০২১

মার্ক ক্রিস্টোফার ইলট (ইংরেজি: Mark Ilott; জন্ম: ২৭ আগস্ট, ১৯৭০) হার্টফোর্ডশায়ারের ওয়াটফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক পেশাদার ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ বামহাতি মিডিয়াম-ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন মার্ক ইলট

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

হার্টফোর্ডশায়ারের ওয়াটফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণ করলেও পটার্স বার এলাকায় বসবাস করছেন। ফ্রান্সিস কম্ব স্কুল ও কমিউনিটি কলেজে অধ্যয়ন করেছেন তিনি।[২] ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত মার্ক ইলটের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। বামহাতি সিমার ও ছয় ফুটের অল্প অধিক উচ্চতার অধিকারী মার্ক ইলট এসেক্স দলে জন লিভারের উপযুক্ত উত্তরাধিকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। সবমিলিয়ে এসেক্সের পক্ষে ১৫ বছর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৮ সালে কাউন্টি দলটির পক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। এরপূর্বে হার্টফোর্ডশায়ার স্কুলস ও হার্টফোর্ডশায়ারের পক্ষে ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে দূর্দান্ত ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করেছিলেন তিনি। মাইনর কাউন্টিতে ১৬ বছর বয়সে অংশগ্রহণের ফলে কনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।

১৯৯০ সালের শেষদিকে এসেক্স দলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হন। ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ৫/৩৪ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান তিনি। শ্রীলঙ্কায় এ দলের সফরে স্টিভ ওয়াটকিনের আঘাতের কারণে স্বীয় নাম প্রত্যাহার করলে তিনি এ সুযোগ পান। একই সময়ে অ্যাডিলেডভিত্তিক ইস্ট টরেন্স ডিস্ট্রিক্টের সাথে নিজস্ব দ্বিতীয় মৌসুম অবস্থান করছিলেন। ঐ সফরে তিনি বেশ ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করতে সক্ষম হন। তবে, পিঠের আঘাতের কারণে ১৯৯১ সালের প্রায় পুরোটা সময় মাঠের বাইরে তাকে অবস্থান করতে হয়েছিল। ঐ বছরের আগস্ট মাসে তার অস্ত্রোপচার করতে হয়। ১৯৯২ সালে খেলার জগতে ফিরে আসেন। ৬৪ উইকেট দখল করেন তিনি। এরফলে, অস্ট্রেলিয়া গমনার্থে এ দলের সদস্য হিসেবে মনোনীত হন।

১৯৯৫ সালে তিনি সুন্দর বোলিংশৈলী উপহার দেন। এসেক্সের সদস্যরূপে ৭৮টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট পান ও দলে বিশ্বাসযোগ্যতা স্থাপন করতে সচেষ্ট হন। তন্মধ্যে, নর্দান্টসের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৯/১৯ পান। এ পর্যায়ে এলবিডব্লিউ’র সাহায্য নিয়ে হ্যাট্রিক লাভ করেন। এ পরিসংখ্যানটি এসেক্সের যে-কোন খেলোয়াড়ের মধ্যে সেরা হিসেবে রয়ে যায়। খেলায় তিনি ১০৫ রান খরচায় ১৪ উইকেট পান। তাসত্ত্বেও, এসেক্স দল পরাজয়বরণ করেছিল। সুইংয়ের সাথে বলে নিয়ন্ত্রণ লাভের ফলে তিনি এ সফলতা পেয়েছিলেন। তবে, আঘাত থেকে দূরে থাকতে তিনি কিছুটা বোলিং ভঙ্গীমা পরিবর্তন করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন মার্ক ইলট। ১ জুলাই, ১৯৯৩ তারিখে নটিংহামে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি। তাকে কোন ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়া হয়নি।

১৯৯৩ সালে মার্ক ইলট কাউন্টি ক্যাপ লাভের অধিকারী হন। ঐ বছরই তিনি তার প্রথম টেস্টে অংশ নেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন ঐ সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে ছিলেন। ২-০ ব্যবধানে ইংল্যান্ড দল পিছিয়ে থাকা অবস্থায় অভিষেক টেস্টে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। অ্যাশেজ সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তিনি প্রথম খেলেন। ঐ টেস্টে গ্রাহাম থর্পমার্টিন ম্যাককেগসহ চারজন অভিষেক ঘটা খেলোয়াড়ের অন্যতম ছিলেন তিনি। খেলায় তার দল ড্র করতে সমর্থ হয়। তিনি ব্যাট হাতে বেশ দৃঢ়তার পরিচয় দেন। আন্তরিকতার সাথে বোলিং করে খেলায় ১৫২ রান খরচায় চার উইকেট পান। ঐ খেলায় তিনি চার উইকেট পান।

তবে, পরের দুই টেস্টে তিনি আর মাত্র চার উইকেট যুক্ত করতে পেরেছিলেন। পরবর্তী টেস্টেও তিনি নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। ৫১ ওভারে ৩/১৬১ বোলিং পরিসংখ্যান গড়লেও তার দল ইনিংস ব্যবধানে পরাভূত হয়। বার্মিংহাম টেস্টেও আরো একটি পরাজয় অবলোকন করেন। অন্যান্য ইংরেজ পেসারের ন্যায় তিনিও অস্ট্রেলিয়ার শক্তিধর ব্যাটিং অবস্থানে ফাটল ধরাতে ব্যর্থ হন। এরপর তাকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকা গমন[সম্পাদনা]

অবনমনের শিকার হয়ে আরও একবার তাকে এ দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করতে হয়। সফরে তিনি মাত্র ১৫ গড়ে ৩৭টি উইকেট লাভ করেন। তন্মধ্যে, ট্রান্সভালের বিপক্ষে ৬/৬১ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। পরবর্তী গ্রীষ্মে তাকে আবারও টেস্ট দলে রাখা হয়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে তিনি অংশ নেন। তবে, আবারও আঘাতজনিত সমস্যায় পড়লে তাকে মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হয়। এরপর, আরও ৫৯টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভের স্বীকৃতিস্বরূপ পুনরায় এ দলের সদস্য হন। কিন্তু, ভারতের মাটিতে তিনি মাত্র ১২ ওভার বোলিং করতে পেরেছিলেন ও আঘাত পেয়ে খেলা থেকে দূরে সরে আসতে হয়।

ঘরোয়া ক্রিকেটে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে তাকে পুনরায় টেস্ট দলে ঠাঁই দেয়া হয়। সিরিজের তৃতীয় টেস্টে বৃষ্টিবিঘ্নিত হলেও নিজস্ব সেরা বোলিং ৩/৪৮ পান। তিনি বেশ ভালো বোলিং করতেন। চতুর্থ টেস্ট চলাকালে উরুতে আঘাত পান। এরফলে, সফরের মাঝামাঝি সময় থেকে তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হয়। এভাবেই সফরটি শেষ করেন।

অবসর[সম্পাদনা]

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর আর তাকে টেস্ট খেলায় অংশ নিতে দেখা যায়নি। ১৯৯৬ সালে আবারও ৫০টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেন। কিন্তু, এ পর্যায়ে ব্যাট স্পর্শ করার ন্যায় বোলিংশৈলী প্রদর্শন করতে পারেননি। তাসত্ত্বেও, এসেক্সের ন্যায় সিম বোলারের দূর্বলতার কারণে তাকে বোলিং আক্রমণ পরিচালনা করতে হয়েছিল। ১৯৯৭ সালের শুরুটা ভালো করলেও গোড়ালীর আঘাতে তার সম্ভাবনা কমে যায় ও তাকে বোলিংয়ে ছন্দ আনয়ণে বেশ হিমশিম খেতে হয়। গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ন্যাটওয়েস্ট প্রতিযোগিতার সেমি-ফাইনালে তাকে রবার্ট ক্রফটের সাথে আঙ্গুল তুলে তর্ক করতে দেখা যায়। ফলশ্রুতিতে, তাকে £১০০০ পাউন্ড-স্টার্লিং জরিমানা গুণতে হয় ও পরের খেলায় অংশগ্রহণের উপর তাকে নিষেধাজ্ঞার শিকার হতে হয়।

১৯৯৮ সালে চমৎকার খেলেন। তবে, ১৯৯৯ ও ২০০০ সালে আঘাতগ্রস্ত ছিলেন। টেস্ট দলে তাকে সম্ভাব্য খেলোয়াড় হিসেবে রাখা হলেও উদীয়মানদের পিছনে তার অবস্থান ছিল। এ সময় প্রায় এক দশকের জন্যে ইংরেজ সিম বোলারদের প্রাচুর্য্যতা লক্ষ্য করা যায়। তাসত্ত্বেও, কাউন্টি ক্রিকেটে নিজেকে অন্যতম ধারাবাহিক সেরা খেলোয়াড়দের অন্যতম হিসেবে রাখতে সমর্থ হন। যখনই শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতেন নিজেকে বিলিয়ে দিতেন। এক পর্যায়ে শারীরিক সুস্থতা ধরে রাখতে তাকে বেশ প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। ২০০২ সাল শেষে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের জন্যে মনোনীত হন। তাকে অবমুক্তি দেয়া হলেও অন্য যে-কোন কাউন্টি দলের পক্ষেই তার খেলার সম্ভাবনা ছিল।

ক্রিকেটের বাইরে তিনি সমবায়ভিত্তিক আতিথেয়তা কেন্দ্র পরিচালনা করেন। রসিকতাপ্রিয় তিনি। সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন ও নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে তার। তার ভ্রাতা নাইজেল ইলট হার্টফোর্ডশায়ারের পক্ষে ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Mark Ilott"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  2. Dellafiora, Paola (১ জুলাই ২০০৯)। "School reunion marks end of an era"Watford Observer (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০১৯ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]